২০৭১ - এ ব্লগ স্টোরি (২১)
সাতসকালে আগন্তুক মানে অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনার হাতছানি। আমরা খুব সাধারণ জীবন যাপন করি। বাড়তি প্রযুক্তি এড়িয়ে। ঘরে কেউ আসতে চাচ্ছে শুনলে ভিডিও কানেক্টরগুলো অন করতে হবে, কমপক্ষে তিনটা ইয়োলো এলার্ট সেন্ড করতে হবে। কিছু স্যোশ্যাল উদ্যোগের সাথে ইদানিং আমরা জড়িত, ফলে তাদেরকে জানাতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা একটা গবেষণা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন যাবত পর্যবেক্ষণ করছে আমাদের বাসায় আগত অতিথিদের শ্রেণীবিন্যাস। আমরা যে কোন অভিশাপে তাদের গবেষণার গিনিপিগে পরিণত হয়েছিলাম জানি না, তবে এখন আর বের হবার উপায় নেই। কত ফ্রিকোয়েন্সিতে অতিথি আসে, তাদের বয়স, আগমনের উদ্দেশ্য, হিডেন, কমার্শিয়াল নাকি মেকানিক্যাল এমনতরো হাজারো বিষয় অনুসন্ধানে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। আজ সকালে আগন্তুক এলার্ট পাবার পরে টাপুরের মা যথারীতি ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছে। যেসব বিষয়ে আমি বিরক্ত হবো, সেটাতেই তার ততোধিক উৎসাহ। যূথবদ্ধতার এই অমোঘ সূত্র অনুযায়ী বিশ্ব চলছে, আমিও চলছি। আপাত আপত্তি নেই বটে, কিন্তু একসময় মনে হয় পার্থক্যের এই মডেলটা সম্ভবত দূরনিয়ন্ত্রিত। আমরা তো আগে এমন ছিলাম না, সবকিছু মিলে যেতো। এখন সবকিছুতে অমিল থাকাটাই বন্ধনের সূত্র হয়ে পড়েছে।
টাপুরের মা অপ্রত্যাশিত অতিথির তথ্যানুসন্ধানে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। নাম, ইলিশ আহমেদ, বয়স ২৩। ডক্টরেট ইন ফুড ফটোগ্রাফি। কনভেনশনাল ভিলেজে বাস করে। নন-টেক। বিপদজনক বলে চিহ্নিত করা আছে সেন্ট্রাল ডাটাবেজে। দুতিনটা অকারেন্সের কথাও বলা আছে। তিনমাসে দুইবার হার্ডক্যাসে কেনাকাটা করেছে। টেকপ্রফেট সাবমিশন ডিউ। টেকনোস্তিক। সে জোরে জোরে পড়ছে যেনো আমি শুনতে পারি। হাতের ওয়েস্টেস আইটেমগুলোকে ডিসপোসাল ইউনিটে ফেলে দিয়ে আমি বাইরে গিয়ে দাঁড়ালাম। একটা সিগারেট খেতে ইচ্ছে করছে। আগন্তুক আমার অপরিচিত নয়। গোপনে এদের সাথে আমার সম্পর্ক রয়ে গেছে। সিগারেট স্টান্ডগুলোতে এখন নানা মাদকের প্রণোদনা থাকে। প্রকাশ্যে বিজ্ঞাপন। কল্পনাও করতে পারি না চোখের সামনে এসব দেখতে হচ্ছে। একসময় সিগারেটের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ ছিলো এই দেশে। আজ মাইক্রোসফট, এ্যাপল, গুগল, ইয়াহুর মত ভয়াবহ মাদকে সয়লাব, প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। সিগারেট নিতে দোকানি হেসে বললো, গুগল দাম কমিয়েছে আঙ্কেল, আপনার যে বয়স গুগলে জমতো ভালো! কদিন বা আর বাঁচবেন! একএকটা গুগল ট্যাব সেবনে পুরো দিনভর আপনাকে ঝিম মেরে সার্চিং করতে সহায়তা করে। দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া....হা হতোস্মি...কে যেনো বানিয়েছিলো সাইবার গেমসটা, এ মূহূর্তে কেবল এটার কথাই মনে পড়ছে। দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে আমি সিগারেট ফুঁকতে ফুঁকতে রাস্তার মোড়ে এসে দাড়াই।
ইলিশ ঘরে ঢোকার আগে পাকড়াও করতে চাই। টাপুরের মা হয়তো কথা বলতেই দিবে না। রেসিপি হেরিটেজ নিয়ে বিশাল লেকচার শুরু করবে। এর পরে ঢুকবে কিচেনে। এ তল্লাটে আমাদের বাসায় একমাত্র কিচেন আছে। সেটাকে না ঘুরিয়ে দেখালে তার চলে না। একটা শাকরি আসতে দেখে আমার খটকা লাগলো, এখনও এই বাহন কেউ চালায় জানতাম না। একসময় মনুষ্য বাহিত রিকশা ছিলো। পরবর্তীতে কিছু মানুষ একটু অদলবদল করে ব্যক্তিগত বাহন হিসাবে ব্যবহার করতে শুরু করে। নাম দেয় শাকরি। তিনচাকার এ বাহনে একজনই বসা যায়। ইলিশকে দেখে আমার পদ্মার ইলিশের কথা মনে পড়লো। বাংলাদেশ থেকে পদ্মা ও ইলিশ মুছে যাবার পরে দেশপ্রেমিক মানুষদের কাছে সন্তানের নাম হিসাবে ইলিশ ও পদ্মার পছন্দ ছিলো শীর্ষে। জাতিয় নাম ডিস্ট্রিবিউশন বোর্ড এ’দু নামের রেজিস্ট্রেশন নিলামে পর্যন্ত উঠিয়েছিলো। তখন থেকেই ইলিশের ডান বাহুতে ইলিশ মাছের অ্যামবুশ চিত্র আঁকা।





শাকরি তে চড়তে চাই!
২০৫৫ এর ডিজিপিডিয়াতে লেখা আছে, "শাকরি হচ্ছে রিকশাগোত্রীয় বাহন যা আরোহী চালিত ট্রাইসাইক্লেলের মত। সাধারণ এই বাহন বারোলেন বিশিষ্ট মহাসড়কে চালানো নিষিদ্ধ। বিশেষ সতর্কতা হচ্ছে এই বাহনে কোনো ধরণের রেডিও সেন্সর থাকে না বলে ইহা দূর্ঘটনা-ঝুঁকিপ্রবণ।
পড়তেছি....
থ্যাংকস।
ইলিশের গল্পটা ঠিক জমলো না কেনো জানি...পরের পর্বে হয়তো দাঁড়াইবো কাহিনীটা সেই আশায়।
কাহিনীটা আস্তে আস্তে একটু অগ্রসর হবে একটা সাবপ্লট হিসাবে।
matha bhorti buddhi kilbil kortese apner. Chalie jan.
je pech mara ar jotil shob word dia kahini likhsen. . . Deikhen apner na abar kisu hoye jay. . . . .
হাহাহা বস। ওয়েলকাম টু দি গ্রেট হেল।
এখনকার সাথে তো মিলে যায়!
এটার মধ্যে কিন্তু হেভি এক্সাইটমেন্ট। দুজন যদি একই জিনিস পছন্দ করে - সেটার মধ্যে কোনো টেস্ট নাই!
ভাগ্যিস আমাদের নামের উপরে ট্যাক্স বসে নাই।
মন্তব্য করুন