ইউজার লগইন

ভেতর-বাহির ( শূণ্য পর্ব)

রোজ যা ভাবি মনে
বলব ক্ষণে ক্ষণে
রোজ যা আমি দেখি
যায় না বলা সবই
ভেতর-বাহির প্রতীত যত
বলব যে তাই আমার মত...

প্রতীত মানে উপলব্ধি গত জ্ঞান । আর প্রতীতি তারই বিশেষণ, মানে উবলব্ধি। এই শব্দখানা আমারে ভালমত পেয়ে বসেছে, আর তাই ক’দিন পরে বই মেলায় যে উপন্যাসটা আসছে তার নামও দিয়েছি “প্রতীতি”। যাক চামে একটু বিজ্ঞাপন দিয়া নিলাম। আসলে প্রচারের প্রসারে যা দু এক কপি যদি বিক্রি হয় , এই আর কি? শব্দশৈলী প্রকাশনী থেকে বের হচ্ছে উপন্যাস খানা। প্রতীতি মানুষের মুহূর্তে মুহূর্তে প্রাপ্তি হতেই থাকে এবং নানা ভাবে, তাই না, ওটা না হলে লেখার দরকার কি?

ভূমিকা পর্বের পরে এই কদিন আগে পত্রিকায় পড়া একটা কমন রম্য গল্পের ইমপ্রোভাইজড ভার্সন শুনাই।
তিনটে হাঙর ,। যা করার তারা তাই করে। মানে সাগর তলে ঘুরে বেড়ায় আর সুযোগ পেলে মানুষ ধরে খেয়ে ফেলে। তিনটেই মানুষ খেকো, তাই খুব সখ্যতা। অবসরে পেয়ে তারা আরব সাগর, বঙ্গোপসাগর আর ভারত মহাসাগর এই ত্রয় জলরাশির ত্রি মোহনায় আড্ডায় ভাসছে। সময়টা বিকেল। প্রভাতে তারা তিনজন তিন দিকে গিয়েছিল। একটা গিয়েছিল আরব সাগর এ । সে বলছে, আরে বলিস না , গিয়েছিলাম আরব সাগরে । দুই পাকিস্তানে ধরে ফেয়ে ফেললাম। তারপর যত গন্ডগোল , পেট টেট ফুটো হয়ে যাবার মত। শালার দুটো কাছেই একে ফরটি সেভেনে, পেটের মধ্যে গিয়েও মারামারি শুরু করে দিলো। এই যে দেখে এই যে এই পেটের এই কোনায় একটা ফুটোও হয়েছে। শেষে দুটোরেই উগড়ে দিলাম। ও মাল খাবারও যো নেই।
দ্বিতীয়টি মনোযোগ দিযে শুনছিল। এবার সে মুখ খুলল। গিয়েছিলাম ভারত মহাসাগরে। সেখানে দুটো ভারতীয় মানুষ গিলে ফেললাম। দুটো কে হজম করা পর থেকে মাথায় স্বাবলম্বী হবার ইচ্ছে জেগেছে। ভাবছি, আর ঘূরে ঘুরে কষ্ট করে খাবা না, এমন একটা সফটওয়্যার তৈরী করতে হবে যাতে খাবার ই আমার এখানে ছূটে আসে।
তৃতীটি মাথা চুলকাচ্ছিল, আর বলি স না, আমি গিয়েছিলাম বঙ্গোপসাগর, আমিও দুটো বাঙগালী গিলে খেলাম। হজম হলো , তবে তারপর থেকেই মাথায় সব কেমন প্যাচ লেগে যাচ্ছে। কোন কিছূ ঠান্ডা মাথায় ভাবতেই পারিছনা। এই তোদের কথাবার্তাগুলোও সব মিথ্যে মনে হচ্চে। আসলে তোরা চাপা মারছিস। প্রথম টা ও পেটে গুলি লাগলেও সে মরল না কেনো। নিশ্চয় ওর যোগাযোগ আছে উগ্রবাদীদের সাথে আর তোর এই যে দ্বিতীয়, তোর মধ্যে...

আসলে আমারা বাঙগালীরা বেশী বোঝা জাতি। সবাই অনেক আজাইরা জিনিস আজাইরাই বেশী আর ভিন্নতায় বুঝি। আমরা মানে আমরা সবাইই। ২৭ তারিখ রাত ১০ টায় মাথাটাই গরম হয়ে গেলো এই আমার পথিকের। তখনও কিন্তু আমরা জানি না রাত ১২ টার পর ২৮ তারিখের শুরুতে জাতি বঙ্গবন্ধু আর তার পরিবারের হত্যার কলংক হতে মুক্ত হতে শুরু করবে। কিন্তু প্রসংগটা উঠেছিল। আড্ডায় এক বন্ধু ফাসির রায় মানেত রাজি কিন্তু রাজি না। প্রথমে তার এই সাপের নিজ মুখে নিজের লেজ খেয়ে ফেলা টাইপ কথা আসলে বুঝি নাই দেখেই তর্ক আর যুক্তি দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করছিলাম। হুদাই , সে বুঝবোই না। সে সব বোঝে শেষে বোঝে না, ফাঁসির রায় ঠিক আছে তবে এইভাবে রায় ঠিক হয়নি। আমাদের গ্রাম্য ভাষায় এইটারে বলে নাই ঠেলা। কিছু বাংগালী আছে নিজেকে সবার থেকে আলাদা প্রমানের চেষ্টা করতে গিয়ে আকাশকে পাতাল নামে নামকরণ করেও যুক্তি দেখাতে থাকে। ঐ টাইপ সে , বোঝার পর আমি চুপ , সাথের সম মতের সতীর্থরাও চুপ। ফল হলো গলা ভাঙা। রাতে যখন এক দুই করে বন্দী পাঁচ খুনী ইহলোক ত্যাগ করলো তখন সবার আগে ঐ বন্ধুর কথা মনে পড়ছিল।
আসলে সে জানে না একটা নিরীহ শিশু আর অন্তস্বত্তা নারীকে খুন করার কোন কারনই থাকতে পারে না। কিন্তু সে প্রেক্ষপট নিয়ে এখনও গবেষণা করতে প্রস্তুত। আমরা গর্বিত, পথিকরা গর্বিত ...সরকার দেরী করে উটকো ঝামেলাকে শাস্তি প্রদানে বিরত করাতে দিল না। আর কত, ৩৪ বছল...কি লজ্জা, কি লজ্জা। আজ পরিসমাপ্তি। ( যদিও আরও কটা খুনী দিব্যি মউজে আঠে বহি বিশ্বে, ঠিক আশা করতে পারিছনা তাদের ফেরত আনার, কিন্তু আশা করছি। করতেই হবে, হতেই হবে...ইতিহাস এর ও একটা ইতিহাস থাকে তো, নাকি?)

এখণ , এরপর বারবার , চিৎকার করে ’৭১ এর ইজ্জত হারানো মা বোনদের কাছে যে ঋণ আর লজ্জা সেটার থেকে মুক্তি চাই। মুক্তি চাই। কলংক নিয়ে হাঙরের পেটে গিয়েও তার পেট খারাপের কারন হতে চাই না।

সমস্যা এক পরতে পরতে গড়া খোলাস ভীষণ। যা পরে আমরা এই বাংগালী জাতি ঘুরছি। ফিরছি , খাচ্ছি। সে কারনেই কিন্তু আমরা এত বেশী বুঝি। উপায় নেই। অস্থিরতা। তাই সমাধান একটাই ...আমাদের সেই সব সমস্যার পরত প্রোদ্ভিন্ন করে ছূটতে হবে, ছুটতে হবেই। প্রোদ্ভিন্ন মানে হলো কোন কিছু বিদির্ণ করে নির্গত বা বিকশিত বা উদগত বা প্রস্ফুটিত হওয়া।
আমরা প্রোদ্ভিন্ন হব কবে?

২৯/০১/২০১০
(রাত ২:২৫)

পোস্টটি ৭ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

নুশেরা's picture


১. অভিনন্দন! বইয়ের প্রচ্ছদে এই হাঙ্গরের ছবি নাকি? Surprised 
২. কৌতুকের আরব সাগরের অংশটা ফাটাফাটি।
৩. যেভাবেই হোক, আপদ গেছে।
৪. যত তাড়াতাড়ি সম্ভব যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিতকারী বিচার চাই।
===================================
আগের পোস্টটা সম্পূর্ণভাবে আসেনি। এডিট অপশনে গিয়ে মুছে দেন

মামুন ম. আজিজ's picture


না নুশেরা হাঙর এর কাহিনী না প্রতীতি।

বইয়ের প্রচ্ছদ

COVER page Of Proteeti

কাঁকন's picture


যদি যুদ্ধপরাধীদের বিচার হয় তাইলেও শুনবেন দেশ প্রেম ইমানের অঙ্গ;
দেশপ্রেমিক গোলাম আজম পাকিস্থানের অখন্ডতা রক্ষার স্বার্থে ...... ব্লা
ব্লা ব্লা..............অতপর ভাষা সৈনিকে গোলাম আজমের বিরুদ্ধে ভারতীয়
(আম্রিকান ও হইতে পারে) ষড়যন্ত্রে জাতি গভীর শোকাহত।

 

এখন  যুদ্ধঅপরাধীদের বিচার টা কর্লে বা করতে পারলে হয়

টুটুল's picture


দেশের বড় একটা অংশের যুদ্ধপরাধীদের বিচার নিয়ে কোন মাথা ব্যাথা নাই... নতুন প্রজন্মর কাছে তো নেইই... বিষয়টা ভয়াবহ অবস্থায় দাড়িয়েছে। জামাতের প্রচারনার এবং বিএনপির লাস্ট দুই টার্মের ইনভলভমেন্ট মানুষকে অনেক বেশী কনফিউজড বানিয়েছে। অনেকের মুখেই "৩৮ বছর আগের একটা বিষয় নিয়ে টানা হেচরা করে দ্যাশকে বিভক্ত করার কোন মানে নাই"

তারেকরে একটা গালি দিতে ইচ্ছা করে তখন

মামুন ম. আজিজ's picture


অনেকের মুখেই "৩৮ বছর আগের একটা বিষয় নিয়ে টানা হেচরা করে দ্যাশকে বিভক্ত করার কোন মানে নাই"তারেকরে একটা গালি দিতে ইচ্ছা করে তখন

এই বিষয়টা নতুন প্রজন্মকে বোঝানোর দায়িত্ব আমরা যারা বুঝি তাদের সকলের কিন্তু  আসুন বুঝাই বারবার অনেকবার

কাঁকন's picture


সময়ে সবি ফিকে হয় এটাই সময়ের নিয়ম; তাই এবার যদি বিচার না হয় ভবিষ্যৎ এর আশা দেখিনা।

 

ভালো  থাকবেন

তানবীরা's picture


প্রচ্ছদ খুবই সুন্দর। বই আর আপনার দুজনেরই অনেক অনেক সাফল্য কামনা করছি

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.