ইউজার লগইন

মনটা ভালো না!

মনটা ভালো না। এমন এক বিব্রত অবস্থার মধ্যে পরসিলাম। খুইলাই কই...। না থাক...। এই ঘটনা অন্য কোন দিন কমু। আজ অনেক বছর আগের এক ঘটনা কইতাসি। সেই দিন এমুন অবস্থার মধ্যে পরসিলাম! তখন ফাস্ট ইয়ারে পড়ি। ঠোটের উপরের লোমগুলা কালো হওয়া মাত্র শুরু হইসে। নিজেরে বালক থেকে ব্যাটা ভাবতে শুরু করসি। মেয়েদের দিকে আড়ে আড়ে চাই। চোখে চোখ পড়লে, লজ্জায় লাল হয়া যাই। মায়ের সাথে কোথাও যাইতে হইলে আত্মসম্মানে লাগে। । দুনিয়াটা আমার জন্যই তৈরি বইলা মনে হয়। কলেজের সামনের রহমত ভাই’এর দোকান থেইকা একটা সিগারেট ধরাই। আর কাশতে কাশতে মূল দালানের দিকে হাটতে থাকি। এই সিগারেট এর টাকা তো আর মায়ের কাছ থেকে চাওয়া যায় না। তাই, প্রতিদিনের বাজারের দায়িত্ব-টা নিজের কাধে নিয়া নিসি। ওইখান থেইকা টু-পাইস কামাই হয়। তো, একদিন বাজারে গেসি। পায়ে চটি। এখনকার মতো সামনের দিকটা থেবড়ানো না, সুচালো। আধা কেজি টমেটো কিনা টাকা দিতাসি, এর মধ্যে একজন মুরুব্বি বাম হাতে লাঠিতে ভর দিয়া আমার পাশে আইসা দাড়াইসে। উনার সাথে ঝাঁকা লয়া এক পিচ্চি। আমি ভাংতি টাকা নিয়া ফেরত আসুম, দেখি আমার ডান পায়ের চটি আর নড়ে না। খেয়াল কইরা দেখি, মুরুব্বির লাঠির ভর আমার চটির আগার উপর! আমি কই, আঙ্কেল’ আমারে যাইতে দেন। মুরুব্বি কানে শোনে না। খেয়াল কইরা দেখি, উনার কানে হেয়ারিং এইড। মর জ্বালা। আবারো কই, আঙ্কেল একটু সইরা দাঁড়ান। মুরুব্বি তখন একটা একটা কইরা টমেটো বাইছা পাল্লায় রাখতাসে। ভাবলাম, টমেটো কেনা শেষ হইলে ব্যাক করবো। আরে না। টমেটোর পর উনি বেগুন বাছা শুরু করলেন। ফ্যামিলি মনে হয় বিশাল, কেজি দুই বেগুন কিনলেন। এর মধ্যে পিছনে অন্য লোক আইসা দারাইসে। কইতাসে, কেনা শেষ হইলে সইরা যাইতে। আমি আর কি করুম, চটিটা মুরুব্বির লাঠি নিচে রাইখা নিজের পা সরায় নিলাম। বাজারে আবার প্যাচপ্যাচে কাঁদা। তাই, ডান পা উঁচু কইরা দাড়ায় রইলাম। নিজেও বুইঝা সারতে পারি নাই, আমারে কেমুন লাগতাসে। একজন আইসা যখন জিজ্ঞেশ করলো, বেয়াদপি করসেন বুঝি! তখন বুঝলাম! কেউ কেউ আবার ভাবসে, আমারে চোর মনে কইরা শাস্তি দেয়া হইতাসে। ইতিমধ্যে মুরুব্বি আবার এককোয়া রসুন বাছা শুরু করসেন! এইবার বুঝলাম, সত্যি-ই আমার শাস্তি হইতাসে। বাজার থেইকা চুরি করি বইলা আল্লাহ-ই শাস্তি দিতাসে। প্রতিজ্ঞা করলাম, আর বাজার থেইকা চুরি করুম না। আম্মারে সঠিক হিসাব দিমু। আল্লাহর কি রহমত। দোকানদার এত বাছাবাছি কইরা বিক্রি করবো না বইলা ইশারায় বুঝায় দিলো। মুরুব্বি টাকা মিটায় চলে গেলেন। যাবার সময় দেখি, উনার সাথের ঝাঁকাওয়ালা পিচ্চিটা মুচকি মুচকি হাসতাসে... হালায়, পুরা নাটক-টাই বিনা টিকিটে দেখসে...।।

পোস্টটি ১২ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

তানবীরা's picture


Rolling On The Floor Rolling On The Floor Rolling On The Floor Big smile Big smile Big smile

অসাধারণ

নিকোলাস's picture


ধন্যবাদ। Smile

মীর's picture


আহা কুট্টিকালের সেই পয়সা মারার ফিকির। Day Dreaming
আমি আমার কুট্টিকাল ফিরত চাই Crying Crying Crying Crying

নিকোলাস's picture


Wink

শওকত মাসুম's picture


এইগুলা সব খুচরা পাপের শাস্তি Tongue

নিকোলাস's picture


শাস্তি তাস্তি কিছু না রে ভাই, এইডাই লাইফ! Tongue

লীনা দিলরুবা's picture


পুরো ঝাক্কাস পোষ্ট Big smile

নিকোলাস's picture


হেঃ হেঃ কি যে কোন! :\

উচ্ছল's picture


হাহাপেফা Rolling On The Floor ....ছোট বেলার কথা মনে পইড়া গেলরে.....

১০

নিকোলাস's picture


ধন্যবাদ। Smile

১১

টুটুল's picture


হাহাহাহাহাহাহাহা

বাজার থেকে টাকা মারিংটা সেই সময়ে একমাত্র উপার্জনের রাস্তা ছিল Smile

১২

নিকোলাস's picture


হ... কামাইতাম খারাপ না...

১৩

নীড় সন্ধানী's picture


Laughing out loud Laughing out loud Laughing out loud Laughing out loud
ভালো কথা মনে করাইছেন। আমি বাজারের টাকা মারতাম ন্যায্যমূল্যে। দুই যুগ আগের সেই সময়ে বাজার করার জন্য দেয়া হতো ৫০ বা ১০০ টাকা। শুধু সবজি হলে ৫০, মাছ মাংস থাকলে ১০০। আমার রেট ছিল ৫০ টাকায় ২ টাকা, ১০০ টাকায় ৫ টাকা। এর চেয়ে সুবিচারক ছেলে আমার পিতামাতা কই পাবে বলেন? Tongue

১৪

নিকোলাস's picture


সুবিচারক মানে??!!! আপনি হইলেন আদর্শ পোলা।

১৫

জেবীন's picture


Big smile Big smile আরে, আদ্দিকালের দুঃখের কাহিনীই দেখেন এখন কি মজার হয়ে গেছে! Tongue
তা এখনকার কাহিনীটা কি দুঃখের থাকতে থাক্তেই জানাবেন নাকি জমে মজার হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকবো?

১৬

নিকোলাস's picture


আপনার কাছে মজা লাগসে বুঝি!!
কষ্ট পাইলাম!
দুনিয়ার রীতি-ই এই। একজনের বিড়ম্বনা, তো আরেকজনের মজা! Wink
আর এখনকার কষ্টের কাহিনী শুনতে চান বুঝি?
মাইনশের কষ্ট শুইনা, কি সুখ?!
যাউক গা। রিকোয়েস্ট আবার ফালাইতে পারি না।
কাহিনীর প্লট এখনো মাথায়ই আসে না। প্লট কবে মাথায় আসে, আদৌ আসে কিনা আল্লাহই জানে! আইব, ওই প্লট সাজায় সাজায় লিখতে কত সময় নেয়, ক্যামনে কই।

১৭

নিঝুম অরণ্য's picture


Rolling On The Floor Rolling On The Floor Rolling On The Floor

১৮

নিকোলাস's picture


ওই যে! আবার হাসে! ভাই, জীবনে হাট বাজারে এক পায়ে খাড়ায় থাক্সেন কখনো!
হাইশেন না। টিস্যু দেন, চক্ষুটা মুছি। টিসু

১৯

সবুজ পাহাড়ের রাজা's picture


মজা পেলাম।
Rolling On The Floor
------------------------------------------------
পুরুষের দশ দশা; কখনও হাতি, কখনও মশা।

২০

নিকোলাস's picture


হেভি একখান ডায়লগ দিলেন তো...
মনে রাখলাম, হাতি-ও হমু একদিন।
Big smile

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.