ইউজার লগইন

জীবনের যত ইস !

জীবনে খুব ইচ্ছে ছিলো পত্রিকার পাতায় নিজের লেখা ছাপা হোক। সে লক্ষ্যে আবোল-তাবোল লেখা পাঠাতে শুরু করি। তখন ক্লাস এইটে পড়ি। আমার প্রথম লেখা ছাপা হয় ইত্তেফাকের চিঠিপত্র কলামে। তারপর লেখা শুরু করলাম সাপ্তাহিক চিত্রালীতে। এরপর সিনেমা এবং পূর্বানী। নিয়মিত লিখতাম। ছাপাও হত। কত পত্রিকাতেই যে লিখেছি ! ছায়াছন্দ, বিচিত্রা, বিচিন্তা, যায়যায়দিন, মৌচাকে ঢিল, আনন্দ বিচিত্রা। তারপর দৈনিক পত্রিকায় লেখা শুরু। ভোরের কাগজ আর প্রথম আলোতে অনেক লেখা ছাপা হয়েছিলো আমার। সেসময় লেখা ছাপা হলে তা কেটে রেখে দিতাম। এক সময় সে লেখার সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যায়। আমি তখন ঢাকায়। বড় ভাইয়ার সাথে থাকি। ৯৫ সালের ঘটনা। আমি অফিসে। ভাবী বাসার কাগজ বেচতে গিয়ে আমার সারা জীবনের সব লেখাগুলোও বেচে দিলেন হকারের কাছে। অফিস থেকে ফিরে শুনলাম ঘটনাটা। ভাবীর মুখেই। আমি বজ্রাহতের মত ভাবীর দিকে তাকিয়ে রইলাম...

বউ আসলো। আমাদের প্রথম সন্তান রোদ্দুরের জন্ম হলো। সেটা ২০০০ সাল। আরও বছর চারেক পরে রোদ্দুরকে মোসলমান বানানো হলো। এ উপলক্ষ্যে রোদ্দুরের নানা বাড়ি নারায়ণগঞ্জে একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করলাম। ঢাকা থেকে আমাদের পরিবারের সবাই গেল। সারা দিন খাওয়া-দাওয়ার সাথে ম্যালা হৈচৈ হলো। ইচ্ছেমত ছবি তোলা হলো সবার। রাতে সবাই বিদায় নেবার পরে ক্যামেরা নিয়ে বসলাম। ছবিগুলো দেখছি সবাই মিলে। কিছু ছবি ভালো উঠেনি। ডিলেট করতে গিয়ে ‌অল ডিলেটে চাপ দিলাম। ১৫/২০ সেকেন্ডের মধ্যে সেদিনের সব ছবি ক্যামেরা থেকে মুছে গেলো। রোদ্দুরের সেকি কান্না !

নেই জীবনে কোনো সঞ্চয়। মানে, টাকা- কড়ির কথা বলছি। প্রচুর মানুষের সাথে সখ্যতা আমার। সেই সুবাদে বাংলাদেশ ছাড়াও বিদেশের অনেক বন্ধুদের ফোন নম্বর আমার মোবাইলে রাখা। সেটে ১২০০ নম্বরেরও বেশি। সিমে মাত্র ২৩০ জনের নম্বর। কোনও ব্যাকআপ রাখিনি সেসব নম্বরের। এবছরের জানুয়ারিতে চট্টগ্রাম থেকে কোন একদিন রাতের বাসে ঢাকায় ফিরলাম। সকাল সাড়ে ৫ টা। বাস থেকে নামলাম কলাবাগান। সেখান থেকে ঘুম ঘুম চোখে একটা রিকশা নিয়ে ফার্মগেটের বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম। পান্থপথ (গ্রিণরোড়) সিগন্যালে তিন ছিনতাইকারীর পাল্লায় পড়লাম। ওরা আমার কাছ থেকে টাকা আর মোবাইলটা নিয়ে গেলো। অনুরোধ করে সিমটা ফেরৎ পেলাম। হারিয়ে গেলো আমার সকল বন্ধুদের নম্বর। এ ক্ষতি যে কতদিনে পোষাতে পারবো জানিনা আমি...

নতুন অফিসে মানে আমাদের সময়ে জয়েন করার দিন পনেরর মাথায় অফিস থেকে ল্যাপটপ দেয়া হলো আমাকে। সে ল্যাপটপে অফিসের সব কাজ করি। রাতে বাসায় যাবার সময় নিয়ে যাই। বাসায় পিসিটা অনেকদিন থেকে নষ্ট। ইতিমধ্যে আমরা ৭ বন্ধু মিলে ইন্ডিয়া বেড়িয়ে এলাম। এর আগেও ৭/৮ বার ভারতে গিয়েছিলাম। সেটা কেবল কোলকাতাতেই। এবার গেলাম- কোলকাতা, দিল্লী, আগ্রা, জয়পুর, আজমীর। সেখানে অজস্র ছবি তুলেছি। সেসব ছবি ছিলো ল্যাপটপে। পরিবার নিয়ে কয়েকমাস আগে সিলেট গিয়েছিলাম। সিলেটের জাফলং, লালাখালসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রচুর ছবি তুলেছি। সে ছবিও ল্যাপটপে। গত ফেব্রূযারিতে আবার পরিবার নিয়ে গেলাম সুন্দরবন। ৩ দিনের সে ট্যুরের সব ছবিও ছিলো আমার ল্যাপটপে। কোন একদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পথে আমার ল্যাপটপটা খোয়া যায়। সাথে হাজার দুয়েক ছবি। এ যে কত কষ্টের আর যন্ত্রণার...

বিখ্যাত মানুষজনের অটোগ্রাফ নেবার খুব ইচ্ছে ছিলো একসময়। নিয়েছিও। ২০০২ সালে জাফর ইকবাল স্যারসহ সুন্দরবন গিয়েছিলাম আমরা ২০০ জনের মত। সূর্য উৎসব করতে। ছিলাম ৩ দিন। সেসময় কী কারনে জানি জাফর স্যার আমাকে বেশ পছন্দ করলেন। তার একটা বই অটোগ্রাফসহ গিফট করলেন। হুমায়ূন স্যারের সাথে ব্যক্তিগত সখ্যতা থাকবার কারনে তিনিও স্পেশাল অটোগ্রাফসহ একটা বই দিয়েছিলেন। বাসায় আমার ২/৩ শ বই আছে। শুধু নেই জাফর স্যার আর হুমায়ূন স্যারের অটোগ্রাফসহ বই দুটো...

ছোট ছেলে সমুদ্দুর। বাসায় তার মায়ের মোবাইলে প্রতিদিন রাতে গান শোনে। বলাবাহুল্য গানগুলো তার বড় ভাই রোদ্দুর যোগাড় করে মোবাইলে। সেখানে দুই ভাইয়ের অনেক প্রিয় গান আছে। আর আছে সমুদ্দুরের ছোট বেলা থেকে শুরু করে প্রায় শ দুয়েক ছবি। আগে আমার মোবাইলে গান শুনতো। আমার মোবাইল ছিনতাইয়ের পরে এখনকার মোবাইলে কোনো গান নেই। তাছাড়া এবারের মোবাইলটা বেচারা অপারেট করতে পারে না। ৩/৪ দিন আগে রাতের বেলা যথারীতি সমুদ্দুর মোবাইলে গান শুনছে। সাউন্ডটা একটু জোরেই ছিলো। রোদ্দুর ধমক দিলো। সেটা পছন্দ হলো না সমুদ্দুরের। মন খারাপ করে সাউন্ড কমালো। তারপর মোবাইলটা হাতে নিয়ে পাশের রুমে চলে গেলো। ৩/৪ মিনিট পর ফিরে এসে বললো- দাদা ধমক দিয়েছে, ডিলেট করে দিয়েছি... প্রথমে বুঝিনি। মোবাইল হাতে নিয়ে দেখলাম- সেটার মেমোরি কার্ড একদম খালি... সব ছবি আর গান ডিলেট করে দিয়েছে সমুদ্দুর...

পোস্টটি ১৩ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

জ্যোতি's picture


সমুদ্দুর তো দেখি বিরাট পাকনা হয়েছে Smile মাশাল্লাহ
আপনার ল্যাপটপ খোয়া যাওয়ার ঘটনায় অবাক হইছি ব্যপক ।

শওকত মাসুম's picture


ইয়ে মানে আপনি মোসলমান তো? অন্য কিছু না, ব্লগ লেখেন তো তাই জিগাইলাম। চেক কইরা দেখেন Tongue

মাহবুব সুমন's picture


Tongue

টুটুল's picture


Smile

সাঈদ's picture


কি আর করা দাদাভাই

আরাফাত শান্ত's picture


আহারে ইস গুলা যদি সব বিভিন্ন নারীর সাথে কিস হয়ে ঝড়ে পড়তো মেসবাহ ভাই কতোইনা আনন্দে থাকতো Love

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


Tongue

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


এরকম ইস সবারই থাকে বেশ কিছু। এটাই নিয়ম। Sad

তানবীরা's picture


এরকম ইস সবারই থাকে বেশ কিছু। এটাই নিয়ম। Sad(

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মেসবাহ য়াযাদ's picture

নিজের সম্পর্কে

মানুষকে বিশ্বাস করে ঠকার সম্ভাবনা আছে জেনেও
আমি মানুষকে বিশ্বাস করি এবং ঠকি। গড় অনুপাতে
আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি।
কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।
কন্যা রাশির জাতক। আমার ভুমিষ্ঠ দিন হচ্ছে
১৬ সেপ্টেম্বর। নারীদের সাথে আমার সখ্যতা
বেশি। এতে অনেকেই হিংসায় জ্বলে পুড়ে মরে।
মরুকগে। আমার কিসস্যু যায় আসে না।
দেশটাকে ভালবাসি আমি। ভালবাসি, স্ত্রী
আর দুই রাজপুত্রকে। আর সবচেয়ে বেশি
ভালবাসি নিজেকে।