আদরের বাবা এবং তার ছেলেমেয়েরা...
আদর আমার বন্ধু। তার বড়াপার বিয়ে হয় নিজের পছন্দে। আদরদের বাবার বাড়ি আর বড়াপার শ্বশুরবাড়ি একটাই। আপার পছন্দ ছিলো তারই জেঠার (বড় চাচা) ছেলে। আদরের বাবা এ বিয়েতে একদম রাজি ছিলেন না। তার মা’র কারনেই আপার বিয়েটা হয় ১৯৮২ সালে। এটি আদরদের পরিবারের প্রথম বিয়ে।
আদরের বড় ভাইয়াকে পারিবারিকভাবে তাদের এক দুর সম্পর্কের আতœীয়াকে দেখানো হয়। দেখেই ভাইয়া কাইত... পছন্দ করেন তাকে। যেনোতেনো পছন্দ নয়। কঠিন পছন্দ। এ বিয়েতেও তার মার বিশাল ভূমিকা ছিলো। তার বাবা এবারও বেঁকে বসেন। অথচ সুবিধা করতে পারেননি। মেয়েটা মানে ওদের ভাবী ছিলেন (ইনফ্যাক্ট এখনও আছেন) বেজায় স্মার্ট। ওভার স্মার্ট বলা যায়। বিষয়টা আদরের একদমই ভালো লাগেনি। সারা জীবন শহুরে বড় হওয়া তার কেনো জানি মনে হচ্ছিল, তিনি তাদের বড় ভাবী হবার মত নন। দেখতে রুপবতী বাট...। তাই, বাবার সাথে আদরও অনাস্থা প্রস্তাব আনে। মা’র জেদের কাছে হার মানে সে আর তার বাবা। ১৯৮৭ সালের ডিসেম্বরে আদরের ভাইয়ার বিয়ে হয়। বছর খানেক ভালোই কেটেছে । তারপর ? জন্ম থেকেই জ্বলছি মাগো...। জ্বলছে আদর, পুরো পরিবার আর আদরের ভাইয়াও।
এরপর আদরের বিয়ের পালা। পছন্দের বিয়ে ছিলো এটাও। তবে... বাবা আর ছোট ৩ ভাইবোনে এবং বড় দুই ভাইবোনের স্বত:ষ্ফুর্ত মতামতের ভিত্বিতে কোনো ঝামেলা ছাড়াই আদরের বিয়েটা হয়ে যায়।
আদরের ছোট বোনটা পছন্দ করতো এক সাংবাদিক ভদ্রলোক কে। বাবা এ সম্পর্কটা মেনে নিতে পারেননি। কারন একটাই, তিনি কোথাও মেয়ে বা ছেলে দেখে সন্তানদের বিয়ে দিতে পারছেন না। সবাই যার যার মত পছন্দ করছে আর তিনি শুধু স্বাক্ষী গোপাল হয়ে সে বিয়েতে হাজির থাকছেন আর খরচের টাকাটা দিচ্ছেন। অনেক বুছিয়ে শুনিয়ে ভদ্রলোককে এবারের মত রাজী করানো গেলো। তবে, তিনি শর্ত দিয়ে দিলেন- তার বাকী ২ ছেলের কেউই নিজের পছন্দে বিয়ে করতে পারবেনা। তিনি মেয়ে দেখে পছন্দ করলে তবেই ছেলেদের বিয়ে হবে। আদরের ভাই বোনরা সবাই বাবার শর্ত মেনে নিলো। বেশ ধুমধামের সাথে আদরের ছোট বোনের বিয়ে হয়ে গেলো।
এরপরের ঘটনা বড়ই করুন। আদরের তৃতীয় ভাইটা পছন্দ করে বসলো এক মেয়েকে। বাবা জানার আগে সব ভাইবোনরা বসলো পারিবারিক মিটিংএ। বাবা জানলে সম্ভাব্য কী কী হতে পারে, বাবার শর্ত থাকার পরও কেনো সে এমন করলো... ইত্যাদি বিষয় নিয়ে তাকে যতই প্রশ্ন করা হয়- সে কোনো জবাবই দেয়না। আমরা কেউ এ ব্যাপারে বাবাকে অনুরোধ করতে পারবোনা, সাফ জানিয়ে দিলো অন্য ভাইবোনেরা। মুখে বললেও একদিকে ভাই, অন্যদিকে বাবা। কাকে কী বলবে ? বাবার শরীরটাও ইদানীং ভালো যাচ্ছে না। শেষে না বড় কিছু হয়ে যায়...। শেষে বড় ভাই আর বড় বোন বাবার সাথে বসলো। বাবাকে বুঝানোর চেষ্টা করলো...। বাবা সব শুনলেন, কিছুই বললেননা। চুপচাপ উঠে শুতে চলে গেলেন। কারো সাথেই কোনো কথা বললেননা। সবাই আতংকে রাত কাটালো। পরদিনও বাবা যথারীতি কারো সাথে কথা বললেন না। নাস্তা খেলেন, দুপুরে ভাত খেলেন। রাত দশটার খবর দেখার সময় সবাই খেতে বসলো। টেবিলে ২৪ ঘন্টা পর আদরের বাবা কথা বললেন। সবাই খাবার রেখে তার দিকে তাকিয়ে আছেন। তিনি বললেন, আমার খেতে ইচ্ছে করছেনা। তোমরা সবাই খেয়ে আমার রুমে আসো।
ভয়ে ভয়ে আদররা সব ভাইবোন বাবার রুমে গেলো। বাবা শুয়ে আছেন। কেমন জানি শোয়াটা...। মাথাটা বালিশ থেকে সরে গেছে। আদর আস্তে করে ডাকলো- বাবা কি ঘুমিয়ে পড়েছেন ? বাবার কোনো সাড়াশব্দ নেই। অমঙ্গল আশংকায় খাটের দিকে দৌড়ে গেলো আদর... বাবার গায়ে হাত দিয়ে বুঝলো বাবা নেই...। চিৎকার দিয়ে উঠলো আদর। মাত্র ৩০ মিনিটের মাথায় একজন মানুষ নেই হয়ে গেলো !! এরপর সব গতানুগতিক। সবার কান্নাকাটি, আত্মীয়-স্বজনরা এলো, ডাক্তার ডেকে আনা হলো...। ডাক্তার ডেথ সার্টিফিকেট লিখলেন- অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারনে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারনে মৃত্যু...





দীর্ঘশ্বাস
দীর্ঘশ্বাস অার ভদ্রলোকের রুহের জন্য মাগফেরাত কামনা করা ছাড়া কিছুই করার নেই...
পরিবারের জন্য সহমর্মিতা।
মনটা খারাপ হয়ে গেল !!!
বাবা মা'র আরো লিব্যারেল হওয়া উচিত । এসব ব্যাপারে এমন সেন্টিমেন্টাল হয়ে গেলে ---- মানসিক চাপ নিয়ে নিলে কারো জন্য ই তো সুখবর না ।
মন খারাপ করা ঘটনা ।
পুরুষতান্ত্রিক খবরদারী বিষয়টা ভালো লাগলো না, হয়তো মৃত্যু আকাঙ্খিত না তাই বইলা। কিন্তু আমার বাপ যদি এমন হইতো তাইলে সে আর ছোট ভাইয়ের মেয়ে পছন্দ পর্যন্ত বাঁইচাই থাকতে পারতো না, কারণ সারা জীবন সে যেমনে চাইছে আমি তার উল্টা পথে হাটছি।
অনেকেই হয়তো এইটারে পিতা-পূত্রের ইগো ক্রাইসিস হিসাবে চিহ্নিত কইরা দিবেন...কিন্তু আসলে তা না। তার পুরুষতান্ত্রিক চরিত্রের আরো অনেক প্রকাশ ছটবেলা থেইকা দেখতে দেখতে বড় হইছি...আর তারে অনেক্ষেত্রে ঘৃণা করতে শিখছি।
আমি কিছু করলে বাবা হার্টফেল করে মরে যাবে-এই ডায়লগ বহু শুনছি
মনটা খারাপ হয়ে গেলো
কিছুই বলার নাই। দুৎখজনক।
মনটা খারাপ হয়ে গেলো।
........................
টেনশানে ফেললেন... অহনো বিয়া করি নাই কি না তাই ... ভাস্কর দার সাথে একমত... প্যরেন্টদের লিবারেল হওয়া উচিত... বিশেষ করে বাপেদের
পিতার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি...
তবে সবচে খারাপ লাগছে ছোট ভাইটার জন্য... টার কারনে বাবার ম্ৃত্যু হয়েছে এই ভাবনা যেন কখনো তাকে তাড়া না করে... সেটা হবে খুবই দুঃখজনক ...
বেচারা কত অার লিবারেল হবেন ? ৬ সন্তানের মধ্যে ৪ জনই নিজের পছন্দে বিয়ে করলো... অতি কষ্টে / দুঃখেই হয়তো হার্ট অ্যাটাক হয়ে গেলো>>>
এইটা কিন্তু ঠিক বললেন না য়াযাদ ভাই; সবারি নিজস্ব মতামত দেয়ার রাইট আছে;
খুব খারাপ লাগলো পড়ে।
[অ.ট.-- নতুন বাবু কেমন আছে?]
বাবু ভালো আছে... মেয়ে, তুমি কি সেই খিচুড়ি খাবার দিন ক্যাফতে ছিলে ?
অ্যাঁ! কুনদিনের কথা কৈতেসেন ভাইডি? এরকম কিছু তো মনে পড়তেসে না... থাকলে তো নিশ্চয় মনে পড়ত!
তাইলে মনে অয় রং নাম্বার...
একলব্যের পুনর্জন্ম | মার্চ ৬, ২০১০ - ৯:২৪ অপরাহ্ন
বাবা মা'র আরো লিব্যারেল হওয়া উচিত । এসব ব্যাপারে এমন সেন্টিমেন্টাল হয়ে গেলে ---- মানসিক চাপ নিয়ে নিলে কারো জন্য ই তো সুখবর না ।
মন খারাপ করা ঘটনা ।
ওনার আত্মা শন্তি পাক
হুম
খুবই খারাপ লাগছে খুবই।
ইগো জীবনে যাই আনে আনন্দ আনে না
মন্তব্য করুন