বই মেলা কড়চা- ১১
আজ কড়চায় কিসস্যু লিখবো না।
আমার প্রিয় ছোট ভাই সাগর সরওয়ার এবং মেহেরুন রুনি নৃশংসভাবে খুন হল গতকাল রাতের কোন এক সময়।
ওদের ৫ বছরের ছেলে মেঘ এখন কী করবে ? আমরা কী করব ? আমাদের কী করণীয়... উত্তর একটাই জানিনা। আমরা, রাষ্ট্র কেউ আসলে জানিনা, কার কী করনীয়...।
বিধাতার কাছে ওদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।
রাষ্ট্র বা সরকার বা পুলিশ বাহিনীর কাছে কিছু চাইবার নেই...
ওদেরকে স্মরন করে ওদেরই প্রিয় কয়েকজন মানুষের ফেইস বুক থেকে লেখাগুলো তুলে দিলাম...
১. মানতে পারছি না। বুক ভেঙে যাচ্ছে...।
আমাদের সামনেই বড় হলে তোমরা... সাংবাদিকতা শুরু করলে... ঘর বাঁধলে... বিদেশ গেলে... ফিরে এলে... তারপর এভাবে চলে গেলে...!
এভাবে চলে যাওয়া মানা যায় না। - গিয়াস আহমেদ
২. ইত্তেফাকে আমার কাছেই বসতো সাগর। রুনি ফোন করলে অনেক সময় আমি ধরতাম। ধরেই বলতাম, সাগর তো একটু আগে সুন্দর একটা মেয়ের সঙ্গে বের হয়ে গেল। রুনি শুনতো আর হাসতো। আমি সব সময় এই কথা বলতাম।
সাগর যখন জার্মানিতে, আমি তখন জেনেভা গেলাম। সাগর বলে রেখেছিল আমি যেন জার্মানি যাই, তার বাসা আমার জন্য রেডি। সেই সাগর............
আমার যেদিন বউভাত, সেদিন ছিল সাগর আর রুনির বিয়ে। ফলে আমি ওর বিয়েতে যেতে পারিনি, ওরাও আসতে পারেনি।
সেই সাগর আর রুনি...। - শওকত হোসেন মাসুম
৩. সাংবাদিকতা জগতে আমার বন্ধুবান্ধব কিছু আছেন, কিন্তু ভাই-বোন খুবই কম। মেহেরুন রুনি ছিল অল্পসংখ্যক ভাইবোনদের একজন। হায় বোন, প্রবাসের ছিমছাম জীবন ফেলে কেন ফিরেছিলি এই মৃত্যু উপত্যকায়...।
-আরিফ জেবতিক
৪. Sagar Runi, ebhabe jete hobe keno? amra ar kato kadbo?
- আনিসুল হক
৫. এটা কীভাবে সম্ভব? কীভাবে সম্ভব? কীভাবে ? - আসিফ এন্তাজ রবি
৬. রাজধানীর রাজাবাজারে ভাড়া বাসায় সন্ত্রাসীদের হাতে সাংবাদিক দম্পতি এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনি এবং তার স্বামী মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার খুন হয়েছেন। এঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। - টুটুল নেসার
৭. আমরা প্রায়ই আফসোস করে বলি, ‘আমাদের প্রতিভাধর লোকগুলো কিসের নেশায় বিদেশে পড়ে থাকেন? দেশে ফিরে দেশের উপকার করতে পারেন না? সবাই জাফর ইকবাল স্যারের মতো দেশে ফিরতে পারেন না!’
পারেন।
এই তো তারেক মাসুদ, মিশুক মনির, সাগর সরোয়ার, মেহেরুন রুনি ফিরে এসেছিলেন। এদের কারো সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠতা ছিল না। তবে এটুকু বুঝি, বিদেশে অন্তত সম্মানের সঙ্গে, নিরাপদে, খেয়ে-পরে বেচে ছিলেন এরা।
ফিরে এসে কি করলেন তার চেয়েও বড় হয়ে উঠল এই ফেরার মানে কী! এভাবে মরার জন্য দেশে ফিরবে মানুষ!
যারা দেশের বাইরে আছেন, তাদের বলি; মরতে আসার দরকার নেই। মাতৃভূমিকে প্লেগাক্রান্ত এক নগরী ধরে নিন। এখান থেকে বেরোতে পারলে বাঁচা যায়। ফিরলে মৃত্যুর ডাক! - দেবব্রত মুখোপাধ্যায়
৮. সাংবাদিক দম্পতির হত্যাকান্ডের পর নতুন করে আবার বলতে হয়:
এই মৃত্যু উপত্যকা, আমার দেশ না...। - সজল আশফাক
৯. কি এক অজানা ভয় ঢুকে গেছে মনের ভিতরে; চারিদিকে হত্যা, খুন - খুন করে গুম ! ভাবতে ভয়ে শরীর শিউড়ে ওঠে, সন্ধ্যা থেকে বারান্দাতে যেতেও ভয় লাগছে - এ ভাবে ভয়ে ভয়ে স্বাধীন দেশে কতদিন বাঁচতে হবে ! কে দেবে জীবনের নিশ্চয়তা ! - সুমনা মামুন





---
e mrrit.zu mene neya zayna
e mrrit.zu mene neya zayna
দেশের বাইরে থাকি। যত ভালো দেশেই থাকি না কেনো প্রতিটা মুহূর্তে দেশের কথা মনে পড়ে।মাঝেমাঝে ঘুম ভাঙ্গে দেশ কে নিয়ে স্বপ্ন দেখে।ক্লাস অথবা ক্যাফেটেরিয়ায় অনেক মানুষের হৈ হুল্লোরের মাঝেও হটাত করে অন্যমনষ্ক হয়ে যাই দেশের কথা ভেবে।সবকিছুতেই কেনো জানি দেশকে অনুভব করি।দেশে এসে কি কি করবো সেটার একটা লম্বা লিস্ট বানিয়ে রেখেছি।কিন্তু দেশে যখন এই ধরণের খবর শুনি তখন খুব ই খারাপ লাগে।
আমার ফ্যামিলির সবাই আমার সাথে থাকলেও মাতৃভূমিতে ফিরে যাওয়ার তৃষ্ণা আমি মিটাতে পারিনা আর যারা প্রবাসে একা থাকে তাদের মানসিক অবস্থা যে আরো খারাপ থাকে সেটা বুঝতে পারি।কিন্তু সেই দেশেই যখন একজন প্রবাসীর জীবন দিতে হয় এভাবে, সেটা খুব ই দুঃখজনক ব্যাপার ।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বলেছিলেন-
সময়ের সাথে সাথে কথাটা মনে হয় ভুল প্রমাণ হয়ে যাচ্ছে।অন্তত বিদেশীদের চাইতে যখন নিজের দেশের বাঙ্গালিদের কাছেই নিজেকে বেশি নিরাপত্তাহীন হতে হয় তখন সত্যি মনে হয় কথাটা ভুল ছিল ।
এ ভাবে ভয়ে ভয়ে স্বাধীন দেশে কতদিন বাঁচতে হবে ! কে দেবে জীবনের নিশ্চয়তা !
রাষ্ট্র দেবেনা, এটা নিশ্চিত জানি
মন্তব্য করুন