মনে পড়া বন্ধুদের আপডেট খবর
সারা দেশ জুড়ে আছে কত শত বন্ধুরা। সে একটা সময় ছিল আমাদের। এবিতে সে সময়কার অনেক বন্ধু এখন লিখছে। তাদের দেখে স্মৃতির জাবর কাটতে বসলাম। আজ অনেক কথা, অনেকের কথা মনে পড়ছে। খুলনা মানেই হাসিনাদের নুরপুরের কলোনীর বাসা। সামনে খুলনা বেতার কেন্দ্র। রাত জুড়ে আড্ডা। পারশে (বানানটা ঠিক হল কি ?) , ভেটকি , চিংড়ি কত মাছ যে খেয়েছি। আর খেয়েছি হাসিনার মায়ের স্নেহমাখা গালি। সেই হাসিনা এখন খুলনা ছেড়ে ঢাকায়। দিব্যি ঘরনী। চাকরী করে ওয়াপদাতে। আইচগাঁতির আ আ মামুন চট্টগ্রামে। বাবু ব্যবসা করছে, খুলনাতেই। টারজানও খুলনায়। ওসি ইবিএল ব্যাংকে, খুলনায়। চাপা মামুন পুলিশে, যশোর পোস্টিং। ডা. এনাম চিটাগাং ডাক্তারি করছে। রাহা বাংলা ভিশনে কাজ করে। হাসান ভাই খুলনায়, প্রথম আলোতে। দীবা ঢাকায়, এইচএসবিসিতে...
যশোর মানেই তো টিটো। অস্থির একটা ছেলে। মেলা যন্ত্রণা করত ও। তারপরও আমাদের ভালবাসাবাসির কমতি ছিল না। এখন ঢাকায়। আজ এ কোম্পানিতে তো কাল আরেকটায়। বাঁধন ছিল টিটোর সাগরেদ। সেও ঢাকায়।
রাজবাড়ির পান্থ এখন চ্যানেল আইতে। স্পোর্স রিপোর্টার। আর সৌমিত্র রাজবাড়িতেই। আমাদের সময়ের জেলা প্রতিনিধি।
কুষ্টয়ার রাব্বি, জানিনা কোথায়। তরিক প্রথম আলো ছেড়ে কালের কন্ঠে। আর রিজভী যায় যায় দিনে। গড়াই নদীর পাড়ের রাত জাগা আড্ডা ! মালাই আইসক্রিম খাওয়া। এন এস রোডের এমাথা থেকে সেমাথা রিকশায় চক্কর। ছেউড়িয়ার লালনের মাজার। আর ছিল ৩ পাগল বন্ধু। মুক্তা, মেলাল, লাবু। ৩ জনই কুষ্টিয়াতে। ব্যবসা করছে। গানটা অনিয়মিত করে। জগতি সুগার মিলের নিয়তি। জাহাঙ্গীর নগরে পড়ত নিয়তি। আমার পাতানো ছোট বোন। পাগলি ! কত দিন যোগাযোগ নেই।
চট্টগ্রামের আফরিন চট্টগ্রাম থেকে ডাক্তারি পাশ করে এখন ঢাকায়। পুরো দস্তুর গৃহিনী। আর আসফিয়া কোথায় জানিনা। বিয়েথা করেছে শুনেছি। দুই বোন ওরা। কতবার যে ওদের লালখান বাজারের বাসায় গিয়েছি ! ঝিলির সাথে সবৃশেষ দেখা হয়েছে গত বইমেলায়। আলাউদ্দিন খোকন, বিপ্রতিপ অপু চিটাগাংএ আছে। ফেরদৌস ফয়সল বাবার ব্যবসাটাই দেখছে। মেজবা খান ঠিকাদারী ব্যবসা করছে। রিমন কোনো একটা হাউজিং কোম্পানির বড় কর্মকর্তা। শাকিল, শায়ের আমান চাটগাঁতেই। নুশেরা প্রবাস জীবন কাটিয়ে এখন চিটাগাংএ থিতু হয়েছে। ব্লগে নিয়মিত লিখিয়ে। ঝর্ণার সাথে যোগাযোগ নেই। সুমিমা ইয়াসমিন সুমি, আসমা বীথি দুজনে চিটাগাংয়ের স্থানীয় দৈনিক আজাদীতে কাজ করে। চবিতে ছিল নোয়াখালীর ছেলে মাঈনুল এইচ সিরাজী... বাংলায় পড়ত। এখন চট্টগ্রামে চাকরী করছে। ফেসবুকে আগে নিয়মিত ছিল। সম্প্রতি এবিতেও লিখছে। যার হাতের লেখা এতটাই সুন্দর ছিল যে, ওর হাতের লেখা দিয়ে আমি আমার বিয়ের কার্ড করেছিলাম। বাংলায় আরেকজন পড়ত, আমার ছোটদি। খাগড়াছড়ির মেয়ে- সোনালী চাকমা। এলাকাতেই আছে। পাহাড়ি নেত্রী।
শ্রীমঙ্গলের উত্তমদা। সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস চালাচ্ছেন। ধ্রুবদা বউ আর বাচ্ছা নিয়ে আমেরিকায়। আর শুভ্রদা শ্রীমঙগলেই। বাবু, রেশমা নাহার মাহমুদা দুই ভাই বোন। বাবু শ্রীমঙগলে। ওষুধ কোম্পানিতে কাজ করে। রেশমা রাজবাড়িতে, স্বামী সংসার নিয়ে ব্যস্ত। মিঠুও ব্যবসায়ী। রেজাউর রহমান সবুজ অল্প বয়সে বিয়ে করে এখন কোথায় জানিনা। বাপন কালের কন্ঠের শ্রীমঙগল প্রতিনিধি। বাপ্পাদিত্য চৌধুরী ব্যাংকার, ঢাকায়...।
মৌলভীবাজারের মুর্শেদ আহমেদ লিটন ইংল্যান্ডে। ওর একটা বিশেষত্ব ছিল। ৩৬৫ দিনই সিমের বিছির তরকারী খেত। নিপু ভাই প্রথম আলোতে। এক সময়ের তুমুল লেখক সুমন সুপান্থ লন্ডনী কইন্যা বিয়ে করে এখন লন্ডনে। একসময় কী বিপ্লবী কথাবার্তাই না বলতো এই ছেলেটি। শাখাওয়াত লিটন একুশে টেলিভিশনে, ঢাকায়। গৌরিশ ইংল্যান্ডে সেও অনেকদিন।
কুলাউড়ার তনয় এলাকাতেই ব্যবসা করে। রনি আর জোবায়ের লন্ডনে।
সিলেটে আরিফ জেবতিক। সাংবাদিকতা, ব্যবসা আবার সাংবাদিকতায় ঢুকলো। কালের কন্ঠে। সম্প্রতি কালের কন্ঠ ছেড়ে আবার নিজেদের ব্যবসায় মনোযোগী হবার চেষ্টা করছে। হাসান মোরশেদ, রানা মেহের দুজনেই লন্ডনে। অর্ণা প্রেম করে আরিফ কে বিয়ে করে এখন ঢাকায়। কাজ করে বৃটিশ অ্যাম্বাসিতে। টুকুদা, উজ্জ্বল, নজমুল আলবাব অপু ৩ জনই সিলেটে। ব্যবসা করছে। আহমেদ নূর প্রথম আলো ছেড়ে কালের কন্ঠের সিলেট ব্যুরো প্রধান। মোটকা চন্দন সিলেটে। আমাদের প্রান্তিক চত্বরের আড্ডা ! শাবিপ্রবির সোহাগ এখন প্রথম আলোর কুমিল্লা প্রতিনিধি। মেহেদী... কালের কন্ঠে, ঢাকায়।
বি.বাড়িয়া হালদার পাড়ার পপি ঢাকাতে। পুত্র আর স্বামী নিয়ে সংসারী। মুগদাতে থাকে। কাজী পাড়ার সুমি..., সেও ঢাকায়।
নোয়াখালীর চিনু, এফবিতে কথা হয়। ফরহাদ কিসলু এলাকাতে। মিরন ভাই প্রথম আলো ছেড়ে কালের কন্ঠে। সুমন নূর, ঢাকায়। শামীমা আপা... মাস্টারি করেন।
কুমিল্লার এস এম আজাদ ভাই ঢাকায়। মিঠু, শান্তা কুমিল্লায়। আজিজুর রহমান সিদ্দিকী, ডাক্তারি প্র্যাকটিস করেন কুমিল্লাতেই।
ফেনীর সোমার সাথে অনেকদিন পর যোগাযোগ হয়েছে এফবিতে। রশিদা আফরোজ কাজ করে দিনের শেষে পত্রিকায়। কাজী লীনা দিলরুবা আর কাজী শরিফ দুবি ভাইবোন। লীনা ঢাকায়। একটা ফিনান্স কোম্পানিতে কাজ করে। শরীফ ঢাবিতে মাস্টারি করে। মমিনুল ইসলাম লিটন ঢাকাতে। অপসোানিনে কাজ করছে দীর্ঘদিন ধরে। ঈশান মাহমুদও ঢাকাতে।
রংপুরের অনিক রাহিম ব্যাংকে জয়েন করেছে। ঢাকাতে আছে। সামুয়েল ইকবাল বৌ শাপলা কে নিয়ে লন্ডনে। অনেকদিন। ফোনে কথা হয়। চমৎকা গাইয়ে মেয়ে মিতা কোথায় জানিনা।
কজনের কথা লিখব, কাকে ছেড়ে কার কথা ? সেসব দিনের কথা মনে পড়লে মনটা স্মৃতি কাতর হয়ে যায়। প্রযুক্তির উন্নতিতে ফেসবুকে, মোবাইলে আর ব্লগে অনেকের সাথে কথা হয়। দেখাও হয় কারো কারো সাথে। সেসব দিনগুলো... কী সময়ই না ছিল আমাদের...!!





ভাইরে, আপনাদের আড্ডার খবর সেই সময় কত যে পড়ছি, আর আফসুস খাইছি---
গোগ্রাসে গিলতাম লেখা আর আড্ডার খবর।
একবার কলেজ থেইকা দুই বন্ধু গুটি গুটি পায় গেলাম প্রথম আলোর অফিসে, গিয়াস ভাই মনে হয় তখন বিস, ওনার সাথে আলাপও করলাম, তারপর আবার নিজের স্টাইলে চৈলা গেলাম---
আমারো মনে পড়ছে---
আপনার বন্ধু ভাগ্য দেখে টাশকিত ও হিংসিত, একটু ফ্রাশটেনশিত
ইয়ে মানে, সময় পেলে পোষ্টটা আপডেট করে দিয়েন ওভারসীজ বন্ধুদের কথা লিখে
এরা সবাই ভোরের কাগজ আর প্রথম আলোর বন্ধু। এখন বিভিন্ন পেশায়, বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এছাড়াও আমার অনেক বন্ধু। দেশে-বিদেশে-পাড়ায়-মহল্লায়-পাহাড়ে-জঙ্গলে-আসমানে আর জমিনে... বুঝাইতে পারলাম ?
উরাধুরা পোস্ট। এবি এখন মেসবাহ য়াযাদ বাহিনীর দখলে।
তবে এতে কুনো সমস্যা নাই। সবকিছুই ভাললাগার জন্ম দিচ্ছে। বাহিনীর আপডেট জান্তে চাই।
মীরের সাথে একমত...
বাহিনীর নতুন নতুন গল্প-কথা জানতে চাই...
বন্ধুতার জয় হোক
বন্ধুতার জয় হোক... এটাই আসল কথা
মাশাল্লাহ আপনার বন্ধুলিষ্ট দেখে তো আমিও টাশকিত! এইটুকুন কিরাম কিপটার মতো লেখলেন রে ভাই! বন্ধুদের কথা শুনতে পড়তে খুব ভালা পাই..আরো লেখুন পড়ি
শুভেচ্ছা জানবেন।
দীর্ঘশ্বাসগুলো এবিতে জড়ো হয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস হয়ে যাক
কোন জেলা বাদ পড়লো দেইখ্যা লই। পুরাপুরি সমগ্র বাংলাদেশ ৫ টন অবস্থা আর কি
মেসবাহ,আপনার মুখে যখন হারিয়ে যাওয়া 'সেই সব দিনগুলি'র গল্প এবঙ পুরেনো বন্ধুদের স্মৃতিচারণ শুনি,অন্যরকম এক 'ভাললাগায় আচ্ছন্ন হই,সত্যি আপনার বন্ধুভাগ্য ঈর্ষনীয়।অবশ্য এদিক দিয়ে আমিও কম ভাগ্যবান নই,আমাদের সব ব্ন্ধুরা ভালো থাকুক,ভালো থাকুন আপনিও।
এখন ব্লগ বন্ধুতার ভালো মাধ্যম হইছে।
কথা সইত্য মুক্লা। তোমার বিবাহের খবর কী ? আরেকটা শীততো আইসা পড়লো। এইবারও কি আমরা নোয়াখালী যাইতে পারুম না ?
মেযবাহ আপনার লেখাটি পড়ে, পেছন পানে তাকাতে হলো। কতসুন্দর ছিল এনালগ সেই দিনগুলি।
হ, ডিজিটাল আইসা কিরাম জানি হৈয়া গেছে সব !
মেসবাহ ভাই, "সেসব দিনগুলো... কী সময়ই না ছিল আমাদের...!!" এই কথা মানলাম। তবে আমাদের অমুকখানে তমুক বন্ধু "ছিল" এই পাস্ট টেন্সে খুব আপত্তি আমার।
"সময় গিয়াছে চলে আমাদের কুড়ি কুড়ি বছরের পার..."
ঠিক, তবে বন্ধুতা আছে। ভাই এটা প্রেসেন্ট ইনডিফিনিট টেন্স... সতত বর্তমান।
একমত ভাই। ছিল নয়, হবে আছে... ঠিক করে দিলাম
এইটা কি নামের পোস্ট?
সব খালি নাম আর নাম
নামের পাশাপাশি কামের কথাও কৈছিতো ! পোস্ট আপডেট করছি...
আপনের বন্ধুদের প্রায় সবাইতো ঢাকায় আইসা জমা হৈছে। ঢাকায় যে কান এত পাবলিকের ভীড় বুঝন যায়।
হ, এই জন্যই ঢাকায় এত মানুষ...!
ওহ্ য়াযাদ ভাই, আপডেটের পর লেখাটা আরো দারুণ হয়েছে। আপনাকে ধইন্যা।
খালী ধইন্যা ? আপনেরে কাঁচা লংকা আর পিয়াজ...
ব্যাপক নামের সমাহার। কারও বাচ্চাকাচ্চা হলে নামের জন্য এই পোস্ট রেফার করব দেখি!!
তা করেন, আপত্তি নাই। খালি কপিরাইটটা আমার রাইখেন। আছেন কিরাম জনাব ?
'নুরপুরের' জায়গায় সম্ভবত "নূরনগর" হবে । খুলনার বন্ধুদের কাছে খোঁজ নিন ।
ঠিক, ঠিক নুরনগর হবে। রেডিও অফিসের ঠিক ঊল্টো দিকে। থ্যাংকু
চমৎকার বন্ধু ভাগ্য আপনার।
শুভেচ্ছা জানবেন।
মন্তব্য করুন