ভেতর-বাহির (দ্বাদশ পর্ব)
ঐ নাটকটা সবার দেখা উচিৎ ছিল, এমনই মনে হয়েছিল নাট্যশালা থেকে বের হতে হতে। কিন্তু ভুলটা পরক্ষণেই বুছতে পারি...ওটা মানে গন্ডার তুল্য আমরা সকলে এমনেতেই হযে উঠেছি, দেখেও তাই কোন ভাবগত লাভ হবে না। গতসন্ধ্যায় বউ আর আমি শিল্পকলায় ফরাসী নাট্য উৎসবের ”গন্ডার” (a translation of “The Rhinoceros” by Eugene Ionesco, http://www.levity.com/corduroy/ionesco.htm) নাটকটি দেখতে গিয়েছিলাম। অসাধারন। প্রাচ্য নাট্যদলের পরিবেশনায় অত্যন্ত কঠিন নাটকটি অভাবনীয় মুগ্ধতায় অবলোকন করেছি আমি। আর প্রতিক্ষণে অনুধাবন করেছি আমরা সবাই গন্ডার।
কেনই বা নয়, এই তো মাত্র ১৬ দিন আগে ৪ঠা মে ২০১০ তারিখে বরিশাল পলিট্যাকনিকের ছাত্রদের ভায়োলেন্সের যে চরম চিত্র পত্রপত্রিকায় ফুটে উঠেছে তারই ভিডিও চিত্র (http://www.youtube.com/watch?v=d6R_MX79vlA) মাত্র দুদিন আগে বন্ধু রাজীবের বাসায যখন ফেসবুকে ট্যাগ সংক্রান্তকারনে বন্ধু রাজা ওপেন করল, দেখলাম তো সেই কোপাকুটির গা শিউরানো দৃশ্য। এই ডিজিটাল উৎকর্ষের যুগে কোটি কোটি জোড়া চোখ তো দেখেছে, কই কোন অভাবনীয় বা যুগান্তকারী, বা কার্যকর পদপে কিন্তু ডিজিটাইজড হলো না এখনও। অথচ দেশ নাকি ডিজিটাইজড হয়ে উঠছে চরমভাবে লাফ ঝাপ দিয়ে দিয়ে, অথচ ইন্টারনেটা যে কি এখনও তা বোঝেনা কোটি কোটি বাংগালী.................
তাইতো উইজেন আইওনোস্ক এর গন্ডার নাটক এর মঞ্চায়ন আমাকে গন্ডারের এক কিংবা দুটো শিঙ এর মাধ্যমে ব্যাথাহীন গুতো দিলেও আমি ব্যাথা পাই আবার ভুলে যাই। নাটকের শেষ দৃশ্যে গন্ডারদের আনন্দগীতে উল্লাসে মাতোয়ারা হযে মিছিলেনামে.............আমরা সবাই কিন্তু সেই কারনেই আনন্দ আর আনন্দ করি , আনন্দ করে পাড়াপড়শির রাতের ঘুম হারাম করি, আমরা স্বাধীনতা কিংবা জাতীয় দিবসের কথা ভুলে যাই, লাল সবুজের মর্মার্থ বুঝিনা , অথচ ১২ই জুনের আসন্ন বিশ্বকাপের জ্বরে উত্তাপিত হয়ে নীল সাদা , কিংবা হলুদ সবুজ পতাকায সয়লাব করে ফেলি ইটপাথরের ছাদ , গাড়ীর কাচ কিংবা দেয়াল দেয়াল।
মানুষের মন এমনই , আমি অন্ধ হইনা তবুও আমি ব্রাজিলের খেলার দিন উত্তেজনায় থাকি। ভার খেললে খুব ভাল লাগে, খারাপ খেললে ঠিকই মেজাজটা খারাপ হয় আর হেরে গেলে, দুর এত বাজে কেনো যে খেললো, গোলটা কেনো যে হলো না অথবা একেবারে ভূয়া পাবলিকের মত মাঝে মাঝে ভেবেও ফেলি রেফারি ঐ ওফসাইটাটা না দিলেই তো গোলটা হযে যেত...আসলে আমি ব্রাজিলের একজন চরম ভক্ত।
অথচ বাড়ীর ছাদে পতাকা উঠানোর মত সাপোর্টার আমি হতে পারিনা, পাশের বাড়ীতে কোনদিন লাল সবুজ পতাকা উঠাতে দেখিনি অথচ এখন পতপত করে উড়চে একটা নীল সাদা, আরেকটা হলুদ সবুজ...আমি গন্ডার হযে উঠি দেখে। এবং সবচেয়ে নিকৃষ্ট অনভূতি হয, যখন বুঝি হলুদ সবুজ পতাকটা আমাকেও একটু শিউরিত করে , একটু গর্বিত করে। ও কিছুনা, আমরা বাঙগালীরা সব পারি এবং পাড়ি। ( রি এবং ড়ি দুটোই) ।
আমরা হাসতে পারি, কাঁদতে পারি, তর্কের পর তর্ক চালিয়ে যেতে পারি, যুদ্ধ করতে পারি এবং আমরাই তো স্বার্থের নদী নির্দ্ধিধায বন্ধুর পিঠে চড়েও দেই পাড়ি...
আসুন জুনে ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার খেলা দেখেতে দেখতে ভুলে যাই বিগত মাসগুলোতে দেশে ঘটে যাওয়া ছাত্রলীগের সব তান্ডব। তানা হলে আমরা গন্ডার হতে পারব না যে!!!!!!!
২০শে মে, ২০১০
(দুপুর ১২ঃ১৫, অফিস, মুন্সীগঞ্জ)





পাড়ি শব্দের মানে তো কোন কিছু পাড় হওয়া। মানে এপাড়-ওপাড় করা, তাই না? নাকি এখানে অন্য কোন বিশেষ অর্থবোধক কিছু??
ঠিক
এখন আর এইসব বলতেও ভাল লগে না
সুন্দর
শেষ দুটো লাইনে ঝাজা। চলুন সবাই গন্ডার হয়ে যাই চোখ বন্ধ করে ফেলি
মন্তব্য করুন