২০৩৬ - এ ব্লগ স্টোরি (১৮)
টাপুরের মা এবং আমি ভার্চুয়াল জীবনে বন্দী। একই ঘরে, একই শয্যায় – তারপরেও যোগাযোগের জন্য আশ্রয় নিতে হয় ওয়েবে। বডিরিড নামক শারিরীক যোগাযোগ মিডিয়ার এখন দাপুটে বিচরণ। আমরা হচ্ছি ফেসবুক জেনারেশন, অনেক বেশী সেকেলে, নতুন কোনো ভার্চুয়াল জগতে পা রাখতে ভয় পাই। কিন্তু টাপুরের মা দিনের একটা বড় অংশই থাকে অচল, হাইপার সেন্সসুয়্যাল সেন্সরের কারণে তার কেবল বডিরিডের সাথে সংযুক্ত থাকা সম্ভব। বিষয়টা সম্বন্ধে আগে তেমন ভালো ধারণা পোষণ করতাম না। বরঞ্চ ইদানিংকালের ছেলেছোকরাদের বডিরিড আষক্তি দেখে প্রচন্ড বিক্ষুব্ধ ছিলাম। সোমালিয়ান এই শারিরীক যোগাযোগ মাধ্যমটির এখন প্রচন্ড বাড় বেড়েছে। যেকেউ তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গের শিরা-উপশিরায় অনুভূতি প্রদান ও অনুসরণকারীর মধ্যে সরবরাহ করতে পারে। বডিরিড অন্তর্ভূক্ত কমিউনিটি এসবের স্পর্শ ও দৃশ্য পেয়ে থাকে। আজকে সকাল থেকেই টাপুরের মা’ টিজিং করে যাচ্ছে। একটু আগে বডিরিডে ভেসে ওঠা তার ঠোঁটের ইমিটেশন করেছে মিস-বডিরিডের ঠোঁট দিয়ে। বডি পাইরেসি এ্যাক্টে এটা যতদূর জানি নিষিদ্ধ এবং সর্বোচ্চ তিনমাস পর্যন্ত একাউন্ট ফ্রিজ করে দেয়া নিয়ম। এবারের মিস বডিরিড সম্ভবত একটু কেলাস টাইপের, সবাই তার নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ভার্চুয়াল ব্যবহারবিধি অমান্য করছে, কিন্তু তিনি নির্বিকার। বডিরিডের শ্রেষ্ঠ সুন্দরী বেঁছে নেবার এ প্রতিযোগিতা এখন মিস-ফেসবুকের চেয়ে হাজারগুন বেশী জনপ্রিয়। হয়তো সেজন্য নিয়ন্ত্রণও অসাধ্য প্রায়। প্রচলিত একটা কথা আছে বডিরিড সুন্দরীরা ফেসবুকের তুলনায় গাড়ল হয়, ফেসবুক অবশ্য তাদের বুদ্ধিমত্তা নিয়ে একটু বেশী আভিজাত্য দেখায় বলেও সমালোচকরা টিপ্পনী কাটে।
আমার একটা অভিপ্রায় ছিলো বডিরিডে টাপুরের মায়ের যৌবনকে আবিষ্কার করা। আমি বডিরিডের সুন্দরীর ঠোঁটকে ব্লক করে দিয়ে বললাম, তোমার সেই দিনগুলো কোথায়? যখন তুমি কয়েকমিটারে দৈর্ঘ্যের বিশাল একটা শাড়ি পেচাতে? সেটার একটা ভার্চু-ওয়াক দেখাও! পাশেই শুয়ে আছে নির্জিব টাপুরের মা, দেখে মনে হবে ডেডবডি, কিন্তু বডিরিডে তার হিহিহিময় অর্কেস্ট্রা শুনতে পেলাম। বললো, ইউ সিলি বিচ –তোমার কি রাজনৈতিক পর্নো দেখার সাধ হয়েছে? আকাশ থেকে পড়লাম শুনে। কেনো কেনো? সে বললো, এখন তো শাড়ি মানেই পলিটিক্যাল পর্নোস্টারদের ড্রেসকোড। একটু মাথা চুলকে নিলাম লেজার-স্টিক দিয়ে। কোথাও খোঁচা দিতে এই ডিভাইসটা বেশী আরামপ্রদ। আমাদের বিরাষ্ট্রমন্ত্রীর একটা এক্সক্লুসিভ ইন্টারভ্যু প্রকাশ হয়েছিলো – বাথটাব চ্যানেলে। তিনি দেখিয়েছিলেন, কিভাবে একজন রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারক হয়েও পর্নোর প্রতি তিনি এখনও ভক্তি বজায় রেখেছেন, লাইভ। ঘেন্না লেগেছিলো। নোংরা পলিটিক্সকে জনপ্রিয় করার জন্য নেত্রীরা যেভাবে শাড়ি খুলতে শুরু করেছেন – ফলপ্রসু হবে না বলেই অনুমান করি। ঐতিহাসিক আমলের পর্নো ফর্মেটে, যার কদর কেবল এ্যারাবিক কান্ট্রিতেই, এর জন্য শাড়ির মর্যাদাহানি মানা যায় না। বললাম, ছিছিছি –শাড়িকে এভাবে অবমূল্যায়ণ করার তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
টাপুরের মায়ের সাথে আমার প্রথম যখন দেখা হয় তখনও তাকে শাড়ি পড়তে দেখিনি। এরপরেও না। এদেশে নারীরা যে শাড়ি পড়তো একসময় সেটা কেবল সিনেমায় দেখা যায়। এখন ভার্চু-ওয়াক আর কনজারভেটিভ পর্নোগ্রাফি ছাড়া আর কোথাও এ দৃশ্য চোখে পড়বে না। কন্যা সন্তানের নাম হিসাবে নীলাম্বরী সহসাই চোখে পড়বে, কিন্তু এর অর্থ অজানা। বাংলাদেশের একমাত্র কোলকাতা নগরীতে দেখা যায় শাড়ি পরিহিতা একটা ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী, যাদেরকে মাদার তেরেসার অনুসারী বলা হয়। এমনকি – রাবীন্দ্র ভাষিক সাহিত্য চর্চার সূত্র আবিষ্কারক শান্তিনিকেতনেও শাড়ি নেই, সেখানে দেখা যায় নিশাড়ি, এটা পড়লে কেবল শাড়ির মত একটা অনুভূতি হবে, যেমন রাবীন্দ্রভাষিক সফটওয়ারে কেবল রবীন্দ্রকাব্যের একটা প্রচ্ছায়া মেলে; ছায়াচিত্র বলাই হয়তো উত্তম।





শাড়ি নিয়ে ষড়যন্ত্র। তীব্র ধিক্কার।
শাড়ি তো সেক্সি আইটেম...না পড়াই ভালো..
বডিরিডের পার্টটা একটু শক্ত ঠেকল
...এই সায়েন্স ফিকশন মার্কা জিনিষটা একটা জিনিষ হইতেছে!
এইটার নাম দিতে হবে স্যাটায়ারিক ফিকশন...স্যা..ফাই
বাথটাব চ্যানেল
)
হাহাহাহাহা...একেবারে বাজে একটা চ্যানেল...সাধারণত আমিনীদের ওয়াজনসিহত চলে এই চ্যানেলে।
পড়ার জন্য ধন্যবাদ মেঘমালা।
এই পর্বটা মারাত্মক লিখছেন। কোনটা ফেলে কোনটা কোট করি..... কোলকাতারে বাংলাদেশের বানায় দিলেন!! আর শাড়ী নিয়ে যা বললেন! হাহাহাহহাহাহা। স্যালুট বস।
থ্যাংকু বস। এর সাথে কিন্তু জীবিত বা মৃত শাড়ি পরিহিতাদের কোনো সম্পর্ক নাই।
শাড়িখোলা পর্ব তো ভালই লাগলো সকলের
শাড়ি বিষয়ক একটা আর্থসামাজিক অভিজ্ঞানের ফলে....
শেষ প্যারাটা জোশ ছিল
আমি খেয়াল করি নাই আপনি পুরাতন পর্বগুলো পড়ছেন। অনেক ধন্যবাদ কষ্ট করে খুঁজে পড়ার জন্য।
মন্তব্য করুন