ভেতর-বাহির (প্রথম পর্ব)
অনেকদনি পর রাতে ভালো ঘুম হয়েছে। দুপায়ের মাংসপেশীতে টনটনে ব্যাথা, ঘুম তো আসবেই। টানা তিন ঘন্টা ঠাঁয় দাঁড়িয়ে ছিলাম। না মাঝে মাগরিবের নামাযের বিরতির সময় পুলিশ ভাইদের সাথে একটু মেঝেতে বসেছিলাম, মাত্র ৫ মিনিট। ঐ এসএগেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মুফতে একটা টিকিট পেয়ে ঢুকে পড়েছিলাম।
উপচে ভড়া ভিড়ে মুগ্ধ মনে মনোঙ্গ অনুষ্ঠান দেখবো বলেএকটা পজিশন বেছে নিযে দাঁড়ালাম যখন এবং লম্বা হওয়ার জন্য একটু গর্ব ভাব মনে আসতেই দিলাম ঠিক তারপর একদম আমার দৃষ্টির সরল রেখায় ঠিক সামনে এই ১০ গজ দূরে মাঠের গ্রিলঘেষা স্থানে, হঠাৎ সিড়িটা ভেঙে পড়ল। উঁচু সিড়িটা ক্যামেরা ও ভিডিও ম্যানদের জন্য বানানো। উপড়ে একজন তরুনী একজন হাফবৃদ্ধা আরও দু/তিনজন শুট করছিল। পতনের দৃশ্যগত ভয়াবহতায় বোঝা গেলো মেয়েটা প্রচন্ড ব্যাথা পেয়েছে। সাথে অন্যএকজনও। দ্রুত তাদের মাঠের বাইরে স্ট্রেচারে বের করে নেয়া হলো। বিশাল অনুষ্ঠানের কাছে অতি ক্ষুদ্র ঘটনা। কিন্তু বারবার সেই পতিত সিঁড়িটার দিকেই চোখ গেছে। পাশে পড়েছিল দামী ভিডিও ক্যামেরা , ভেঙেছে । তিন ঘন্টার অবস্থান কালে একটু পর পরই নানান সাংবাদিক আর ক্যামেরাম্যারের ঐ পতিত সিঁড়ি আর ভিডিও ক্যামেরার যন্ত্রাংশ পরিকদর্শন আর সেগুলোকে মডেল বানানোর বিষয়টাতে বাড়তি মজা পেয়েছি। সেনাবাহিনীর কয়েকজন সদস্য যখন ভাঙা ক্যামেরা স্ট্যান্ডের পাগুলো ধরে ক্যামেরাম্যানের সামনে পোজ দিচ্ছিল তাতে বুঝলাম সুযোগ পেলে তারাও মডেলিং করতে জানে।
পাশ থেকে এক ভদ্র লোক জানালো , কুফা লাগছে ভাই। কুফা। কেনো, প্রশ্ন মনে জাগার পরেই জানলাম সকালে হোটেল ইমপেরিয়ালে লিফট দুর্ঘটনায় নেপালের বেশ কজন খেলোয়াড় আহত হয়েছেন। খুব খারাপ। আহত ক্যামেরাম্যানরাও বিদেশী হতে পারে। মনে হলো।
কুফা শব্দটা খুব কনফিউজিং। মানে বাংলায় অপয়া, অতীত বাংলার গল্প/ ইতিহাস পড়লে এই বিষয়টা প্রকট ভাবে দেখা যায়। বিষয়টাির মধ্যে অনেকসময় উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর এবং মনকে সান্তনা দেয়া এই দুই ইন্টারনাল বিষয়ই কাজ করে থাকে বেশীর পক্ষে।
কুফা আপাতত থাক। মুগ্ধতার কথা বলি। পাদুটো ব্যাথার স্বার্থকতা বলি। যখণ সন্ধ্যার পরে আকাশটা কালো হয়ে ঘিরে নিল। তারপর শেষক্ষণে ফ্লাড লাইটগুলো নিভে গেলো। অসাধারণ এক একুয়েস্টিক শো। লেজারের খেলা চায়নাতে দেখেছিলাম। মুগ্ধতায় বিমোহিত হয়েছিলাম। আজও হলাম নিজ দেশে এই ঢাকায়। সিিত্যই নান্দনিক। সাথে পানি , লাইট ঝর্না, হলোগ্রাফি আতশ বাজি সব কিছুতে প্রচন্ড আধুনিকতা, ব্যতিক্রম আর প্রাচুর্যতার ছাপ ছিল ।
একটা বিষয় স্পষ্ট এসএ গেমসের জণ্য যদি এই হয় বিশ্বকাপ ক্রিকেটের উদ্বোধন আরও অসাধারণ হবে আশা করা যায়।
অবশ্য এই আলো আর লেজারের খেলার পেছনে বিপুল খরচেরর বিষয়টা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলতে পারে। কারন আমরা আসলেই এখনও অবধি একটা গরীব দেশই তো। প্রশ্ন টা এই ক্ষেত্রে তোলা ঠিক হবে না কারন অবান্তর না হলেও প্রশ্ন আরও অনেক কিছুতেই তোলা যায়। বাস্তবতায় পিউর সমাজতন্ত্র বলে কিছু হয় না । সেটাই প্রবলেম ঐ ধরনের প্রশ্নের।
মুগ্ধতা নিয়ে রিকশায় উঠলাম, গন্তব্য নীলক্ষেত। রিকশা ওয়ালা সুধায়, ভাই ঐ যে পটকা ফুটল , কি হৈতেছে। তাকে যতটা সহবে বুঝানো যায় বুঝালাম। সে খেলার খবর রাখে না। সে রাখে উত্তাল জোয়ারের কথা। যে উত্তাল উঠেছে পাঁচ খুনীর ফাঁসির আনন্দে। রিকশা ওয়ালার সাথে কথা বলে জানলাম, সেও বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন জোগালী কারিগর। সরাসররি রাজমিস্ত্রি নয়। সেটাও গর্বের। সে ক্ষিপ্ত , বলে ভাই বাকীখুনীগোরে নিয়া আসবোনা বিদেশ থেইক্যা। আমি বলি, একটু কঠিণ,তবে চেষ্টা চলছে।
ভাই কোথায় আছে, বলি তিনটে বোধহয় পাকিস্তানে, আর লিবিয়ায় একটা...আর
সে বলে, ভাই পাকিস্তান , ওগোরে একবার হারাইছি না, না ফেরত দিলে আবার যুদ্ধ কইরা নিয়া আসমু।
আসলে বাংলাদেশের মানুষের ভাবনা কিন্তু বেড়েই চলেছে। এই টা একটা বিশেষ শক্তি। কাজে লাগাতে পারলেই উন্নতি। কাল একটা ঘটনা শুনে এইটা আবারও মনে পড়লো। মেয়েটা এক বাসায় গৃহসহায়িকা মাত্র। বয়স মাত্র দশ। বাড়ির কর্তার কোন কথায় তার কানে ”জুনিয়ার” শব্দটা পৌঁছানোয় সে জানতে চাইলো অর্থ। কর্তা বললেন, বয়সে ছোট হলে জুনিয়ার বলা হয়, তাইলে বল তো বড় হলে কি বলা হবে। মেয়েটা ভেবে বলল, ”বুনিয়ার”
...এই কথা এই জন্য বলা আমাদের নতুন প্রজন্ম তাই সে যাই হোক ভাবতে শিখেছে...
৩০/০১/২০১০
সকল ৮:৩০





টিকেট ছিল... ডিউটির কারনে যাইতর্লাম্না... মিস্কর্লাম...
বুনিয়ার জোশ হৈছে
আমিও ছিলাম। মোটামুটি গোছানো, দক্ষ ব্যবস্থপানায় আনন্দময় অনুষঠান হয়েছে।
খহব বাংলা ভিশনের খবরে একটু খানি দেখলাম ভালোই লাগলো, "অবশ্য এই আলো আর লেজারের খেলার পেছনে বিপুল খরচেরর বিষয়টা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলতে পারে।" --- খরচ নিয়ে একটা কথা বলতে চাই সেটা হোলো টাকায় সমস্যা থাকলে এখানে খরচ কম করে ঐ সিঁড়িটা আরো ভালো করে বানানো এবং খেলোয়ারদের আরো ভালো যায়গায় রাখা উচিৎ ছিলো মনে হয়।
ভালো থাকবেন
সিরিজ পছন্দ হয়েছে। চলুক।
খরচ কোন ব্যাপার না, স্পন্সর পায় প্রচুর এরা।
এই কথা এই জন্য বলা আমাদের নতুন প্রজন্ম তাই সে যাই হোক ভাবতে শিখেছে...
একথাটা আমারো আজকাল মনে হয়। দেশে গেলে আমার ছোটবোনদের দেখি যে ভাবে অব্যরথ যুক্তি সহকারে বাবা মায়ের সাথে তর্ক দেয়, আমরাতো সাহসই করতাম না। নিজের মেয়ের কথা আর নাই বা কইলাম।
মন্তব্য করুন