সোনাবীজ'এর ব্লগ
এক বৈশাখে দেখা হয়েছিল
এক বৈশাখে দেখা হলো দুজনার
জোষ্টিতে হলো পরিচয়
আসছে আষাঢ় মাস, মন তাই ভাবছে
কী হয় কী হয়
কী জানি কী হয়
এক বৈশাখে দেখা হলো দুজনার
তখনি তো হলো দেখা
যেই না নয়ন কিছু পেয়েছে
জানাজানি হয়ে গেছে
অধর যখনি কথা পেয়েছে
জানি না তো কী যে হবে
এর পরে কিছু পেলে এ হৃদয়
আসছে আষাঢ় মাস, মন তাই ভাবছে
কী হয় কী হয়
কী জানি কী হয়
এক বৈশাখে দেখা হলো দুজনার
জোষ্টিতে হলো পরিচয়
আসছে আষাঢ় মাস, মন তাই ভাবছে
আজগুবি ছড়া
গুঁড়ে চিনি দুধে দধি ঘোলে মাখন মেখে
একটুখানি দেখুন চেখে কী ভয়ানক স্বাদ
ঘোড়ার উপর বসুন চেপে কিংবা হাতির পিঠে
এরপরে দিন পদ্মা পাড়ি ডিঙ্গিতে পাল তুলে
শীতের রাতে গোসল করুন পুকুরজলে নেবে
উদোম গায়ে শুয়ে ঘরে দিন এসিটা ছেড়ে
বালু দিয়ে ঘর বানালে পাবেন বালির ঘর
কলাগাছের তক্তা দিয়ে খাট বানাবেন তবে
বইপুস্তক পড়তে গেলে চাপ বেড়ে যায় ব্রেনে
এরচে ভালো বইগুলো সব খান গুলিয়ে জলে
কবির জন্য
রাতভর ঝরে পড়ে গন্ধবকুলের নরম বয়স
এক আঁজল মেঘ গলে গেলে সূর্যের নিপুণ আভাসে ঘুম ভাঙে বিলাসী পাখির
তখন সুরগুলো দূরে মিশে যায়, চিকন সারণির বিষণ্ন স্রোতের মতো
একদিন কলাপাতা এ দেহে কাঁপন তুলেছিল। তোমার শরীরে
তালতমালের ঘ্রাণ ঘুরপাক খেতে খেতে ফুটিয়েছিল অসহ্য কামরাঙা ভ্রূণ
পৃথিবীর প্রতিটি মানুষই কবি হয়ে জন্মায়, প্রতিটি মানুষের মনে
১৯৭১ : অস্পষ্ট স্মৃতি থেকে
স্বাধীনতা যুদ্ধের দিনগুলোর কথা আমার স্পষ্ট মনে পড়ে না। কষ্ট করে স্মৃতি
রোমন্থন করতে গেলে মুছে যাওয়া কিছু স্মৃতি অত্যন্ত অস্পষ্টভাবে মানসপর্দায়
ধরা পড়ে।
কবে কখন কোথায় কিভাবে এবং কেন, আনুষ্ঠানিকভাবে কিংবা অতর্কিতে, যুদ্ধ শুরু
হয়েছিল পরে ইতিহাস পড়ে জানতে পেরেছি। কিন্তু সেদিন জানতে পারি নি, কারণ
জানার মত জ্ঞান এবং বোঝার ক্ষমতা তখনও আমার হয় নি। কেননা, তখনও আমি চালতে
দোষ
১
যেখানে যাবো না পণ করি, পা পিছলে সেখানেও এসেছি পদচিহ্ন রেখে।
২
একটা শব্দ হারিয়ে গেলে খুঁজতে খুঁজতে তোমার অন্ধকারে ডুব দিই।
৩
এক জ্যোতিষি বলেছিলেন, তাই তোমার যৌনাঙ্গে তিলক খুঁজেছি।
৪
একদিন মুহূর্তকালের জন্য তুমি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েছিলে; ঘর্ষণের পর।
৫
প্রিয় বান্ধবীদের বিয়ে হয়ে গেলে
প্রিয় বান্ধবীদের বিয়ে হয়ে গেলে উঠতি যৌবনে আমরা সবগুলো ছেলেবন্ধু পারস্পরিক শত্রুতা ভুলে দল বেঁধে দেবদাস হতাম। আমাদের চরণসমুদয় অনাথের মতো নিস্তেজ হয়ে পড়তো। বিরহীসংঘের সমাবর্তনে বিগত বান্ধবীকে প্রতারণার দায়ে গোষ্ঠি উদ্ধারে লিপ্ত হতাম।
বয়স বাড়ে; সময় বদলায়; দৃষ্টি ও দর্শন বদলে যেতে থাকে। পৃথিবীর সবখানে, সবকিছুতে ছড়িয়ে আছে আর জড়িয়ে আছে প্রেম।
দ্বিধা
কিভাবে তার সাথে পরিচয় হয়েছিল অনেক চেষ্টা করেও উদ্ধার করতে পারি নি। ইথারে বেতারে অনতিকাল যোগাযোগ ঘটিত হবার পর আচানক আবিষ্কার করি একটা মেয়ের সাথে আমার পরিচয় ঘটে যাচ্ছে। খুব দ্রুত একটা সম্পর্কও গড়ে উঠলো তার সাথে। অতীব অহিনেউলে এবং তীব্র আবেগের সে সম্পর্কের কোনো সংজ্ঞা জানি না আমরা।
এরপর একদিন তার ভাঙন দেখলাম। সেদিনই সে আমাকে ‘রাখি’ পরালো।
উইল কন্ট্রোল
বয়স বেড়ে গেলে রোজ রোজ খেতে যেয়ো না, দুর্ঘটনা ঘটবে ঘন ঘন; আর ব্যর্থতার যন্ত্রণায় অতিশয় কাতর হবে, বয়স বাড়বে দ্রুততর
বয়স বেড়ে গেলে প্রতিবেলা না খেয়ে কিছুকাল বিরতি নিতে হয়ে নবতর সঞ্চয়ের
জন্য; এতে শরীরের ভিত মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী হয়, প্রচুর উৎসাহ বাড়ে।
লাবিবের জন্য একটা আনন্দের সকাল
আজ সকালে এক লাফে ঘুম থেকে উঠেই আমার ছোট ছেলে লাবিব একগাল মিষ্টি হেসে, আনন্দে ঝলমল করতে করতে সগর্বে জানালো : আব্বু, আমি আজ শিস করি নাই
কথাটা শুনে খুব আনন্দিত হলাম, আবার ওর জন্য খুব মায়াও হলো
দোষ
যেখানে যাবো না পণ করি, পা পিছলে সেখানেও এসেছি পদচিহ্ন রেখে।
ভাষা আন্দোলনের স্বজাতীয় ভিলেন
স্বাগত প্রশ্ন
ভাষা আন্দোলনের নিচের ইতিহাস উইকিপিডিয়া অবলম্বনে পুনর্লিখিত হলো। পাঠকের কাছে এ লেখাটি পাঠ শেষে সবিনয়ে জানতে চাইবো : ভাষা আন্দোলনে আমাদের স্বদেশীয় এবং স্বজাতীয় ভিলেন কারা? কেন তাঁরা এরূপ ভিলেন হয়েছিলেন?
রাষ্ট্রভাষা দাবি উত্থানের প্রেক্ষাপট
বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেয়ার প্রশ্নটি উত্থাপিত হয়
তেনা
আরবী হরফে যাতে বাংলা বর্ণমালা লিখতে না হয়, তার প্রতিবাদে একুশের সংহার
এরপর ইতিহাস- একুশ এলেই উৎসব
আর দেখুন, ঘরে ঘরে বাংলাকে গ্রাস করে অ-বাংলা রাক্ষস
যুগপৎ কী তীব্র স্বাধীনতা বাংলাভাষায় আর তার বর্ণমালায়
আমরা চটকে চটকে বাংলাভাষার তেনা বের করে ফেলছি, নাটক-সিনেমা ও ব্লগে
প্রেমধর্ম
পুংশকধর্মে কোনো প্ল্যাটনিক লাভ নেই
যৌবন শেষ হয়ে গেলে যে প্রেমের উন্মেষ
তার চেয়ে খাঁটি ও স্বর্গীয় আর কিছু হয় না
আমরা মেয়েদের কথা মনে রাখি, মেয়েরা ভুলে গেছে
শিমুলের মতো সুন্দরী মেয়ে আজও দেখি না; সারাদিন কেটে গেছে ওর উড়ন্ত ওড়নার রংধনু দেখে, ‘আমার দিকে ফিরেও চায় নি’- কেটে গেছে দিনের পর দিন এভাবেই; বহু বহুদিন।
আজ তবে প্রেম করা যাক
চলো, আজ তবে খানিকটা সময় প্রেম করা যাক
এই অমৃত-ঝরা ফাল্গুনের পথে
হাতটি বাড়াও, চলো আজ ফিরে যাই বহু বহু দূরে
গেরস্থালির খুনসুটি আজ থাক
বহুদিন ভোরের সূর্য দেখি না, দেখি না প্রেমাস্পদ চাঁদ
অভিমানে হেঁটে গেছে গন্ধমুখর হাসনাহেনার রাত সুগোপনে
ভুলে গেছি ওষ্ঠের স্বাদ
জীবন ফুরালো কখন? খেয়ালও করি নি মরে গেছে যৌবন-তুফান।