ইউজার লগইন

শিক্ষার্থীরা আর মার খাবেনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।

সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব সৈয়দ আতাউর রহমান স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রের নির্দেশে এমনই বলা হয় যে দেশের সকল সরকারী ও বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোনরূপ শারীরিক শাস্তি প্রদান করা যাবে না।

ঐ পরিপত্রে আরও বলা হয়, শিক্ষার্থীদের শারীরিক শাস্তি দেওয়া অসদাচরণ হিসাবে গণ্য করা হবে। শারীরিক শাস্তি প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দন্ডবিধি ১৮৬০, ১৯৭৪ সালের শিশু আইন অনুযায়ী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা ব্যবস্থা নেবেন।

পরিপত্রে আরো বলা হয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি শারীরিক শাস্তি প্রদানকারী শিক্ষকদের চিহ্নিত করে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেবেন।

ইহা ...উন্নয়নের লক্ষণ। সভ্যতার লক্ষণ।
বিদেশে শুনেছি , বাবা - মা ও সন্তানদের মারধোর করলে তারা ( সন্তানরা) যদি পুলিশের কাছে জানায় তারা ব্যবস্থা নেন।
শিক্ষকরা ক্লাশে জিজ্ঞেস করেন , বাসায় বাবা- মা মেরেছেন কিংবা বকেছেন কিনা।

আমাদের কৃষ্টি আর ব্যবস্থার সাথে ঐ অত্যাধুনিক সভ্যতার সুচারু ব্যবস্থার সামাঞ্জস্য খুবই অপ্রতুল। তবুও মারধোর কোনদিন সমাধান হতে পারে না।

মনে পড়ে স্কুলে এক ম্যাডাম ছিলেন আমাদের। তার বড় ভ‌্যানিটিব্যাগে একটা মোট ১০ মিলি মিটারের কপার কেবল এর টুকরো থাকত। ক্লাশে প্রতিদিন তিনি কথা বলা ছাত্র দের নাম কাউকে দিয়ে ( এক এক দিন এক এক জনকে) লেখাতেন তারপর বিদায়ের বেলা সেই কেবল ( যাকে আমরা প্যারাডাইস কেবল বলে ডাকতাম) দিয়ে খাতায় যাদের নাম লেখা হতো তাদের সপাত সপাত মার দিতেন। কি মানসিকতা আমি বুঝিনাই সে কালে। অবশ্য যে দিন নিজে নাম লেখার দায়িত্ব পেয়েছি , উফ্ অন্যদের মার খাওয়াতে পেরে মজাও পাইছি। আমাদের ভেতরেইএকটা হীন পশূ বাস করে আজ বুঝি। তখন ছোট ছিলাম বুঝিনাই।

আরও আগে মনে আছে ক্লাশ সিক্সে থাকতে সম্ভবত এক স্যার এলেন। তার ভাবে মনে য় তিনি রিটায়ার্ড আর্মি পরসন। সে কি সপাত মার বেতের । রোজ কারও না কারও হাত কাটবেই। আমার কপালে একদিন সেই তার মার জুটিছিল। কাটে নি। তবে দুটো বেতের দাগ দীর্ঘদিন হাতে ছিল। উল্লেখ্য আমি ছিলাম ক্লাশের ফার্সবয়। তাতেই আমার এই হাল হতো। ( দুষ্টামী করতে তো আর ছাড়তাম না)
সে যা হোক।
মার পিটের শিক্ষা বন্ধ হবার আইন হয়েছে। টিভিতে খবর দেখা মাত্রই দু লাইন না লিখে মন খুশি হতে পারল না।

আসলে আমাদের শিক্ষকরা নিজের পেশা নিয়ে এতই বিরূপ থাকে যে তার ক্ষোভ মেটায় ছাত্রছাত্রীদের পিটিয়ে।

পিটিয়ে কি আর শিক্ষা হয়।
বোধদয় হয়েছে সরকারের। সুসাধুবাদ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় ও আইন টি প্রনণয়নে সহায়কদের।

পোস্টটি ৫ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মীর's picture


গুরুজনদের মার আশীর্বাদের চেয়েও বেশি কিছু। সৌভাগ্যের কথা আমার জীবনটা আশীর্বাদে আশীর্বাদে ভরপুর।

এখনকার ছেলে-মেয়েদের জন্য কষ্ট হয়। ওরা জানবেও না স্কুলে স্যারের বেত, আপার স্কেলের বাড়ি খেতে কেমন, কয়টা প্যান্ট পড়লে স্যারের বেত গায়ে লাগে না, যে ক্যাপ্টেন নাম লেখে জমা দেয় তাকে সুযোগ বুঝে কি করতে হয়.. এরকম অনেক কিছু। ওদের জন্য শুভকামনা রইলো।

মামুন ম. আজিজ's picture


গুরুজনদের মার আশীর্বাদেইতের চেয়েও বেশি কিছু। এই তো সেই কৃষ্টি আমাদের

ভাঙ্গা পেন্সিল's picture


শিক্ষকেরা মারার আগে ভাবে না যে যাকে মারছে সে নিজের ছেলে হলেও সেভাবে মারতো কিনা, সমস্যাটা সেখানেই।

শাওন৩৫০৪'s picture


হুমম, সব কিছুই সিস্টাম, মাইর দরকার নাই কিনা সেডা কৈতে পারিনা, আমাদের ক্লাসে মেলা পোলাপাইনরে দেখছি মাইর খাইয়া সত্যই সোজা হৈতে, যদিও জিনিষটা অমানবিক লাগতো..
কথা হৈলো, শিক্ষকদের হাতে পোলাপাইনরে শাষন করার আর কি কি থাকবো?

টুটুল's picture


ছুডুকালে কি অনেক মাইর খাইছিলেন? Wink

তানবীরা's picture


যে যাই বলুক, মাইরের ওপর ওষুধ নাই Tongue

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.