ইউজার লগইন

ঈশান মাহমুদ'এর ব্লগ

ইরা,অসি এবং ভালোবাসা

ত্রিশ শতকের কোন এক সকাল। কাকভোরেই ঘুম ভাঙ্গে ইরার। বেডে শুয়েই হেড সেটটা মাথায় পরে। কিছুক্ষণ অপেক্ষা...। নাহ্ কোন সংকেত নেই। হতাশ হয় ইরা। আজো কোন টি-মেইল (ট্যালিপ্যাথিক মেইল)আসেনি ওর নামে। হেডসেটটা রেখে হাতে রিমোট কন্ট্রোল তুলে নেয় ও। ‘উইন্ডো’ লেখা বোতামে আঙুল ছোঁয়ায়। সঙ্গে সঙ্গে জীবন্ত হয়ে ওঠে দেয়ালে সেট করা ওয়াল টু ওয়াল সুপারভিশন মনিটর। সারা দেয়ালজুড়ে ফুটে ওঠে মেঘলা আকাশ। ধুসর প্রকৃতি। এবার রিমোট কন্ট্রোলের ‘ প্রোগ্রাম’ বোতামটা স্পর্শ করে ইরা। মুহূর্তেই মেঘলা আকাশ মুছে যায়...। দেয়ালটা হয়ে যায় বিশাল টিভি পর্দা। আবহাওয়ার সংবাদ পড়ছে একটা মেয়ে। হাঁ আজ বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টির কথা শুনে মন ভালো হয়ে যায় ইরার। আহা...কতদিন বৃষ্টি

বন্ধু কি খবর বল...

আমার বন্ধুদের মধ্যে সবচে সুদর্শণ ছিল নুরুল ইসলাম।হঠাৎ করে ও সিদ্ধান্ত নেয়-দাঁড়ি রাখবে।সেভ করা বন্ধ করে দেয়ার পর ক’দিনের মধ্যেই দাঁড়ির জঙ্গলে ভরে যায় ওর মুখ।পাড়ার মেয়েরা হায় হায় করে ওঠে...।দিপ্তি নামের এক মেয়ে,নুরুল ইসলামের প্রতি যার দুর্বলতা ছিল প্রায় প্রকাশ্য।সে আমাকে ডেকে বলে, ‘তোমার বন্ধুর হঠাৎ ‘রবিন্দ্রনাথ’ হওয়ার শখ জাগলো কেন?’ আমি বলি, ‘তোমরা যেভাবে ওকে জ্বালাতন কর!তোমাদের যন্ত্রণায় ও এখন ‘হুজুর’ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে...শুনছি আলিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হবে...’।আমি একটু বাড়িয়ে বলি।‘শোন ঈশান,প্লিজ...ওর দাঁড়ি কাটার ব্যবস্থা করো, যদি কাজটা করতে পার...এক’শ টাকা পাবে...’।এক’শ টাকা তখন অনেক টাকা... তার ওপর দিপ্তির মতো সুন্দরী মেয়ের অনুরোধ,আমাকে আর পায় কে !

আমার দ্বিতীয় প্রেমিকা

বিয়ের পর আমার স্ত্রীর সংগে প্রথম যে বিষয়টি নিয়ে তুমুল ঝগড়ার সূত্রপাত হলো,সেটা ছিল ‘পরকীয়া’ …।আমার ‘দ্বিতীয় প্রেমিকা’র সংগে তখন আমার ‘পরকীয়া প্রেম’ তুঙ্গে।দু’ঠোঁটের ফাঁকে তার শরীরের মোহনীয় স্পর্শ না পেলে আমি তখন পাগল হয়ে যেতাম…।যা আমার স্ত্রী কিছুতেই মেনে নিতে পারছিল না…।
হাঁ তখন সিগারেট ছিল আমার’দ্বিতীয় প্রেমিকা’।এ সিগারেটের সঙ্গেই ছিল আমার গভীর প্রেম অর্থাৎ পরকীয়া প্রেম…।পরকীয়া বললাম এজন্যে যে,সিগারেট খেতে হতো আড়ালে-আবডালে,লুকিয়ে লুকিয়ে…পাছে সদ্য বিয়ে করা বউ দেখে ফেলে…।কিন্তু…সিগারেটের গন্ধ লুকাবো কিভাবে!বাসায় এলেই বউ ভ্রু কুঁচকাতো।প্রথম প্রথম কিছু বলতোনা, মুখটাকে থমথমে করে রাখতো।কিন্তু ক’দিন যেতে না যেতেই…একদিন তিনি প্রচন্ড রাগে ফেটে পড়লেন…।

একটি কবিতার প্রসব যন্ত্রণা

আমি একটি কবিতা লিখবো বলে ঠিক করেছি…
মনে মনে কথাগুলো ঠিক করা আছে,
ছন্দ গুলোও গোছানো রযেছে,
অথচ লিখতে পারছিনা,
শাদা কাগজের বুকে অক্ষর সাজাতে পারছিনা,
একটি কবিতার প্রসব যন্ত্রণায় বড় বেশী অস্থির আমি…।
একটি সুন্দর কবিতার বড় দরকার আমার
নিজের সন্তানের মতো প্রিয় একটি কবিতা ।