আমি আমার মতই থাকতে চাই...
আজকাল মেজাজ ঠিক রাখা কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। আমার সরলতা বা আন্তরিকতাকে যদি কেউ দুর্বলতা মনে করে- সেটা তার সমস্যা। তার জন্য আমার পূর্ণ সহানুভুতি আর করুণা রইলো। আমি মানুষটা এমনই। ইচ্ছে করলেও এই আমি'কে এখন আর বদলাতে পারব না। আর বদলানোর প্রয়োজনটাই বা কী ! আমাকে যারা জানে, চিনে তারাতো এই আমিকেই চিনে। নতুন কেউ হলে সেটা নাহয় মেনে নেয়া যায়।
সাধারনত আমি কারো সাথে মেজাজ করিনা। খুব সহজে ক্ষেপি না। কঠিন অবস্থায় ও মেজাজ কী করে ঠান্ডা রাখতে হয়- সেটা আমার ভালোই জানা আছে। এটা সম্ভব হয়েছে- অনেক বছর সেলস-এ কাজ করার সুবাদে। আমার ব্যবহার খারাপ- এটা আমার শত্রুও বলতে পারবে না। ভুল বললাম মনে হয়। বলতে পারবে- তবে প্রমান করতে পারবে না। কাছের মানুষদের সাথে প্রায়ই ঝাড়ি মেরে কথা বলি। ধমক দেই। এমনিতেই। এটা আমার চরিত্রের একটা বিশেষ দিক। যাদের খুব আপন মনে হয়- তাদের সাথেই শুধু এরকম আচরন করি। সবার সাথে না।
আমার চারপাশের লোকজনের যে কোনো সমস্যায় সম্ভবত যে মানুষটি সবার আগে ছুটে যায়- সে আমি। সেটা দিনে হোক বা মধ্যরাতেই হোক। আমি উট পাখীর মত হতে পারিনা। সমস্যা এড়িয়ে যেতে পারিনা। ভাবি, এই সমস্যাটাতো আমারও হতে পারে। তাছাড়া আমার সামান্য সহযোগিতা/উপস্থিতি/সাহায্য যদি কারো উপকারে আসে- ক্ষতি কী ! আমার উছিলায় একজন মানুষেরতো উপকার হবে। এখানেই আমাকে নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়। লোকজন আমার সম্পর্কে ভাবে- আমাকে মনে হয় যখন তখন, যে কোনো কাজে বা প্রয়োজনে ডাকলেই পাওয়া যাবে। পাওয়া যায় ও। তাহলে সমস্যাটা কোথায় ? সমস্যা হচ্ছে- লোকজনের ধারনা- খুব সহজ বাংলায় বলতে গেলে আমার আসলে এ ছাড়া আর কোনো কাজ নেই। কেনোরে বাপু, আমারোতো ঘর-সংসার-স্ত্রী-পুত্র আছে। তাদের কাছে আমারও কিছু দায়বদ্ধতা আছে। আমারওতো রুটি-রুজির চিন্তা করতে হয়। আমিতো সোনার চামুচ মুখে দিয়ে জন্মাই নাই। বাবায় এই কঠিন ঢাকা শহরে আমার জন্য কোনো বাড়ি বা ফ্ল্যাট রেখে যাননি বা যেতে পারেননি।
পরিচিতজনদের অনেকেই আমার এ সরলতার সুযোগটা নেয়। শুধু নেয়না, একটু মনে হয় বেশিই নেয়।অআমাকে কোনো কাজে নামিয়ে দিয়ে তারপর নিজেরা গায়ে বাতাস লাগিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়ায়। তাতেও আমার কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়। সমস্যা সৃষ্টি হয় তখন- যখন পরিচিতজনদের ভালোবাসার অত্যাচারটা বেশি মাত্রায় হয়ে যায়। একসময় অনুরোধে ঢেকি গিলতে গিয়ে কারো উপকার করতে যেয়ে দেখা যায়- সব কিছু গুছিয়ে আনার পর সে মানুষটাকে আর পাওয়া যায় না। এমনও হয়েছে- আমাকে একটা কাজের কথা বলে কাজ গুছিয়ে আনার পর দেখা গেলো, শেষতক সে অন্য কারো সাহায্য নিয়ে সে কাজটি করে ফেলেছে। আমাকে জানাবার প্রয়োজনও মনে করেনা। এমন নয় যে, কাজটির জন্য আমাকে পে করা হয়েছে। বরং তার কাজটি বা অনুরোধ রক্ষা করতে যেয়ে দেখা যায় আমি ৫ জনের সাথে কথা বলেছি। এতে আমার সময়/এনার্জি/ মোবাইল বিল... এসব ব্যয় হয়েছে। তারপরও সে মানুষটির কোন বিকার নেই।
আমার এ বাজে স্বভাবটির (নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ান) জন্য মাঝে মাঝে আমার বউ দু'চার কথা শুনাত আগে। এখন আর কিছু বলেনা। দেখতে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে বেচারি। এমনও হয়েছে- ঘরে রোদ্দুরকে নিয়ে সে একা। রাত দুপুরে পরিচিত/বিপদগ্রস্ত কারো ফোন পেয়ে আমি হাসপাতালে বা অন্য কোথাও ছুটে গেছি। না গেলেও পারতাম। কিন্তু আমার 'বিবেক বেটা' আবার বেশি দরদী। এ প্রসঙ্গে একটি ঘটনার কথা না বললেই নয়।
বাংলাদেশের একজন নাম করা গায়ক। মধ্যরাতে গাড়ি অ্যাক্সিডেন্ট করে রাস্তায় পড়ে আছে। সারা শীর থেকে রক্ত ঝরছে। সে গায়ক আবার একটি জাতীয় দৈনিকের খুব কাছের মানুষ। তো গায়ক ভদ্রলোক তার ফোন থেকে সে পত্রিকার তার বন্ধু বান্ধবদের দু'তিন জনকে ফোন করল। অত রাতে কেউ ফোন ধরলো না। সবাইতো আর আমার মত বেকুব না। আমাকে ফোন করলেন। তারপর হাসপাতালে ছুটলাম। গায়ককে চিকিৎসা দেয়া হলো্। ওটিতে নেয় হলো । রক্ত লাগলো। দিলাম। হাসপাতালের খরচ-পাতিও দিলাম (বিশ্বাস করুন পাঠক, এটা আমি নিজের গুনগান গাইবার জন্য বলছিনা... বলতে সংকোচ হচ্ছে...অনেক কষ্টে আর অভিমানে বলছি আজ)। শরীরের কোন একটা অংশে তার আঘাতটা ছিল মারাত্বক। আমার সাধ্যমত আমি করেছিলাম সেরাতে। পরদিন সকালের মধ্যে মোটামুটি সবাই তার অবস্থার কথা জেনে গেলো। দলে দলে তার তথাকথিত শুভাকাঙ্খীরা এল। অনেক জ্ঞান গর্ভ আলোচনা হলো তার চিকিৎসা নিয়ে। আমি তখন ল্যাবএইডে। কিন্তু ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হাসপাতার তখনো চালু হয়নি। ফলে তিনি ছিলেন সেন্ট্রাল হাসপাতালে। 'সেখানে তার কোনো চিকিৎসাই হচ্ছে না...'
'কেনো তাকে এ হাসপাতালে আনা হল...'
'মেসবাহ কাউকে না জানিয়ে এটা করতে গেল কেনো, সে করার কে...'
এই সব ডায়ালগ আমাকে শুনতে হয়েছে- সেসব লোকের কাছ থেকে; গায়ক যাদেরকে মধ্যরাতে ফোন করার পর যারা ফোন ধরেনি...। এরপরও যে কয়দিন তিনি হাসপাতালে ছিলেন- আমি সকাল বিকাল তার খোজ নিতে যেতাম... অনাহুতের মত...।
তারপর মেলা কাহিনী। তাকে বিদেশেও নেয়া হলো... ততদিনে তার আরো অনেক শুভাকাঙ্খীর দেখা মিললো। চিকিৎসা নিয়ে ফিরে আসার পর একদিন সে পত্রিকার পাতায় দেখলাম- গায়ক তার দূর্ঘটনা এবং পরবর্তী চিকিৎসা নিয়ে সে পত্রিকার পক্ষে কৃতজ্ঞতা বলতে বলতে (আসলে লিখতে লিখতে...) মুখে ফেনা তুলে ফেলেছেন। সেখানের কোথাও সেরাতের কথা বা মেসবাহ য়াযাদের কথা নেই... প্রচন্ড ধাক্কা খেলাম। আমিতো সে প্রত্যাশা করে তার বিপদে সেদিনের মধ্যরাতে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসিনি... এটাও আশা করিনি যে, সে লোক আমার কথা লিখবে... কোনো আশা বা প্রত্যাশাইতো ছিল না আমার। আমিতো শুধু আমার দায়িত্তবোধ থেকেই যা করবার করেছিলাম। তবুও মনের গভীরে কোথাও একটা খচখচানি রয়েই গেল। মানুষতো আমি... এরপরও আমার আমি বদলাইনি। আসলে বদলাতে চাইওনি। আমি আমার মতই থাকতে চাই...





আপনার মেজাজ কেন খারাপ জানি না। তবে এটুকু জানি, মানি আপনি একজন ভালো মানুষ। এটা বোধ হয় আপনার চারপাশের সবাই জানে। এইদিনে একজন ভালো মানুষের বড়ই অভাব। আপনার কষ্ট হয়, হোক---তবু এমন মানুষ-ই থাকেন আজীবন।আপনার জন্য শুভকামনা।
গড়পড়তা ওজনের চেয়ে আমার ওজন ক্ষাণিকটা বেশিই...
আমাকে আর হাওয়া দিয়ে ওজন না বাড়ালেই ভাল
কিছুই বলার নাই..এটাই আজকাল নিয়ম হয়ে গেছে!
কিছুই বলার নাই..
ভালো মানুষ হওয়ার এই হচ্ছে বিড়ম্বনা। ভালো মানুষ হলে কষ্ট পেতে হয়। ! আপনার জন্য আন্তরিক শুভ কামনা ।
ভালো মানুষ হলে কষ্ট পেতে হয়। !
ক্ষেপছেন ক্যান? কিডায় কি কইলো? খালি নামডা কন
ক্ষেপি নাই, কেউ কিছু কয় নাই - এমনিতেই... ভাব ধরছি
ক্ষেপে লাভ নাই বস। যতই কন আমাকে আমার মতো থাকতে দাও......আপনি পারবেন না, আমি অন্তত যতটুকু আপনাকে চিনি।
তয় এর পরে কিছু হইলে খালি নামটা বলবেন বাকীটা আমরা দেখবো।
নিজেকে বদলানোর দরকার নেই, তবে দরকার মানুষ চেনা।
বদলাইয়েন্না বস
তবে, বদলাইতে চাইলেও বদলাইতে পারবেন না ... সেইটাও জানি
~
তবে, বদলাইতে চাইলেও বদলাইতে পারবো না... সেইটাই আমার প্রথম এবং প্রধানতম দুর্বলতা
ইয়াযাদ ভাই, আপনিও উট পাখিকে এইভাবে অপমান করলেন!
তবে সরলতার দাম তো দুনিয়াতে নাই, এইটা দুনিয়ার মানুষ বহু আগেই বলে দিয়েছে, যেহেতু বলে দিয়েছে, তাই এই একটা জায়গায় তারা ওনেস্ট ..। এখন আপনি নিজ দ্বায়িত্বে সরল হলে কী আর করা বলেন!
সবকিছু বদলাতে নেই, তাতে বরং অস্তিত্ব সংকট তৈরী হবে। বড় জোর অভিজ্ঞতা থেকে মাঝে মাঝে কৌশলী হতে পারেন। নারিকেলের মত কঠিন খোলসের ভাব ধরবেন, তাতে লাভ হবে, আপনি যে ভেতরে তরল, মানে সরল, সেটা কাকপক্ষীও টের পাবে না!
সুপার ডুপার লাইক
মেসবাহ ভাই কেমন আছেন? ছেলে কেমন আছে?
মাথায় ব্যথা, মনে ব্যথা
)
ভীষন ব্যথা বুকে-
এতগুলি ব্যথা নিয়ে,
আছি মহা সুখে...
(ছেলে নয় ছেলেরা ভাল আছে
মানুষের যে চরিত্রের কথা উক্ত গায়কের কীর্তির মধ্য দিয়ে আপনি আঁকলেন এটাই এখনকার বাস্তবতা। এই বাস্তবতার পাকে আটকে পড়েছি আমি ও আমরা। বিশেষ করে উপকারীর কাছ থেকে শত হাত দূরে থাকতে চাই বাবা। কখন আবার প্রতিদান চেয়ে বসে।
মজার ব্যাপার কি জানেন, সেই গায়কের সাথে এখনো প্রায় নিয়মিত ছবির হাটে আড্ডা হয়। এক সাথে চা-বিড়ি খাই। তথাকথিত আদর্শের কথা এখনো বলে সে। তবে আমার সামনে না...আমাকে দেখলে কেমন জানি চুপসে যায়। মাথা নুয়ে আসে... এসব হিপোক্রেটদের ঘেন্না হয়... মাদক বিরোধী আন্দোলনে এই লোক সামনের কাতারে থাকে অথচ নিজে.... যাক, এক জীবনে কত মানুষ দেখলাম,,,
বাদ দ্যান বস্। এই গানটা শুনসেন? http://www.youtube.com/watch?v=u5zkgaOuQ8A
শুনছি বস। অরজিনাল আর ডুপ্লিকেট- দুইটাই...অসংখ্যবার
)
ধইন্যা আপনেরে (এইটা কি কিছু মিন কৈরা শুনতে কৈলেন
মেজবাহ ভাই জিন্দাবাদ
কিছুই বলার নাই আর সমস্যা হলো চাইলেও নিজেরে বদলানো যায় না।
ঐ গায়ক দেশ আর জাতির বিবেকের গান গায় না?
Dear Mesbah bhai, I think I know who this "Gayok" is. We all know him. He always talks big but he has a very small heart. He is a professional fraud as well. He steals other people's songs. He is very unscrupulous and heartless with women also.
খাইছে!
মন্তব্য করুন