জোছনা
মধ্যদুপুরের গনগনে সূর্য মাথায় নিয়ে রাজ পথে হেঁটে চলছে এক যুবক। হলুদ পাঞ্জাবী গায়ে খালি পায়ে পথ চলা নয়। আর আট দশটা তরুনের মতই বেশভূষা তার। হাতে জ্বলন্ত সিগারেট। কোথায় যেন সে পড়েছিল মধ্য দুপুরের সূর্্যটাকে ঠিক ভাবে উপভোগ করতে হলে হাতে রাখতে হয় একটা জ্বলন্ত সিগারেট আর জোছনা উপভোগ করতে লাগে অমৃত সুধা যেটাকে আমরা আদর করে ডাকি লাল পানি। জোছনার কথা মনে পড়তেই তার মুখে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল। স্বপ্নের ভাঙ্গনের রঙ আর বাস্ততার তুলিতে আঁকা এই হাসি। আমৃত সুধা ছাড়াই জোছনা দেখতে চেয়েছিল সে। নির্মল মনটাকে আলোকিত করতে চেয়েছিল চাঁদের ধার করা আলোতে। তার চোখে জোছনার মতই কোমল, নির্মল, অনিন্দ্য সুন্দর হয়ে ধরা পড়েছিল মেয়েটা। কোন কালেই কবি ছিল না সে। তারপরও মেয়েটাকে দেখা মাত্রই তার মুখের ভাষা হয়ে গেল কাব্যিক। আলোর পাশে কালোর কোন জায়গা নেই। তাই আস্তে আস্তে মনের কালো দাগ গুলো মুছতে শুরু করল সে। নিজেকে গুছিয়ে নিতে লাগল মনের মানুষের আলোতে। চাঁদ দেখার জন্য আকাশের দিকে আর তাকানো লাগত না তার। আকাশের চাঁদ তো তার চাঁদের কাছে নস্যি। জোছনারুপী মেয়েটা কোন কার্পণ্য করে না তার আলো ছড়াতে। উদার হস্তে তার জন্য আলো বিলিয়ে যেতে লাগল। কিন্ হায়! চাঁদ যে কারো একার সম্পত্তি নয়! চাঁদের আলোতে সবার ভাগ সমান। চাঁদের মত মেয়েটি এই সত্যটি জানত। জানত না হতভাগা যুবক। তাইতো চাদকে একা ভোগ করার দুঃসাহস করেছিল। জানত না মেয়েটির জোছনার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে শত শত যুবক। জানত না মেয়েটি তার আলো বিলিয়ে দিচ্ছে শত শত প্রেমিকের মাঝে। যুবক আবাক হয় মেয়ের এই রকম উদারতায়। দুঃখ পায় নিজের মনের সংকীর্নতায়। কি করে সে সাহস পায় সবার জিনিস একা ভোগ করার। এত দিনে যুবক আকাশের দিকে তাকায় বিধাতার জন্য বুক ভরা প্রশ্ন নিয়ে। তখনই আকাশের চাঁদটা তার কাছে অপরূপ রূপে ধরা পড়ে। আহা! কি বোকা যুবকটা জোছনারূপী মেয়েকে ভাল না বেসে জোছনাকে কেন ভালবাসল না!





েপ্রমে পড়লে জোছনার সৌন্দর্য উপভোগ্য; ছ্যাকা খেলে সেটা আশ্রয়
বাহ্, অসাধারণ!
দারুণ ভাবনা এবং আপনার লেখার হাত।
ধন্যবাদ মীর এবং লীনা
বাহ। বাহ। অন্যরকম এক্টা লেখা পড়লাম।
হুমায়ূন আহমেদ ছাড়া এরকম জ্ঞানের কথা আর কেউ লিখবে না
মন্তব্য করুন