মোটা কাহিনী
সুমন পাটোয়ারী আমাদের কমন বন্ধু। সুমন একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে কাজ করে। সপ্তাহে একদিন প্রথম আলোতে লেখে। সেটা নতুন কোনো কম্পিউটার গেম নিয়ে। সুমন কে চিনতে পারছেনতো ? বেশ কটি নাটকে অভিনয় করেছে। অনেকগুলো বিজ্ঞাপণে কাজ করেছে। ওর সবচেয়ে আলোচিত বিজ্ঞাপণ হচ্ছে- গায়িকা মমতাজের সাথে একটি টেলিফোন কোম্পানির বিজ্ঞাপণ সেটা। এরপর একটি মডেম কোম্পানির বিজ্ঞাপণে নির্মাতা ওকে রশি দিয়ে ঝুলিয়ে দিয়েছে বাড়ির ছাদের সাথে। সে এক দেখার মত দৃশ্য ! আমরা ওকে মানে ওর দেহ নিয়ে মারাত্বক রসিকতা করি। ও মজা পায়। আমাদের সাথে আড্ডা দিতে ভালবাসে সুমন। সমস্যা হয়- একটু পর পর কেউ না কেউ এসে ওর সাথে ছবি তুলতে চায়। সুমন খুব গম্ভীরভাবে পোজ দেয়। যেহেতু আমাদের ট্যুর করার বাতিক আছে, সেহেতু সুমনও আমাদের সাথে গিয়েছে ২/১ জায়গায়। এরপর প্রায় সবার আপত্তির কারণে আমরা ওকে আমাদের সাথে ট্যুরে নেই না। ওকে না নিয়ে ওর জায়গায় আমরা ৩ জনকে নিতে পারি। গাড়িতে সুমনের জন্য কম করে ৩ জনের জায়গা লাগে। ডাবল খাটে ঘুমাতেও তার সমস্যা। জায়গা হয় না। খাবারের কথা নাই বা বল্লাম। লোকজন ওর চারপাশে ভিড় করে। কাঁহাতক এসব সহ্য করা যায় ! এ নিয়ে সুমনের মনে অনেক দুঃখ থাকলেও আমাদের কিছু করার নেই।
আমাদের আরেক বন্ধূ মাসুদ পারভেজ। স্পোর্টস রিপোর্টার। বর্তমানে কাজ করে কালের কন্ঠে। সুমন পাটোয়ারীর মত না হলেও কম নয় পারভেজ। পারভেজের জন্য ২ সিট বরাদ্ধ রাখতে হয়। ওকে নিয়ে অনেক ট্যুর করেছি আমরা। মাইক্রোতে গেলে ওকে সামনের সিটে বসতে দেই। বাসে গেলে ওর সাথে কেউ বসতে চায় না। আসলে পারভেজ বসার পর আর কারো বসার মত জায়গা থাকেও না। দলের সবচেয়ে চিকন অথবা নিরীহ সদস্যকে বাধ্য হয়ে বসতে হয় ওর পাশে। ত্যাদোড় কেউ কেউ পারভেজকে বলে- তোমার যেহেতু বসতে এত সমস্যা, তুমি ২ জনের চাঁদা দিলেইতো পারো ! পারভেজ শিশুর মত হাসে। তো, এই পারভেজ আর সুমন পাটোয়ারীকে নিয়ে আমাদের রসালো অভিজ্ঞতার শেষ নেই। সবচেয়ে জটিল/কঠিন/মজার অভিজ্ঞতাটির কথা মনে পড়ছে এমুহুর্ত্যে...
প্রতিবছর আমরা ছবির হাট থেকে আয়োজন করি ঘুড়ি উৎসবের। সাধারণত সেটা হয় সেন্টমার্টিন্স দ্বীপে। সেখানে আমাদের আরেক বন্ধুর রিসোর্ট আছে, সীমানা পেরিয়ে। আমরা সপ্তাহ জুড়ে পুরো রিসোর্টটি নিয়ে থাকি। গত ২০০৭ সালের ঘুড়ি উৎসবের ঘটনা এটি। বিকালে আকাশে ঘুড়ি উড়াবো সবাই। সকালে নাস্তা সেরে সীমানা পেরিয়ের সামনে সমুদ্রে গেলাম গোসল করতে। সৈকতে এক লোক দেখলাম, একটি ঘোড়া নিয়ে ঘুরছেন। যে কেউ সৈকতের এ মাথা থেকে ও মাথা পর্যন্ত ঘোড়ার পিঠে ঘুরে আসতে পারে। মিনিট দশেকের জন্য তাকে দিতে হয় ৩০ টাকা। আমাদের মাসুদের ইচ্ছে হল সেও ঘোড়ার পিঠে করে সৈকতে এক চক্কর দিবে। ঘোড়ার মালিকের সাথে কথা বলল মাসুদ। মালিক মাসুদকে দেখলেন আপাদমস্তক। এরপর রাজি হল না। মাসুদ বলল, ঠিকাছে ১০ টাকা বেশি দেব। তাতেও লোকটা রাজি না। মাসুদেরও জেদ চাপলো। সে ঘোড়ার পিঠে উঠবেই। লোকটার সাথে রিতিমত তর্ক বেঁধে গেল ওর। আমরা বললাম, ঠিক আছে ওর যেহেতু শখ হয়েছে তুমি ৫০ টাকাই নিও। গোসল করতে আসা আমরা ৪০/৫০ জন ছাড়াও আশে পাশের লোকজন উৎসুক দর্শক। দেখিনা কী হয় ! অবশেষে ঘোড়ার মালিক রাজি হল। আমরাও হৈহৈ করে উঠলাম। যার যার হাতে ক্যামেরা আছে, সবাই রেডি। মাসুদ একটা ঘোড়ার পিঠে- এমন দুর্লভ ছবি কেউ মিস করতে রাজি না। লোকটা ঘোড়াকে মাসুদের কাছে আনলেন। মাসুদ ঘোড়ার পিঠে উঠলো কী উঠলো না, ঘোড়া সোজা শুয়ে পড়ল সৈকতের বালিতে। আবার চেষ্টা করল মাসুদ। আবার একই ঘটনা। মাসুদ উঠবেই, উঠেও... ঘোড়া বেচারা ওকে পিঠে নিয়ে আর দাঁড়াতে পারে না। পারবে কী করে ? ধরে নেই মাসুদের ওজন ৪ মন, বেচারা ঘোড়া হয়ত সর্বোচ্চ ২ মন ভার নিতে পারে। এদিকে যতবার মাসুদ ঘোড়ার পিঠে উঠতে যায়, ততবারই ১৫/২০ টা ক্যামেরা তাকে তাক করে। বেচারা মাসুদের অবস্থা ! অবশেষে ঘোড়ার মালিক আমাদের সবার কাছে বিশেষ করে মাসুদের কাছে মাফ চেয়ে তার ঘোড়াসহ এলাকা ত্যাগ করলো। পরবর্তী ২ দিন আমরা লোক পাঠিয়েও তাকে আর এই সৈকত এলাকায় আনতে পারিনি।
সেই সব ছবি আমাদের অনেকের কাছে আছে। সেসময় ফেসবুক এত জনপ্রিয় হয়নি। নাহলে কবেই পারভেজের ঘোড়ার পিঠে ওঠার সেই ছবি আমরা ছেড়ে দিতাম... এখনও হঠাৎ আমাদের মধ্যে কেউ কেউ মাসুদ পারভেজকে সেদিনের কথা মনে করিয়ে দেয়। সে ছবি ফেসবুকে ছেড়ে দেবার হুমকি দেখায়। পারভেজ খাইয়ে অবশেষে তা রফা করে। খেতে এবং খাওয়াতে পারভেজ খুব ভালবাসে...





আমার একবোন অনেকদিন বৈদেশ থাকার পর দেশে ফিরলেন পুরা ২সাইজ হাতি হয়ে। তো গ্রামে গেছেন, সবাই রিক্সায় করে কই জানি যাবে, কোন রিক্সা উনাকে নিতে রাজি না, শেষে অনেক ভুজুংভাজুং দিয়া ১৫টাকার রিক্সা ৪০টাকায় ঠিক করে উনাকে তোলা হলো, কিছু দূর যেতেই রিক্সাওলার উপদেশ আপুর প্রতি, "বইন রে তুই কি খাস!... বাত খাওন ছাড়ি দে রে বইন, রুডি খা রে বইন রুডি খা! আল্লারে আরঁ মাজা তো আইজ বেগগা শেষ!...এরে আইঁ শেষ রে, কিল্লাই যে লোব কইচ্ছিলাম রে... ..."
এমূহুর্ত্যে.. সেনটমার্টিন্স, লোকটার সাখে রীতিমত - বামাম বুল, জলদি ঠিক করেন, রায়হানভাই আবার এসে খোচাঁ দিবো...
বন্ধূ
মোটাদের কত গল্প!! মজা পাইলাম
মজার
মজা পাইলাম না
কারন আমিও ওই দলে 
তোমার এই দুই বন্ধুর ছবি দেখতে চাই।
দোলনার এই ছবি না আসল ছবি।
মোটা কাহিনী মজার।
ব্যাপক
খিকজ

পারভেজ ভাইকে তো দেখি মাঝে মাঝেই
খাওয়াতে যে ভালোবাসেন জানতাম না ..... জানানোর জন্য ধন্যবাদ 
কোথায় দেখেন মাঝে-মাঝে ?
আমাদের অফিস এক জায়গায়
আপনার সাথে কি আমার একুশে ফেব্রুয়ারীর দিন দেখা হইছিল বইমেলায়?
হৈতে পারে বস। স্যরি, মনে করতে পারতেছিনা
মনে পড়ছে। আপনে এক্স ক্যাডেট পিচ্চি ছেলেটা। আংরেজিতে বই লেখছেন...
হেহে.....হুমমম
হাহাহহাহাহহাহাহহা........। ফাটাইয়ালাইছেন।
সুপার গ্লু আছেনা !
স্কোর কত ?
৪ : ৪
আমার সেজ চাচা আর চাচী দুইজনি সেরকম,একবার উনারা কোথাও যাবেন ,রিকসা ওলা বলছে আমি একটু চাকায় হাওয়া দিয়ে আসি বলে নিজেই হাওয়া,আমার চাচা সরল মনে দাড়িয়ে আসেন ,সে কি আর আসে।এই চাচীর পুরা ফ্যামিলী এক সাইজ,উনার বাবা,মা আর ছোটো বোন ট্যাক্সিতে উঠেছে,সাথে সাথে চাকা পাংচার...
চাচার পরিবারের জন্য
মোটা মানুষ একটা আছে চিন-পরিচয়ের মধ্যে। তার কীর্তি-কলাপও সেইরকম। আপনের দুই বন্ধুর ছবি দেন।
ছবি দেওন যাইবোনা বস। অগো একটা ইজ্জত আছে না !
ছবি দিলাম, অবশেষে
সীমানা পেরিয়ে রিসোর্টে একটা ভয়াবহ মজার নোটিশ টানানো আছে
অনেকটা এরকম বোধহয় লেখাটা
এখানে গান বাজনাসহ যাবতীয় বেদাতী কার্যকলাপ নিষিদ্ধ। ইসলামিক আচরন বজায় রাখুন
শান্তি বজায় রাখুন
মন্তব্য করুন