এমন চিঠি পেতে কার না ভালো লাগে ?
বন্ধু, বন্ধুতা, সিদ্ধান্তহীনতা, অমিমাংশিত সম্পর্ক ইত্যাদি বিষয় নিয়ে
কোনো এক বালিকাকে লেখা জনৈক বালকের চিঠির চুম্বকাংশ...
আমার অপরাধের সীমা নেই। কেনো যে তোমাকে এতো ঝামেলায় ফেল্লাম। আমি অনুতপ্ত। তবে বিশ্বাস করো, কোনোটাই আমার ইচ্ছাকৃত না। শুধু আমার জন্য তোমাকে বিভিন্নভাবে নাজেহাল, অপমানিত আর আহত হতে হয়েছে। যার পুরো দায়ভার আমি স্বেচ্ছায় নিজের কাঁধে নিচ্ছি। আমি কোনো দিন কোনো ভাবেই চাইনি, আমার কারণে তোমার কোনো কষ্ট হোক, দুঃখ হোক। আমি তোমাকে অনেক বেশি পছন্দ করি, স্নেহ করি আর ভালোবাসি। তোমার প্রতি আমার টানটা একটু আলাদাই। এ এক অন্য রকোম বিনি সুতার টান। কিছু কিছু বন্ধুত্ব আছে, যা বন্ধুত্বের বাইরেও বেশি কিছু। এ বড়ো অমিমাংশিত এক সম্পর্ক।
তোমার বা আমার কাউকে ভালো লাগতেই পারে। তার মানে এই নয় যে, তার ভালো-মন্দ সব কিছুতেই তুমি বা আমি সার্বক্ষণিকভাবে অসভ্য মানুষের মতো নাক গলাবো। বন্ধুত্বের দাবী নিয়ে আর যাই হোক, অন্যপক্ষ না চাইলে তার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে নাক গলানো ঠিক নয়। তুমি আমার বন্ধু হতে পারো কিংবা ধরো আমি তোমার। তারমানে এই নয় যে, আমাদের কারো আর কোনো বন্ধু থাকতে পারবেনা। বন্ধুত্বের জন্যে বয়স, ধর্ম, বর্ণ কোনোটাই খুব জরুরি নয়। এরজন্য যা প্রয়োজন তা হলো সমমনতা। নির্ভরতা, স্বার্থহীনতা আর বিশ্বস্ততা। বন্ধু বন্ধুর প্রতি সব সময় থাকবে বিশ্বস্ত। একজন না চাইলে অন্যজন কোনোভাবেই একে অন্যের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়ে নাক গলাবে না... এটাই বন্ধুত্ব আর বন্ধুতা।
বন্ধুত্বের বাইরে কেউ তোমাকে অন্যভাবে পছন্দ করে, করতেই পারে। পছন্দ করার মতো যথেষ্ঠ বিষয় আছে তোমার মধ্যে। তবে কেউ যখোন সেই পছন্দের দোহাই দিয়ে সবকিছুতে সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখোন তা মানতে বড়ো বেশি খারাপ লাগে। মনে করো, তুমি একটু অন্যরকোম কাউকে পছন্দ করো- তারমানে এই নয় যে, তার ভালো-মন্দ- চলন-বলন-পোষাক-অচরণ সব কিছুতেই নাক গলাবে। সে অবসর সময় কোথায় যায়, কী করে, কার সাথে কথা বলে- এ সব জানতে চাওয়াটা যথেষ্ঠ বাড়াবাড়ি। বন্ধুত্বের সম্পর্কে ঈর্ষা, জ্বালা-পোড়া থাকবে, তবে সেটার একটা সীমা পরিসীমা থাকা চাই। প্রতিটি মানুষের একটা ব্যক্তিগত জীবন থাকবে। ব্যক্তিগত ভালো লাগা, মন্দ লাগা, পছন্দ, ইচ্ছা, অনিচ্ছা থাকবে। পারস্পরিকভাবে একে অন্যের সে সব কিছুর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকবে। তবেই না বন্ধুত্ব বা বন্ধুতা যাই বলো- তা পোক্ত হবে। মনে রেখো, বন্ধুতার মূল ভিত্তি হচ্ছে বিশ্বাস আর নির্ভরশীলতা। বিন্দুমাত্র অবিশ্বাস দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয় এক নিমিষে, কিছু বুঝার আগেই।
আমি জানিনা, কেনো তোমাকে এসব লিখছি ! তবে তোমার মতো মানুষদের জীবনে অনেক দুর্ভোগ থাকে। মানুষ নামের কিছু অসভ্য প্রাণীরা বড়ো বেশি কষ্ট দেয়, তোমাদের। তোমার জন্য আমার অনেক কষ্ট হয়, অনেক পোড়ে। তুমি একটা বোকা মেয়ে ! সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগো। সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারো না। এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিও না, যাতে পস্তাতে হয় তোমাকে। বরং আগে ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিও। আমাকে ভুল বুঝোনা। আমি তোমার বন্ধূ ! বন্ধু হিসেবেই থাকতে চাই, আমৃত্যু! তোমার সুখে না হোক যে কোনে বেদনায় আমায় ডেকো, আমি আসবো। সকাল, সন্ধ্যা বা রাতে...। ভালো থেকো। ঈশ্বর তোমার সু-মতি দিক, দিক প্রশান্তি।





"তুমি একটু অন্যরকোম কাউকে পছন্দ করো- তারমানে এই নয় যে, তার ভালো-মন্দ- চলন-বলন-পোষাক-অচরণ সব কিছুতেই নাক গলাবে। সে অবসর সময় কোথায় যায়, কী করে, কার সাথে কথা বলে- এ সব জানতে চাওয়াটা যথেষ্ঠ বাড়াবাড়ি। বন্ধুত্বের সম্পর্কে ঈর্ষা, জ্বালা-পোড়া থাকবে, তবে সেটার একটা সীমা পরিসীমা থাকা চাই।"
হুমমম। দিস ইজ নট ডিসট্যান্স, দিস ইস কলড স্পেইস।
হুমমম। দিস ইজ নট ডিসট্যান্স, দিস ইস কলড স্পেইস...।
জটিল কমেন্টস...
এই কথাটা বেডিংএর বিজ্ঞাপনে দেখাইতো... খুবসূরত মিয়াবিবির মাঝখানে খানিক গ্যাপ... নীচে লেখা উঠতো...
গতকাল বইমেলায় আহমাদ মোস্তফা কামাল ভাই'র অন্ধ জাদুকর বইটা কিনলাম। সেখানে অটোগ্রাফ নিতে চাওয়ায়, উনি বইয়ের ভেতরের একটা লাইন লিখে দিলেন। সেইটাই আমিও কপি-পেস্ট করি..
অমীমাংসিত সম্পর্কই সুন্দর।
যদিও তা বহন করা কঠিন।
হাঁছা কতা কৈছেন মোস্তফা কামাল ভাই...
অমীমাংসিত সম্পর্কই সুন্দর।
যদিও তা বহন করা কঠিন।
জোস এবং জটিল
জোস এবং জটিল
চিঠিটা যথেষ্ট পছন্দ হয়েছে। পরজনমে সেইরকম কোন বালিকাকে এই চিঠি কপিপেষ্ট করার ইচ্ছে রইল
লাভ আছে কুনো? বান্ধবী না , প্রেমিকাও না তাইলে কী?
লাভলোকসান বুঝি না, তবে এই চিঠি পইড়া একটা রুমান্টিক গল্পের প্লট মাথায় আসছে, সেইটা লিখতে বসলাম
গ্যালারিতে বসলাম।
শাটল ট্রেনও বকেয়া আছে মনে থাকে যেন
কুইক মারেন। চা বিড়ি লয়া বস্লাম।
তাইলে আর কী ? তাইলে অমিমাংসিত সম্পর্ক... উদাহরন : মুক্লা
এই জনমে নয় কেনো ? বালকতো এই জনমেই লিখেছে...
কুন চিঠি পাই না আর
আফসুস !!!
"স্নেহ করি"
এইটার মানে কি?
আর এই চিঠিক কপি কয়জনরে দিছেন?
পোলাটারে জিগামুনে...
পোলাটা আমগো ইয়াজাদ ভাই তো নাকি
কেমতে বুঝলেন ? বিয়াপক গিয়ানী মানুষ !
অমীমাংসিত সম্পর্কই সুন্দর।
যদিও তা বহন করা কঠিন।
জায়গা মত মাইরা দিমু।
ইয়ে... মুকুল নাকী ? কী খবর ?? সব ভালোতো ???
ইয়াজিদ ভাই ... আপনে যে এমন লেখা লেখতে পারেন এই খবর কি বাবুয়া সাব জানে !! তাইলে কিন্তু ভাড়ায় খাটাইবো আপনারে ... সাবধান
তোমার বাবুয়া ভাইয়ের ফুন নম্বরটা এট্টু দিবা, বিমা ? টাকা-পয়সার এট্টু টানাটানি যাইতেছে... সামনে ম্যালা খরচ পাত্বির ব্যাপার .....
মাই গড এতো কঠিন পত্র!!
এইজন্যই মুনয় অমিমাংশীত
শুধু কঠিন্না কাজী সাব, জটিলও। এই চিঠি পইড়া মাথাডা কিমুন ঝিম ঝিম করতেছে... না জানি, বালিকার কী অবস্থা !!
....চিঠিটার আবেগের দিক থেইকাও আমার কাছে গোছানো দিকটা বেশি ভালো লাগছে....
আগে অবশ্য ভাবতে ভাল্লাগতো, আবেগী লোকজন প্রেম করবে, অগোছালো হবে....আর গোছালো লোকজন ক্যালকুলেটিভ হবে, আবেগ দূরে....
শা হা হা....
এইরাম চিঠি পাইলে যে কারো ভালো লাগা উচিৎ, ভালো না লাগলে তার সমস্যা আছে।
ইশশিরেএএএ তার লগে সম্পর্কের রেলগাড়ি বহুতদূর আগায়া গেছে, নাইলে এই চিঠি এডিট কইরা তারে দিতে পারতাম। অখন দিলে কইব পড়ার সময় নাই, তুমি পইড়া শুনাও।
এতো পাঁকনা চিঠি বালক কি করে লিখবে? ঃ)
লেখা ভালো হয়েছে
মন্তব্য করুন