পাঁচ মাসের শ্যাওলা জীবন
ভয়াবহ অস্থির সময় যাচ্ছে। এরকম হঠাৎ হঠাৎ হয়। আগে পিছে না ভেবে হুট হাট কাজ করার স্বভাব বরাবরই। পরে পস্তাই। মানুষকে বিশ্বাস করি। করে ঠকি। তাতে অবশ্য কিছু যায় আসেনা। আমার মত আমি চলি। যা ভাল মনে হয় করি। অন্যে ভাল বললেই সে কাজ করিনা। নিজের সাথে বোঝাপড়া সেরে নেই আগে। ভেতর থেকে সাড়া পেলে তবেই কোন কাজে হাত দেই। হঠাৎ চাকরী ছেড়ে দেবার অভ্যাস পুরোনো।
ব্যবসা বানিজ্য হবেনা আমাকে দিয়ে। এটা ভালই বুঝি। আমার চাহিদা বেশ কম। কোনো ভাবে বেঁচে বর্তে বাকী জীবনটা কাটাতে পারলেই হলো। ছেলে দুটোকে একটা ব্যবস্থা করে দেয়া। তারপর দুজনে বুড়ো হয়ে যাব। হয়ত গ্রামে চলে যাব। কত বিশাল বাড়ি। কেউ থাকেনা। বাড়ির পাশেই নানা বাড়ি। মা'র শেষ ইচ্ছেতে তাঁকে সেখানে শুইয়ে রাখা হয়েছে। বাবা আজিমপুরে শুয়ে আছেন। ভাই বোনদের সবাই এখন ঢাকায়।
পাঁচ মাস থেকে বেকার জীবন। ভাবছিলাম আর চাকুরীতে যাব না। গত ৫ মাসের অভিজ্ঞতায় মনে হল- ব্যবসাটা আমার নয়। অত টাকার কী দরকার আমার ! আসলে আমি বুঝিনা, একটা মানুষের কত টাকার দরকার ? কত টাকা হলে মনে হবে আমার আর টাকার দরকার নেই ! কেনো জানি মনে হচ্ছে,। এভাবে আরো ৫ মাস ব্যবসার সাথে থাকলে আমি হয়ত আমার পরিবার থেকে আলাদা হয়ে যাব। সকালে বেরুবার সময় ছেলেরা ঘুমিয়ে থাকে। রাতে ফিরতে ফিরতে অনেকদিন দেখি ঘুমিয়ে গেছে...। কষ্টরা চেপে ধরে বুকে। তাইলে কীসের জন্য এত সময় ব্যয় করছি ? ওদেরই যদি সময় দিতে না পারলাম !
ছেলেদের পাশাপাশি ওদের মায়ের সাথে খুনশুটি করতে পারিনা। দুপুরে বা রাতে একসাথে বসে খেতে পারিনা। খুব মিস করি। শুধু একটু বেশি অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার জন্য আমি এতসব কিছু থেকে বঞ্চিত হতে চাইনা। ছোট ছেলেটাকে আজকাল খুব মিস করি। দিন দিন ও বেড়ে উঠছে। মাত্র ১৪ মাসে অনেক কিছু শিখেছে সে। বাবার সাথে তার অনেক সখ্যতা। বাসায় আমি যতক্ষণ থাকি, অন্য কারো কোলে যাবেনা। আমার সাথে থাকবে। এই বয়সে ক্রিকেট খেলা খেলবে আমার সাথে। ছোট একটা ব্যাট আছে। ঘরে বল আছে ৫/৬ টা। বিভিন্ন আকার আর আকৃতির। ও ব্যাট নিয়ে দাঁড়াবে। আমাকে বল মারতে হবে। ব্যাটে আর বল লাগাতে পারেনা। অতটুকুন শক্তি বা বুদ্ধি নেই ছেলেটার। এই হচ্ছে বাপ-বেটার ক্রিকেট খেলা।
বড় ছেলেটার পছন্দ কম্পিউটার গেম। টিভিতে দেখবে- কার্টুন ছবি আর ফুটবল খেলা। গল্পের বই পড়ে প্রচুর। ওর প্রিয় জাফর ইকবাল। ছোটটা টিভি খুব বেশি দেখেনা। তবে, বাংলা লিংকের সব অ্যাড আর রবির " আমার রবি " শুরু হলে দেখতে দেখতে টিভির একদম সামনে চলে যাবে। চোখ সরাবে না টিভি পর্দা থেকে। অ্যাড শেষ ওর টিভি দেখাও শেষ। এসব আমি খুব এনজয় করি।
তাই ভাবছি, ব্যবসার ভুত মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে আমি আবার নির্দিষ্ট সময়ের চাকরীতে চলে যাব। ইতিমধ্যে ২/৩ জায়গায় ফাইনাল/সেমি ফাইনাল হয়ে আছে। হয়ত জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকেই আবার কাজে যোগ দেব। বাচ্চাদের সময় দেব। আড্ডা দেব। মাসে অন্তত দুবার বেড়াতে যাব ঢাকার বাইরে। জীবন আর কয়দিনের ? জীবনটাকে এনজয় করতে চাই আমি। সাথে নিতে চাই আমার ছেলেদের, তাদের মা'কে। আমার বন্ধুদের আড্ডায় নিয়মিত যেতে চাই। টাকার মোহের কাছে হারতে চাইনা আমি। আমার অনেক টাকার দরকার নেই। আমি আমার মতই বাকী জীবনটা কাটাতে চাই। আমার জীবন নিয়ে এদ্দিন যেমন সুখী ছিলাম- তেমনি সুখী থাকতে চাই আমৃত্যু।





এইটা আর কেও পারবে কি না জানি না তবে আপনি পারবেন সেটা আমি হলফ করেই বলতে পারি।
শিওর কচ্ছোতো ভাইস্তে !
শিউরই কচ্ছি ভাইস্তার ভাই।
ভাই কিছু টাকা আমারে দিয়েন, সম্প্রদান কারক অবশ্য
মানে সম্প্রদান কারক ? আপনে টেকা দিয়া কী করবেন ? একলা মানুষ ! তাছাড়া টেকা-পয়সা লেন-দেন করলে সম্পর্ক খারাপ হয়। আমি সেইটা চাইনা...
রাজনের বউ আছে তো

তাই বুঝি ?
লেন-দেন করলে সম্পর্ক খারাপ হয় কিন্তু সম্প্রদান করলে হয় না
সেটাই, কি আছে জীবনে!
হ, কী আছে জীবনে !
এই ক'মাসে যা জামাইছেন তার থেকে কিয়দংশ ধার দিয়েন, ভগবানের কৃপা হোক!
আমি বৈদেশীগো টেকা লোন দেইনা !
এতে ভগবানের কৃপা হোক আর নাই হোক...
আপনি চাকরী করলে আপনি ও আপনার পরিবার কোন এক ব্যবসায়ী/ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানের উপর কোন না কোন ভাবে নির্ভরশীল থাকবেন । আর ব্যবসা করলে এক দিন হয়তো অনেকগুলি পরিবারের ভার আপনি নিজেই নিতে পারবেন...
তবে যিনি চাকরীতে মজা পান তার কাছে ব্যবসা ভাল লাগে না, যিনি ব্যবসায়ে মজা পান চাকরীতে তাকে বাঁধা যায় না...
~
এইটাই আসল কথা, ফেরিওয়ালা ভাই
তাড়াতাড়ি ভালো একটা চাকরী নেন।
নিলে ?
তারপর আমার অফিসে আইসা চা আর বিড়ি খাইবেন !
সেটা তো আছেই
লাগলে দু'একটা চাকরীও চাইতে পারবো আপ্নের কাছ থেকে।
কথাগুলো কাকে শোনাচ্ছেন? বারবার বারবার আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বলেন, শক্তি পাবেন
আমার বাসায় আয়না নাই আর আয়না কিনার টেকা নাই...

আয়না কিনার টেকা দিবেন বৈদেশী আপা ?
সুখী মানুষ মেজবাহ ভাই, এমন লেখা আরো চাই।
বুড়া বয়সের পোলা দরদতো অনেল লাগবে।
কারো কারো বুড়া বয়সের পোলা আছে...



কারো কারো তাও নাই
আফসুস !!
চোক্ষে পানি আয়া পরল য়াযাদ ভাই।
আমারও চোক্ষে পানি আইসা গেল...
তয় আপনের আইছে নিজের দুঃখে, আমার আইছে অন্যের দুঃখে
নতুন জায়গায় নতুন কাজে মন বসুক , দোয়া করি। ব্যবসা-বানিজ্য, এত টাকার পেছনে ছুটা আপনাকে কি আর মানায়! আপনি আমাদের সুখী দাদাভাই। এমনই খাকেন আজীবন বাবা ২ টাকে নিয়ে।
খাকেন = থাকেন
আমিন !

ভাইয়া, আপনার জন্য শুভকামনা থাকবে সবসময়---যে কাজ ভালো লাগে সেটাই যেন করতে পারেন।
কিন্তু লেখাটায় দু'এক জায়গায় আপত্তি আছে, ব্যবসা বাণিজ্য যারা করেন প্যাশন নিয়ে তাদের প্রতি কটাক্ষটা ভালো লাগে না। মানুষ কি কেবল টাকার জন্যই ব্যবসা করে ? ব্যবসায়ীরাই, যাদের এনট্রিপিনিয়রশিপ এর দক্ষতা আছে তারাই তো দেশ চালিয়ে রেখেছেন, আর আমরা যারা ৯/৫ চাকরি প্রেফার করি তাদের আন্ডারেই করি।
আবার অনেকে চাকরি করেও প্রচুর টাকার খাইচড়া হয় এটাও দেখেছি
আপনার আপত্তির সাথে একমত আমি।
আমি শুধু আমার অনুভূতির কথাগুলো বলেছি...
শুভকামনার জন্য অনেক ধন্যবাদ দিদি
সুখী ছিলাম- তেমনি সুখী থাকতে চাই ------
আপনার সুখে যেন কেউ নজর না লাগায় তাই একটা কাল টিপ দিয়ে দিচ্ছি।
ভাল থাকেন।।.।।।.।অনেক ভাল
থ্যাংকু, থ্যাংকু রুজিনা আফা
আপনার বস থিতু হয়ে কোনো কিছু করবার ধাতে নাই, এই অভ্যাস থাকলে চাকরি - ব্যবসা কোনোটাতেই কিছু করা সম্ভব হয় না। তবে আপনার জন্য চাকুরিই ভালো, এমন চাকুরি যাতে চেয়ারে না বসে ঘুরারি করা যায়।
সেই ঘুরাঘুরির লাইগাইতো ব্যবসা ছাইড়া চাকরীতে যাইতে চাইতাছি...
কেন্টিন আছে আর সেখানে আড্ডা দেওয়া এমন অফিসে জয়েন দিয়েন।
এক্সিডেন্ট হইতে সাবধান।
লাভ নাই বস। এক্সিডেন্টতো আর বলে কয়ে আসেনা...
দোয়া করে গেলাম।
আপ্নে আবার ল্যাব এইডে জয়েন করেন
এক জায়গা একবার ছাড়লে আবার সেখানে যাওনার অভ্যাস নাই আমার
মেসবাহ চলেন ঘুইরা আসি
চলেন সামনের শুক্রবার ঈশ্বরদী যাই। লিচু দেখি, খাই, ছবি তুলি আর নিয়ে অসবো হাজারে হাজারে...

মাত্র ৫মাস বেকার!
ঘুরান্তি দেয়া যায় এমন চাকরীতে জয়েন করেন, আআআআমিন!
বৈদেশে ঘুরান্তি দিতে মঞ্চায়...
আচ্ছা ভাই, এমুন হয় না- ব্যবসাও করুম না, চাকরিও ভি করুম না। মাগর সংসার ঠিকই চলব, টেনশন নেওন লাগব না! এমুন হয় না ক্যান ভাই...!
হ, হ ভাই। আমিও এমন কৈরা ভাবতাছি। মাগার কওনের সাহস পাইতাছিনা...
নতুন একটা ব্যবসা বুদ্ধি করেছি। আয়ারল্যান্ডে এখনও চালু নেই এটা করতে পারলে খারাপ না। শপিং সেন্টার গুলোতে ছোটখাট মিনি স্পা। ডক্টর ফিস মানুষের পা কামড়িয়ে ডেড স্কিন খাবে। বদলে পয়সা দিবে। কেমন মনে হয়?
মন্তব্য করুন