ইউজার লগইন

বই মেলা এবং একটি নতুন বই

ফেব্রুয়ারী মাস মানেই ভাষার মাস। আর এই মাসেরই আরেকটা অবিচ্ছেদ্য অংশ বই মেলা। আমারা যে এখনো নষ্ট হয়ে যাই নি তার প্রমাণ বই মেলা। এতো জ্ঞানপিপাসু লোকের ভীড় দেখে এখনো বোঝা যায় আমরা আমাদের আত্মার মৃত্যু ঘটতে দেইনি। সাহিত্যের রস এখনো আমাদের মন থেকে মুছে যায় নি। যাই হোক এইসব দার্শনিক টাইপ কথা না বলে মূল কথায় আসি। কথাটা একটা বই নিয়ে। ছোটদের জন্য লেখা একটি বই। বহুল ব্লগ আলোচিত মাইনুল এইচ সিরাজীর ‘প্রেম পৃথিবীর পাঁচালি’ বইটি কিনতে গিয়ে বইটি চোখে পড়ে। শাহানা সিরাজীর ‘প্রজাপতির দেশে’। ‘প্রেম পৃথিবীর পাঁচালি’ নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। উনার লেখা আমি সবসময়ই পছন্দ করি। উনার এই বইটাও আমার প্রত্যাশা পূরণ করেছে। এখন আসছি ‘প্রজাপতির দেশে’ বইটার কথায়। প্রথমেই বলি বইয়ের প্রচ্ছদের কথা। মামুন হোসাইন ছোটদের কথা মাথায় রেখে মানানসই একটি প্রচ্ছদ তৈরি করেছেন। যথেষ্ট আই ক্যাচিং। লেখিকা শাহানা সিরাজী বইটিকে শিশু-কিশোর মন উপযোগী গল্পগুচ্ছ দিয়ে সাজিয়েছেন। শিশুদের মন এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে তারা যে সব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে তার সুন্দর গোছানো বর্ণনা এবং সমাধান দেয়া হয়েছে বইটিতে। আমার বাস্তব অভিজ্ঞতার কথাই বলি। আমি যখন আমার খালার তিন বছরের পিচ্চিকে বোঝাতে গেলাম ভূত বলে কিছু নেই। তার সে কী রাগ। কোনভাবেই মানতে রাজী নয় যে ভূত বলে কিছু নেই। যখন তার মা ও তাকে বলল ভূত বাস্তবে নেই, তার সে কী কান্না। তার কান্না থামাতে সেদিন আমাদের বেশ বেগ পেতে হয়েছিল। আজ বইটি পড়ার সময় অবাক হলাম লেখিকা শাহানা সিরাজী এমনই একটি সমস্যার কথা গল্পে গল্পে তুলে ধরেছেন। আফসোস হল, ইশ! ঐ দিন যদি এই বইটা হাতে থাকত। মজার বিষয় হল বইটিতে গল্পে গল্পে বিষয় গুলো এতো সহজ ভাবে বলা হয়েছে যে শিশুরা নিজেরাই পড়ে তাদের ভুল এবং সমস্যা গুলো সমাধান করে নিতে পারবে। আমার কাছে এমনই মনে হয়েছে। বিশেষ করে বলতে হয় ‘প্রতীতি’ গল্পের কথা যেখানে বয়সের মারপ্যাঁচে পড়া প্রতীতির মানসিক অবস্থা, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সে যেসব সমস্যাতে পড়ে তার কথা এবং শেষমেশ সে কি করে এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসে তার কথা এতো সুন্দর এবং প্রাঞ্জল ভাষায় বর্ণিত হয়েছে যে যখন গল্পটি পড়ছিলাম মনে হচ্ছিল সব চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি। বলতেই হবে লেখিকা শাহানা সিরাজীর ভাষার গাঁথুনি অত্যন্ত মজবুত এবং তার গল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাবার ক্ষমতাও আসাধারণ।

পোস্টটি ৫ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

সাহাদাত উদরাজী's picture


মাইনুল এইচ সিরাজী ও শাহানা সিরাজী। নামের পিছনে যাদের ঈ মানে জী থাকে তার সব সময় ই ভাল লেখক/লেখিকা হয়। হা হা হা.।।

মাইনুল এইচ সিরাজী's picture


তাই উ্দরা্জীও ভালো লেখক

সাহাদাত উদরাজী's picture


সিরাজী ভাই, উদরাজী লেখক হলে লেখকদের কি বলবেন! আপনার বইটা কেনার ইচ্ছা আছে। এখনো বই মেলায় যেতে পারি নাই।

নাজমুল হুদা's picture


লেখিকা সিরাজীর বইটা পড়তে হবে ।

তানবীরা's picture


রিভিউ পড়ে বইটি পড়তে ইচ্ছে করছে। Puzzled

সাফল্য কামনা করি বইটার

শওকত মাসুম's picture


দুটো বইয়েরই সাফল্য চাচ্ছি।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

অনিকেত চৌধুরী's picture

নিজের সম্পর্কে

পৃথিবীতে আমি আসি নির্ধারিত সময়ের দু’মাস আগে।মায়ের মুখে শুনেছি অনেক ছোট বেলা থেকেই আমার সব কাজেই শুধু তাড়াহুড়ো।তাই মনে হয় পৃথিবীতে এসেছি ও তাড়াতাড়ি।চার বছর বয়স থেকেই লেখাপড়াতে হাতেখড়ি,তারপর এ স্কুল ও স্কুল ঘুরে শেষ ঠাঁই হল কুমিল্লা জিলা স্কুলে। বড় ভাই যখন পাশ করে ভর্তি হল নটর ডেম কলেজে তখন থেকেই আমিও স্বপ্ন দেখা শুরু করলাম ঐ কলেজে পড়বার।স্বপ্নটা আমি পূরণও করলাম।২০০৭ এর এক বৃষ্টিস্নাত দিনে পা রাখলাম কলেজের আঙ্গিনাতে।তারপর কলেজের পাট চুকিয়ে এখন পড়ছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।মানুষকে পর্যবেক্ষণ করা আমার হবি এবং পড়ালেখার ও একটা অংশ।তাইতো এখানে জয়েন করলাম আর ও বেশি মানুষের সাথে সহজে মেশার জন্য…আর ও বেশি বন্ধু পাওয়ার জন্য