ইউজার লগইন

বাবা- কে নিয়ে লিখতে বসে মন ভরে কি কভূ .....তিনি যে জীবেন অসীম প্রভাবক...

বাবা'র কথা অনেক কিছু মন চায় বলতে। তারে আটকে রাখি। টুকটাক লেখার জগতে টুকটুক পদার্পন হেতু বাবারে নিয়ে অনেকবার ভেবেছি অনেক কিছু ই লিখব। আমার কাছে আমার বাবাকে নিয়ে লেখার মত অনেক অতীত উদ্ভাসিত রিয়েলিটি সদা ঘুরে ফিরে বেড়ায়।
কিন্তু বাবা মারা যাবার পর আমি বাবাকে নিয়ে সত্যি কথা কোন কিছু লিখতে বসেত পারিনা। খুব স্বার্থপরেরর মত বাবাকে নিরবে ভুলে থাকার অভিনয় করে করে আজও অভিনেতা হতেই পারলামনা।
বাবা মারা গেছেন আজ তিন বছরেরর বেশী সময় গত হয়েছে। একটা মোটা খাতা কিনেছিলাম । ইচ্ছে ছিল, একটা বই লিখব বাবাকে নিয়ে। সেখানে বাবার অপ্রকাশিত ছড়াগুলো থাকবে আর থাকবে বাবার লেখা কিছু প্রকাশিত প্রবন্ধ সাথে তাকে নিয়ে অনেক কথা...কিন্তু না সেই খাতা সেই ভাবে পরে আছে। আমি লিখতে বসতে পারি না। কোথায় নিজের মাঝেই অপূর্ণতার হাহাকার আর কি যেন একটা কি যেন একটা বলে ওঠে মনের গভীরে ... আসলেই কি বাবা নেই?
তাই বিয়োগের বিরহ ভুলে থাকতেই স্মরণের নিত্যতা পরিহার , তাইতো প্রচন্ড স্বার্থপর আমি।
গত কয়েকটা বাবা-দিবসেও আমি নিরব থেকেছি। এক লাইন কবিতাও লেখার চেষ্টা করিনি বাবাকে নিয়ে।
কেনো জানি নিজেকে অসম্পনূর্ণ মনে হয় তীব্র। আমি পারি না বাবার সম্মান প্রদায়ক কোন একটা ছত্র লিখতে ।
আজ হঠাৎ কেনো জানি....লিখতে ইচ্ছে করল এই পড়ন্ত বিকেল, কেনো জানি না।
বাবা মারা যাবার দুদিন আগে শেষ যখন কথা হয়েছিল খেতে খেতে , সেদিন ছিল শনিবার , রাতেই আমি কক্সবাজার চলে যাই। সোমবার বিকেলে এয়ারে করে আমাকে ফিরতে হয়, আর এয়ারেরর বদ‌ৌলতে ;শেষ দেখা বাবার শেষ চোখের চাহুনী আমাকে চিনতে পারে, কিন্তু কোন কথা বলার মত অবস্থায় তিনি তখন ছিলেন না।
সেই শনিবার তিনি খুব আফসোস করছিলেন, আমার বিয়েটা দিয়ে যেতে পারেন নি , আর বাড়ীর কাজ অসম্পূর্ন থেকে যাচ্ছে বলে।
কি আশ্চর্য , সেদিন বুঝেছিলাম , মানুষ মৃত্যুর আগে কোন একটা সংকেত অবশ্যই পায়।
আজ বাবার দুটো ইচ্ছেই পূরণ করেছি, দেখতে পারলে অনেক খুশি হতেন। অনেক।
খুব মনে পড়ছে বাবার কাছে পাওয়া জীবনের সেরা উক্তি।
আমাকে না ঠিক মার কাছে বলেছিলেন আব্বু আমার সম্পর্কে।
ব্যাপার এমন , বাবাকে নিয়ে ভারতের চেন্নাই তে গিয়েছিলাম তার চিকিৎসা করাতে। সেখানে মা আর বাবাকে আমি একাই যেভাবে দেখে শুনে অচেনা একটা পারিবেশে সব ম্যানেজ করে বেশ মোটামুটি ভালই সব ঝামেলা পার করে ছিলাম, সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে মাকে বলেছিলেন, ছেলেকে নিয়ে আর চিন্তা নেই। মানুষ হয়ে গেছে।
বলার কারন আসলে আমি বাসার অনেক কিছুতেই ইন্টাফেয়ার করতাম না, তাই ভাবত সব কিছু ম্যানেজ করেত পারি না।

বা হয়তো দেখলে খুশি হতো না , আমি আজও অনেক কিছু ম্যানেজ আসলেই করেত পারি না।
কিন্তু তবুওতো উৎরে যাই , যাচ্ছি সময়ের সব বাধা ...। সেটাই তার খুশির কারন ছিল হয়তো। ...

বাবা- পরপারেরর যে জগতে আজ তুমি সেখানের রীতি নীতি তো অতো জানিনা। যদি সেখান থেকে আমাদের দেখা যায়, আশীর্বাদ করো আর ক্ষমা করে দিও ভুলত্রুটি।
বাবা- তুমিই আমার গুরু , তুমি ছাড়া জীবনে একলাইন ও লিখে পারতাম না , সত্যি পারতাম না।

পোস্টটি ৪ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

সাঈদ's picture


আপনার বাবার আত্মার শান্তি কামনা করছি।

মীর's picture


মন খারাপ হয়ে গেলো।

বকলম's picture


আপনি ভাগ্যবান। সবাই বাবাকে নিয়ে আপনার মতো লিখতে পারে না। সবার লিখতে পারার মত বাবা থাকে না। আপনার আছে (ছিল নয়)। আপনার বাবা'র আত্নার শান্তি কামনা করছি।
ভবিষ্যতে আপনিও একজন অনুকরণীয় স্নেহশীল বাবা হবেন এই কামনা করি।

পৃথিবীর সকল বাবা'দের প্রতি শ্রদ্ধা।

নজরুল ইসলাম's picture


Sad

লীনা দিলরুবা's picture


Sad

তানবীরা's picture


অসম্ভব ভালো একটা লেখা।
ভালো থাকবেন।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.