পেরেশানীময় জীবন-যাপন
বহুত পেরেশানীর মধ্যে আছি। এতটাই পেরেশানী যে, এবার ঘুড়ি উৎসবেও যেতে পারছিনা। এটি আমাদের ছবির হাটের ৮ম ঘুড়ি উৎসব। প্রতিটি উৎসবের সাথে আমার সম্পৃক্ততা থাকে। সেটা এক্কেবারে এ.এম/ পি.এম। আরে মশাই, এ.এম/ পি.এম বুঝলেন না ? এ.এম মানে হচ্ছে- আপাদমস্তক। আর পি.এম মানে- পা থেকে মাথা। মানে ঘুড়ি উৎসবের সব পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের সাথে আমি থাকি। এবারও ছিলাম। শেষের দিকে এসে পারিবারিক ঝামেলায় এতটাই আস্টে-পৃষ্ঠে জড়িয়ে গেলাম যে, যেতেই পারছিনা আর।
জানুয়ারি মাসের ১৬ তারিখে হঠাৎ করে মেজো ভাগিনা মানে প্রত্যু একদিনের নোটিশে আমাদের ছেড়ে চলে গেল না ফেরার দেশে। চরম একটা বিপর্যয় গেল আমাদের পুরো পরিবারের উপর দিয়ে। এর মধ্যে ছোট ভাগিনা আদদ্বীনের ক্যাডেট কলেজের ভর্তি পরীক্ষার দিন এল। অনিচ্ছা স্বত্বেও সে পরীক্ষা দিতে গেল। পরীক্ষা দিয়ে এল। এ নিয়ে আমাদের কারো মধ্যে আর আগ্রহ দেখা গেল না। একদিন লিখিত পরীক্ষার রেজাল্টও দিল। তারপর মৌখিক পরীক্ষার তারিখ এল। আদদ্বীন বা আমরা কেউ তার খবর নিলাম না। একদিন সেনানিবাস এলাকা থেকে একজন সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা আপাকে ফোনে করে জানতে চাইলেন যে, আদদ্বীন লিখিত পরীক্ষায় টিকার পরেও কেনো মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেয়নি ? শুনে আপাতো অবাক হন। ও যে লিখিত পরীক্ষায় টিকেছে সেটাই আমরা কেউ জানতাম না। আপা আমাদের পরিবারের বিপর্যয় মানে প্রত্যুর মৃত্যুর ঘটনা বললেন ভদ্রলোককে। তারপর ভদ্রলোক জানালেন, আমরা চাইলে তারা ১৬ ফেব্রুয়ারি আদদ্বীনের স্পেশাল মৌখিক পরীক্ষা নেবে। আমরা রাজি হলাম। আদদ্বীন মৌখিক পরীক্ষা দিল। টিকে গেল। শুধু মেডিকেল বোর্ডের ডাক্তাররা বললেন, ওর গলায় ছোট্ট একটা ফুলা (টিউমার টাইপ) আছে- সেটা অপারেশন করলে তাকে চুড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হবে।
ফাইনাল রেজাল্ট দেয়া হল। ভাগিনা ফৌজদার হাট ক্যাডেট কলেজে সুযোগ পেয়েছে। ওর ভর্তি হচ্ছে- ১ থেকে ১০ মার্চের মধ্যে। তার আগেই তার গলায় অপারেশন করতে হবে। সে অনুযায়ী তাকে ডাক্তার দেখানো হল। ডাক্তারও অপারেশনের পরামর্শ দিলেন। তবে বলে দিলেন অপারেশনের সময় রক্ত লাগতে পারে। ওর রক্তের গ্রুপ এবি পজেটিভ। রক্ত পাওয়া গেল। আমাদের বিমা মানে মুরাদের রক্তের গ্রুপও একই। ও দিতে রাজি হল। আগামীকাল দুপুর ২ টার পরে সেই ভাগিনার অপারেশন। আর আগামীকাল রাতের গাড়িতে বন্ধুরা যাচ্ছে ইনানী সৈকতে- ঘুড়ি উৎসবে। এসময় আমি কীকরে যাই !
এদিকে আমার ছোট ভাই সাইফুল। কাজ করে গ্রিণলাইফ হাসপাতালে। আজ ২৮ ফেব্রুয়ারি তার স্ত্রী একটি ফুটফুটে পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছে। মা এবং ছেলে আল্লার ইচ্ছায় দুজনেই ভাল আছে। তারপরও কী করে এসময় আমি ঢাকা ত্যাগ করি !
আমাদের চারুকলার এক বন্ধু সালেহ। তার বৌয়েরও বাচ্চা হবে। একনও ৩/৪ মাস বাকী আছে। অথচ বেচারির শরীর ভাল না। রক্তের হিমোগ্লোবিন খুব কম। মাত্র ৮.৪। এসময় মেয়েদের রক্তের হিমোগ্লোবিন কমপক্ষে থাকা উচিৎ ১১ থেকে ১২। বন্ধুটি প্রতিবছর ঘুড়ি উৎসবে যায়। অথচ বেচারা এবার বৌ অসুস্থ থাকার কারনে যেতে পারছেনা। ডাক্তার বলেছে তার বৌকে এমূহুর্ত্যে কমপক্ষে ২ ব্যাগ রক্ত দিতে হবে। সালেহ ধরলো আমাকে। আমিতো আবার কাউরে না বলতে পারিনা। ফলে কালকে অন্য এক লোক দিলেও পরশু তার বৌকে রক্ত দিতে যেতে হবে আমার।
আমার বৌয়ের মাত্র দুইটি পুত্র সন্তান। ছোটটি মানে সমুদ্দুর এইতো সেদিন ল্যাবএইডে জন্ম নিল। এবির অনেকে দেখতে গেল। আমি মিষ্টির বন্যায় ভাসিয়ে দিলাম। ওরা খেল ইচ্ছে মত। দেখতে দেখতে কী করে জানি সমুদ্দুরের ২ বছর হয়ে গেল। ১ মার্চ সমুদ্দুর ২ বছর শেষ করে ৩ বছরে পা দেবে। ও এখন জন্মদিন বোঝে। জন্মদিন কী, জানতে চাইলে সে ফু দিয়ে বোঝায়...। জন্মদিন করার মানে জন্মদিনে ভাল-মন্দ খাবার ইচ্ছে থাকলেও উপায় নেই। চারদিকে এত্ত পেরেশানী, তার মধ্যে আবার জন্মদিন ! তাছাড়া সমুদ্দুরের বাবা বর্তমানে ফ্রি-ল্যান্স বেকার... । কপাল আর কাকে বলে...
এই হচ্ছে আমার সাম্প্রতিক অবস্থা। প্রিয় ব্লগার ভাই ও বোনেরা, যারা এ লেখা পড়বেন- তারা আমার জন্য দোয়া করবেন। মহান আল্লাহ যেনো আমাকে এহেন পেরেশানী থেকে রেহাই দেন।





দোয়াগো
থ্যাংকুগো....
শুকনা সমবেদনা ও আন্তরিক শুভকামনা!
ভিজা ধন্যবাদ
শুভকামনা থাকলো। কর্মময় জীবন দীর্ঘ ও ফলপ্রসূ হোক।
লোকজন কি আইজ কাইল পোস্ট না পড়ে কমেন্টস করে !!!

জি না জনাব। আপনার পোস্ট আদ্যোপান্ত পড়াটাই আমার বড় সুখ।
সমুদ্দুরের জন্য শুভকামনা। ও'তো দেখতে বাবার মতোই হয়েছে। মানুষ হিসাবেও যেন বাবার মতো হয়।
সুখের কথা পড়তেও সুখ
সমুদ্দুরের জন্মদিনে অনেক অনেক শুভকামনা
ভাল থাকবেন আজীবন সবাইকে নিয়ে ঠিক এভাবে
সুখ ?
(
সমুদ্দুরের জন্মদিনে অনেক অনেক শুভেচ্ছা... জীবন মানে যন্ত্রণা
হ, আমাদের বাড়ির নামটাও যে একদিন জীবনের সাথে এভাবে জড়িয়ে যাবে ভাবিনি...

সমুদ্দুরের জন্মদিনের অগ্রীম শুভেচ্ছা...
খালি শুভেচ্ছা ? কোনো গিফট.............!!!
সমুদ্দর কে জন্মদিনের শুভেচ্ছা ।
পেরেশানি একদিন থাকবে না ভাই। ধৈর্্য্য ধরেন ।
সেই আশাতেইতো আছি
-- আমিন।
সমুদ্দুরের জন্মদিনের অগ্রীম আদর।
শুধুই আদর ! লোকজনের হৈলোটা কী ?
চারদিকে কেবল মন খারাপিয়া খবর। পেরেশানীতে আছে বিস্তর মানুষ।
বিস্তর মানুষের মধ্যে আমিও একজন.... তাইতো এখনো বেঁচে-বর্তে আছি
এই সব পেরেশানী কোন ব্যাপার নাকি আপনার কাছে???
সব ঠিক হয়ে যাবে।
=================
সমুদ্দুরের জন্য আদর।
২ বছর হয়ে গেলো!
লাগে যে অল্পক'দিন আগেই ল্যাবএইডে গিয়ে সব্বার পেট চুক্তিতে মিষ্টি খাওনের ধুম লাগছিলো!
সমুদ্দুরের জন্যে এত্তো এত্তো আদর, ফ্রম সমুদ্দুরের বেকার বাপের বেকার বইন
সমুদ্দুরকে শুভেচ্ছা।
'যন্ত্রণা' টিকে থাক
পেরেশানি নিপাত যাক।
ফ্রি আছেন যেহেতু, তো আরেকটা হয়ে যাক
তাইলে আবার মিষ্টি খেতে পারব। সুমুদ্দুর হলো সময় আমরা যারা প্রথম দিন দেখতে গেলাম মেসবাহ ভাই মিষ্টির দোকান ফ্রি দিয়ে দিছিলো।
আপনার জন্য সবসময় শুভকামনা। জীবন অনেক সুখের হউক।
সমুদ্দুরের জন্মদিনে অনেক আদর আর দোয়া। অনেক বড় হউক। বাবার মত ভালো মানুষ হোক।
কথাগুলো মন থেকে বলেছি। আবার বইলেন না----
মেসবাহ ভাই, ভরসা রাখেন। আপনার মতো ভাল মানুষ পাওয়া সহজ না। আমিও মন থেকে বললাম।
আল্লাহর কাছে আপনার জন্য অশেষ প্রার্থনা।
মন্তব্য করুন