২০৭১ - এ ব্লগ স্টোরি (২২)
একসময় আমাদের দেশে অনেক ধরণের কাব্য-সাহিত্যের ছড়াছড়ি ছিলো। এখন যা সাধারণত উর্বুদ্ধিজীবিদের ঝুলিতে পাওয়া যায়। ইলিশ আহমেদ একজন উদীয়মান উর্বুদ্ধিজীবিও বটে। আমার সাথে মূলত যোগাযোগ ছিল আন্ডারগ্রাউন্ড লিটারেওয়ার কেন্দ্রিক। প্রাগৈতিহাসিক সাহিত্যিকদের স্টাইল মৌলিকভাবে অনুকরণ করার লিটারেওয়ার তৈরীর নামে আসলে যে মেধাস্বত্ব চুরি হচ্ছে এ বিষয়ে এক ক্যাম্পেইনে তার সাথে পরিচয় ঘটে। এরপর থেকে বকশলামের নানাবিধ প্রচারণায় আমাকে গোপনীয়ভাবে প্রলুব্ধ করে। মাঝে মাঝে আমিও নিউরনাল মেসেজ বিতরণ করি। শাকরি থেকে নেমে আমাকে দেখে সে যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেলো। বললো, আমিও আশা করেছিলাম আপনি হয়তো ইঙ্গিতটা ধরতে পারবেন! মুচকি হেসে উদ্দেশ্য জিজ্ঞেস করলাম। বললো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অধুনালুপ্ত ভিক্ষাবৃত্তির মত মহান পেশার ঐতিহ্য রক্ষায় তারা একটা কবিতা-আবৃত্তির আড্ডা আয়োজন করেছে। এটা তাদের প্রকাশ্য তৎপরতা। সপ্তাহের একদিন ভিক্ষাবৃত্তি অবলম্বনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাঙালির জীবিকায়নের ঐতিহ্যগত পরম্পরা এবং এর সাধু-সন্তু ব্রতকে পুনর্জীবিত করার চেষ্টায়। তারা মনে করে অন্য রাষ্ট্রের কাছে হাত পাতার চাইতে দেশের মধ্যে ভিক্ষাবৃত্তি শ্রেয়। রাষ্ট্রের একটা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা আছে ঐ দিকটাতে, বৎসরে একবার একটা নার্ভোলার কোম্পানী ঐতিহাসিক দিনটিকে স্মরণ করে থাকে। আমার কমার্শিয়াল নিউরনের জন্য তাদের একটা সিম ভাড়া নিয়েছিলাম, সেখানে মেসেজ পাঠিয়েছিলো – দি গ্রেট ৭ই মার্চ, ডু কাম এন্ড এনজয়! তখন যাওয়া হয়নি। এবার উর্বুদ্ধিজীবিদের আড্ডায় গিয়ে জায়গাটাকে বেমালুল পাল্টে যেতে দেখলাম। বিশাল বিশাল অপটিক্যাল পোস্টার সাটানো। আর সেসবের ভাষাও আক্রমনাত্মক। রীতিমত দেশদ্রোহিতার পর্যায়ে পড়ে। “বীর বাঙালী ওয়েব ছাড়ো, বাংলাদেশ মুক্ত করো”। সব বোধহয় এইসব উর্বুদ্ধিজীবিদের প্রোপাগান্ডা হবে। কবিতা শোনার সাহস পেলাম না। ইলিশকে নিউরনাল মেসেজ পাঠালাম। সে একধরনের ইথারঙ্গ ধরিয়ে দিলো – কাব্যের ইমেজারী দেখার জন্য। সেটা নিয়েই বাসায় ফিরেছিলাম।
একসময় আমি লেখালেখি করতাম। এখনও করি। পার্থক্যটা হচ্ছে তখন সেগুলোকে সাহিত্য বলা হতো, এখন বলা হচ্ছে ইতিহাস। ব্যক্তিক লেখ্য চলমান ইতিহাস। এর আবার দুইধরণ, মনোভঙ্গি আর পর্যবেক্ষী। আমারটাকে ফেলা হয়েছে মনোভঙ্গি ইতিহাসের কোঠায়। একজন মানুষের বিকারগ্রস্ততার পরিচিতি আমি নাকি বেশ ভালোভাবে তুলে ধরতে পারি। এসব আবার ডেটা হিসাবে কোনো একটা মেডিকেল কলেজের গবেষণায় ব্যবহৃত হয়। সেখানে মাঝে মাঝে আমার ডাক পড়ে, ব্যাখ্যা করতে যেতে হয় নানাবিধ রূপক আর উপমার বিন্যস্ততা বোঝাতে। মাঝেমাঝে একটা ত্রৈমাসিক প্রিন্টেড পত্রিকা বাসায় পাঠিয়ে দেয়, সাথে একটা ওয়ানটাইম ইউজেবল ক্রেডিট কার্ড। সকল পৃষ্ঠা উল্টানো হলে সেটা এক্টিভেট হবে। পাঁচহাজার টাকার জিনিস ইচ্ছেমতো কিনতে পারবো। এই একটা মাত্র পত্রিকায় আমি ট্রু সাহিত্যের দেখা পাই – যদিও তারা পরিষ্কার লিখে রেখেছে, একটি পরিপূর্ণ সাহিত্যমুক্ত ইতিহাস। যে যেভাবে দেখে কিছু করার নেই। তারপরেও আমি এটাই পড়ি। গত ইস্যুটা পড়া হয়নি। এর কোনো অনলাইন অডিও ভার্সনও নেই। হাতে নিয়েই পড়তে হবে। আমার লেখা মাঝেমাঝে ছাপেটাপে। যখন ছাপে তখন দায়িত্ব বেড়ে যায়। যন্ত্রণা বিশেষ তারপরেও সবাইকে ফোন করে জানাতে হবে। না জানিয়ে পারি না। পুরানো অভ্যাস। পত্রিকাটির কোনো কপি তাদের কাছে পৌছানো সম্ভব না। তাছাড়া স্ক্যানপ্রুভ একধরনের কাগজ ব্যবহার করা হয় যার ফলে অন্য কোনো ফর্মেটে রূপান্তর করাও সম্ভব হয় না। একদিন ঘটা করে সবাই আমার বাসায় এসে পত্রিকাটা দেখে যায়। হেভি হৈচৈ হয়। আড্ডা হয়। আমার ইতিহাস পড়ে তারা আমোদিত হয়। জিজ্ঞেস করে, লিটারেওয়ারটা কোন কোম্পানীর?
সাহিত্যের নানান রঙঢঙ আর গঠন-বিন্যাসে ওয়েবারদের যেহারে কারসাজি চলছে তাতে আগ্রহ থাকার কথা নয়। পত্রিকা পড়ে যে একটু শান্তি মিলবে তাও নয়। প্রতিদিনের প্রকাশিত নিউজপেপারে থাকে আগামী দিনের ঘটনা। ক’জন মারা যাচ্ছে, কি কি দূর্ঘটনা ঘটছে তার একেবারে নির্ভুল বিবরণী। ন্যাশনাল ডেটাসেন্টার থেকে সরবরাহকৃত ডে-ফোরকাস্ট থেকে রিপোর্টারদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। অথচ কে পড়ে এসব এবং কেন পড়ে জানি না। গতকাল কি হয়ে গেলো সে খবর জানার কোনো উপায় থাকে না। যদি একান্তই আগ্রহ এরপরেও থেকে থাকে কারো, যা খুব কম মানুষেরই দেখা যায়, পড়তে হয় ইতিহাস গ্রন্থ খুলে, ডিজিপিডিয়া, ডেইলিপিডিয়ার মত মত ভারি ভারি ওয়েব। কারো অতি আগ্রহ থাকলে হয়তো উইকিপিডিয়ার মত ওয়েবমিউজিয়ামেও ঢু মারে। ফলে লেখার ইচ্ছেটা ক্রমশ মরে যাচ্ছে। যতটুকু বা লিখি তাও তো হয়ে যায় ডায়েরী। জানি না এটাও কোনো হিডেন ওয়েবারের ষরযন্ত্র কিনা, আমাকে দিয়ে লিখিয়ে নিচ্ছে। গবেষকদের ডেটা হিসাবে ব্যবহৃত হবার বিষয়টা প্রকৃতপক্ষে সে-ইঙ্গিতই দেয়। সংগোপনে হয়তো এই ভাইরাসটা আমার কমার্শিয়াল নিউরনকে আক্রমন করেছে। কে জানে! তবে এখনও বিশ্বাস করি আমার লেখা আমিই লিখি, অন্য কেউ নয়।





Mathata asole-e gese. Virus infected neuron. . . Hi hi hi ha ha ha
ওস্তাদ...আপনি কি এক্সেস পাইছেন?
নামের বিবর্তনটা বোধহয় ঠিক হয় নাই। পেয়ারা, কমলা এগুলো নামতো এখনই আছে। অন্যকোন ধরনের নাম হতে পারে হিং টিং টাইপ।
পড়ছি
আমারও পছন্দ হয় নাই। একটা নাম সাজেস্ট করেন প্লিজ।
জটিল! গ্রেট কাজ হচ্ছে কৌশিক।
থ্যাংকুসসসসসসসসসসসসসস
মন্তব্য করুন