ইউজার লগইন

মেঘবন্দী (৯) ... আমি জ্যোছনা এবং বৃষ্টিরা / লীনা দিলরুবা

আমি জ্যোছনা এবং বৃষ্টিরা
লীনা দিলরুবা

একদিন আকাশ থেকে কিছু বৃষ্টি ঝরে পড়েছিল, আমি দরজা খুলে বাইরে এসে দেখি-ওমা! সাদা সাদা জ্যোছনায় ভেসে যাচ্ছে চারদিক, আচ্ছা জ্যোছনা রাতেও বৃষ্টি হয় তাহলে! আমি বৃষ্টি ঘাড়ে করে জ্যোছনায় ভাসতে ভাসতে ভাঙতে লাগলাম পথ ; চলতে গিয়ে জনারণ্যে কয়েকটি পরিচিত মুখ দেখা গেল। কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে পরিচিত মুখগুলো আমার সাথে খুব অপরিচিতের মতো আচরণ করছিল- ওরা আমায় চিনতে পারছিলনা! শুধু না চেনার বিষয়টি নয় ওদের আচরণও ছিল অদ্ভুতুড়ে। কারো দিকে লক্ষ না করে ওরা অবিরাম কি যেন খুঁজে বেড়াচ্ছিল; মনে হচ্ছিলো একদল নাছোড়বান্দা প্রেমিক কাঁদা হাতড়ে সব ওলট-পালট করে দেবে। যেহেতু ওরা আমার সঙ্গে কথা বলছিলো না তাই আমার জানা হলো না ওরা আসলেই কি খুঁজছিলো- বৃষ্টির ক্ষীয়মান ফোঁটা, জ্যোছনাগান্ডীর, নাকি সোনার মোহর?

সেদিনের বৃষ্টির ফোঁটা ছিল খুবই রহস্যময়। বৃষ্টিগুলো ছিল বৃদ্ধ মানুষের মত আঁকাবাঁকা তবে স্থির, আমি ঋদ্ধ হতে চেয়েছিলাম বৃষ্টি জলে। কিন্তু আমাদের এই চিরচেনা নগরীতে জল চুরি হয়! তবে রে বলে আমি যে জলচোরদের তাড়িয়ে দেবো সেই সাধ্য তো নেই, তাই আমি বৃষ্টি দেখতে দেখতে জলচুরি দেখলাম-মেনে নিলাম-ঠকে গেলাম।

বৃষ্টি ঝরে যাচ্ছিলো-বৃষ্টি ঝরে ঝরে পড়ছিলো যেনবা কান্নার মতো, যেনবা প্রেমের মতো। বৃষ্টির ফোঁটাগুলো ছিলো স্বচ্ছ হঠাৎ হঠাৎ সেগুলো আকাশের অজানায় মিলিয়েও যাচ্ছিলো। সেই জলের ফোঁটা আমার না হয়ে কার কার হয়ে কোথায় কোথায় যেন চলে গেল......

শেষমেষ ওই হলো! নীতিভ্রষ্ট শম্বরের মত কেবল হীণ মাংশপিন্ড ঘেঁটে চলা....ওদিকে জল, বৃষ্টি। অন্যদিকে স্বর্গভ্রষ্ট মানুষের ভীড়ে জ্যেছনারাত ছিনতাই হয়। সবকিছু ঢেকে যায় সাদা সাদা অন্ধকারে। আমার মনে হলো, ওরা কত কিছু পেলো! আমি কি পেলাম! বৃষ্টি পাইনি, জ্যোছনা পাইনি.... এর চেয়েতো না জন্মানোই ভালো ছিল। জন্ম জন্ম.....কী প্রয়োজন ছিল এই জ্যোছনা আর বৃষ্টি বিমুখ পরাজন্মের?

তবুতো প্রথম মৃত্যুর বহুদিন পর কিছু একটা স্বীকার করা হলো। এবার বুঝি শোনা যাবে পূণঃর্জন্মের গুঢ় আহবান। এভাবেইতো জন্ম হয় মানুষের। (আমার জানা ছিল) যে রাত জ্যোছনা আর বৃষ্টিজলে সিক্ত থাকে সে রাতের কথাই যুগে যুগে মনে রাখে মানুষ আর যে রাত মুঢ়-মুক অন্ধকারে ঢাকা? না, শতাব্দী সঞ্চিত গল্পকথার মধ্যে আজীবন হাতড়িওে পাওয়া যাবে না তেমন একটা রাত্রির কথা, হায়! এভাবেই বুঝি মৃত্যু হয় মানুষের!

আমি না হয় বৃষ্টি নই (সম্ভাবনা ছিল), তবে আমি জ্যোছনা আর বৃষ্টিøাতরাতে জেগে উঠতে এবং সাহস করে দরজা খুলে বেরিয়ে আসতে জানি। এমনকি জানি বৃষ্টি আর জ্যোছনার পিছু পিছু জনারণ্যে হেঁটে যেতে, তারপর কি হবে ভাবতে বসলে কেবল সময়ই যাবে। বৃষ্টি বিমুখ এই অনর্থক জীবনের কি প্রয়োজন! তারচেয়ে যাই, কাঁদার মধ্যে খুঁজে দেখি মোগলের তরোয়াল, হাওয়াই হারপুণ, পপি আর সোনার মোহর।

পোস্টটি ১১ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

রশীদা আফরোজ's picture


এই খোটা যে তোমার বুঝিনি। কেন কে জানে। এখন পড়বো।

রশীদা আফরোজ's picture


খোটার জায়গায় লেখা পড়তে হবে।

রশীদা আফরোজ's picture


স্যরি, স্যরি, স্যরি...আমি ভেবেছি এটা লীনা দিলরুবার লেখা। কেন যে ভাবলাম কে জানে। দুঃখিত।

সামছা আকিদা জাহান's picture


বৃষ্টি নামলো যখন আমি উঠোন পানে একা--
দৌড়ে গিয়ে ভেবেছিলাম তোমার পাব দেখা।।

আহমাদ আলী's picture


আজ না হোক কাল দেখা হবে নিশ্চয়
অবাক করা দৃষ্টিতে রবে বিস্ময়!

রাসেল আশরাফ's picture


টিপ সই

আহমাদ আলী's picture


লেখাটি পড়ে রস পেলাম। ধন্যবাদ...

Md.Shakil's picture


Smile

Md.Shakil's picture


ভাল লাগল মটামোটি

১০

তানবীরা's picture


বরাবরের মতোই ভালো লাগলো। Smile

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

পুস্তক's picture

নিজের সম্পর্কে

এটা শুধুমাত্র eপুস্তক সংক্রান্ত পোস্ট এবং eপুস্তকে প্রকাশিত লেখা ব্লগে প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত

সাম্প্রতিক মন্তব্য