শিরোনামহীন
অ
আমার মায়েরা দুই বোন আর দুই ভাই। সবার বড় খালা, তারপর বড় মামা, তারপর ছোট মামা। সবার ছোট ছিলেন মা। আগে আমার মা মরেছেন, তারপর বড় মামা। বর্তমানে ছোট মামা আর বড় খালা বেঁচে আছেন। ছোট মামা আবার হুজুর। তাঁকে আমরা বেশ সমীহ করে চলি। থাকেন গ্রামে। আমরা কালে ভদ্রে গ্রামে বেড়াতে গেলে তাঁকে এড়িয়ে চলি। পারতপক্ষে তাঁর সামনে পড়তে চাই না। একথা সেকথার পরেই ছোট মামা নামাজ রোজার কথা বলবেন। তাঁর সামনে আমাদের সব বৌ-ঝিরা পড়তে চায়না। মেয়েরা তার সামনে যাবার আগে প্রস্তুতি নিয়ে যেতে হয়। মাথায় ঘোমটা বাধ্যতামূলক। কপালে ফোটাতো কল্পনাই করা যায়না। রাতে তাঁর বাড়িতে কেউ ঘুমাতে চায়না। ভোর ৪ টার সময় তিনি ঘুম থেকে তুলে দিবেন এবং নামাজ পড়ার জন্য ছেলেদের নিয়ে মসজিদের দিকে রওয়ানা হবেন। আমাদের পরিবারের শিশুদের নাম নিয়ে আরেক সমস্যা। তিনি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সব বাচ্চাদের নাম জানতে চাইবেন। আমরাও তাঁকে ফাঁকি দেবার জন্য ডাক নাম বাদ দিয়ে সার্টিফিকেটের নাম বলি। ফলে মামার সামনে আমাদের পরিবারের শিশুদের নাম পাল্টে যায়।
বড় ভাইয়ের মেয়ে " অগত্যা " হয়ে যায়- নুশরাত
আপার ছেলে " তূর্য "- তৌফিক
আমার ছেলে " রোদ্দুর "- সামিন
ছোট বোনের মেয়ে " অন্যতমা "- মরিয়ম আর " বর্ণমালা "- ইশরাত
ছোটবোন " শিপলু "- সুলতানা
এই মামার বড় মেয়ে শাহিদা। ও তখন বেশ ছোট। সেসময়ের ঘটনা। সকালবেলা আরবী পড়ছে। সুরা পড়ছে সুর করে। তো, আলহামদুলিল্লাহ সুরা শেষ করে এভাবে- ... ওলাদদোয়ালিন, আমিন- শফিক।
ছোট মামা জানতে চাইলেন আমিন- শফিক, এর মানে কী।
শুধু জ্যাঠার নাম বলবো, আপনার নাম বলবো না ? শাহিদার উত্তর।
গম্ভীর ছোট মামাও হেসে দিলেন মেয়ের উত্তর শুনে।
(আমাদের বড় মামার নাম " আমিন " আর ছোট মামার নাম " শফিক ")
আ
সূর্য উৎসব করতে প্রতিবছর আমরা কোথাও না কোথাও যাই। এক বছর জলে তো পরের বছর স্থলে। এভাবেই করে আসছি ২০০০ সাল থেকে। এটি ২০০১ সালের ঘটনা। সেবার শ'দেড়েক লোক নিয়ে বিশাল তিন তলা লঞ্চে করে আমরা রওয়ানা হয়েছি সুন্দরবনের উদ্দেশ্যে। সেবারই আমি প্রথম সুন্দরবন যাই। আমাদের সাথে ছিলেন আম জনতা ছাড়াও আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ, ম.হামিদ, ফাল্গুনী হামিদ, পরিবারশুদ্ধ ড.মুহাম্মদ জাফর ইকবালসহ আরো বিশিষ্ট কিছু মানুষজন। এবারের ঘটনা জাফর স্যারের নিজের মুখে শোনা-
জাফর স্যারের এক ছেলে আর এক মেয়ে। দুজনের কেউই ভাল বাংলা বলতে পারে না (তখনকার ঘটনা, এখন নিশ্চয়ই পরে)। তো, কেউ বাসায় এলে, ফোন করলে বা দেখা হলে তাঁর ছেলেকে কিছু জিজ্ঞেস করলে সে হবাব দিত- " হ্যাঁ " বলে। যেমন, কেউ জানতে চাইলেন- স্যার বাসায় আছেন ? ছেলে বলতো- " হ্যাঁ "।
তুমি ভাল আছ ? ছেলে বলতো- " হ্যাঁ "।
এটা জাফর স্যারের নজরে এল। উনি ছেলেকে ডেকে বললেন,
বাবা, কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে " হ্যাঁ " না বলে বলবে- " জ্বি "। ছেলে মাথা নেড়ে বুঝাল, ঠিক আছে। এভাবে ভালোই চলছিল।
একদিন সকালবেলা কে যেনো দরজায় কল বেল বাজাল। বাবা আর ছেলে তখনও ঘুমাচ্ছে। মা বললেন, দেখতো বাবা কে এসেছেন ! ছেলে ঘুম চোখে দরজা খুললো। দেখে, এক ভদ্রলোক দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি জানতে চাইলেন, জাফর স্যার কি বাসায় আছে ?
ছেলেটি ভুলে গেল কী বলতে হবে ! শুধু মনে আছে কোনো একটা ইংরেজি শব্দ বলতে হবে...
উত্তর দিতে দেরি দেখে দরজার বাইরের ভদ্রলোক আবার জানতে চাইলেন, কথা বলছোনা কেনো বাবা, স্যার কি বাসায় আছেন ?
ছেলে বললো- " এইচ "...
ভদ্রলোক কিছু না বুঝে বোকার মত তাকিয়ে রইলেন। ইতিমধ্যে জাফর স্যার ঘুমে থেকে উঠে এসেছেন। ভদ্রলোককে বাসায় নিয়ে বসালেন। ভদ্রলোক চলে যাবার পর ছেলে বাবাকে ডেকে জানতে চাইলো- কেউ কিছু জানতে চাইলে কোন শব্দটা যেনো বলতে হবে ? স্যার বললেন- জ্বি। ছেলে বললো- স্যরি বাবা, আমি " জ্বি " ভুলে ভদ্রলোককে " এইচ " বলে ফেলেছিলাম...
ই
এই কাহিনীটা আগেও বলেছি। আবার বলি। আমরা তখন কুমিল্লায় থাকি। অশোক তলায় আমাদের বাসা। কী একটা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট খেলা যেনো হচ্ছে বাংলাদেশে। সেবার বাংলাদেশ পাকিস্তানকে হারাবার খুশিতে আমি আমার গোঁফ বিসর্জন দিয়েছিলাম। তো ঘটনা সেটা নয়। কোনো একটা খেলার মধ্যাহ্ন বিরতির সময় আমার বৌকে নিয়ে ঝাউতলায় খালার বাসায় যাচ্ছিলাম। খালার শরীরটা ভাল না, তাঁকে দেখতে। পথে যেতে বৌ আমার কাছে জানতে চাইলো- আচ্ছা, মেডিনোভা কী ?
একটা ডায়াগনস্টিকের নাম- অন্যমনস্কভাবে বললাম আমি।
আরে না... ক্রিকেট খেলার সময় যে বলে- সেই মেডিনোভাটা কী ?
ঘটনা যা বুঝার, বুঝে যাই। বলি, কোনো বলার যদি ৬ টা বল অর্থাৎ এক ওভারে ব্যাটসম্যানকে কোনো রান করার সুযোগ না দেয়- তাকে মেডিনোভা বলে.. । আর শব্দটি মেডিনোভা হবেনা, হবে- মেডেন ওভার...





২৫বার পঠিত কিন্তু কমেন্ট নাই! এমন মেডিনোভা মেনে নেয়া যায় না!
বাইদাওয়ে স্কোর কত? খানা কে খাওয়াইবো তা বুঝতাম আর কি।
জটিল জেবিন !!!
তবে এইবার কোনো বানাম্ভুল ধরতারোনাই নাকি এইখানেও মেডিনোভা?
ও কী বানাম্ভুল ধরবো ?
আপনিতো বেচারীর নামটাই ভুল লেকছেন !!
মেসবাহভাই@ আমার নামটারে মিঃ বিন, ডাস্টবিন, রিসাইকেলবিন এইসবের গোত্রীয় বানায়ে ফেলছে!
নাহ বানান আজকে চমত্কারভাবে ঠিকঠাক। তবে টিপ অর্থে যে ফোটা ব্যবহৃত হইছে তা কি ফুলের জন্য করা হয় না? এখানে কি ফোঁটা হবে? খুঁত না নিজে জানতে চাইছি!
হট আ্যাবাউট মধ্যান্হ
শিরোনাম
এত বানাম্ভুল ধরলে কৈলাম খেলুম (লেখুম) না...
ঘুড়ি উৎসবে যামু
ভাবীজান দেখি একবার দুবাই একবার ঘুড়ি উৎসবে যাইতেছেন।ভালোই।

হ! সব জায়গায় যাইতে চাই, কারন আসলে তো কোথাও নিয়া যাইবো না।
নো টেনশন ! আগামী মাসেইতো চাঁপাই যামু, আম খামু...
তিনটাই মজার হইছে
মেসবাহ ভাই তো দারুণ ফর্মে আছেন
চালায়ে যান 
আপনেরেও
এখন তো আর মেডেন ওভার নাই। তাই না?
আপনেরে চিটাগাং সফর নিয়া জাতী কিছু জানতে চায়...
হ। আজকেও রাসেল জিগায়, মাসুম ভাই এর কি হইছে? চিটাগাং থেকে এসে এমন চুপ মাইরা গেলো কেন?
হ, বুঝতাছিনা। সমস্যা কী মানসিক না শারীরিক...?
মেসবাহ ভাই ফর্মে আসছে।
দারুণ পোষ্ট। 
হেব্বি লাগল জুসিম ভাই
মন্তব্য করুন