ইউজার লগইন

বর্তমান রোহিঙ্গা সমস্যা ও আমরা

রোহিঙ্গা সমস্যা এখনকার নয়। বাংলাদেশ জন্মের আগে এমন কি ভারতের জন্মের আগে থেকে এই সমস্যা।তারা কোন্দেশের নাগরিক নয়। তারা বাস করে মিয়ানমারের ভুখন্ডে। তাদের ভাষ্যে তারা হাজার বছরে ধরে আরাকান রাজ্যে বসবাস করছে। তাদের ইতিহাস হাজার বছরের পুরানোতাই সঙ্গত কারনে বাংলাদেশ সরকার তাদের জাতীয়তা দেওয়ার বা বাংলাদেশের নাগরিক হিসাবে স্বীকার কোন প্রশ্নই আসেনা।

অন্যদিকে ৫০ বছর ধরে মিয়ানমারে চলছিল সামরিক শাসন। চীন পন্থি এই সামরিক শাসকদের যথেষ্ট শক্তি ছিল গণচীনের মতো মিয়ানমার-কে নাস্তিক্যবাদে দীক্ষিত করা। কিন্তু বৌদ্ধ ধর্মের থেরবাদে বিশ্বাসী মিয়ানমারের জনগন আসলেই খুব মৌলবাদী। চীনা পন্থি সামরিক শাসনের বেড়ার মধ্যে থেকেও তারা তাদের মৌলবাদীত্ব বজায় রেখেছে। মিয়ানমারের সামরিক শাসক কিংবা অহিংস মানবতাবাদী গৌতম বুদ্ধের অনুসারী মিয়ানারের জনগণও রাখাইনের এই রোহিঙ্গাদের মেনে নেয়নি। তাদের মতে- রোহিঙ্গারা তাদের শারীরিক কাঠামো, গায়ের রঙ কিংবা চেহারা, কিছুতেই মিল রাখে না। বরং তারা বাংলাদেশ কিংবা ভারতের আসামের লোকদের সাথে মিলে যায় বেশ। আবার বাংলায় কথা বলে। সবচেয়ে বড় পার্থক্য তারা মুসলিম। তাই মিয়ানমারের কি সামরিক জান্তা কি জনগন কেউ রোহিঙ্গাদের সে দেশের বলে মেনে নেয়নি কখনো নিবেও না।

ইতিহাস বলে ১৯৪২ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপান মিয়ানমার দখল করলে ব্রিটিশরা মিয়ানমার থেকে কক্সবাজার আসতে পালিয়ে বাধ্য হয় সাথে ২২০০০ রোহিঙ্গা সহ। পরে ব্রিটিশরা রোহিঙ্গাদের স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র গড়ে দেওয়ার শর্তে তাদের সাথে জাপানের বিরুদ্ধে যোগ দেওয়ার আহবান জানায়। পরবর্তিতে ১৯৪৮ সালে মিয়ানমার স্বাধিন হলে রোহিঙ্গারা আলাদা রাষ্ট্র গঠনের জন্য সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করে। কিন্তু তাদের এই সংগ্রাম বিফল হয়। সে সময়ে জন্ম নেওয়া অবিশ্বাস এখনও রোহিঙ্গাদের তাড়া করে ফেরে। ফলে তারা দিনে দিনে একটি রাষ্ট্রহীন উদ্ভাস্তুতে পরিনত হয়। প্রায় অর্ধশতাধিক বছর যে মিয়ানমার সরকার তাদের স্বীকৃতি দেয়নি ভবিষ্যতে সে সরকারের কাছে তাদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধান করা অলিক কল্পনা বই কিছু না।

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশঃ

এই পর্যন্ত মোট চারটি ধাপে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রবেশ করে-
১ম বারঃ
১৭৮৪ সালে রাজা বোদাওপায়া আরাকান দখল করে তাঁর রাজধানী গঠন করলে

২য় বারঃ
জাপান বার্মা (মিয়ানমার) দখল করে ব্রিটিশদের বিতাড়িত করলে ২২০০০ রোহিঙ্গা বাংলাদেশ প্রবেশ করে।

৩য় বারঃ
জেনারেল নে উইন ১৯৭৮ সালে অপারেশন ড্রাগন কিং-এর মাধ্যমে নাগরিকত্ব নথিবদ্ধ করার মাধ্যমে আদম শুমারি করার প্রাক্ষালে বিদেশিদের বাছাই করার মাধ্যমে। এই সময় প্রায় ২০০০০০ রোহিঙ্গা বাংলাদেশ অনুপ্রবেশ করে পরে GoB ও UN-এর চাপে ফেরত নিতে বাধ্য হয়। সেবারও অনুপ্রবেশকারীরা তাদের হত্যা ধর্ষনের অভিযোগ আনেন।

৪র্থ বারঃ (সবচেয়ে বেশী)
১৯৯১-৯২ সালে The State Law and Order Restoration Council (SLORC) উত্তর রাখাইন রাজ্যে মুসলিম সন্ত্রাসীদের দমনের জন্য সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে দেয়। এই সময় তারা বাংলাদেশ বর্ডার অব্দি নানা সামরিক স্থাপনা নির্মান করে। এই সময় রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছাশ্রমে বাধ্য, জমি দখল, স্থানান্তর, শারীরিক নির্যাতন, হত্যা ধর্ষন করে। মসজিদ ভেঙ্গে দেওয়া হয়, ধর্মিয় কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়, মুসলিম নেতাদের লাঞ্ছিত করা হয়।

বর্তমান রোহিঙ্গা সংখ্যাঃ
বর্তমানে বাংলাদেশের কক্সবাজারে দুটি ক্যাম্পে ২৯০০০ হাজার রোহিঙ্গার বসবাস। তারা ৯১-৯২ সালে আসা ২৫০০০০ রোহিঙ্গা-এর অংশ। বাংলাদেশ সরকারের হিসাবে বর্তমানে ২০০০০০ রোহিঙ্গা কক্সবাজারের বিভিন্ন গ্রামে বসবাস কছে। উত্তর রাখাইন রাজ্যে মোট রোহিঙ্গার সংখ্যা ছিল ৮০০০০০ তাঁর প্রায় ৩০% বাংলাদেশে অবস্থান করছে সেই ১৯৭৮ কিংবা ৯১/৯২ সাল থেকে তাদের নিজ দেশে ফেরত যাওয়ার কোন লক্ষন নেই। মিয়ানমার সরকার নেওয়ার বিন্দু মাত্র ইচ্ছা পোষন করে না।

সরকার বা আমাদের কি করনীয়ঃ
আমদের সরকার কিছু করতে পারবে না কারন বাংলাদেশের সরকারের ঘাড়ে এখন প্রায় ১৭ কোটি উর্ধ জনগনের ভার। যাদের মানবতার নিশ্চয়তা কোন সরকারই এখনো প্রতিষ্টা করতে পারেনি। পেপার খুললেই বাংলাদেশের জনগনের মানবতা বিপন্ন হওয়ার নমুনা দেখা যায়। সেই সাথে আছে ১৯৭৮/১৯৯১-২ সালে মানবতা দেখানোর ফলাফল ২৯০০০ রেজিস্টারকৃত আর ২০০০০০ পলাতক রোহিঙ্গা। তাই যে দেশের কোনও সরকার আজো পর্যন্ত তাঁর নিজের জনগনের মানবতা রক্ষা করতে সামর্থ হয়নি সেই দেশের সরকারের কাছে আবার বাইর থেকে মানবতা ধার করে আনার কথা আশা করা মুর্খতা বই কিছু না।

এক কাজ করা যায় আমরা যারা মানবতা নিয়ে লাফাচ্ছি তারা কেন বাংলাদেশে অনুপ্রবেশে চেস্টাকারীদের কাছে গিয়ে একেক জন একেক জনের ভার নেই না। এই ব্যাপারে আমরা সরকারের কাছে আবেদন করতে পারি “আমরা প্রত্যেকে একজন রোহিঙ্গার ভার নেব”। তাঁর ভরণপোষণ বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সকল কৃতকার্যের জন্য দায়ী থাকব।
আর এই কাজ যদি আমরা কেউ করতে না পারি তাহলে আসেন আমরা ব্লগে বা ফেবুতে সস্তা মানবতা দেখানোর ভন্ডামী তুলে রেখে ফেবুতে মেয়েদের ওড়না নিয়ে আলোচনা করি। আর আমি কে? কি করি?? কি করতে পারি??? তাঁর ফিরিস্তি দেই।

অফ টপিক একটা গল্পঃ
২০০১ সালে বিম্পি সরকার ক্ষমতা গ্রহনের পর আমার এক আম্বি বন্ধু হল থেকে বিতাড়িত হয়ে তাঁর বন্ধুর বাসায় আশ্রয় নেয়। তিনদিন রেখে খাওয়ানোর পরে তাঁর বন্ধু আমার বন্ধুকে বলে-
“বন্ধু অনেকদিন তো খেলে, থাকলে আর কতদিন থাকবে?? আরো যদি থাকতে চাওতো আজ থেকে খাবার মিলের টাকা দিয়ে দিও।“

আরেক বন্ধু মফঃস্বল থেকে এসে ঢাকা থাকতো তাঁর বন্ধুদের বাসায়। সে আবার একবাসায় বেশিদিন থাকতো না। একেকদিন একেক জনের বাসায়। আর যে বাসায় থাকত সে বাসায় অপর বন্ধুদের নিয়ে বদনাম করত। এ রকম করতে করতে এক সময় বন্ধুরা বুঝে গেলো সে ব্যাটার আর যাওয়ার নাম নেই। তখন থেকে সে প্রায় সবার বাসায় অবাঞ্ছিত হয়ে গেলো। —

তথ্যসুত্রঃ-
Rohingya refugees in Bangladesh and Thailand
http://www.nyidanmark.dk/NR/rdonlyres/B08D8B44-5322-4C2F-9604-44F6C340167A/0/FactfindingrapportRohingya180411.pdf

পোস্টটি ১০ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


আমদের সরকার কিছু করতে পারবে না কারন বাংলাদেশের সরকারের ঘাড়ে এখন প্রায় ১৭ কোটি উর্ধ জনগনের ভার। যাদের মানবতার নিশ্চয়তা কোন সরকারই এখনো প্রতিষ্টা করতে পারেনি। পেপার খুললেই বাংলাদেশের জনগনের মানবতা বিপন্ন হওয়ার নমুনা দেখা যায়। সেই সাথে আছে ১৯৭৮/১৯৯১-২ সালে মানবতা দেখানোর ফলাফল ২৯০০০ রেজিস্টারকৃত আর ২০০০০০ পলাতক রোহিঙ্গা। তাই যে দেশের কোনও সরকার আজো পর্যন্ত তাঁর নিজের জনগনের মানবতা রক্ষা করতে সামর্থ হয়নি সেই দেশের সরকারের কাছে আবার বাইর থেকে মানবতা ধার করে আনার কথা আশা করা মুর্খতা বই কিছু না।

সহমত।

কর্নফুলির মাঝি's picture


কি আর করার আছে!!

অনিমেষ রহমান's picture


লেখা চমৎকার!
কিন্তু আমাদের কিছু করার থাকলে রাষ্ট্রীয়ভাবে করা উচিত!!

কর্নফুলির মাঝি's picture


মিয়ানমার চায় রোহিঙ্গাদের সমূলে বিতাড়ত করতে। বাংলাদেশ সরকার যা পারে তা হলো সবাইকে বাংলাদেশি বলে স্বীকৃতি দিতে।

আর কিছু করার নাই।

অনিমেষ রহমান's picture


দায়িত্ব নিতে হবে জাতিসংঘকে, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক লেভেল এতো উপরে আসে নাই যে তারা এতো মানুষের দায়িত্ব নিতে পারবে আর মৌলবাদী রাজনীতির হাওয়া তো আছেই!!

কর্নফুলির মাঝি's picture


মৌলবাদী রাজনীতির হাওয়া তো আছেই!!

৬ টি তার's picture


এক কাজ করা যায় আমরা যারা মানবতা নিয়ে লাফাচ্ছি তারা কেন বাংলাদেশে অনুপ্রবেশে চেস্টাকারীদের কাছে গিয়ে একেক জন একেক জনের ভার নেই না। এই ব্যাপারে আমরা সরকারের কাছে আবেদন করতে পারি “আমরা প্রত্যেকে একজন রোহিঙ্গার ভার নেব”। তাঁর ভরণপোষণ বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সকল কৃতকার্যের জন্য দায়ী থাকব।

সহমত।

আরাফাত শান্ত's picture


কাজের কথা। ভালো কথা। কিন্তু ভালো কথা কেউ শুনে না!

কর্নফুলির মাঝি's picture


হুম, বিগত ইতিহাস বলে রোহিঙ্গা আমাদের জন্য অভিশাপ।

১০

তানবীরা's picture


ভালো লেখা। ডিজিটাল মানবতাবাদীরা বুঝলেই হয়

১১

কর্নফুলির মাঝি's picture


নিচে জবাব পেয়েছেন মনে হয়।
Big smile

১২

রাসেল আশরাফ's picture


কী জানি যখন সরকার কয় শরনার্থী ঢুকতে দিমু না তখন মনে হয় ঠিকই বলে আবার যখন বৃষ্টির মধ্যে ভিজে কোন বাবা করজোড়ে সন্তানের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য জায়গা ভিক্ষা চাচ্ছে তখন মনে দেই না একটু থাকতে ক্ষতি কী। Sad

১৩

কর্নফুলির মাঝি's picture


এখন ক্ষতি নাই হয়তো কিন্তু এখন ধর ১০০০ লোকরে আশ্রয় দিলা। তাদের শুনে ১০০০০ লোক আসবে তারপর লাখ। এখান আছে প্রায় ৩ লাখ। সর্বমোট রোহিঙ্গা ৮ লখা উর্ধ। চিন্তা করো এর অর্ধেকও আসলে হয় মোট ৫-৬ লাখ। তুমি ঢাকা বসে আস্তে বলছ একবার ভাবো যে এলাকায় আসবে সে এলাকার লোকের কথা। এগুলো ঢাকা থেকে বলতে ভালো। এলাকায় যাও আর ভালো লাগবে না।

১৪

স্বপ্নের ফেরীওয়ালা's picture


জাতি হিসাবে আর কিছু না থাকুক অন্ততঃ আমাদের মনটা ভাল ছিলো, বড় ছিলো। দূঃখের বিষয়, এখন সেটাও হারাতে বসেছি...

~

১৫

কর্নফুলির মাঝি's picture


মানবতা দেখানোর কোন উপায় নেই আমাদের,

তাহলে আসাম, নেপাল থেকে মাও আর উলফা গোরেও লইয়া আসেন। তারপর মানবতার ষোল করা পূরণ করেন।

১৬

স্বপ্নের ফেরীওয়ালা's picture


মানবতা দেখানোর কোন উপায় নেই আমাদের

মানুষ হলে মানবতা দেখাতে হবে। নিজেরে অন্য কিছু পরিচয় দিলে বলার কিছু নাই অবশ্য...

তাহলে আসাম, নেপাল থেকে মাও আর উলফা গোরেও লইয়া আসেন। তারপর মানবতার ষোল করা পূরণ করেন।

মাও আর উলফারা কবে এইখানে আসতে চাইছে জানা নাই। মানুষ হতে হলে আসলেই অনেক কলা পূরণ করতে হয়।

আফ্রিকারে বাদ দিলে, সব জায়গাতেই মানুষ অভিবাসী, কোথাও দুই-চার বছর আগে, কোথাও দুই-চার শত বছর বা তারও কিছু আগে, এই যা পার্থক্য।

~

১৭

কর্নফুলির মাঝি's picture


মানুষ হলে মানবতা দেখাতে হবে। নিজেরে অন্য কিছু পরিচয় দিলে বলার কিছু নাই অবশ্য...

মাও আর উলফারা কবে এইখানে আসতে চাইছে জানা নাই। মানুষ হতে হলে আসলেই অনেক কলা পূরণ করতে হয়।

তাইলে হুদা আইতে চাইলেই তাগো দিকে খেয়াল রাখাটারে কয় মানবতা!!! হেরাওতো মরতাছে। হেগোরে জোড় কইরা আইনা ঘরে রাখন যায় না!! তাইলে মানবতা পোক্তা হইত না!!
হেরা যদি তাগো দেশে থাকতে পারে তাহলে রোহিঙ্গারা পারেনা কেন!!! রোহিঙ্গারা পারেনা বইলা আমাদের তাগোরে কোলে তুইলা আমাগো দেশে আনাটাই মানবতা। দেখেন গিয়া কক্সবাজারের অই এলাকার লোকেরা কি বলে। দয়া করা ঢাকায় থাইকা মানবতা দেখাইয়েন না।

১৮

ভাস্কর's picture


একটা লেখা যে কতোটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হইতে পারে, এই লেখাটা পড়লে সেইটা বোঝা যায়। মায়ানমারের সমস্যা ড্যানিশ এম্ব্যাসির ইন্টারপ্রিটেশনে বুঝে ফেলে দেশপ্রেমিক হয়ে ওঠা। অ্যাপ্রোচটা হলো "ভাই আমরাই খাইতে পাই না, তোমরা আর আইসো না! বহুত হইছে!" ইনফরমেশন হইলো ইতিহাসে লেখা আছে তোমরা ঠেকায় পড়লেই আমাদের দিকে আইসা উঠো দাওয়াত ছাড়া। চারবার আসছো! আর কতো!

আমাদের বিজ্ঞ ব্লগবন্ধু লিখছেন...তাতে ভালো লেখা বইলা সমর্থন দিলেন আরো জ্ঞানী সব বন্ধুরা। যারা ফেইসবুকে মানবতাবাদ দেখাইলো তারা হইয়া উঠলো ডিজিটাল মানবতাবাদী। রোহিঙ্গাদের কেনো তারা নিজেদের বাড়িতে আইনা রাখে না সেইটা হইলো অভিযোগ। মানে এতোই যদি দরদ তাইলে নিজের বাড়িতে একজন কইরা পালতে-পুষতে আনো না কেনো!? বেশ! বেশ!

এই আমরাই আবার লোডশেডিং হইলে চিল্লাই। সরকার খারাপ! দেশপ্রেমিক! রোহিঙ্গারা সারাদেশটাকে ডার্টি করে দিচ্ছে! ওরা কেউ পায়খানায় পটি করে না(হাগে না), জানো! রাস্তায়ই বসে পড়ে!"

কেবল একটা তথ্য জানা থাকলেই হয়তো অনেকে তাদের মত পরিবর্তন করবেন...মানে আরো কিছু ডিজিটাল মানবতাবাদী তৈরী হবে নে...১৯৬২ সালে বার্মার ক্ষমতা সামরিক বাহিনী দখল করার পর প্রথম ঘোষণা ছিলো রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব বাতিল। সেই নাগরিকত্ব আর ফিরিয়ে দেয়া হয় নি উল্টো নির্যাতন চলে যখন তখন।

দেশহীন মানুষদেরো কি আপনার দেশের কোনো কোনায় ঠাই দিতে ইচ্ছে করবে না!? নাকি এখনো বলবেন ঠোট উল্টে, " ওদের দেশ নেই তাতে আমাদের কি! আমাদের দেশ তো থেকেও নেই... উফ! কি গরম! মাইগ্রেট করে নর্থ ম্যারিকাতেই যেতে হবে!"

১৯

তানবীরা's picture


বলবো আবার কি? আমিতো গরমের চোটে দেশ ছেড়ে দিয়েছি সেই শায়েস্তা খানের আমলে। আমি হলাম ব্রিটিশ পিরিয়ডের শরনার্থী – রোহিঙ্গা। নিজে রোহিঙ্গা দেখে আর এক রোহিঙ্গার কষ্ট অনুভব করতে পারি।

দীপুমনি এই কথাটা অন্তত খাটি বলেছেন। রোহিঙ্গা সমস্যা মিয়ানমার, বাংলাদেশের নয়। সমাধান খুঁজতে হলে কিংবা কাউকে চাপ দিতে হলে মিয়ানমারে যেতে হবে বাংলাদেশে না। ওদের সমস্যা আমরা কি করে সমাধান করে দিবো? অন্যের আশায় না থেকে ওদের উচিত নিজেরা প্রতিকার খোঁজা, যুদ্ধে নামা। বারবার আশ্রয় দিবে কেন বাংলাদেশ? এ্যামেরিকা দিচ্ছে না কেন আশ্রয়? কক্সবাজার থেকে প্লেনে করে সোজা হোয়াইট হাউজ। আরে অতো বড় হোয়াইট হাউজ ঝাড়ু দিতেওতো কত লোক লাগে।

মানবতা মাই ফুট। এ সপ্তাহে ছয় মাসের বাচ্চা হল্যান্ডে রেখে বাংলাদেশের এক মেয়েকে এক কাপড়ে কোর্ট থেকে প্লেনে তুলে দিয়েছে। মেয়েটা কাঁদতে কাঁদতে বলেছে আমার বাচ্চা, বলে বাচ্চা কৌটার দুধ খাবে, মা মরে গেলে বাচ্চা বাচে না? ইউএসএতে পঁচিশ বছর থাকার পর দুধের বাচ্চা শুদ্ধ রাস্তায় বের করে দেয়, ইল্লিগ্যাল বলে। তখন কি মানবতা তেল আনতে ইরাক যায়? ডিজিটাল মানবতাবাদীরা আগে আমাদের মতো শরনার্থী জীবন যাপন করুক তারপর দেখা যাবে ফেসবুকের স্ট্যাটাসের স্ট্যাটাস কেমন পরিবর্তন হয়।
বাই দ্যা ওয়ে রোহিঙ্গাদের ওপর লুটপাটও শুরু করেছে এনালগ মানবতাবাদীরা

২০

কর্নফুলির মাঝি's picture


ঠিক বলেছেন।
এখন না ভাস্কর সাহেব আপনার লেখায়ও কোন উদ্দেশ্য খুজে পান।

২১

ভাস্কর's picture


আপনার ধারণা আছে কি বলতেছেন? আপনি কি জানেন যে বার্মার সামরিক জান্তা রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব বাতিল করছে ১৯৬২ সনে? নাগরিকত্ব বাতিল মানে বোঝেন? একদল মানুষ যারা একটা দেশে ৩০০ বছর ধইরা জীবন যাপন করতেছে; সেই দেশের স্বাধীনতা অর্জনের পর হঠাৎ একদিন তারা জানতে পারলো তাদের কোনো দেশ নাই। যদি মায়ানমারের সামরিক সরকার নির্দেশ দেয় তাইলে তারা বিনা নোটিশে সেই দেশের সীমানা ছাড়তে বাধ্য। ব্যক্তিগত সম্পদ-রাষ্ট্রীয় কোনো সুবিধা পাওয়ার অধিকার তারা রাখে না। তাদের বৈধ উপায়ে অন্য কোথাও আশ্রয় নেয়ারও কোনো উপায় নাই। এইভাবে ৫০ বছর চলতেছে! আপনি কি সমস্যাটা বুঝতেছেন? শখ কইরা বাপের বাড়ি রাইখা বিদেশ গিয়া স্ট্রাগল(?)'এর সাথে এই বিষয়টারে গুলাইয়া, নিজের বুদ্ধিহীনতার পরিচয় দিবেন না আশা করতেছি। এর চাইতে আরো অনেক কম বঞ্চিত হইলেও মানুষ যুদ্ধ করে, পার্শ্ববর্তী দেশে কোটি খানেক লোক রিফ্যুজি হয়। কারণ নিজের দেশে যখন নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে না তখন মানুষের সামনে আর কোন সম্ভাবনা দেখার সুযোগ থাকে?

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়া জাতীয়তাবাদীদের সাথে কথা কইয়া এখন হিটলারীয় উগ্রতা ছাড়া আর কোনো জবাব পাই নাই। প্যালেস্টাইনের পক্ষে যারা কথা কইছে তারাও দেখলাম রোহিঙ্গাদের বিরোধীতা করতেছে অনেকে। এরা মনে হয় প্যালেস্টাইনীরা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করলে নিজেদের কনট্রাডিক্ট করতে শুরু করতো। মানবতার মানে কেবল ভালোবাসা কিম্বা আহা! উহু! করা না। মানবতা মানে মানুষের সামাজিক অগ্রগতিতে গড়ে ওঠা যৌক্তিকতাকে গুরুত্ব দেয়া। দেশহীন মানুষ, যারা নিজের দেশেই থাকতে চায় বলে ৫০ বছর ধরে তাদের বের হয়ে যাবার জন্য নির্যাতন করে যাচ্ছে সামরিক জান্তা; তার সাথে অন্য কোনো অনুভূতির তুলনা করলে নিজের অতিবুদ্ধি অথবা নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দেয়া হয়, কমলা স্মার্টনেস হয় না।

২২

তানবীরা's picture


ভাস্করদা, আয় হায় আপনি এটা জানেন না, বাড়িওয়ালা লোকজন যায় ইউএস/ কানাডা/ অস্ট্রেলিয়া/ ইউরোপ আর জমিওয়ালারা যায় মিডলইষ্ট আর মালোয়শিয়া

যাদের নাগরিকত্ব ৫০ বছর আগে বাতিল হয়ে গেছে, তাদের দায় নিবে ফকিরন্নী বাংলাদেশ? বাংলাদেশে এসে সব রোহিংগা, বাংলাদেশি নাগরিক হয়ে গেলে সমস্যা কুল্লু খালাস? এতো সোজা? দুইশ বছর আগে বিলেত যাওয়া সিলেটিদের নিয়ে এখনো ব্রিটেন কিভাবে ভুগতেছে দেখছেনতো? আমি নির্বোধ অবোধ যাই হই, আমি খুশী দীপুমনি অন্তত তা নন

২৩

কর্নফুলির মাঝি's picture


কি লিখেছেন নিজে বুঝেছেন!!!!!
১৯৪৮ সালে বার্মা স্বাধীন রোহিঙ্গারা নিজেদের আলাদা রাষ্ট্র দাবীতে সশস্ত্র বিদ্রোহ করে। আপনি কি বাংলাদেশের শান্তি বাহিনী সাপোর্ট করেন!!!

কেবল একটা তথ্য জানা থাকলেই হয়তো অনেকে তাদের মত পরিবর্তন করবেন...মানে আরো কিছু ডিজিটাল মানবতাবাদী তৈরী হবে নে...১৯৬২ সালে বার্মার ক্ষমতা সামরিক বাহিনী দখল করার পর প্রথম ঘোষণা ছিলো রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব বাতিল। সেই নাগরিকত্ব আর ফিরিয়ে দেয়া হয় নি উল্টো নির্যাতন চলে যখন তখন।

যুক্তিটা কি??? এখানে কি আছে যে রোহিঙ্গাদের জন্য দরদ দেখাতে হবে!!!

একটা লেখা যে কতোটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হইতে পারে, এই লেখাটা পড়লে সেইটা বোঝা যায়। মায়ানমারের সমস্যা ড্যানিশ এম্ব্যাসির ইন্টারপ্রিটেশনে বুঝে ফেলে দেশপ্রেমিক হয়ে ওঠা। অ্যাপ্রোচটা হলো "ভাই আমরাই খাইতে পাই না, তোমরা আর আইসো না! বহুত হইছে!" ইনফরমেশন হইলো ইতিহাসে লেখা আছে তোমরা ঠেকায় পড়লেই আমাদের দিকে আইসা উঠো দাওয়াত ছাড়া। চারবার আসছো! আর কতো!

কি উদ্দেশ্য লুকিয়া আছে লেখার অন্তরে!!! জানাইবেন কি?? তবে ৫০০০$ একটা চূক্টী আছে বৈকি।

২৪

ভাস্কর's picture


বাংলাদেশের শান্তিবাহিনী বলতে যদি পার্বত্য এলাকায় সামরিক জান্তার নির্যাতনের প্রতিবাদে পাহাড়ি জনপদের অধিকার আদায়ের জন্য গেরিলা যুদ্ধের প্রস্তুতিতে গড়ে ওঠা শান্তি বাহিনীর কথা বুঝিয়ে থাকেন তাহলে তার সমর্থন করি। আর পার্বত্য এলাকায় জাতিগত বৈষম্যের সূচনা করতে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে যে জাতীয়তাবাদী আগ্রাসন প্রক্রিয়া চলে তার বিরুদ্ধে গিয়ে পার্বত্য এলাকার মানুষরা যদি স্বাধীন পার্বত্য রাষ্ট্রের দাবী করে আমি সেই ন্যায় অবস্থানের পক্ষেই থাকতে চাই।

আর আপনার এই আশ্চর্যবোধক বক্তব্য যদি পার্বত্য জনপদের রাজনীতি নিয়েই করা হয় তাহলে আমিও একটা পাল্টা প্রশ্ন করতে চাই, আপনি কি পাকিস্তান রাষ্ট্রের ভেতরে থেকে স্বাধীনতার দাবীতে গড়ে ওঠা মুক্তিবাহিনীকে অবৈধ ভাবেন? জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান, যারা সত্তরেও ভুট্টো আর ইয়াহিয়া বিরোধী রাজনৈতিক অবস্থানে ছিলো কিন্তু পাকিস্তান রাষ্ট্রের মধ্যে সন্ত্রাসী ভূমিকা শুরু করাতে মুক্তিসেনাদের বিরুদ্ধে গিয়ে পাকিস্তানের ঐক্য ও সংহতি জোরদার করতে তাদের সাথে ভাব তৈরী করেছিলো তাদের রাজনৈতিক অবস্থান সঠিক বলে মনে করেন?

আপনার মানসিক বুদ্ধির স্তর যদ্দূর বুঝতেছি তাতে আপনি আমার যুক্তি বুঝতে পারবেন সেই আশা বাদ দিছি ভাই...উদ্দেশ্য প্রণোদিত শব্দটা আমার জবাব থেকে উইথড্র করলাম; কারো উদ্দেশ্য পূরণের জন্য যেই শঠতার দরকার হয় তা আপনার থাকার কথা না, ঐটার জন্যও কিছু যুক্তির ম্যানিপ্যুলেশন দরকার পড়ে...যেই ম্যানিপ্যুলেশন সম্পন্ন করতে পড়াশোনা অথবা বুদ্ধির অস্তিত্ব থাকতে হয় মগজে...গোবরে গন্ধ বা কীট জন্ম নেয়, বুদ্ধি! সম্ভব না...

২৫

ভাস্কর's picture


বাংলাদেশের শান্তিবাহিনী বলতে যদি পার্বত্য এলাকায় সামরিক জান্তার নির্যাতনের প্রতিবাদে পাহাড়ি জনপদের অধিকার আদায়ের জন্য গেরিলা যুদ্ধের প্রস্তুতিতে গড়ে ওঠা শান্তি বাহিনীর কথা বুঝিয়ে থাকেন তাহলে তার সমর্থন করি। আর পার্বত্য এলাকায় জাতিগত বৈষম্যের সূচনা করতে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে যে জাতীয়তাবাদী আগ্রাসন প্রক্রিয়া চলে তার বিরুদ্ধে গিয়ে পার্বত্য এলাকার মানুষরা যদি স্বাধীন পার্বত্য রাষ্ট্রের দাবী করে আমি সেই ন্যায় অবস্থানের পক্ষেই থাকতে চাই।

আর আপনার এই আশ্চর্যবোধক বক্তব্য যদি পার্বত্য জনপদের রাজনীতি নিয়েই করা হয় তাহলে আমিও একটা পাল্টা প্রশ্ন করতে চাই, আপনি কি পাকিস্তান রাষ্ট্রের ভেতরে থেকে স্বাধীনতার দাবীতে গড়ে ওঠা মুক্তিবাহিনীকে অবৈধ ভাবেন? জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান, যারা সত্তরেও ভুট্টো আর ইয়াহিয়া বিরোধী রাজনৈতিক অবস্থানে ছিলো কিন্তু পাকিস্তান রাষ্ট্রের মধ্যে সন্ত্রাসী ভূমিকা শুরু করাতে মুক্তিসেনাদের বিরুদ্ধে গিয়ে পাকিস্তানের ঐক্য ও সংহতি জোরদার করতে তাদের সাথে ভাব তৈরী করেছিলো তাদের রাজনৈতিক অবস্থান সঠিক বলে মনে করেন?

আপনার মানসিক বুদ্ধির স্তর যদ্দূর বুঝতেছি তাতে আপনি আমার যুক্তি বুঝতে পারবেন সেই আশা বাদ দিছি ভাই...উদ্দেশ্য প্রণোদিত শব্দটা আমার জবাব থেকে উইথড্র করলাম; কারো উদ্দেশ্য পূরণের জন্য যেই শঠতার দরকার হয় তা আপনার থাকার কথা না, ঐটার জন্যও কিছু যুক্তির ম্যানিপ্যুলেশন দরকার পড়ে...যেই ম্যানিপ্যুলেশন সম্পন্ন করতে পড়াশোনা অথবা বুদ্ধির অস্তিত্ব থাকতে হয় মগজে...গোবরে গন্ধ বা কীট জন্ম নেয়, বুদ্ধি! সম্ভব না...

২৬

কর্নফুলির মাঝি's picture


কি পরিমান জ্বলতাছেন বুঝা যায়। তয় এত না জ্বললেও চলতো মনে হয়। ভাই লেখা পড়া কম, হাতের লেখা খারাপ যুক্তিবিদ্যা কি জিনিস!! মোয়া টোয়া টাইপ কিছু হলে ভালো হইত পেট ভরাইতে পারতাম।

ছোড বেলায় "গর্ভধারিনী নামের একটা বই পড়েছিলাম, আপনার যোশ দেখে সে বইয়ের কথা মনে পড়ে গেলো। সেখানে আপনার যোশের একখানা নায়িকা আছিলো পরে সে গর্ভধারন করে। দেইখেন আফনে না আবার গর্ভ ধারন করে ফেলেন। তাহলে সমস্যা।

আর আপনার এই আশ্চর্যবোধক বক্তব্য যদি পার্বত্য জনপদের রাজনীতি নিয়েই করা হয় তাহলে আমিও একটা পাল্টা প্রশ্ন করতে চাই, আপনি কি পাকিস্তান রাষ্ট্রের ভেতরে থেকে স্বাধীনতার দাবীতে গড়ে ওঠা মুক্তিবাহিনীকে অবৈধ ভাবেন? জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান, যারা সত্তরেও ভুট্টো আর ইয়াহিয়া বিরোধী রাজনৈতিক অবস্থানে ছিলো কিন্তু পাকিস্তান রাষ্ট্রের মধ্যে সন্ত্রাসী ভূমিকা শুরু করাতে মুক্তিসেনাদের বিরুদ্ধে গিয়ে পাকিস্তানের ঐক্য ও সংহতি জোরদার করতে তাদের সাথে ভাব তৈরী করেছিলো তাদের রাজনৈতিক অবস্থান সঠিক বলে মনে করেন?

অসাধারন আফনের যুক্তি, এই ধরনের যুক্তি খন্ডনের জন্য জিগ স-রে ডাক দিতে হইব। রাজাকার চাকমা রাজার মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীতার জন্য তাদের জাতীয়তা বাদ করে দেয় নাই সেটাই বাংলাদেশ সরকারের বড় দোষ। তা না করে বরং কোটা দিয়া হেগোরে ভরন পোষন করে।

যা হোক আসল কাহিনী রোহিঙ্গাতে আসি। আফনে এতো ক্ষিন দৃষ্টির কেন???? ১৯৬২ সালের আগে যেতেই পারেন না। তয় একটা ইনফরমেশন দেই রোহিঙ্গারা প্রায় ৫০০ বছরেরো অধিক ধরে মিয়ান্মারে অবস্থান করে। রোহিঙ্গারা তাদের নাগরিকত্ব হারানোর পেছনের কারনের একটা তাদের নিজের দেশ গঠনের জন্য আন্দোলন। তা তারা ৫০ বছর ধরে তাদের নাগরিকত্ব হারানোর জন্য দায়ী কি বাংলাদেশ। বাংলাদেশে তাদের আশ্রয় দেওয়ার যুক্তি কি যুক্তিবাঘ ভাস্কর জি!!!

এতো বুঝাবুঝি না কইরা নিজের লাল বই গুলা পড়েন। আমি ভাই কম বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ কম পড়ি তই একটা জিনিস- শরীরের কোষ স্বাভাবিকের থেকে বেশী বাড়া শুরু করলে তারে কয় কর্কট রোগ। তাই বেশী পন্ডিত লোকজনও মাঝে মাঝে সমাজে কর্কট হিসাবে দেখা দেয়। আর নিজের পশ্চাদ দেশ ভর্তি বিষ্ঠা নিয়ে আরেকজনের থুথুতে গন্ধ খুজতে যাওয়ার কি দরকার।

পড়তে থাকেন বেশী করে। দেইখেন পড়তে পড়তে একদিন না আবার বই হয়ে যাবেন, তাহলে উই পোকা খেয়ে ফেলবে।

ভাল থাকবেন। যুক্তিবাঘ।

২৭

ভাস্কর's picture


প্রশ্ন যেইটা করছি সেইটার উত্তর না দিয়া বেকুবের মতোন চাকমা রাজার উদাহরণ টানার ধরণটা বেশ লাগলো। মনে পড়লো আপনের প্রথম পোস্টের কথা, সেই পোস্টেও আপনের লগে রাজনীতি বিষয়ে বাহাস হইছিলো। একজন প্রাক্তন শিবির কর্মী যে নাকি পুরাই অ্যাবাউট টার্নে ছাত্রলীগ কইরা তারপর ছাত্রলীগের সন্ত্রাসধর্মী রাজনীতি বুঝতে পারছিলো...শিবির করার সময়ও যেইটা বুঝনের মতোন বুদ্ধিসুদ্ধি যার ছিলো না। যে শিবির কেনো ছাইড়া দিছিলো সেইটা লুকাইয়াই নিজেরে প্রাক্তন শিবির কইতে ভালোবাসে। তার মুখে উদ্ভট সব ইতিহাস শুনতে ভালোই লাগে। বার্মার ইতিহাস আমার ভালোই জানা আছে, ৬২'র উল্লেখ করছি কারণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এমন ঘটনা আর মাত্র একটাই ঘটছে। দ্বিতীয় ঘটনা অর্থাৎ প্যালেস্টাইন আর ইজরায়েলের বিরোধ যতোটা আলোচিত হইছে, প্রথম ঘটনা হিসাবে রোহিঙ্গা আর বার্মিজগো বিরোধ তার ধারে কাছেও যায় নাই। ১৯৪৮'এ রোহিঙ্গারা জাতিগতভাবে বিদ্রোহ করে নাই এইটা বার্মিজ বিশ্লেষকগোই ভাষ্য। যেই জেলের নেতৃত্বে ঐ বিদ্রোহ হইছিলো সেই মীর কাশেম ১৯৫০ সালে আরাকানিস্তানের দাবী ছেড়ে পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসে আর ১৯৬৬ সালে সে আততায়ীর গুলিতে নিহত হয়। বৃটিশরা দেশভাগ করতেছে। আরাকানে সেই সময়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ রোহিঙ্গারা পাকিস্তানের সাথে যাওয়ার দাবী তুলছিলো। এবং যথারীতি ভাগের ক্ষেত্রে বৃটিশ পরিকল্পণা ভিন্ন ছিলো তাই তাদের বার্মার সাথেই থাকতে হইছে। রোহিঙ্গাদের বিরোধ এর পর আর কখনোই সন্ত্রাসমূলক হয় নাই। বরং রাজনৈতিক দাবীনামা পেশ করা হয় ১৯৫১তেই। দাবীনামাগুলি ছিলো,
- To establish immediately a free Muslim State in the status of condominium, for the Muslim Minority in Northern Arakan, separated from the Buddhist Arkanese (Rakhaing) Majority of the South, with its own defence force, police, and security unit;

- To extend Rights so as to share with the Rakhaings (Arakanese) on a 50:50 basis in representation and management of the defence of Arakan (Rakhaing State) as well as in the administration of Sittwe (Akyab), the metropolis and the port city, which would be divided into the Muslims and Rakhaings zones, priority being given to the Muslims co-administrator holding higher rank over the alternate Arakanese (Rakhaing) counterpart in rotation of the term of office;

- To accord the Muslim state the same status as extended to the Chins, the Kachins, the Shans, and the Karen State, with the right of proportionate representation on the constituent assembly and Upper Chamber of legislature;

- To appoint a Muslim representative from Northern Arakan as the Muslim Affairs Minister in the Government of the Union of Burma;

- To guarantee fair and adequate representation of the Muslims in the Civil Service, Judiciary, and Armed Forces of the Union of Burma;

- To provide complete freedom and equality in the field of religion, culture, communal education, and economy;

- To protect Muslim properties and businesses, and to compensate in case of destruction;

- To promote the welfare of the Muslim Community;

- To establish quasi courts, each to be presided over by grand mufti (a judge who interprets Islamic Laws), with the power to decide cases concerning the social and personal life of the Muslim according to the laws and principles of the Holy Sharia;

- To accord rights to form a statutory Muslim Council ( Majlis Islamia), with the approval of the Muslim conference, for the management of the religious, social, educational, and culutural affairs, and also the administration of the Muslim Institutions in order to promote welfare of the Muslims in the Union of Burma according to the Islamic Laws;

- To establish, with the financial aid of the Government of the Union of Burma, Islamic schools and colleges whose medium of teaching being Arabic ( the canonical tongue of Islam);

- To facilitate teaching of Urdu, Arabic, and Diniyat (Islamic religious instructions) in all the public schools throughout the country where the Muslim students represent the considerable number;

- To further extend and develop the Urdu schools;

- To give complete freedom to the Muslims to found and run their own educational, religious, and culutural institutions;

- To make Urdu the medium of instruction for the Muslims in the primary and secondary schools;

- To refrain from imposing other languages on the Muslims against their will or to the detriment of the Muslim culture and integrity;

এর বাইরে মুসলিমদের খাদ্যাভাসের সাথে বিরোধসূচক হওয়ায় তারা দাবী করে,
1. Pork and pork products should not be sold in Burmese markets because there are shops owned by Muslims in the markets;
2. Pork and pork products should be sold only in special shops in separate areas;
3. Pork and pork products must be wrapped properly so that these cannot be seen by Muslims;

সামরিক জান্তা ক্ষমতা দখলের আগে পর্যন্ত রাজনৈতিক সরকারগুলি তাদের দাবীনামা গুরুত্বের সাথেই বিবেচনা করছে। কিন্তু সারা পৃথিবীতেই সামরিক জান্তারা যেমন হয় তার প্রতিফলন বার্মাতেও পড়ে। সামরিক বাহিনীর সদস্যদের যেমন হাটুতে বুদ্ধি তাদের বিবেচনাও তেমনই হওয়ার কথা...তবে অপ্রত্যাশিত ছিলো নাগরিকত্ব বাতিলের ঘোষণা। বেকুব টাইপের লোকেরা এরপরেও আজেবাজে তর্ক করতে আসবো জানা আছে। স্বল্পবুদ্ধির তায় আবার জীবনে কিছু বছর শিবির আর কিছু বছর ছাত্রলীগ করবার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন লোক আপনে ... তাতে আপনের বুদ্ধি যে হাটুতেও জায়গা পায় নাই...শেষ পর্যন্ত পায়ের চেটোতে গিয়া ঠেকছে সেইটা আপনের কথা কওনের ধরণ দেখলেই বুঝন যায়।

২৮

কর্নফুলির মাঝি's picture


বাহ বহুত পড়া লেখা করছেন দেখি। ভালোই।
আবার প্রথম পোস্টের কথা তুল্লেন। সেখানে এখনও আমারে শিবির বানাইলেন। যাই হোক যে লোক অনেক বুঝানোর পরেও যদি ভাবে আমি শিবির থেকে আবাউট টার্নে লীগ ভাবে এবং এই লেখায় উদ্দেশ্য খুজে পায় তার মত গুয়িন্দারে আমি কি বলতে পারি। পড়েন পড়েন আরো পড়েন জ্ঞান বাড়ে পড়লে গুনি জনে বলছে। আমার বুদ্ধি না হয় পায়ের তলায় যাক আর আপনার বুদ্ধি যেন সাত আসমান ছোঁয়। আর সে বুদ্ধি নিয়া চিন্তা করতে থাকেন কয়েক লাখ লোক তাদের এলাকারে স্বাধীন দাবি করল আর গনতন্ত্রের সরকার ফোস কইরা তাগোরে স্বাধীন দেশ দিয়া দিল। এই সাত আসমানি বুদ্ধি নিয়ে শাহবাগে ম্যা ম্যা করতে থাকেন। এই রকমের সাত আসমানি বুদ্ধি দরকার Crazy Crazy

২৯

কর্নফুলির মাঝি's picture


http://www.amadershomoy2.com/content/2012/06/20/news0314.ht

এই খবরটা পড়ছেন নি ভাস্কর সাব!!! পইড়া দেখেন। নাকি বলবেন এটা ইউটার্ন নেয়া লিগারদের কাম!!! হলিউডের ফ্লোরে এই গল্প বানান হইছে। যতসব অতি বোদ্ধা -দের অতি পড়ুয়া মানবতাবাদীদের রোহিঙ্গাদের সাথে মিয়ানমার পাঠাই দেয়া উচিৎ।

৩০

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


এই ব্লগেও আজকাল মানুষজনের ভাষা দেখে খারাপ লাগে।
যুক্তিতে না মিললেই মুখ খারাপ করতে হবে?! Stare Sad Puzzled

৩১

তানবীরা's picture


যে ভাষায় এ পোষ্টে লোকজন কথা বলছে, সাধারণ একটা ইস্যু আলোচনা করতে যেয়ে যদি এরকম আক্রমনাত্বক এটিচুড হয়, তাহলে সাংসদদের আর দোষ কি? তারাতো আরো নানা চাপের মধ্যে থাকেন। আজ থেকে ওনাদের ওপর বরং শ্রদ্ধা হলো। বুঝতে পারছি এবং অনুভব করতে পারছি আজকের ব্লগার আগামীদিনের সাংসদ।

৩২

azwadabeer's picture


চমৎকার একটি লেখা। লেখককে অসংখ্য ধন্যবাদ

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

কর্নফুলির মাঝি's picture

নিজের সম্পর্কে

বাংলায় কথা বলি, বাংলায় গান গাই, বাংলায় শ্বাস প্রশ্বাস নেই... বাংলায় স্বপ্ন দেখি...তারপরও কেন আমরা বাংলা-কে তার প্রাপ্য ভালোবাসা দিতে পারিনা!!!!