খুচরা পোস্ট ২
এক.
ট্রয়ের রাজপুত্র প্যারিস স্পার্টার রাজা মেনেলাউসের বাসায় আতিথ্য নেয়। মেনেলাউস অতিথিকে রাজকীয় আদর আপ্যায়ন করেন। কিন্তু এক রাতে তার স্ত্রী হেলেন প্যারিসের সাথে পালিয়ে যায়, যদিও দেবরাজ জিউস কন্যা অনিন্দ্য সুন্দরী হেলেন স্বয়ংবর অনুস্ঠানের মাধ্যমে নিজের পছন্দে মেনেলাউসকে বিয়ে করেছিলো। এইভাবেই শুরু গ্রিস আর ট্রয়ের ভিতর যুগ ব্যাপী মহাযুদ্ধের।
আসলে মানুষের চেয়ে দেবতারাই ছিল দায়ী এই রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের। ঘটনার শুরু যখন ঝগড়ার দেবী দেবতাদের কোনো এক অনুষ্ঠানে দাওয়াত না পেয়ে ক্যাচাল লাগানোর জন্য দেব দেবীর আসরে একটা সোনার আপেল আড়াল থেকে ছুড়ে মারে। সেখানে লেখা ছিল সেরা সুন্দরীর জন্য। তারপর শুরু হয় ঝামেলা। কোনো দেবতাই কোন দেবী সবচেয়ে সুন্দরী এই কথা বলার সাহস পায় নাই অন্য দেবীদের ভয়ে। তখন দেবরাজ জিউস দেবীদের পাঠান ট্রয়ের রাজপুত্র প্যারিসের কাছে।
প্যারিসকে জ্ঞানের দেবী অথেনি প্রলোভন দেখান প্রজ্ঞায় জ্ঞানে সর্বশ্রেষ্ঠ বানিয়ে দেয়ার। শক্তির দেবী সৌর্য বীর্যশ্রেষ্ঠ বানানোর লোভ দেখান। কিন্তু প্যারিস সোনার আপেল তুলে দেয় প্রেমের দেবী আফ্রোদিতির হাতে। কারণ তিনি প্রমিজ করেছেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সুন্দরী হেলেনের প্রেম এনে দিবেন তার জন্য।
ট্রয়ের কথা মনে পড়ল আমার এক বন্ধুর এসএমএস এর কারণে। সে লিখেছে - ভাবতে পারো আমি এখন ট্রুভা(ট্রয়ের টার্কিশ উচ্চারণ) থেকে ফিরে ইস্তাম্বুলের পথে। কেমন একটা শিহরণ লাগল মেসেজ পরে। সেই ছোটবেলা থেকে কল্প লোকের রূপকথার মত গ্রীস ট্রয় এর কাহিনী মাথায় বসে আছে, বাস্তবে সেই ট্রয় নগরের ধ্বংসাবশেষ দেখা, এক অভূতপূর্ব ঘটনা।
ভেবে দেখুন আজ থেকে প্রায় তিন হাজার বছর আগে এথেন্সের রাস্তায় সুর করে এক অন্ধ কবি বর্ণনা করে যাচ্ছে ট্রয় যুদ্ধ কথা। আর অবাক বিষ্ময়ে লোক জড়ো হয়ে শুনছে এই এপিক কবির কাহিনী। ট্রয় যুদ্ধের প্রায় পাঁচশ বছর পর ইলিয়াড লেখা হয়, কিন্তু আশচর্যের বিষয় হোমার আগামেমননের রাজপ্রাসাদের যে বর্ণনা দিয়েছেন প্রাসাদের ধ্বংসাবশেসের সাথে হুবহু মিলে যায়!
দুই.
এইবার একটা চুটকিমত বিষয়। মনে করেন টুটুল আমাকে চ্যাটে ধরেছে, বলে যাইবেন কিনা?
: দেখি চেষ্টা করে।
: ভালো মত কন।
: বললামতো চেষ্টা করমু।
: স্পষ্ট কইরা বলে ইয়েস অর নো।
: ইয়েস নো তে কি সব প্রশ্নের উত্তর হয়?
: হয়।
:ঠিকাছে বলেন, নাজ কি এখনো আপনারে ডেলি পিটায়?
: হ 





হাহাহাহাহাহাহা
সত্য ঘটনা অবলম্বনে জুক্স মজার হইছে
প্র্যাকটিকাল জুক্স
ট্রয় ছবিটা দেখছি । হেলেন চরিত্রে যারে নিছে, তারে দেইখা ভাব্লাম, পরিচালকের চক্ষে সমস্যা আছে মনে হয় ।
বিখ্যাত গল্প উপন্যাসের সিনেমা বানালে একটা আশংকা থেকেই যায় কাস্টিং মূল গল্পের চরিত্রের ইমেজ ফুটিয়ে তুলতে পারবে কি না। এই ছবিটায় একিলিসের চরিত্রে ব্র্যাড পিটকে দুর্দান্ত লেগেছে। ছবিটা দেখেছিলাম বিমানে কয়েকঘন্টা বোরিং সাময় কাটানোর জন্য। ভালোই লেগেছিল। অবশ্য নায়িকার কথা মনে নাই।
এই মুভিটাতে এরিক বানাকে জটিল লাগছে। একিলিস না, ইউনিভার্সিটিতে টেক্সট পড়ার সময়ও আমার হেক্টরকে বেশি পছন্দ ছিল
সত্যি ঘটনা।
টুটুল তো ভালো এককথায় উত্তর দিছে। আপনেরে যদি জিগাইতাম...ভাবী এখনও মারে?আপনি কইতেন...ভাবী কি তুমার মতো? নাইলে তব্দা খাইয়া বসে থাকতেন।
তুমি কারে মারো?
হুদাই আমারে কয়। আমি মারি না, ঋহানরে জিগাইও।
তয় রায়হান ভাইয়ের উপর এরম অত্যাচার ঠিক না ... তাই না?
কারে জিগাও? রায়হান ভাই মেসঞ্জোরে ব্যস্ত।
শিক্ষামূলক পোস্ট
মারেন?
দেখাই হয় না তায় আবার মাইর
নায়িকারে পুরা ভাঙ্গাচুরা লাগছে সিনেমায়, ব্র্যাড পিট'রে তো... আহা!!...
ট্রয় নিয়া আরেকটু লিখেন কাহিনি, কিবা ওই রাজপ্রাসাদটা নিয়া... আপ্নের ইতিহাস ভিত্তিক লেখা বেশ ভালো হয়...
সবাই চুটকি নিয়া বলছে... সবই বলা শেষ, দেখি নাজ কি কয়!!...
ইতিহাস নিয়া তোমার আগ্রহ দেখে ভালো লাগল। কারণ ইতিহাস আমারও প্রিয় বিষয়। একটা জিনিস, ট্রয়ের কাহিনি আর রামায়নের কাহিনির মধ্যে কী অদ্ভূত মিল!
এর সাথে তার, তার লগে আরেকজনের প্যাচঁ খেলানি নিয়া আগ্রহ নাই, কিন্তু রাজরাজাদের চলার ভাব, এই দারুন সুরম্য প্রাসাদ কিবা কোন অন্যরকম কান্ড - এইসবজানলে মজাই লাগে... তবে সমস্যা হইলো এই স্পেসিফিক করে কিছুর নাম মনে রাখতে পারি না, খুবই ইউনিক ঘটনা না হইলে...
আমি ইতিহাসে খুবই বাজে নম্বর পাইতাম, নিজে নিজেই বানাইয়া সন-তারিখ-নাম বসাইয়া দিতাম...
ঋহান হওয়ার পর নাজ মনে হয় আগের মতো সময় পায় না তেমন।
আপনে বস আপনের লাইনেই গেলেন
এক
বিয়াপক গিয়ানী পোস্ট। বহুতদিন ইরাম গিয়ানী পোস্ট পড়ি নাই।
লেখকরে ধন্যবাদ দিয়া খাটো করবো না, উনি এমনিতেই খুব বেশি
লম্বা না...
দুই
সব ঠিক আছে। খালি নামের ওলট পালট হৈবো বৈলা মনে অয়
খুচরা পোস্টের ১ম ও ২য় দু'টোই ভালো লাগলো। তবে ২য় টার সত্য নিয়ে কিঞ্চিৎ সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। সত্য হলে বিপদ, উলটো হলে আপদ আর কোনটাই না-হলে সর্বনাশ!!
ধন্যবাদ হুদা ভাই।
রায়হান ভাই, এই গ্রীক পুরান নিয়ে ধারাবাহিক লিখেন, পড়তে বেশ ভালো লাগে । আর বিবাহিতদের দাম্পত্য জীবন নিয়ে কিছু বললাম না।
ধন্যবাদ সাঈদ পড়ার জন্য।
ট্রয়ের নাইকারে দেইখা হতাশ হৈছিলাম।
ট্রয় আমার জীবনে দেখা প্রথম ব্লু-রে মুভি,,, ব্যপক লাগছিলো তখন দেইখা।
সকল ধর্মেই এর ভুরি ভুরি উদাহরন আছে।
আচ্ছা, ব্লু-রের পরের ভার্সন কি আসছে?
মুভি, গল্প, ইতিহাস কতকিছু যে মনে পড়লো এই এক পোস্ট পড়ে তার ইয়ত্তা নেই।
রায়হান ভাই, রামায়ন নিয়া সিরিজ লেখা শুরু করেন।
কী লিখুম এগুলিতো সবাই জানে।
সবাই জানলেও খুঁটিনাটি অনেক কিছুই তো জানি না। আর পড়তেও মজা লাগে।
নতুন কইরা রামায়ন লিখলে হয়।;) রামায়ন লেখা নিয়া একটা কাহিনি শোনো। কিশোরি চন্দ্রাবতীর জীবন ছিল আনন্দময়। বাল্য বন্ধু ও খেলার সাথী অনাথ জয়ানন্দের সাথে হেসে খেলে দিন যাচ্ছিল। একসময় তাদের বিয়ের দিনও ঠিক হয়। কিন্তু জয়ানন্দ ইতিমধ্যে মুসলমান মেয়ে আসমানীর প্রেমে পড়ে ৷সে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়ে আসমানীকে বিয়ে করে৷ ঘটনাটি ঘটে যেদিন জয়ানন্দ ও চন্দ্রাবতীর বিবাহের দিন স্থির হয়েছিল সেই দিন ৷ সেদিন সন্ধ্যাবেলা চন্দ্রাবতী বিবাহের সাজে পিত্রালয়ে বসে ছিল ৷ তখনই সংবাদ পেল জয়ানন্দ ধর্মান্তরিত হয়ে অনত্র্য বিবাহ করেছে ৷
এরপর শুরু হয় চন্দ্রাবতীর বিরহের জীবন ৷ সে পিতার কাছে অনুমতি নেন যে সারা জীবন অবিবাহিত থেকে তিনি শিবের সাধনা করবেন ৷ তাঁর পিতা তার জন্য একটি শিবের মন্দির নির্মান করিয়ে দেন ৷চন্দ্রাবতী পালায় তার বর্ণনা : 'অনুমতি দিয়া পিতা কয় কন্যার স্থানে শিবপূজা কর আর লেখ রামায়ণে।' সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ চন্দ্রাবতীর কৈশোরকাল থেকেই ছিল ৷ তিনি বাকী জীবন শিবের উপাসনা ও সাহিত্যচর্চা করে কাটাবে বলে স্থির করে ৷ এবং রামায়ান লেখা শুরু করে। তারপর কাহিনি আরো করুন। জয়ানন্দ ভুল বুঝে ফিরে আসে কিন্তু চন্দ্রাবতীর পিতা রাজী হয় না। পরে ফুলেশ্বরীর জলে ডুবে দুই জনই প্রাণত্যাগ করে।
উইকিপিডিয়া থেকে:
চন্দ্রাবতী (১৫৫০ - ১৬০০) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রথম বাঙালি মহিলা কবি ৷
তার পিতা মনসা মঙ্গল কাব্যের অন্যতম রচয়িতা দ্বিজ বংশী দাস এবং মাতার নাম সুলোচনা ৷ তাঁর জন্ম ষোড়শ শতাবদীতে ৷ ইনার নিবাস অধুনা বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলার পাটোয়ারী গ্রাম ৷ ইনার রচনাগুলির মধ্যে মলুয়া, দস্যু কেনারামের পালা ও রামায়ণ কথা (অসমাপ্ত) অন্যতম ৷
তার স্মৃতিবিজড়িত পাটোয়ারী গ্রাম আজও আছে। কিশোরগঞ্জ শহর থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে ওই গ্রাম। আর আছে ফুলেশ্বরী নদীর তীরে অবস্থিত চন্দ্রাবতীর শিবমন্দির।
আচ্ছা , চন্দ্রাবতী তাহলে রামায়নের রচয়িতা ???
চলেন , এই জায়গায় যাই একদিন ফটোওয়াকে ।
আবে চন্দ্রাবতী রামায়নের রচয়িতা হইব ক্যান। রামায়নের রচয়িতা বাল্মিকী। চন্দ্রাবতী সহ অনেক কবি ই এই মহাকব্য নিজের মত করে অনুবাদ করেছে।
২দিনের জন্য যাইতে হইবে তাইলে।
ও স্যরি। অনুবাদিকা। হ ২ দিনের জন্যি যাই, যারা যারা যাইতে পারবো, যাইবো।
বাপ্রে!! এই কাহিনী তো জানতাম না। এজন্যই কইলাম লিখেন সিরিজ। এসব পড়তে, জানতে খুব ভালো লাগে। দ্রুপদি কাহিনীও লিখেন। পিলিজ লাগে সিরিজ শুরু করেন।
ছোটবেলায় রবিবার সকালে ডিডি-১ হতো রামায়ণ।ঐদিন স্কুলে যেতে দেরী হতো।আর রোজা আসলে একটা কমন গল্প ছিলো।এক মহিলা রোজা থেকে কোরআন পড়ছিলেন কিন্তু রামায়ণ শুরু হওয়ার পর কোরআন বন্ধ না করেই চলে গেছিলেন রামায়ণ দেখতে।দেখা শেষ করে আবার কোরআন পড়তে গিয়ে অন্ধ হয়ে গেছেন।
==================================
বৃষ্টি নিয়ে ই-বুকের লেখা পাঠান ৩০ ই এপ্রিলের মধ্যে এই ঠিকানায়:
amrabondhublog@gmail.com
মাইনষে যৌতুক না পাইলে ডেইলি বউ রে পিটায়। আর যৌতুক পাইলে নিজে ডেইলি পিটা খাইবো, এইটা কি নিয়ম হওয়া উচিৎ না?

বেটার কপাল দেখেন। বিয়া হইছে আড়াই বছর হইয়া গেলো, এখনো ফুপু শ্বাশুড়ির থেইকা "সনি ৩২" এল সি ডি টিভি" যৌতুক পায়। শালার কপাল! এর লাইগাই বেটারে ডেইলি পিটাই আর কই, তার মতন কপাল আমি পাইলাম না কেন?
ওহ! টিভি বইলা মনে পরলো, এইটা কিন্তুক অরিজিনাল টিভি। মাসুম ভাই এর সেই টিভি না। অবশ্য মাসুম ভাই এর টিভি'টা হইলে খারাপ হইতো না। বেচারা সামনে আরো পিটা খাইতো আর কি
যৌতুক দেয়া এবং নেওয়া সমান অপরাধ। টুটুলরে পুলিশ খুঁজতেছে।
টিভির মিলাদ কবে? জানাইয়া দিও।
নাজের কোনো ছোটো বোন নাই?
তাতারে ডাকুম?
মারামারির দৃশ্যেই কেবল আমার ডাক পড়ে
গান গাওয়া, খাওয়া দাওয়া, রুমান্টিক সব দৃশ্যে আছে অন্যেরা
কেন? আপনিও ডেইলি পিটা খাইতে চান?
@ মাসুম ভাই
হ! আমিও টিভির মিলাদ খাইতে চাই
হ , পেটে খাইলে পিঠে সয়
যাক, পিটাপিটি'টা জাস্টিফাইড করতে পারলাম তাইলে
আমার এলসিডি টিভির খুব শখ ভাবীজান দেখেন না কিছু করতে পারেন কিনা।
এর জন্য আমি তিনবেলা পিটুনী খাইতে রাজী।

এখন আর বইলা লাভ কি? আরো আড়াই বছর আগে বলা উচিৎ ছিলো
আপনে কাছে তো এখনো অর্ধেক দাবী আছে।মানে কয়ছিলাম চাচাতো-মামাতো-ফুপাতো-খালাতো-দুলাতো-পারাতো-পাতাতো বোন নাই??

মন্তব্য করুন