ইউজার লগইন

ভেতর-বাহির (অষ্টম পর্ব)

একুশে গ্রন্থমেলা , আমার প্রাণের মেলা। অথচ কত বিরহ, শেষ দিন দেখা হলো না তারে চোখ মেলে। এসবই আমার বিবাহ জনিত ব্যস্ততার ফল।
একদা ছিল মেলায় একা একা কেবল ঘুরে বেড়াতাম। তখন বড় উদাস হাওয়া বইত, আকুল ব্যকুল ছিলাম কত কিছুর লাগি সে কালে। সে আকুলতা পথের ধূলোর প্রতিও যেমন ছিল তেমনি ছিল নারীর অলক কুন্তলে হাওয়া ভোলানো দুলুনির জণ্যও। বয়সটাই ওমন ছিল। তারপর বিস্তর আফসোস প্রাণে প্রতীত হতে লাগলো। সে আফসোসের কারন ঠিক এইরূপ - যদি আমার নিজের লেখা একখানা বই শোভা বইত মেলার পুস্তক ভীড়ে...!
অবশেষে ২০০৬ এর মেলায় অনেক কাঠ খড় আর ছাই শুদ্ধ পুড়িয়ে প্রকাশ করা সম্ভব হলো একখানা কবিতার বই -“পথিকের পথে পথে স্বপ্ন”। আমার লেখা , প্রকাশিত প্রথম কোন বই। অনেক উপলব্ধিগত অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হলাম,  হলেও কি হবে তিক্ততা আর প্রকাশনা জগতের তলানীর খেলা কিছু অনুধাবনে আসল। সে যা হোক। নেশাটা দূর করা গেলো না।
যে কারনে পরের বছর ২০০৭ এ প্রকাশ করার সাহস হলো একটা কবিতার আর একটা গপ্পের বই। প্রিয় লেখক অনুজ বান্ধবী রুমান বৈশাখীকে কোন এক অজানা ইচ্ছায় সহ গল্পকার হিসেবে সাথে রেখে ধন্য হলাম।  সেই ২০০৬ থেকে আর কেবল গ্রন্থমেলার উদাস পথিক থাকলাম না, এটলিস্ট স্ব লেখক এ নিজেকে আবিষ্কার করলাম। আমার লেখা হাবিজাবি কথনসমৃদ্ধ বইও এখন মেলায় কোন এক ষ্টলের কোনে উঁিক মারে , অসম্ভব ঘন বাঁশ বনের ভেতর দিয়ে পূর্ণিমার জেগে ওঠা চাঁদের মত।
২০০৬ সন। বই তো ছাপানো হলো। সেই সাথে নতুন জব এর সদ্য পোষ্টিং। তাও আবার কক্সবাজারে সদ্যপ্রসূত টেকনলজি সাবমেরিনকেবল ল্যান্ডিং ষ্টেশনে। প্রচন্ড নির্জনতা এক সদ্য কবির সে কি আকাল আমার তখন। সবচেয়ে কষ্ট হতো খাদ্য বিষয়ক মৌলিক অধিকার খর্ব হওয়ায়। মাঝে মাঝে সেই ৫ কিমি পারি দিয়ে সাগর পাড় এর নামীদামী হোটলে থেকে খেয়েও আসতাম। বাঁচতে হবে তো? ওদিকে ঢাকায় মেলা ডাকে। মেলায় আমার বই নিভৃতে অসংখ্য পুস্তকের বনে ভীষন একা। আর আমি একা সাগরের পাড়ের অসীম ভালো লাগা মাঝে ভীষণ নির্জনতার কষ্টে।
সাল ২০০৭ । জীবনের অন্যতম এক কঠিন বাস্তবতার স্পষ্ট মুখোমুখি। মেলায় দুদুটো বই। কক্সবাজার থেকে ঢাকায় এসে মেলার প্রথম সপ্তাহে দুটো দিন বেশীই থেকে গেলাম। তারপর সেই ভয়াবহ দিন জীবনের । ১২ই ফেব্র“য়ারী বাবা মারা গেলেন। অপ্রত্যাশিত। প্রাণের মেলায় বাকীদিনগুলো আর আমার প্রাণ পেলো না।
সাল ২০০৮ । বই প্রকাশের কোন নিয়ম কেনো নেই এ দেশে, সে ব্যথায় এতই ব্যথিত হয়ে থাকলাম যে শেষমেষ আর কোন বই প্রকাশের ইচ্ছেই হলো না।
সাল ২০০৯ । এবার একটু ভিন্ন আঙ্গিকে একটু ভিন্ন  মাত্রায় নতুনউদ্যেগে প্রকাশ করালাম তথাপি নামের গল্পের বই। মেলায় সেবার  ব্লগ এর ছোঁয়া ঢুকে পড়ায় জমজমাট আড্ডার হদিস পাওয়া যায় নিত্য। তারউপর যুদ্ধাপরাধী হারামীগুলোর শাস্তিও দাবীতে গণ স্বাক্ষরতার সুবাদে অনেক ব্লগার পরিচিত অপরচিতি মিলে বেশ ভালো ভাবে কেটে ছিল । যদিও নোভিশ এই গল্পকারের বইটি হাতে নিয়ে হয়তো দেখেই নি খুব একটা কেউ। ওতে কিছু যায় আসে না। কারন আামর শখ পূরন তো হয়ে যায়। বেঁেচ যাই মানসিক যন্দ্রনার হাত থেকে।
সেই যন্ত্র না মুক্তির দায় হতেই ২০১০ সালে এবার আবার প্রকাশ করালাম প্রথম উপন্যাস - প্রতীতি। কিন্তু হায় কপাল। উপন্যাস এর পিছে দৌড়ানোর আগেই জীবনটাই উপন্যাস হয়ে যাবার কাল ঘনিয়ে এল। মেলায় আমার বই এল ১২ই ফেব্র“য়ারী আর বিয়ের কথা পাকাপাকি হবার জন্য হবু শশুর বাড়ী উপস্থিত হলাম স্ব পরিবারে ২০ শে ফেব্রুয়ারী। আর কি মেলা ভালো লাগে। ভালো লাগে নিজের পছন্দ করা পাত্রী আর বাড়তি উচ্ছাস এই কারনে সেখানে এখন সর্বসম্মতি।  
সে সম্মতির এতটাই প্রবলতা , মার্চ ৫ তারিখেই নির্ধারিত হলো এনগেজমেন্ট কাম কাবিন । আর মাত্র দুটো দিন বাদেই। বই মেলার শেষ দিনগুলো বড় ডেকেছে , শোনার সময় হয়নি। আমরা বন্ধুর শেষদিনের জমপেষ আড্ডাট্ওা মিস হয়ে গেলো।
তবে এই বার অনেক পেলাম একুশে মেলায়। প্রথম বারের মত , হোক ক্ষুদ্র পরিসরে, আমার উপন্যাসের মোড়ক উন্মোজন নামক একটা কিছু হলো আমরাবন্ধুর বন্ধুদের ঐকান্তি সহায়তায়। আমি চিরকৃতজ্ঞ তাদের এই আন্দরিকতায়।
যদিও এই নিজেই লেখা , নিজেই প্রকাশ আবার নিজেই ঢাক ঢোল শেষে নিজেই উন্মোচন...এইসব ঘুনে ধরা প্রকাশনা সাহিত্য জগতটা একদম শেষ করে দিচ্ছে। কি যে করে বাংলা একাডেমি আল্লাহই জানে। সুস্থ সুন্তর নিয়ম চাই, ব্যবস্থা চাই --- বই প্রকাশের । এই আমার প্রাণের দাবী।
আশা করি আগামী বইমেলায় স্বস্ত্রীক স্ব বই সহকারে লেখক জীবনের পুনর্জন্ম নেবো।

৩/২/১০
রাত ১:৪৫

পোস্টটি ৮ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

কাঁকন's picture


অভিনন্দন

নুশেরা's picture


আগামী বইমেলায় সন্তান জন্মের হ্যাপায় না পড়ে যান সেই চিন্তা হইতেছে Tongue

তানবীরা's picture


আমিওতো এই কথাটাই ভাবছিলামগো

নড়বড়ে's picture


অভিনন্দন মামুন ভাই। সামহোয়ারইনের একদম শুরু থেকে আপনাকে চিনতাম(এক বন্ধু আলাদা করে চিনায় দিছিল, কেন সেইটা পরে কখনো বলব নে Wink)-তখনই জানতাম বই বের করেছেন। নিয়মিতই পড়তাম আপনার লেখা, কিন্তু মাঝখানে সামহোয়ারইনে যাওয়া বাদ দেয়ায় আর পড়া হয় নাই।

মামুন ম. আজিজ's picture


খোলস খোলাশা করুন

মুক্ত বয়ান's picture


হ.. এইটা কইলেন না কেন, আগে লুলামি করা যাইতো, এইবার ভাবি থাকায় লুলামি কর্তারেন নাই!! Tongue out
বইটা পড়া শুরু কর্ছি। এখনো শেষ কর্তারি নাই। Sad

টুটুল's picture


বই বউ .. আহা...
তয় নুশেরাপার কথাটা মনে রাইখেন Smile

মামুন ম. আজিজ's picture


বউএর পড়াশুনাটা বেশী ইমপোরটেন্ট ......তো

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.