আমাদের ছবির হাট...
ছবির হাট হৈলো আমগো আড্ডার জায়গা। এইখানে আমরা দিনের বেলা যার যার কাম শেষ কৈরা আড্ডা দেই। চা-বিড়ি খাই। এই আড্ডার নির্দিষ্ট কোনো বিষয় নাই। চারুকলার ঠিক উল্টাদিকে মোল্লার দোকান সংলগ্ন আমগো ছবির হাট। এখানে আমরা যারা আড্ডা দেই তাগো মইধ্যে- চারুশিল্পী, সাংবাদিক, চাকুরে, ব্যবসায়ী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ছাত্র, শিক্ষক, বেকার, বিবাহিত, অবিবাহিত, তালাকপ্রাপ্ত, চিরকুমারসহ সব ধরনের পোলাপাইন আছে।
প্রতি শুক্রবার এবং বছরের বিশেষ দিনগুলিতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছবির হাটে চারু শিল্পীদের আঁকা ছবির প্রদর্শনী হয়। প্রদর্শনীর ছবিগুলান অতীব কমমূল্যে বিক্রী করা হয়। একই ছবি গ্যালারিতে যদি ২০ হাজারে বিক্রী হয়, এখানে শ্রেফ ৫ হাজারে সেটা পাওয়া যায়। শিল্পী আর দর্শকদের মাঝে সেতুবন্ধন তৈরীর উদ্দেশ্যেই ছবির হাটের জন্ম। প্রতি শুক্রবার একটা ছবি বা ডকুমেন্টারির প্রদর্শণী করা হয় এখানে। খালী গলায়, কখনও গিটার নিয়ে গান বাজনা করা হয় প্রায়শই...। এখানকার নিয়মিত শিল্পীরা হচ্ছে- কনক আদিত্য, মাহমুদুজ্জামান বাবু, কৃষ্ণকলি, কফিল আহমেদসহ অনেকে।
প্রতি বছর মার্চের প্রথম সপ্তাহে ছবির হাটের আয়োজনে ঘুড়ি উৎসব করা হয়। গত ৫ বছর এ উৎসব হয়েছে সেন্টমার্টিনে। এবার সেটা করা হয়েছে কক্সবাজারের ইনানী বিচে। সেন্মার্টিন করলে নাকী পরিবেশের ক্ষতি হয়- এই অজুহাতে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে একটা গণ বিজ্ঞপ্তি জারী করা হয়েছিলো । যাতে বলা হয়েছে, সেন্মার্টিনে ঘুড়ি উৎসব জাতীয় কোনো উৎসব করলে জেল-জরিমানা হবে। জেলে যাবার ভয়ে আমরা এইবার আর সেন্টমার্টিন ঘুড়ি উৎসব করি নাই।
আমরা জেলরে ডরাই।
ছবির হাটের আইডিয়া করা হয় আজ থেকে বছর সাতেক আগে। আনুষ্ঠানিকভাবে ছবির হাটের যাত্রা শুরু হয় ১৬ ডিসেম্বর ২০০৪ সালে। তখন জায়গাটা এত সোন্দর ছিলো না। গাছের গুড়িতে বসে আমরা মোল্লার দোকানের চা খাইতাম। রাজা উজির মারতাম। এখানে এখন চা দোকান আছে- ৫ টা। ভাজা পোড়ার দোকান আছে ২ টা। যেখানে আলুর চপ, পিঁয়াজু , বেগুনি, সব্জীভাজা, ছোলা পাওয়া যায়। দেদারসে বিক্রীও হয়। সম্প্রতি পাওয়া যায়- বাঙের ছাতা বা মাশরুম। খাইতে মাশাল্লাহ অনেক শোয়াদ ! আমরা খাই। আমাদের চা খাবারের দোকান একটাই। ইমনের চায়ের দোকান। ইমন, চা দে.......... বললেই ইমন ছুটে আসে। আমাদের চা দেয়। বিড়ি দেয়.........। আমরা খাই, আড্ডা দেই। একসময় রাত বাড়ে। আমরা ফিরে যাই বাসায়। আবার পরদিন অফিস ফেরৎ আমরা একত্রিত হই... এই আমাদের ছবির হাট...।





ছবির হাট না চাঁদের হাট ??
ব্যঙের ছাতা খাওনের শখ আছে।
আল্লাহ যেনো আপনের মনবাসনা আর শখ পূরণ করে দেয়, আমিন !!
ছবির হাট খুব ময়লা একটা জায়গা, বসতে হলে ময়লার মধ্যে বসা লাগে।
হায়, হায় এইডা তুমি কী কৈলা ? জাইন্না কৈলা, নাকী শুইন্না ??
ছবির হাটে মেয়েরা মন খুইলা আরামে সিগারেট টানতে পারে।
ঠিক বলছেন রায়হান ভাই। ছবির হাটে ছেলেরা মেয়েরা বিড়ি সিগারেট খায় হাসি ঠাট্টা করে কিন্তু সবচে' বড় কথা জায়গাটা ময়লা এইটারে পরিস্কার রাখার কোন পরিকল্পনা কী ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের আছে? মেয়র সাহেব কী বলেন?
এক্কেরে হাছা কৈছেন, বস
জাইন্না কইতেছি। বলা যায় বইসা কইতেছি। আমি একটু শুচিবাই আছি ময়লা ভালোলাগেনা।
তাইলে ঠিকাছে...
ছবির হাটে ঢুকার মুখে যে বটগাছ আছে, ঐটা নাকি কাইটা ফালাইবো সরকার ? স্মৃতিস্তম্ভ যাবার রাস্তা বড় করতে।
জানেন নাকি কিছু ?
কাল রাত পর্যন্ত জানিনাতো ! আজ যাই, দেখি...
যদিও ময়লা, তবুও ভালো লাগে..... ঢাকায় থাকলেে প্রতিদিন যাই প্রাণের টানে।
কথাটা সত্য কইলেন্না ইয়াজিদ ভাই। আজ পর্যন্ত আপনের একডাকে ইমনরে আসতে দেখি নাই। ইমনরে নোকিয়া মোবাইলের টর্চ জ্বালাইয়া খুইজা আনন লাগে।
হ ঠিক কইছেন , ঐ টা বারোয়ারী লোকের আড্ডা খানা।
তা আমরা আবার কবরে মিলিত হব ঐ খানে কোন আড্ডায়?
তা আমরা আবার কবরে মিলিত হব ঐ খানে কোন আড্ডায়?
কবরে ??
সরি, ঐ টা আসলে 'কবে '..হবে , টাইপিং মিষ্টেক.........
মাশরুমের সোয়াদ অনেক ভালো !
আড্ডারুদের জন্য খুবই সুন্দর একটা জায়গা । বিশেষ করে যারা গান টান গায় ।
কয়খান ফটুকটটুক দিলে পারতেন (দীর্ঘশ্বাসের ইমো হৈবে)
অনেকদিন ছবির হাটে আমরা আড্ডা দিতে যাই না। পিয়াজু, আলুর চপ খাই না। যাইতে হইব শীঘ্রই।
আমাগো চরেও তো এই ধরনের ঘুড়ি উৎসব হইতে পারে!
ভালু জায়গা ।
হ্যা, এইবেলা অবগত হৈলাম...কিন্তু একটু বেশি জাইনা ফেল্লাম যে? এলা মশরুম খাইতে আইসা পড়ুম...
ছবির হাটটা একবার ছুঁয়ে যাবার ইচ্ছে আছে এবার
মন্তব্য করুন