বিদেশ যাইতে মঞ্চায়
আমরা কতিপয় বন্ধুরা আছি, যাদের কাজ হচ্ছে ঘুরতে যাওয়া। এক একটা ট্যুর এক একজন অর্গানাইজ করে। আমাদের ঘুরতে যাবার কোনো তাল লয় নেই। হঠাৎ সন্ধ্যায় সিদ্ধান্ত নিলাম, ঘুরতে যাবো। ব্যস, বাসায় যেয়ে জামা-কাপড় নিয়ে বেরিয়ে পড়ি। রাতের গাড়ীতে চড়ে বসি। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, কুমিল্লা, শ্রীমঙ্গল জাতীয় ট্যুরগুলো সচরাচর ২ দিনের হয়। রাতে যাত্রা শুরু করে পরদিন থাকি। তার পরদিন ফিরে আসি। সেন্টমার্টিনের ট্যুর হয় ৩/৪ দিনের।
আমাদের কিছু ট্যুর হয় আৎকা। যেমন : কোনো একজন বন্ধু সন্ধ্যায় আড্ডার মাঝে হঠাৎ বলে বসলো- চল, সবাই বেরিয়ে পড়ি...। কে কে যাবে ? উপস্থিত ৮/১০ জন রাজী হয়ে যায়। আমরা বেরিয়ে পড়ি। আমাদের বন্ধুদের মধ্যে কয়েকজনের নিজের গাড়ী আছে। এর মধ্যে মিলন, স্বপন, আসিফ, নওরোজ, সুমন, শিপার আছে। লোক বুঝে এক বা একাধিক গাড়ী নিয়ে বেরিয়ে পড়ি আমরা। বড় জোর কুমিল্লা পর্যন্ত যাই। বিশ্বরোডের নুরজাহান হোটেলে গিয়ে চা-টা খেয়ে আবার মধ্যরাতে ফিরে আসি ঢাকায়।
কোনো কোনো ট্যুর হয় সিজনাল। এক্ষেত্রে আমাদের যাবার জায়গা হচ্ছে- হাতে গোনা ৪/৫ টা। বাংলাদেশে প্রথম লিচু পাকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে। আমরা একদিনের ট্যুরে (সকালে যেয়ে বিকালে ফেরা) সেখানে চলে যাই। ক'দিন পর যাই, ঈশ্বরদীতে। এখানেও অতীব রসালো লিচু পাওয়া যায়। বাংলাদেশের একমাত্র ফল লিচু, যা খুব সামান্য সময়ের জন্য বাজারে পাওয়া যায়। মার্কেটে লিচুর মেয়াদ বড় জোর ২০ দিন। প্রতিবছর না হলেও এক বছর পর পর আমরা রাজশাহী হয়ে চাঁপাই যাই আমবাগানে। বাগানের আম শুধু খাবার জন্য নয়, দেখারও একটা ব্যাপার আছে। যারা কখনো আমের সিজনে আম বাগানে যাননি, তারা মিস করেছেন ! আম বাগানে যাই, আম খাই, ছবি-টবি তুলি, আসার সময় খাঁচা ভরে আম নিয়ে আসি। সে আম যে কী মজার আর নির্ভেজাল !!
বছরে একবার সেন্টমার্টিন এবং একবার দেশের বাইরে যাওয়াটা আমাদের রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাইরে বলতে ভারতের শিলিগুড়ি,দার্জিলিং, শিলং। কখনো সখনো নেপাল, মালয়েশিয়া বা ব্যাংকক। এসব ট্যুরে মহা হ্যাপা আজকাল। ছুটির সাথে মিলিয়ে ভিসা পাওয়াটা মুশকিল হয়ে যায়। তবে যত হ্যাপাই হোক না কেনো, আমরা তার চেয়ে বেশি ক্ষ্যাপা। যাব সিদ্ধান্ত নিলে যাবোই।
বাংলাদেশের সব জেলা ঘোরার সুবাদে বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন জিনিস আমার পছন্দের তালিকায় চলে এসেছে। এরমধ্যে- কুমিল্লার রসমালাই, নোয়াখালীর পিঠা, চট্টগ্রামের ক্যাফে জামানের ভুনা গরুর গোশত, কক্সবাজারের শুটকি, সিলেটের সাতকড়া, রংপুরের শীত, কুড়িগ্রামের গরম, ঈশ্বরদীর লিচু, রাজশাহীর ফজলী আম, কুষ্টিয়ার কুলফি, শ্রীমঙ্গলের চা, খুলনা হাদিস পার্কের পাশের দোকানের ৩ তলা চা, যশোরের জামতলার মিষ্টি... কত নাম বলবো ??
এবারও কদিন পর ঈশ্বরদী যাবো। তার্ও আগে সুপ্ত ইচ্ছা আছে, ব্যাংকক বা সিঙ্গাপুর যাবার। যাবার মত সাথী খুঁজছি... ৪/৫ দিনের বেশি থাকতে পারবো না... দেখি, কী হয় !!!





বেড়াইতে হৈলে বৈদেশ উত্তম, বৈদেশ যাইতে মন্চায়
বাংলাদেশে আইসা পড়েন। বাংলাদেশতো আপনের লাইগা বৈদেশ, তাইনা ?
কুমিল্লার রসমালাই খাইতে খাইতে জিহবার স্বাদ নষ্ট কইরা ফেলছি, এখন কালেভাদ্রে ভাল লাগে। নোয়াখালি যাই নাই কখনো, পিঠার নাম বইলেন। নোয়াখাইল্যাদের দিয়া আনাতে পারি কিনা দেখি
চট্টগ্রামে কমসে কম তিনখানা ক্যাফে জামান...চট্টগ্রাম ভরা জামান। ঐখানে গেলে জামানেই খাই
সিলেটের সাতকড়া জোস, কক্সবাজারের জোস হইলো লইট্যা ফ্রাই...সিম্পলি অসাধারণ! প্রতিবার বেড়াতে গেলে প্রতিবেলার ভাতে এই আইটেম থাকতেই হবে।
শ্রীমঙ্গলে ঘুরে এলেও কয়েক রঙ্গের চা খাই নাই
সিঙ্গাপুরে খাওনের কি পাওয়া যায়?
চট্টগ্রাম নিউমার্কেটের ঠিক উল্টাদিকে যেই ক্যাফে জামান আছে, আমি সেইটার কথা কৈছি।
কয়েক রঙ্গের চা এর কথাতো কৈছি খুলনায়। শ্রীমঙ্গলে পাওয়া যায়
উৎকৃষ্ট চা পাতা। স্টেশন রোডের গুপ্ত টি স্টোরের চা হচ্ছে বেস্ট চা।
সিঙ্গাপুরে কী পাওয়া যায়, জানিনা। যাই নাইতো !
নিউমার্কেটের উল্টা দিকেরটা এখন আর ভাল্লাগে না। এখন নতুন খুলছে জিইসি'র মোড়ে। ঐটায় জোশ।
আমি দোতলা একটাতে খাইছিলাম, জিইসির মোড় মনে হয়, এসি ছিল, কিন্তু আমি ঢুক্তেই লোডশেডিং
খাইছিলাম ইলিশ আর হাবিজাবি মাছ। রাতে আরেকটা জামানে খাইছিলাম, ঐটা কোন জায়গায় ছিল মালুম হইতাছে না, ঐটায় নিচতলার মধ্যেই স্টারের মতো এসিওয়ালা আর এসিছাড়া জায়গা ছিল। ঐখানে খাইছিলাম গরু আর মুরগি 
শ্রীমঙ্গলে তিনরঙ্গা চা পাওয়া যায় শুঞ্চিলাম। আর শ্রীমঙ্গলে চা-বাগানেই ছিলাম ৩ দিন
চায়ের স্টলের নামটা মনে রাখলাম, নিকট ভবিষ্যতে আরেকবার যাইতে পারি ঐদিকে।
শ্রীমঙ্গলে ৩,৫,৭ পর্যন্ত রংয়ের চা পাওয়া যায়। আমরা ফ্রেন্ড্রা সবগুলাই (একেকজন একেক্টা) খাইসিলাম।
ঐ কারিগরের কক্সবাজারেও ফ্র্যাঞ্চাইজ আছে। চা-টা দেখতেই যা, খেতে তেমন না। আর যে গ্লাসে দেয়, সেই হরদেও গ্লাস ফ্যাক্টরির সবুজাভ বেসুরত কাঁচের গ্লাস, পুরানাম্লী হারিকেনের চিমনির মতো। জানিনা এখন কী অবস্থা।
আপনি চা বাগানে ৩ দিন ছিলেন ? আমিও ছিলাম, তবে ৩ বছর...!!!
নাটোরের কাচাগোল্লা; মুক্তাগাছার মন্ডা; টাঙ্গাইলের চমচম; বগুরার দই -- বাদ পড়ছে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছানামুখী, রাজশাহীর তিলের খাজা...
উত্তরবঙ্গে রসকদমটাও দারুণ হয়। পাটালিগুড় যশোরের। চমচম নিয়ে পুরনো ক্যাচাল আছে টাঙ্গাইলের পোড়াবাড়ি আর গ্রেটার ফরিদপুরের (রাজবাড়ি আর) পাংশার মধ্যে। একটা ছড়াও ছিলো, নামে পোড়াবাড়ি তার আবার সৃষ্টি/ নামেই পানসা কিবা হবে মিষ্টি- এইটাইপ।
সব্বোনাষ ! আপনার অনেক গুনের মধ্যেতো দেখি খাবার স্পেশালিস্টও লাগাইতে হৈবো।
এত খাবার সম্পর্কে আপনি জানেন কীভাবে...?
এবার শ্রীমঙ্গল গিয়ে বহুলশ্রুত সেই দশ কালারের চা খাওয়ার সৌভাগ্য থুরি দুর্ভাগ্য হইল ।এই চা টা আসলেই শুধুই দর্শনধারী ,কোয়ালিটি একেবারে যা তা ,আমার তমনে হচ্ছিল চিনিছাড়া শরবত খাচ্ছি ।
তবে একটা ব্যাপার ,এই চা কিন্তু দুইটা দোকানে পাওয়া যায় ,দুইটাই নিজেদের আসল কারিগর দাবি করে ,কোনটা আসল আল্লাই মালুম ।
বগুড়ার দই আমার পছন্দের । মিষ্টি তেমন টানেনা আমাকে...
সিলেটের সাতকড়ার কথায় মনে পড়লো, এই সাতকড়ার আচার গরম ভাত দিয়া খাইতে সেইরম মজা, যদিও বেশি খাওয়া যায় না, অল্প নিয়া খাইতে হয়। অদ্ভূত স্বাদ!
সিলেটের কথা মনে পড়লেই সাতকড়ার আচারের কথা মনে পড়ে, আরেকটা কথা মনে পড়ে... সিলেট শহরটা ভরা ফটকা (সিলেটি কেউ মাইন্ড খাইয়েন না, বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে কইলাম
)
"চাঁপাইনবাবগঞ্জ যামু,
আম খামু।"
বিদেশ যাওয়ার ট্যাকা নাই, গরীব মানুষ।
আমি গরীব না, তবে অধনী...
বিদেশ যাওয়ার ট্যাকা নাই, গরীব মানুষ। Sad
মাসুম ভাইরে ডেডিকেট করা উচিত ছিল আজাদ ভাই
ক্যান, মাসুম ভাইরে ডেডিকেট করতে হৈবো ক্যান ?
মেসবাহ ভাই ,আম খাওযার সফরে যাওয়ার সময় জানান দিয়েন।আর আতকা সফরটার কথা শুনে হিংসিত হইছি।
জানান দিলে কী হৈবো ? তুমি যাইবা ?
হ। আম খাইতে যামু। আমবাগানে আম খাইতে নিয়া যাইয়েন কিন্তু।
মেসবাহ ভাই , চলেন পহেলা বৈশাখে কোথাও ঘুরতে যাই। আমরা প্রথম বারের মত বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে সূর্য্য উৎসব করি। ঢাকার বাইরে কোথাও যাই, আতশবাজী, ফানুস উড়ানো, গান বাজনা করি - নব বর্ষ উপলক্ষ্যে।
আইডিয়া মন্দ না, একটা উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে... দেখুন সবার সাথে আলাপ করে
এই প্রস্তাবে দুই হাত তুইলা রাজি
মেসবাহ ভাই, কোন দুঃখে যাইবেন শিঙ্গাপুর বা তাইল্যান্ড? তাইওয়ান আইসা পড়েন। এখানপকার তোফু , ডাম্পলিং আর রাইস নুডলসের সোয়াদ আমৃত্যু মুখে লেগে থাকব
মনে পইড়া গেল বরিশালের গৌরনদী মিষ্টান্ন ভান্ডার আর বিএম কলেজের কাছের নিতাইর দোকানের মিষ্টি। কতদিন খাইনা।
আমি বালা পাইনা, তাই বরিশালের ভালো জিনিসও আমার ভালো লাগেনা... স্যরি ট্যু সে
আমি বালা পাইনা, তাই বরিশালের ভালো জিনিসও আমার ভালো লাগেনা... স্যরি ট্যু সে
অদিতি কি বরিশালের? আমার বাড়ি মুলাদী
...হি হি, কি মিল কি মিল??
পরশুর আগের রাতে মনে হৈলো, ময়মনসিংহ যামু, রেডি হৈলাম, রাইত সাড়ে দশটায়...তারপর শুনি সেইদিন বাস বন্ধ আছিলো ঐরাস্তায়..পরদিন গেলাম, গিয়া আড্ডা দিয়া, ঘুইরা ফিরা মনে হৈলো বিরিশিরি যামু, তাই গতকাল গেলাম গিয়া...আইজাবার ফেরৎ আসলাম...
কয়মাস পরপর ঘুরতে যাইতে না পারলে শরীর ম্যাজম্যাজ করে...
আমার আগে এরকম হুটহাট ঘুরতে বের হওনের জীবন ছিলো। যখন খুশি চলে যেতাম যেখানে খুশি। এখন সময় করতে পারি না।
পোষ্টটা দারুন লাগলো পড়তে। স্পেশালী মধ্যরাতে চা খেয়ে ফেরত আসার পার্টটা।
মন্তব্য করুন