ভেতর-বাহির (তৃতীয় পর্ব)
ইতিহাসের রস আস্বাদনে ভিজুয়্যালাইসের একটা সূক্ষ্ম সম্পর্ক থাকার বিষয়টি চরমভাবে উপলব্ধি হলো। “বেগমত কি আসু” বইটার বাংলা অনুবাদ মানে মোগল শাহজাদিদের কান্না বিষয়ক বইটি পড়লাম। মোগল বিষয়ক এইধরনের বই আমাকে প্রচন্ড টানে। বইটা টাই আরও আগে পড়ারই কথা। কিন্তু না পড়ে ভাল হয়েছে। কারন গত জুন মাসে দিল্লীর লালকেল্লা দেখার সুযোগ হয়েছিল বলেই ভিজুয়্যালাইস বিষয়টা উপস্থিত হয় মনে। শেষ মোঘল বাদশাহ বাহাদুর শাহ জাফরের পুত্র মির্জা শাহরুফের কন্যা নার্গিস নজরের দুঃখের কাহিনীর শুরুতে কষ্টদুঃখ পূর্ব রাজকীয় অতীতের বর্নণায় যখন পানি মহলের কথা উঠেআসে বইটিতে তখন যেন স্পষ্ট দেখতে থাকি, সেই অসাধরণ সব আর্কিটেকচার, স্পষ্ট একটা চিত্র পটে এঁকে নেই প্রতিটা ঘটনার। ঐ তো লালকিল্লার দরজা দিয়ে কোন একটা শাহজাদি গরুও গাড়ী করে পালিয়ে চির দুঃখের সাগরে পাড়ি জমাচ্ছে...ফিরিঙ্গি ব্যারাকে রক্তের হলি খেলার দৃশ্যো স্পষ্ট মন ভেবে নেয়, ব্যারাকের ইট এর দেয়াল চোখ একবার দৃষ্টি বুলিয়ে নেয়।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যে কারনে আমাদের য্দ্ধু পরবতী প্রজন্মের প্রাণে নানা রকম দৃশ্য কল্পনা করতে নিতে বাধ্য করে। আমরা হয়তো মুল চিত্র থেকে কখনও অনেক পেছনে পড়ে রই, অথবা কখনও এগিয়েও যাই অহেতুক দূরবর্তীতে। কিন্তু যারা ভিজুয়্যালাইস করতে পারে, যারা কালের স্বাক্ষী, তারা কেনো ইতিহাসে বিভেদ দেয়াল আর পর্দার পর পর্দা সৃষ্টি করে। প্রশ্ন আমার চিরন্তন। আমরা রাজাকারদের সেই স্বদেশীর প্রতি সর্বনিকৃষ্ট আচরনের প্রত্যক্ষ দর্শী নই, অথচ পড়তে বসলে আমার আপনার গা জ্বলে। অনেক প্রত্যক্ষদর্শীর জলে না। আসলে ইতিহাস সবার ভাল লাগেনা বোধহয়, অথবা সবার ভিজুয়্যালাইস এর বিষয়টি অন্তরে ঠাঁই পায় না। সে কারনেই রাজাকাররাও সিংহাসনে আসিন হয়।
রাজাকার এ পোড়া ভারতবর্ষে চিরন্তন এক জাতি। অবকা লাগে মোগল সম্রাজ্য ধ্বংসের সেই সময়কার কাহিনীগুলো পড়লে। ফিরিঙ্গিদের গুপ্তচর, ইনফর্মার আর সহযোগী বিপুল অংশই তো এই ভারতবর্ষেরই সন্তান। চাকুরী আর জীবনের দোহাই দিয়ে তারা স্বদেশী রাজকন্যাদের উপর কতই না অত্যাচার করে গেছে সুযোগে। অবশ্য বাদশাহদের বিলাসী মানুষের মনে একটা ক্ষুদ্ধ ক্রোধও সৃষ্টি যে করে ছিল সেটাও এর পেছনে কারন হতে পারে। সব মানুষেরই লজিক থাকে। যেমন বাংলাশেরে স্বাধীনতা যুদ্ধের রাজকার আলবদর আলশামস এসব হারামীদের কর্মকান্ডের পেছনে ধর্ম একটা যুক্তিবহনকারী ঢাল ছিল।
ইতিহাস পরে মুগ্ধ হই , ভাবি, রাজাকার ( নেতিবাচকটা) বৃত্তি এ সমাজে জাতিতে ধারাবহিক ক্রম, এখনও চলছে, চলবে, চলতে থাকবে। ব্যক্তি স্বার্থ বড় জতি স্বার্থের কাছে। এই জাতির ইতিহাস এই বৈশিষ্ট্যের উপরই তো গড়া।
ইতিহাস থেকে সন্ধ্যার বাস্তবতায় ফিরে আসি। বইমেলায় ঢুকেই একটা চক্কর মারা আমার অভ্যেস, তাপর কোন আড্ডায় মিশে যাওয়ার চেষ্টা থাকে। সেই চক্করের কালে অন্যপ্রকাশের স্টলে দাঁড়িয়ে বইগুলোর নাম পড়ছি। হঠাৎ স্কার্ফ, বোরকা পড়া এক তরুনী ঠিক আমার পায়ের উপর পেছনদিকে হেলে পড়ে গেলো। পড়তে চাইল আরও নিচে..ধরে ফেললাম। একটু না একটু না বেশ অস্বস্তিবোধ করছিলাম। আমার দুটো হাত তার দুই বাহু ধরে আছে। মাথাটা এলিয়ে পড়তে চাইছে। আশা করছি পাশে তার কেউ থাকবে, সে এসে আমাকে অস্বস্তিথেকে দ্রুত মুক্তি দেবে। দিলো। তরুনীর সাথে ভাই বন্ধু কোন সমপর্কের একটা ছেলে ছিল। পেছনে ঘুরে আমকে মুক্তি দিল। এবার আমি বড় বড় চোখ করে চেয়ে থাকা দর্শকের দলে। নানা কমেন্ট উড়ে আসছে। “ পানি দেন , পানির ছিটা দিন...” কেউ কেউ বলল। “ এইতো একটু বসেছে, বসে থাকতে দিন..”
তারপরই বই মেলার ভিড় জমানি প্রকাশনীর স্টল অন্যপ্রকাশের এক সেলসম্যান বলে উঠল, একটু দূরে নিয়ে বসতে দিন। বাতাস করুন। পাশে অন্য স্টলে নিয়ে বসান। এখানে জায়গা বন্ধ না করে পাশে নিয়ে যান। ...আমি তাদের এই চরম প্রফেশনালিজমে অভিভূত(!) ...
ঘুরতে ঘুরতে মুক্তিযুদ্ধের উপর একটা বই খুব মনে ধরলো। দামটা মনে ধরল না । মাত্র ৩৫০ পৃষ্টার একটা ৬০ গ্রাম কাগজের বই যদি হয় ৬০০ টাকা দাম( ২৫% বাদ না দিয়ে) তাহলে পড়ার অনন্ত অভিলাষ অনন্ত কালের জন্য কবরায়িত হয়ে উঠার উপক্রম হয়। ...
ভয় হয় , বই কবে না জানি এক মহা বিলাসিতার উপকরণ হয়েই টিকে থাকে।
আজকে একটা বই এর নাম দেখে মনে মনে রস বোধ উপলব্দি করেছি, “ছেলেটা যে মেয়ে মেয়োট তা জানতো না” -নামটা এইরকম। তরুনী পতনের পর অন্যপ্রকাশ থেকে ডিসটেন্স এ ফিরে আসায় বইটা নেড়েচেড়ে দেখা হলো না। নেক্সট দিন তো দেখতেই হয়। আচ্ছা অনুমান করতে পারেন কেউ বইটি কার লেখা...( ক্লু তার প্রথম উপন্যাস উ... , একুশে পদক পেয়েছিল।)
সকালে এবির পিকনিক, তাই এইখানে ক্ষান্ত দিলাম। আরও বলার ছিল , বলা হলো না।
৫/২/২০১০
রাত ১২:৪৫





ছেলটা যে মেয়ে মেয়েটা তা জানতো না---------
নামটা এমন হবে
কি পরিমান আফসুসের হৈবো বৈডা....আহারে ছেলেডা যে মেয়ে, মেয়েটা সেইডা জান্তেও পারেনাই....বৈডা দেখতে হৈবোতো....
ছেলেটা যে মেয়ে মেয়েটা তা জানতো না ------জানলে কি হইতো বস?
এই শীতের মধ্যে মেয়েটার মাথা ঘুরাইলো ক্যান?
পথিকদারে দেইখাই কিনা কে জানে

ভীড়ের মধ্যে কারো কারো এমন হয়, আমার নিজেরও অভিজ্ঞতা আছে
আমার সামনে ছিল, দেখার প্রশ্নই আসে না
কন কী! না দেইখাই এই অবস্থা, দেখলে জানি কী হইতো!
দেখলে তো আর পায়ে এসে পড়ত না..জড়ায়ে টড়ায়ে ধরত বোধহয়।
আহা
শুইন্যার কিরম জানি ভাল্লাগতাছে
দারুণ, দারুণ! মোগলদের শেষ সময়ে ফিরিঙ্গির ইনফরমারদের ধারাবাহিকতায় শেষ নবাবের আমলের মিরজাফর জগৎশেঠ রাজবল্লভদেরও একটু ধুইতেন।
বইয়ের নাম দেখেই মাথা ঘুরতেছে (এশারের ছবি দেখার মতো অবস্থা)। ক্লু নিয়ে চিন্তাইলাম না। আপনার বই কবে আসছে?
শুভ চড়ুইভাতি।
রাজাকারের ইতিহাস তো আরো পুরোনো; বিভীষন ই তো মনে হয় উপমহাদেশিয় সাহিত্যের প্রথম রাজাকার
হা হা হা কথা ঠিক। তবে রাবণ ছিলো ভিলেন, তাই হিরো রামের সাপোর্টে বিভীষণের ভূমিকাকে মহত্ত্ব দেয়া হইছে (ব্যতিক্রম: মাইকেল মধুসূদনের মেঘনাদবধ কাব্য)
ইটতিহাস সব সময় জয়ীরা লিখে (ব্যাতিক্রম আমরা)
আমরা না ...আমাদের যুদ্ধাপরাধী হারামীর দল আর সহচর রা
পথিকদা, নাসরিন জাহানের উড়ুক্কু তো ফিলিপস পুরস্কার পেয়েছিলো, একুশে পদক মনে হয় না
ভুল হতে পারে, হুম ...আমার বইটা চুরি হয়ে গেছে..যে নিছে সে দেশত্যাগ করছে..তাই দেখতে পারলাম না, ওকে ...ধন্যবাদ।
সিরিজটা ভালো লাগতাছে
মন্তব্য করুন