ইউজার লগইন

নিকোলাস'এর ব্লগ

অন্য বুঝ।

কিছু কিছু গান আছে না, যে গানের প্রথম কয়েকটা লাইন শুনলে অন্য বুঝ হয়!
এই যেমন ধরেন, “ তুমি এসেছিলে পরশু, কাল কেন আসনি?
-----মনে হয় না, অফিসের কর্তা কর্মচারীরে কইতাসে, “পরশু অফিস কইরা গেলা, কাইল তো আর আইলা না। কামাই দিলা কেন?”
আবার ধরেন, “তোমার বাস কোথা যে পথিক,
ওগো দেশে কি বিদেশে?”
মনে হয় না , প্রশ্নকর্তা যাইচা নিমন্ত্রণ চাইতাসেন! পরের বাক্যেই হয়তো জানতে চাইবেন, “ওই এলাকায় বাসা ভাড়া কি রকম।“
পরের লাইন গুলা দেখেন, উত্তরদাতা বেশ টেকনিক কইরা কাটায় দিলেন। “আমার বাস কোথা যে জানো নাকি! শুধাতে হয় সে কথাটি।“
ভাবটা এমন, “কন কি, আমার বাসার ঠিকানা জানেন না! এইটা আবার জিগাইতে হয়!”
“সব সখীরে পার করিতে নেবো আনা, আনা।
আর তোমার বেলায় নেবো সখি, তোমার কানের সোনা।“ গানটা সবাই শুনছেন।
মনে হইতে পারে কি, মাঝি কইতে চাইতাসে ”তোমারে নাওয়ে নিতে গেলে ডুইবা যাইবার সম্ভাবনা আছে। তাই, নাও-য়ের দামটা আগেই নিয়া রাখি।"
আবার ধরেন এই গানটা, “আজকে নাহয় ভালোবাসো, আর কোন দিন নয়।“
কন দেহি, এই লাইন দুইটা কাউরে কইলে জুতা খাওন লাগবো না! গণপিটুনিও খাইতে হইতে পারে।“

হারিয়ে যাওয়া খেলা।

আজ এক কাজে গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলাম। সেখানে আমার সাত বছরের ভাতিজা কে দেখলাম একটা লাঠি নিয়ে খেলছে। জিজ্ঞেশ করলাম, কি খেলছিস রে? বলে, “কিছু না। এমনি।‘ চেষ্টা করলাম খেলাটা বোঝার জন্য। কেমন খেলা, কি নিয়ম মেনে খেলা হছে । দেখলাম, শুধুমাত্র একটা লাঠি মাটিতে গাড়ার চেষ্টা। কে কতটুকু মাটিতে গাড়তে পারে। ভাতিজা একবার গাড়ছে, মাপ নেবার পর আরেকজন আবার মাটিতে গাড়ছে। তারপর জয় পরাজয়। গ্রামের বাড়িতে মাটি পেয়ে নতুন একটা খেলা তৈরি করেছে।

নাম কীর্তন!!!

কোন জায়গা বা মানুষের নাম শুনলেই মনের মধধে একটা না একটা ছবি ভেসে ওঠে। তারেই বুঝি কয় নামকরনের সার্থকতা! তয় কয়টা জায়গা বা মানুষের নাম যথার্থ, সেইটা নিয়া বোধ করি আমার মতো আপনেরাও সন্দিহান। প্রতিটা ফ্যামিলি-তেই বাবু নামের কেও না কেউ পাইবেন। কন তো, কয়টা বাবুর মধধে বাচ্চা সুলভ বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান? পাইবেন না। আসলে বাবা মায়েরা নিজের পোলাপান-রে চিনে, এইটা খুব একটা মনে হয় না। নইলে, কোমল নামের মাইয়া-টার মনটা, কেন আমার জন্য কোমল হইল না! আমার সাথে যেইরকম আচরণ করসে, তাতে শিরীষ কাগজও মোলায়েম মনে হয়। আবার শিলা’র মতো নরম মনের মাইয়া আমি আর দেখি নাই। কলেজে প্রতিদিন-ই আমাগো কিছু না কিছু খাওয়াইতো। খালি কইলেই হইত, “দোস, খিদা লাগসে।“ আবার কোন কোন বাপ মা কিন্তু নিজের ছেলেমেয়েরে ঠিক-ই চিনতে পারে। কলেজের ‘লীলা” যেই লিলাখেলা দেখাইসে! এক ইয়ারেই তিন তিনটা সম্পর্ক!

হাম তুমকো দিল দিয়া তোফা সামাঝকে, তুম উসপর বইঠ গিয়া সোফা সামাঝকে!

আমার এক ছোট ভাই সেইদিন খুব আক্ষেপ কইরা কইতাসিলো,” ভাই’ “ও”রে প্রপোজ কইরা কি যে বেকায়দায় পড়লাম!“ জিগাই, “‘ও’ টা কে?” (জানি তো ‘লিলি’ই। প্রেমে পড়ার পর থেইকা হের নাম মুখে লয় না। ক্লাসের নীলা, স্রাবন্তি, সুমনা সবার নাম-ই শুনা যায়। খালি লিলি আইলেই “ও”। আর আমারও চেষ্টা থাকে, নামটা উচ্চারণ করানোর।) ভাবলাম, প্রপোজাল গ্রান্ট হয় নাই। উল্টা হুমকি খাইলো কিনা। সান্ত্বনা আর সাহস দিবার প্রস্তুতি নিতাসি, এর মধধেই কইতে শুরু করলো, “ভাই, এখন তো আর নিজের কোন কিছু নাই। সকাল, দুপুর, বিকাল, রাত, খালি ফোন আর ফোন। বন্ধুগো আড্ডায় ফোন। ট্রাফিক জ্যামের দিবানিদ্রায় ফোন। বাথরুমে গিয়াও ‘ও’র ফোনের আলাদা রিং টোন শুনতে পাই! “কোথায় আছো?” “কি করছো?” “এতক্ষন কোথায় ছিলা?” “তোমার ওই বন্ধুটা ভালো না।“ “এতো রাতে আবার চটপটি খাচ্ছ কেনো!” ভাই’ এ তো কারাগার!”

নিজগুণে ক্ষমা করার আশ্বাস...।

তানবিরা আফা’র ‘ব্যবচ্ছেদ’ পোস্ট-এর অংশবিশেষ দিয়া শুরু করি, “লেখা আর লেখককে মিলাতে আমি নারাজ। একটা লেখক অনেক মুড থেকেই একটা লেখা লিখেন। প্রত্যেকটা লেখা লেখকের চরিত্রকে ধারন করে, তাই কি?”। সম্পূর্ণ একএকমত।

মনটা ভালো না!

মনটা ভালো না। এমন এক বিব্রত অবস্থার মধ্যে পরসিলাম। খুইলাই কই...। না থাক...। এই ঘটনা অন্য কোন দিন কমু। আজ অনেক বছর আগের এক ঘটনা কইতাসি। সেই দিন এমুন অবস্থার মধ্যে পরসিলাম!

অলসতা....

সকাল থেকেই শুয়ে শুয়ে ভাবছি, মানুষ কি ভাবে শুয়ে বসে জীবনটা পার করে দেয়! ঘুমিয়েই ছিলাম, একটা কল আসায় জেগে উঠতে হল। কম্পিউটার এ সমস্যা। যেতে হবে।মুখে মুখে বলে দিলাম, সমাধান হল।
যাক, যা ভাবছিলাম। মানুষের অলসতা নিয়ে। কেউ শুয়ে আছে, দেখলেই আমার শরীর কিরবির করে। এত মুলবান সময়, এইভাবে পার করে কি করে মানুষ! মনে হয় ধাক্কা দিয়ে তাকে শোয়া থেকে উঠিয়ে দেই। ঘুমাতে দেখলে, পানি ঢেলে তার ঘুমের বারোটা বাজাতে ইচ্ছে করে। সময়ের মূল্য নিয়ে বাংলা/ ইংলিশ- এ যত ধরনের প্রবাদপ্রবচন আছে, সবগুলো তাকে গিলিয়ে দিতে ইচ্ছে করে। এর মাঝে আবার দরজায় আওয়াজ!
ধ্যাত! একটু শুয়ে থাকতে দেখলে কারোর সহ্য হয় না। যাক বাবা, অন্য কেউ নয়। মা। বললেন, খবরের কাগজ দিয়ে গেছে। মাকে বললাম, এই ঘরে দিয়ে যাও। কে আবার উঠবে?