আমার কলিগেরা
আমার কলিগদের মধ্যে কতিপয় কলিগের কাহিনী বলবো আজ।
রোমানা :
রোমানার কথা মনে আছে ? এডমিনে কাজ করতো। সেই যে মেয়েটা। যে শুধুমাত্র গল্প শুনে শুনে আমাদের টুটুলের প্রেমে পড়েছিল। কিন্তু বেচারি রোমানা জানতো না, টুটুল ডুবে ডুবে জল খাচ্ছে নাজের সাথে। মনের দুঃখে অবশেষে করলো কী, টুটুলের হলুদের দিন নিজের হলুদ এবং বিয়ের দিন নিজের বিয়ের তারিখ ঠিক করেছিল। অবশ্য বাবুর ক্ষেত্রে একটু পিছিয়ে পড়েছিল। গত মাসে রোমানা মেয়ের মা হয়েছে। আশায় আছি, টুটুলের ছেলের সাথে যদি রোমানার মেয়ের একটা কিছু হয়...
নাহিদ :
কাস্টমার কেয়ার সার্ভিসের সবচেয়ে রুপবতী আর স্মার্ট মেয়ে ছিল। অফিসের অনেকের নজর ছিল তার দিকে। একদিন হুট করে খবর পেলাম, নাহিদ বিয়ে করে ফেলেছে কাস্টমার কেয়ারের আরেক ছেলে মিলনকে। হায় হায় করে উঠলো অফিসের অনেক অবিবাহিত কলিগরা। দুষ্ট লোকেরা বলে, কেউ কেউ নাকী বুকের বাম পাশে ব্যথা নিয়ে অফিসের ইমার্জেন্সিতে যেয়ে ইসিজি করেছে। অবশেষে জানা গেল, বুকের এ ব্যথাটা হৃদরোগের নয়, তবে হৃদয়ের ব্যথা যে ছিল, তাতে সন্দেহ নেই। মিলন আর নাহিদ- দুজনের কেউই আর আমাদের অফিসে নেই এখন। চাকরী ছেড়ে সাতক্ষীরাতে ওরা সুখে শান্তিতে বসবাস করছে...
মুরাদ :
ছেলেটা দেখতে ভালো। সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলে। কাজ করে কাস্টমার কেয়ারে। ওর সমস্যা দুটি। এক: অফিসে কোনো দিনই ঠিক সময়ে আসে না। দুই: গোটা দুয়েক বিয়ে করেছে। সম্প্রতি খবর পাওয়া গেছে, তৃতীয়টা করার পাঁয়তারা করছে। আমার সাথে মিডিয়ার লোকদের পরিচয় আছে জানার পর, আমার পেছনে ঘুরঘুর করতো। টেলিভিশনে খবর পড়ার খুব শখ তার। তার বিয়ে সংক্রান্ত কেলেঙ্কারী জানার পর ইদানীং পাত্তা দেইনা আমি...
সীমা :
সকালে ৭ টায় ডিউটি থাকলে ও আসবে ৮ টার পরে। বিকালে ২ টার ডিউটিতে আসে ৩ টায়। এসে একটা রুমে ঢুকে সাজবে ঘন্টা খানেক। তারপর কাজ শুরু করবে। যাবার সময় হলে অবশ্য দেরি করে না। ঘন্টাখানেক আগেই যাবার জন্য তৈরি হয়। সারাদিন এর-ওর সাথে কুটনামী করবে। এর কথা ওকে লাগাবে। বুদ্ধি কম। ধরাও পড়ে যায়। দেখতে খারাপ না। শুধু লম্বায় ফুট চারেক হবে। ইয়া উঁচু হিল পরে। আমি ওকে মই বলে ডাকি।
রিক্তা :
লোকজনের সাথে কখনই আস্তে কথা বলতে পারেনা । অন্তত গত ৬ বছরে আমি দেখিনি। এমনভাবে কথা বলবে- যে কেউ ভাববে, ঝগড়া করছে। কত শত বার বলেছি। লাভ হয়নি। এজন্য অফিস থেকে সতর্ক চিঠি খেয়েছে বার কয়েক। ২/৪ বার বেতনও কাটা হয়েছে। কোনো লাভ হয়নি। শেষে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে বদলী করা হয়েছে। বদলায়নি ওর জোরে কথা বলা...
লেনিন :
এ মাসের এক তারিখে চাকরী ছেড়ে দিয়েছে। আমাদের অফিসের ক্রিয়েটিভ ডিপার্টমেন্টের চিফ ছিল। আমার মাস ছয়েক আগে জয়েন করেছে। বাড়ি রংপুরে। আমরা পাশাপাশি বসতাম। একসাথে বিড়ি খেতাম। মেধাবী ছেলে। আমার সাথে তার সম্পর্ক ছিল টম এন্ড জেরির মত। সারাক্ষণ দুজনের মতের অমিল হত। তাকে আমি যতটা পছন্দ করতাম, অপছন্দও করতাম ঠিক ততটা। বসদের ভীষন তেল দিতে জানত। মজার ব্যাপার হচ্ছে, তার দেয়া এক ফোঁটা তেলও এদিক সেদিক পড়তো না।
রিয়াজ :
একাউন্টস ম্যানেজার। বর্তমানে আমরা কাছাকাছি বসি। আমাকে ছাড়া এক কাপ চাও খায়না। একটু সরল আর গোঁয়ার ছেলে। অফিসের যে কোনো বিষয়ে আমার সাথে পরামর্শ করবে। ভালো কাজের জন্য বেশ সুনাম আছে ওর। পরিচিত বা মিডিয়া সংশ্লিষ্ট যে কোনো রোগীকে ডিসকাউন্ট করার জন্য ওর পরামর্শ নেই আমি। ওর সাহায্য নিয়ে পরিচিত, অপরিচিত, গরীব কত মানুষকে যে ডিসকাউন্ট করে দিয়েছি- তার সীমা পরিসীমা নেই। এজন্য আমি ওর কাছে কৃতজ্ঞ। অফিসের যে কোনো ঘটনা বা অঘটনের সকল তথ্য কী করে জানি ওর কাছে চলে আসে। বেচারা আমার সাথে তা নির্দ্বিধায় শেয়ার করে। আমি এ অফিস ছেড়ে দিলে সবচেয়ে বেশি যে মানুষটা কষ্ট পাবে সে হচ্ছে রিয়াজ...। কিছুই করার নেই।ওকে কষ্ট দিতেই হচ্ছে। আিম অপারগ।





আহারে, আমি যদি টুটুল ভাই হৈতে পার্তাম
তাইলে কী হৈতো বিলাই ? একজনের নিরব প্রেম পাইতা আরেকজনরে বিয়া কোর্তা...?
চাকরী তাহলে ছেড়েই দিচ্ছেন? নাকি দিয়ছেন? এটা কি বিদায়ী মানপত্র?
সীমাকে আমার খুবই সুইট লাগলো
মানসিকভাবে ছেড়ে দিয়েছি। এখন শুধু সময়ের ব্যাপার।
সীমা ? শয়তানের দোসর, সাক্ষাৎ কুটনি...
???
হরে বিলাই... যাচ্ছি। তবে সেটা ঈদের আগেও হতে পারে, পরেও...
আহা রে .......আমি যদি টুটুল ভাই হইতাম।

কেউ কি কারো মতন হয় না হৈতে পারে ? আফসুস !
এই রোমানা'রে নিয়া না একটা ছড়া'ই বানায়ে ফেলা হইছিলো সামুতে, মাসুম্ভাইয়ের সেইসব কালজয়ী পোষ্ট গুলাতে ...
মুরাদ ব্যাটা না সেইদিন ২য় বিয়ে করলো, এখনই আরেকটা!!... :O
কী জানি ছিল মাসুম্ভাইয়ের সেই ঐতিহাসিক ছড়াটা ? এক হাতে ....... তার অন্য হাতে কাঁচি টাইপ কিছু
কোথাও বিষাদের সুর
লেখা ভালো লাগছে
ভালো থাকেন
ঠিক বিষাদ নয়, বুকের কোথাও একটু কেমন কেমন কষ্ট মতন। ৬ বছরের স্মৃতিতো !
চুপচাপ পড়ে গেলাম।
আপনেরে নিয়া লিখমু নাকি ২/৪ লাইন...?
আমারে মাফ কইর্যা দেন, জনাব। আগামী সাপ্তাহে আমিও কয়টা ইন্টারভিউ দিবো ভাবছি।
আপনার কলিগরা আপনার এ লেখাটি পড়ে যে খুশী হবে না,(রিয়াজ বাদে)এটা হলফ করে বলে দেয়া যায়।সে ক্ষেত্রে আপনার বিদায় সম্বর্ধনা.... !!
কলিগদের মধ্যে উদরাজী ছাড়া কেউ ব্লগের সাথে জড়িত নেই। সুতরাং সে ভয় নেই...। বিদায় সম্বর্ধনাটা আবার কীরে ভাই ? যাবার বেলায় গান ধরবো- আমার যাবার সময় হল দাও বিদায়...
আমিও ১ মাস পর চাকরি ছেড়ে দিচ্ছি
ওয়েলকু ব্রাদার
চাকরি ছাড়বেন ক্যান? নাইট শিফটের গল্প কই পামু?
রাইতের মেলা গল্প মাথায় জমা আছে, পাইবেন...
এইগুলা কি আসল নাম? যাদের নাম নিছেন, তাদের আপত্তি নাই তো? নইলে কিন্তু লেখাটা বিব্রতকরও হতে পারে!
একশত ভাগ আসল নাম। আই ডোন্ট কেয়ার মুক্লা...। খবর কী ? লেখনা ক্যান ?
মেসবাহ ভাই, এইবার আমাদের নিয়ে লিখেন।
মডুরা যদি ব্যান কৈরা দেয় ? খোদার কসম, লেখার খায়েশ আছে...। সবতে সম্মতি দিলে লেখুম... তোমগোরে লৈয়া...
কলিগদের নিয়ে মজা করাটা ভালই লাগলো । মন্তব্যগুলো লেখাটাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে ।
মজা করি নাইতো ! সত্যি ঘটনাগুলো লেখার চেষ্টা করেছি...
সেটাই তো বড় মজা !
মেসবাহ তোমার কলিজাখানি বেশ বৃহৎ । নারী জাতি সম্পর্কে অবলীলায় এমন নেগেটিভ বয়ান সম্ভব!!! প্রেম এবং বিয়ের তীর্থস্থান বলা যায়- তোমার অফিস কে ।
প্রেম এবং বিয়ের তীর্থস্থান বলা যায়- তোমার অফিস কে ।
তাই বুঝি ? কৈ, আমারতো প্রেম বিয়ে কোনটাই হৈলো না... আফসুস !!
আমি কোথায় ভাবলাম কোনদিন অসুস্থ হয়ে তোমাদের ওইখানে থাকতে হলে ডিসকাউন্ট পাবো-এখন দেখি চাকুরী ছাড়ার তালে আছো।
ডিসকাউন্ট আমি না থাকলেও করতে পারবো। বালাই ষাট...
টুটুল ভাই কি "কন্যা" রাশি??!! এট্টু ঈর্ষান্বিত হইলাম বইকি!
ক্যান, আপনি কোন রাশির জাতক...?
রমনীরা কোন রাশি পছন্দ করে?!
যৈবতী কইন্যারা কইন্যা রাশির জাতক পোলাগো বেশি পছন্দ করে
হাঁচা কইতাছুইন ত? কন্যা রাশি হওনের লাইগা কি করন লাগব??!!
আমার আর ল্যাবএইডের খিচুড়ী খাওয়া হলো না।

আরে না, অবশ্যই খিচুড়ি খাওয়ামু... নো প্রব্লেম
মন্তব্য করুন