ইউজার লগইন

বিরিশিরি ভ্রমন : কুমুদিনী হাজং এর সাথে সাক্ষাত

দুই একজন কে জিজ্ঞাস করলাম কিন্তু বলল চিনেনা। তবে একজন মধ্য বয়স্ক বাঙালি চিনলেন। তিনি রিক্সা চালকদের বলে দিলেন কুমুদিনী হাজং এর বাড়ির কিভাবে পৌছান যাবে। ধন্যবাদ দিয়ে চললাম ওনার নির্দেশিত পথে।

কুমুদিনী হাজং টংক আন্দোলনের নেত্রী। এটা ছিল ১৯৪৬-৫০ সাল এ নেত্রকোনা অঞ্চলের কৃষকদের পরিচালিত একটিআন্দোলন। টংক প্রথা হলো উৎপন্ন ফসল দ্বারা জমিদারদের খাজনা পরিশোধ করা। যেটা টাকায় খাজনা পরিশোধের চেয়ে বেশি ছিল। হাজং সম্প্রদায় এ ব্যাবস্থায় দিনে দিনে নিঃস্ব হয়ে পরে। এ সময় সুসং দুর্গাপুরের জমিদারদের ভাগ্নে কমিউনিস্ট নেতা কমরেড মনি সিংহ-এর নেতৃত্বে ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দ থেকে টংক প্রথা উচ্ছেদ, টংক জমির খাজনা স্বত্ব, জোত স্বত্ব, নিরিখ মতো টংক জমির খাজনা ধার্য, বকেয়া টংক মওকুফ, জমিদারী প্রথা উচ্ছেদ ইত্যাদি দাবি নিয়ে টংক আন্দোলন শুরু হয়। হাজং সম্প্রদায় নিজেদের স্বার্থেই টংক আন্দোলনের সংগে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছিল। সে সূত্রেই কুমুদিনী হাজং এর স্বামী লংকেশ্বর হাজং ও তাঁর তিন ভাই টংক আন্দোলনের সংগে জড়িয়ে পড়েন।

এই বিদ্রোহ দমন করার জন্য জমিদার ও বৃটিশ পুলিশ দমন নিপীড়ন চালাতে থাকে। ১৯৪৬ সালের ৩১ জানুয়ারি সকাল ১০ টার দিকে বিরিশিরি থেকে ৪ মাইল উত্তর-পশ্চিমে বহেরাতলী গ্রামে ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেল বাহিনীর একটি দল লংকেশ্বর হাজংএর বাড়িতে হানা দেয়। কিন্তু তাদের না পেয়ে অষ্টাদশী গৃহবধু কুমুদিনী হাজং কে বন্দী করে বিরিশিরতে নিয়ে যেতে থাকে। এদিকে এখবর ছড়িয়ে পরলে রাশিমনি হাজং এর নেতৃত্বে হাজার হাজার হাজং নারী পুরুষ বৃটিশ পুলিশ বাহিনীকে ঘিরে ফেলে ও কুমুদিনী হাজংকে ছেড়ে দিতে বলে।

ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেল বাহিনীর সেনারা হাজং গ্রামবাসীর কথা কর্ণপাত না করে বিরিশিরির দিকে যেতে থাকে। রাশিমনি হাজং কয়েকজন মহিলাকে সঙ্গে নিয়ে কুমুদিনী হাজংকে ছাড়িয়ে নিতে গেলে সশস্ত্র সেনারা নৃশংসভাবে তাঁদের ওপর গুলি চালায়। এতে রাশিমনি হাজং গুলি বিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এ নৃশংস হত্যাকান্ড দেখে পেছনের পুরুষ দলের নেতা সুরেন্দ্র হাজং রাশিমনিকে ধরতে গেলে তাঁকেও নির্দয়ভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় অন্যান্য হাজং নারী পুরুষ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং সশস্ত্র সেনাদের উপর বল্লম ও রামদা দিয়ে হামলা চালায়। তাঁদের হামলায় ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেল বাহিনীর দু’সেনা ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। বাকি সেনারা দৌঁড়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করে।

রাশিমনি হাজং হাজং দের কাছে আজও হাজং মাতা হিসাবে সর্বোচ্চ শ্রদ্ধার পাত্র।
নিঃসন্তান হয়েও হাজংদের অধিকার ও নারী সংগ্রামের প্রতীক রাশিমনি হাজং সম্প্রদায়ে হাজং মাতা হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন আর কুমুদিনী হাজং হয়ে ওঠেন টংক আন্দোলনের প্রেরণার উত্‍স। কুমুদিনী হাজং এরপর আন্দোনল প্রত্যক্ষ ভবে অংশ গ্রহন করেন। তিনি গ্রামগুলোতে সরকারের অন্যায় অত্যাচারের প্রতিরোধ আন্দোলন ও টংক প্রথার বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টির লক্ষ্যে সাংগঠনিক কর্ম তত্‍পরতা চালান। ১৯৫০ সালে জমিদার প্রথার বিলুপ্ত সাধন পর্যন্ত এ আন্দোলন অব্যাহত থাকে। “পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহন ও প্রজাস্বত আইন ১৯৫০” -বলে সকল টংক কৃষককে তার দখলীকৃত জমির স্বাভাবিক মালিক হিসাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়।
DSC05944_1.jpg
শহীদ রাশমনি হাজং স্মৃতি সৌধ

এই হলো ইতিহাস। এইবার বর্তমানে ফিরি। রাস্তা ছেড়ে কিছু দূর গিয়ে এক বাঙালির বাসায় জিজ্ঞাস করলে তারা উৎসাহের সাথে দেখিয়ে দেয় বাড়ি। সে বাড়ির ছোট একটা ছেলে সাথে করে পথ দেখি নিয়ে যায়। এই সেই কুমুদিনী হাজং এর বাড়ি। একটা টিলার উপর টিনের বাড়ি। মেঝে পাকা। উঠানে ফুলের গাছ। পুজার জায়গা। অনন্যা সম্পাদিকা ও প্রাক্তন সাংসদ তাসমিমা হোসেন এই টিনের ঘরটি তৈরি করে দিয়েছেন। বাড়ি পাওয়া গেল কিন্তু যার কাছে এসেছি তাঁকে পাওয়া গেলনা। মেয়ে মেঞ্জলী হাজং এর বাড়ি বেড়াতে গেছেন। সেটা বিজয়পুর সীমান্তের পাশে। কুমুদিনী হাজং এর ছেলের সাথে কথা বলে বিদায় নিলাম। এবার টার্গেট বিজয়পুর সীমান্তে মেঞ্জলী হাজং এর বাড়ি।

বিজয়পুর সীমান্তের কাছে বিডিআর ক্যাম্প। ক্যাম্পে জিজ্ঞাস করে জানা গেল কেউ চিনেনা তাকে। তবে পাশের হাজং পল্লীতে খোঁজ করে জানা গেল বিডিআর ক্যাম্প পার হয়ে যেতে হবে। সেজন্য অনুমতি নিতে হবে। কারণ জায়গাটা একদম সীমান্তের সাথে তার পরেই ভারত। পরিচয় নিয়ে এবং যাওয়ার কারণ জিজ্ঞাস করে অনুমতি দেয়া হয়।
DSC05944_1.jpg

নদীর পাশে একেবারে শান্ত হাজং পল্লীতে সাধারণ হাজংদের মত দরিদ্র কুটির। বাসায় একাই ছিলেন এই অশীতিপর নেত্রী। আমরা তাকে দেখতে এসেছি শুনে শিশুর মত আনন্দ ঝলমল করে উঠে চোখমুখে। রিমঝিমকে খুব আদর করলেন। জড়িয়ে ধরে দোয়া করলেন অনেক। আমার শুনতে চাইলাম তার সেই সময়কার কথা। কিন্তু বয়স হয়ে গেছে কিছু মনে করতে পারলেন না। জানালেন মাঝে মাঝে লোকজন আসে তাঁকে দেখতে।

আমরা যখন কথা বলছিলাম একজন সর্বদা হাসিমুখের মহিলা ভেজা শরীর নিয়ে তাড়াতাড়ি নৌকা চালিয়ে আমাদের কাছে আসেন। তিনিই মেঞ্জলী হাজং। সাথে ছোট ছেলে। নদীতে গিয়েছিলেন লোকজন কিভাবে কয়লা তুলে দেখতে।

আমি মনে মনে ভাবছিলাম কুমুদিনী হাজং এর জন্য কোন উপহার নিয়ে আসা উচিৎ ছিল। এখন টাকা দিলে কিছু মনে করবেন কীনা। আমি ইকবাল ও মুকুল কিছু টাকা ওনার হাতে দিলে নিতে চাননা। ইকবাল বলে, ”আমরাতো কোনো উপহার নিয়ে আসিনি আপনার জন্য টাকাটা রাখুন, আপনার মেয়েকে ,নাতিকে জন্য কিছু কিনে দিয়েন।’

অদ্ভুত সারল্য ভরা মনুষটা, অপরিচিত আমারা যেন তার কত আপন। তবে একটা জিনিস মনে বিধে। সব কিছু ছাপিয়ে দারিদ্রের চেহারা ফুটে উঠে, মনটা খারাপ হয়ে যায়। প্রশ্ন করি সরকার থেকে কোনো ভাতা পান কীনা? উত্তর আসে কখনই পান নাই। খুব অবাক হই না। কোথাকার কোন আদিবাসি কৃষক আন্দোলনের নেত্রিকে নিয়ে রাষ্ট্রের মাথা ব্যাথা না থাকারই কথা। কিন্তু মুকুলের মাথাব্যাথা আছে।

মুকুল সম্পর্কে দুইটা কথা বলা দরকার। মুকুল পয়সাওলা না। মোটামুটি একটা চাকরি করে। তা দিয়ে পরিবার নিয়ে বাসা ভাড়া করে ঢাকাতে থাকে। এরমধ্যেও প্রতি মাসে দুই হাজার টাকা আলাদা করে রাখে গ্রামের অসহায় দরিদ্র বৃদ্ধা মহিলাদের জন্য। চারশ টাকা করে পাঁচ জনকে প্রতি মাসে পাঠায় টারা যেন একটু ভালো ভাবে থাকতে পারে। তার স্বপ্ন টাকা হলে একটা ওল্ড হোম করা যেখানে এরকম অসহায় দরিদ্র বয়স্ক লোকজন, যাদের দেখার কেউ নাই তারা যেন জীবনের শেষ কয়টা দিন থাকা খাওয়ার কষ্ট না পায়।

মুকুল জানায় তার সাহায্য করা পাঁচ জনের একজন মারা গিয়েছে। সেই জায়গায় কুমুদিনী হাজং কে দিতে চায়। সেজন্য মেঞ্জলীর কাছ থেকে মানি অর্ডার করার ঠিকানা নেয়। বয়সে ছোট মুকুলের প্রতি শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে আসে।

ফিরে আসার সময় নিকটাত্মীয়কে বিদায় দেয়ার মত কুমুদিনী হাজং ও তার মেয়ে আমাদের রাস্তা পর্যন্ত এগিয়ে দেয়। যতক্ষণ দেখা যায় হাসিমুখে দাড়িয়ে থাকে। শেষ পর্যন্ত তার সাথে দেখা করতে পেরে আমাদের মন গর্ব ভরা প্রশান্তিতে ছেয়ে থাকে।
DSC05944_1.jpg

এরমধ্যে আমার মাথায় একটা ভাবনা ঘুরপাক খেতে থাকে। কত টাকাই তো আমারা কতভাবে খরচ করি। কিন্তু আমরা কি পারিনা কুমুদিনী হাজং এর জন্য এমন একটা কিছু ব্যাবস্থা করতে, হতে পারে একটা গাভী কিনে দিয়ে, যাতে করে এই জীবন্ত কিংবদন্তির শেষ কয়টা দিন আরেকটু ভালো ভাবে কাটতে পারে?

পোস্টটি ১৩ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

টুটুল's picture


পরে পরমু.... আগে ওয়েলকাম ব্যাক কইয়া লই Smile

হাসান রায়হান's picture


ধন্যবাদ Smile

জ্যোতি's picture


মোবাইল দিয়া ব্লগ দেখতে গিয়ে পোস্টের শিরোনাম দেখে মনে হচ্ছিলো রায়হান ভাইয়ের কথা । রায়হান ভাইয়ের নামটা দেখে চোখে পানি চলে আসছে । ক-ত-দি-ন পর!

হাসান রায়হান's picture


হ্যা মনে হয় বিশ বৎসর পর! অনেক ধন্যবাদ প্রিয় জ্যোতি।

জ্যোতি's picture


বয়স বাড়ছে রায়হান ভাই । চোখে পানি আসে অল্পতেই । তবে কি জানেন! ভার্চুয়াল দুনিয়া থেকে কয়েকজন মানুষ মিলে মনে হয় আমরা একটা পরিবার । কেউ দূরে থাকলেই মন পুড়ে ।
রায়হান ভাই, এত দারুণ পোষ্টের সাথে ছবি দিতেন ২/১ টা । আপনার কাছে তো ছিলো ।

হাসান রায়হান's picture


ছবিগুলি পাচ্ছিনা। দেখি পাইলে দিব।

জেবীন's picture


জইতা আমার মুখের কথা কাইড়া নিবার চায়! আরে চায় কি! নিছে, আমি বলার আগেই মনের কথাগুলা বলে দেয়া এই মেয়ের বদঅভ্যাস হয়ে গেছে! Stare

লেখাতে এসে মন খুশি করে দিছেন রে ভাইয়া Smile

জ্যোতি's picture


Smile একটা পার্টি এরেঞ্জ করো তাইলে । আমি একটা পার্টি হোক চাই । এইটা আমার মনের কথা । Smile
রায়হান ভাই সেই মানুষ, সেই বন্ধু যার সাথে কথা না বলেও সারাদিন চুপচাপ বসে থাকা যায় । সেই রায়হান ভাইকে আমি সবসময়ই মিস করি । কেউ বাংলাদেশ প্রতিদিন পড়তে বললেও মিস করি ।

জেবীন's picture


বাংলাদেশ প্রতিদিন - কেবল জয়িতা'কে কিনে দিন! Tongue

১০

টুটুল's picture


এরমধ্যে আমার মাথায় একটা ভাবনা ঘুরপাক খেতে থাকে। কত টাকাই তো আমারা কতভাবে খরচ করি। কিন্তু আমরা কি পারিনা কুমুদিনী হাজং এর জন্য এমন একটা কিছু ব্যাবস্থা করতে, হতে পারে একটা গাভী কিনে দিয়ে, যাতে করে এই জীবন্ত কিংবদন্তির শেষ কয়টা দিন আরেকটু ভালো ভাবে কাটতে পারে?

এখনো কি কিছু করার উপায় আছে?

১১

হাসান রায়হান's picture


করার চেষ্টা হয়েছিল। এখন কী অবস্থা জানিনা। অনেকদিন আগের ঘটনা/

১২

হাসান রায়হান's picture


কিছুদিন আগে পেপারে ওনাকে সম্বর্ধনা দিতে দেখেছিলাম।

১৩

হাসান রায়হান's picture


কিছুদিন আগে পেপারে ওনাকে সম্বর্ধনা দিতে দেখেছিলাম।

১৪

আরাফাত শান্ত's picture


ওয়েল্কাম বস!

১৫

হাসান রায়হান's picture


থ্যান্কিউ।

১৬

উচ্ছল's picture


মুকুলের প্রতি শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে আসে।

১৭

রায়েহাত শুভ's picture


রায়হান ভাই... এত্তদিন পরে পোস্ট দিলেন... থ্যাংকু থ্যাংকু...

আর মুকুল ভাই কি উনিই রুমী স্কোয়াডের সামনে যাকে দেখছিলাম?

১৮

হাসান রায়হান's picture


তোমারেও ধন্যবাদ। না মুকুল ঐদিন ছিলনা।

১৯

পজিটিভ's picture


অচুদা নাকি এটা? আচেনি কিরাম? Big smile
আফনের বিরিশিরি নিয়া একটা পোস্ট পড়ছিলাম সামুতে।
ওয়েলকামব্যাক! Smile

২০

তানবীরা's picture


ওয়েলকাম ব্যাক মেজর Big smile

কবের ছবি? মনে হয় একটু মোটা হয়েছেন Big smile

২১

সাঈদ's picture


আজকেই রায়হান ভাইয়ের সাথে দেখা হইলো । কী রায়হান ভাই কী হইছে শুকায়ে !!!

বিরিশিরি যাবো যাবো করে যাওয়া হইতেছে না ।

২২

শওকত মাসুম's picture


রায়হান ভাইকে দেখে মনে হচ্ছে এবিতে আরো থাকা যায়। আপনে না আসলে এবি রাইখা কি লাভ?

২৩

তানবীরা's picture


আপনে না আসলে এবি রাইখা কি লাভ?

একমত Big smile

২৪

ফয়সাল শাহী's picture


অস্থির লিখেছেন ভাই +++

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

হাসান রায়হান's picture

নিজের সম্পর্কে

অথচ নির্দিষ্ট কোনো দুঃখ নেই
উল্লেখযোগ্য কোনো স্মৃতি নেই
শুধু মনে পড়ে
চিলেকোঠায় একটি পায়রা রোজ দুপুরে
উড়ে এসে বসতো হাতে মাথায়
চুলে গুজে দিতো ঠোঁট
বুক-পকেটে আমার তার একটি পালক
- সুনীল সাইফুল্লাহs