ইউজার লগইন

তেনা

আরবী হরফে যাতে বাংলা বর্ণমালা লিখতে না হয়, তার প্রতিবাদে একুশের সংহার

এরপর ইতিহাস- একুশ এলেই উৎসব

আর দেখুন, ঘরে ঘরে বাংলাকে গ্রাস করে অ-বাংলা রাক্ষস
যুগপৎ কী তীব্র স্বাধীনতা বাংলাভাষায় আর তার বর্ণমালায়

আমরা চটকে চটকে বাংলাভাষার তেনা বের করে ফেলছি, নাটক-সিনেমা ও ব্লগে

সময় হলে দেখুন

পোস্টটি ১ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মুক্ত বয়ান's picture


এইটা কি হইল?? বিস্তারিত কই?? Surprised

নজরুল ইসলাম's picture


"আরবী হরফে যাতে বাংলা বর্ণমালা লিখতে না হয়, তার প্রতিবাদে একুশের সংহার"

এই বাক্যটার বিস্তারিত ব্যাখ্যা জানতে আগ্রহী। আরবী হরফে বাংলা বর্ণমালা না লেখার তাগিদে ভাষা আন্দোলন হইছিলো?

সোনাবীজ's picture


ইতিহাস :
৯ মার্চ ১৯৪৯
পূর্ব পাকিস্তানে বাংলাকে সরকারী
কর্মকান্ড ও শিক্ষার একমাত্র ভাষা এবং সেই সাথে উর্দুর পাশাপাশি
রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার অব্যহত আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে খাজা নাজিমুদ্দিনের উদ্যোগে
পাকিস্তান সরকার বাংলাকে আরবি হরফে প্রচলন করার ব্যাপারে একটি
প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাবের মুল উদ্দেশ্য ছিল হিন্দুয়ানী বাংলা হরফ থেকে
বাংলাকে মুক্ত করে ইসলামী ভাবাদর্শের সাথে সামন্জস্যপূর্ণ আরবি হরফে বাংলা
লেখা প্রচলন করা। এই লক্ষ্যে ৯ মার্চ ১৯৪৯ মৌলানা আকরাম খানকে চেয়ারম্যান
করে ১৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।

 

এই লক্ষ্যে পাকিস্তান সরকার একটি বড় আকারের ফান্ড গঠন করে
এবং তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্লামেন্টে এর সপক্ষে বলেন "“The board is of the opinion that in the interest of
national unity and solidarity and the rapid advancement of general education in
Pakistan, it is necessary to have all the regional languages of Pakistan
written in the same script; the Arabic script was most useful for this
purpose…"

 

ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ সহ সকল ভাষাতত্ববিদ আরবি হরফে বাংলা
লেখার এই উদ্ভট প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন কিন্ত তদসত্বেও পাকিস্তান
সরকার তাদের মনোভাবের ব্যাপারে অনঢ় থাকে।

৭ ডিসেম্বর ১৯৫০ : মৌলানা আকরম খান এর নেতৃত্বে গঠিত ১৬ সদস্যবিশিষ্ট East Bengal Language Committee আরবি হরফে বাংলা লেখার প্রস্তাবকে বাস্তবতা বিবর্জিত এবং উদ্ভট হিসাবে আখ্যায়িত করে চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রদান করে। এই কমিটি রিপোর্টে পূর্ব পাকিস্তানের অফিস আদালত ও শিক্ষাক্ষেত্রে সর্বতোভাবে বাংলা ব্যবহারের উপর গুরুত্বারোপ করে।

২৭ মার্চ ১৯৫১ : পশ্চিম পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠী পুনরায় গণপরিষদেতে আরবি হরফে বাংলা লেখার প্রস্তাবটি পেশ করে। এখানে উল্লেখ্য যে মৌলানা আকরম খান এর নেতৃত্বে গঠিত ১৬ সদস্যবিশিষ্ট East Bengal Language Committee আরবি হরফে বাংলা লেখার প্রস্তাবকে বাস্তবতা বিবর্জিত এবং উদ্ভট
হিসাবে আখ্যায়িত করে প্রত্যাখ্যান করলেও সেই রিপোর্টকে সাধারণ
জনগনের সামনে প্রকাশ করেনি পাকিস্তান সরকার। ততদিনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের এদেশীয় সদস্যদের মধ্যেও অনেকে বাংলার পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করেছেন। এরকমই একজন হাবিবুল্লাহ বাহার এ্যাসেম্বলীতে এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেন। হাবিবুল্লাহ বাহারের সাথে ধীরেন্দ্রনাথ
দত্ত এই প্রস্তাবকে পূর্ব-বাংলার জনগণকে শিক্ষা ক্ষেত্রে পঙ্গু করার জন্য একটি দূরভিসন্ধি হিসাবে অভিহিত করে এই প্রস্তাব বাতিল করার দাবী জানান। পূর্ব বাংলার সংসদ সদস্যদের একাংশের তীব্র বিরোধিতার মুখে প্রস্তাবটি প্রত্যাহারে বাধ্য হয় পাকিস্তান সরকার।

২৭ জানুয়ারী ১৯৫২ : ঢাকা সফররত পাকিস্তানের তৎকালীন
গভর্ণর জেনারেল খাজা নাজিমুদ্দিন পল্টন ময়দানের সমাবেশে ঘোষণা করেন কেবল মাত্র উর্দুই হবে
পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। সাথে সাথে সমাবেশস্থলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। শ্লোগান ওঠে "রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই"। এই বক্তব্য সমগ্র পূর্ব - পাকিস্তানে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

 

২৮ জানুয়ারী ১৯৫২ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি
বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। এই সমাবেশ থেকে নাজিমুদ্দিনের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করা ছাড়াও পূর্ব-পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রীপরিষদকে পশ্চিম পাকস্তানের হাতের পুতুল হিসাবে অভিহিত করা হয়।

 

৩০ জানুয়ারী ১৯৫২ : খাজা নাজিমুদ্দিনের বক্তব্য ভাষা আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দান করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা
সংগ্রাম পরিষদের ডাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এইদিন সর্বাত্মক ধর্মঘট পালিত হয়।

 

একই দিন মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে আওয়ামী মুসলিম লীগের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ভাসানীর
নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলনে ছাত্রদের
পাশাপাশি আওয়ামী মুসলিম লীগের সরাসরি
এবং সক্রিয় অংশগ্রহণের ব্যাপারে
সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

 

৩১শে জানুয়ারী ১৯৫২ : ভাসানীর সভপতিত্বে
পূর্ব-পাকিস্তানের সকল রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবিদের একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলন থেকে কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে সর্বদলীয়
রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ২১ ফেব্রুয়ারী সমগ্র পূর্ব-পাকিস্তানে সাধারণ ধর্মঘট আহবান করে।

 

৪ ফেব্রুয়ারী ১৯৫২ :
ছাত্রদের ডাকে ঢাকা শহরের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বত:স্ফূর্ত ধর্মঘট পালিত হয়। ছাত্ররা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা
ঘোষণার দাবীতে তখনকার সময়ের সবচেয়ে বড় একটি মিছিল নিয়ে রাজপথ প্রদক্ষিণ করে।

 

১৮ ফেব্রুয়ারী ১৯৫২ :
পাকিস্তান সরকার ২১ ফেব্রুয়ারী ডাকা সাধারণ ধর্মঘটের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে এবং সকল সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ
ঘোষণা করে।

 

২০ ফেব্রুয়ারী ১৯৫২ : পাকিস্তান সরকার
কর্তৃক ১৪৪ ধারা জারির পরিপ্রেক্ষিতে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ এর
উদ্যোগে আবুল হাশিম এর সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত সদস্যগণ ১৪৪ ধারা ভংগ করার ব্যাপারে নেতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সভার একটি বড় অংশ ১৪৪ ধারা ভংগের ব্যাপারে মত দিলেও অনেকেই এতে সহিংসতার আশংকায় বিপক্ষে মত দেন ।

 

২১ ফেব্রুয়ারী ১৯৫২ সকাল ৯টা : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিমনেশিয়াম মাঠের পাশে ঢাকা মেডিকেল কলেজের (তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত) গেটের পাশে
ছাত্র-ছাত্রীদের জমায়েত শুরু ।

 

সকাল ১১ টা : কাজী গোলাম মাহবুব, অলি আহাদ, আব্দুল মতিন, গাজীউল হক প্রমুখের উপস্থিতিতে ছাত্র-ছাত্রীদের সমাবেশ শুরু । সমাবেশে ১৪৪ ধারা ভংগের ব্যাপারে
ছাত্র নেতৃবৃন্দ এবং উপস্থিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দেয়। আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক
শামসুল হক সভায় উপস্থিত হয়ে ছাত্রদের ১৪৪ ধারা না ভাঙ্গার ব্যাপারে
যুক্তি প্রদর্শন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য
ড. এস এম হোসেইন এর নেতৃত্বে কয়েকজন
শিক্ষক সমাবেশ স্থলে যান এবং ১৪৪ ধারা ভংগ না করার জন্য ছাত্রদের অনুরোধ করেন।

বেলা ১২টা থেকে বিকেল ৩টা : উপস্থিত
ছাত্রনেতাদের মধ্যে আব্দুল মতিন এবং গাজীউল হক ১৪৪ ধারা ভংগের পক্ষে মত দিলেও সমাবেশ থেকে নেতৃবৃন্দ এ
ব্যাপারে কোন সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দিতে ব্যর্থ হন। এ অবস্থায় উপস্থিত সাধারণ ছাত্ররা স্বত:স্ফূর্তভাবে ১৪৪ ধারা ভংগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং মিছিল নিয়ে পূর্ব বাংলা আইন পরিষদের (বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের অন্তর্গত) দিকে যাবার উদ্যোগ নেয়। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ এবং গুলি বর্ষণ শুরু করে। গুলিতে ঘটনাস্থলেই আবুল বরকত (ঢাবি এর রাষ্ট্রবিজ্ঞান এর মাষ্টার্সের ছাত্র), রফিক উদ্দীন, এবং আব্দুল জব্বার নামের তিন তরুণ মৃত্যু বরণ করেন। পরে হাসপাতালে আব্দুস সালাম যিনি সচিবালয়ে কর্মরত ছিলেন মৃত্যু বরণ করেন। অহিউল্লাহ নামে ৯ বছরের একটি শিশুও পুলিশের গুলিতে মারা যায়। পুলিশের সাথে ছাত্রদের ৩ ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলতে থাকে কিন্তু পুলিশ গুলিবর্ষণ করেও ছাত্রদের স্থানচ্যূত করতে ব্যর্থ হয়।

বেলা ৪টা : ছাত্রদের মিছিলে গুলিবর্ষনের ঘটনা ঢাকায় ছড়িয়ে পড়লে হাজার হাজার সাধারণ জনতা ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে জড়ো হতে থাকে। গুলিবর্ষনের সংবাদ আইন পরিষদে পৌছালে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের নেতৃত্বে পূর্ব বাংলার ছয়জন আইন পরিষদ সদস্য আইন পরিষদ সভা মুলতবী করে ঢাকা মেডিকেলে আহত ছাত্রদের দেখতে যাবার জন্য মূখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিনকে অনুরোধ করেন। সরকারী দলের সদস্য আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশও এই প্রস্তাবের সপক্ষে উচ্চকন্ঠ হন কিন্তু নুরুল আমিন সকল দাবি উপেক্ষা করে আইন পরিষদের অধিবেশন চালাবার নির্দেশ
দেন। এর প্রতিবাদে
পূর্ব বাংলার সদস্যরা পরিষদ থেকে ওয়াক আউট করেন। রাতের বেলা ছাত্র নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে ঢাকা শহরের প্রতিটি মসজিদে ও ক্লাবে পরদিন সকালে পুনরায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জমায়েত হবার আহবান সম্বলিত লিফলেট বিলি করা হয়।

 

২২ ফেব্রুয়ারী ১৯৫২ : হাজার হাজার ছাত্র
জনতা সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জড়ো হতে থাকে। উপস্থিত ছাত্র-জনতা ২১ ফেব্রুয়ারী নিহতদের স্মরণে
কার্জন হল এলাকায় একটি জানাজা নামাজ আদায় করে এবং একটি শোকমিছিল বের
করে। শান্তিপূর্ণ
মিছিলের উপর পুলিশ পুনরায় গুলি চালালে শফিউর রহমানসহ চারজন ঘটনাস্থলেই মৃত্যু বরণ করেন। উত্তেজিত জনতা রথখোলায় অবস্থিত সরকারপক্ষীয় পত্রিকা "দি মর্নিং নিউজ " এর অফিসে আগুণ ধরিয়ে দেয়। নুরুল আমিন পুলিশের পাশাপাশি আর্মি নামিয়ে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। আর্মি ও পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে ছাত্র-জনতা ভিক্টোরিয়া পার্ক (বর্তমানে বাহাদুর শাহ পার্ক) এ জমায়েত হয় এবং সেখানে অলি আহাদ, আব্দুল মতিন, কাজী গোলাম মাহবুব ব্ক্তব্য রাখেন ।

উপায়ন্তর না দেখে নুরুল আমিন তড়িঘড়ি করে আইন পরিষদে
বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দেয়া সংক্রান্ত
একটি প্রস্তাব আনেন এবং প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে পাশ হয় ।

 

 

*উইকিপিডিয়া  থেকে

শাওন৩৫০৪'s picture


...তা, আপনে শুধু এই একটা কারনই জানতে পার্ছেন?...কথাটা আমার কাছে কনফ্যু লাগছে, আপনে কি ব্যাঙ্গ কৈরা লেখছেন, নাকি আসলেই অতটুকুই কারন বুঝাইছেন, সেইটা বুঝিনাই আসলে...

সোনাবীজ's picture


http://www.amrabondhu.com/farihanmahmud/515

তানবীরা's picture


কতোকিছু জানার বাকি। সরাসরি প্রিয়তে নিইয়ে রাখলাম

সোনাবীজ's picture


জানার কোনো শেষ নাই, জানার তৃষ্ণা ব্যাপক তাইCool

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.