ইউজার লগইন

যাপিত জীবন: খেলা দেখা, সমর্থন, আবাহনী-মোহামেডান

একেবারেই ছেলেবেলায়, আমরা তখন মাত্র ঘরের বাইরে খেলাধুলা শুরু করেছি। মানিক,নজু ছিল আমাদের পান্ডা। মোট পাঁচ ভাই ছিল ওরা। মহল্লার খেলাধুলায় বাকি ছেলেদের উপর হম্বি-তম্বি করত। আমরা সব সময় চুপচাপ মেনে নিতাম। প্রতিবাদ করারও সাহস পেতামনা। যেমন ফুটবল খেলা চলছে, একজনকে বলল তুই বস, সাইড লাইন থেকে আরেকজন কে নামাত খেলতে তাদের ইচ্ছামত। আমরা বিনা প্রশ্নে মেনে নিতাম তাদের মাতুব্বরী। কারণ প্রতিবাদ করলে মাইর খাওয়ার ভয় ছিল। তাছাড়া বাইরের দুনিয়ার সাথে তাদের বিস্তর জানাশোনা ছিল। একদিন একটা ফুটবল নিয়ে এসেছে। বলল আন্টি দিছে। কোন আন্টি? নায়িকা শাবানা আন্টি। আমরা আম পোলাপাইন তাই বিশ্বাস করতাম।

লেখাপড়ায় লবডংকা হলেও অন্য সব ব্যাপারে ওরা ছিল আমাদের থেকে অনেক এডভান্স। হায়ারে দূরে ফুটবল খেলতে যেত। আমরা যেতাম দেখতে। তাছাড়া যৌনতা, সিনেমা দেখা, সিগারেট ইত্যাদির হাতে খড়ি হয় ওদের কাছ থেকেই। ওদের কাছ থেকেই শিখি আবাহনী সমর্থন দেয়া।

সেই কবেকার কথা কিন্তু স্পষ্ট মনে আছে, এক বিকালে রেডিওতে খেলার ধারা বিবরণী চলছে, দুই ভাই আমাদের শিখাচ্ছে কীভাবে ধারা বিবরণী শুনে খেলা বুঝতে হয়। ঐদিন শিখলাম ও শুনলাম ভালো খেলোয়াড়, যেমন চুন্নুর নাম, চুন্নুর টিমের নাম আবাহনী। ঐ ম্যাচটায় জিতেছিল আবাহনী। আমাদের শিক্ষকরা ছিল আবাহনীর সাপোর্টার। অবশম্ভাবী কারণে আমরাও ঐদিন থেকে আবাহনীর সমর্থক হয়ে গেলাম।

সারা দেশে তখন আবাহনী মোহামেডান নিয়ে যে ক্রেজ ছিল এখন তার শতকরা পাঁচ ভাগও নাই। আমাদের মহল্লায় দুই জন কীভাবে মোহামেডানের সমর্থক হয়ে যায়। ওদের সাথে সারাদিন তর্ক চলত কে সেরা তাই নিয়ে। ওরা দুই জন হলেও চরম ঘাউরা ছিল, সমান তালে আমাদের সাথে লাগত। বরং আমরাই পারতাম না যুক্তিতে। কারণ মোহামেডানের পরিসংখ্যান তখন বেটার ছিল আবাহনীর চেয়ে। ওরা দলে কম বলে দল ভারী করতে চাইত। একবার মহল্লার সুন্দরী বড় বোনের কাছে গিয়ে ছেলেপেলে বলে, রিমা আপা আপনি আবাহনী না মোহামেডান? সালাউদ্দিন কোন দলে? সালাউদ্দিন যে দলে আমিও সে দলে। যেদিন আবাহনী মোহামেডান খেলা সারাদিন সাজ সাজ রব। সকাল থেকে মোহামেডান সমর্থকদের সাথে চিৎকার করে বিকালে খেলা দেখা।

সালাউদ্দিন তখন কিংবদন্তী। প্রথম বাংলাদেশি ফুটবলার হিসাবে বিদেশি টিমে খেলে অনেক নাম ডাক। আমি অবশ্য তার খেলা দেখতে পারি নাই। তবে যেদিন অবসর নিল সেদিন স্টেডিয়ামে ছিলাম। সেই সময় নামকরা খেলোয়াড় ছিল নান্নু, মন্জু, এনায়েত, হাফিজ, শান্টু, চুন্নু,টুটুল। পরে বাদল রায়, অমলেশ, রুপু, সালাম মির্শেদি, জোশি, এমিলি, সাব্বির, আসলাম ইত্যাদি।

আশির দশকের শেষে বাশ দিয়ে নিজ টিমের পতাকা লাগানোর হুজুগ আসে। সমগ্র দেশব্যাপী বাশে টাঙালো আবাহনী মোহামেডানের বাশে লাগানো পতাকার জোয়ার বয়ে যায়। রাস্তার দুই পাশে খালি বাশ আর বাশ। আমিও একটা বাশ কিনে পতাকা লাগিয়েছিলাম।

ঢাকা স্টেডিয়ামে আবাহনী মোহামেডানের আলাদা গ্যালারি ছিল। ভুল করে কেউ বিপক্ষ দলের গ্যালারিতে বসে দলের পক্ষে আওয়াজ তুললে অন্যরা খবর করে দিত। যেদিন আবাহনী মোহামেডান খেলা স্টেডিয়ামের দোকান বন্ধ থাকত। খেলা শেষে সমর্থকদের মধ্যে মারামারি মাস্ট। আর গ্যালারিতেতো সেরকম অবস্থা। দুই দলের গ্যালারির মাঝখানে প্রেস বক্সের জন্য একটু যায়গা। মাঠে খেলা চলছে আর এদিকে গ্যালারিতে চলছে ইটাইটি। খেলা দেখা বাদ দিয়ে উড়ে আসা ইটের দিকে লক্ষ করা থাকতে হত। সামনে পিছে কতজনের মাথায় ঠাস করে আধলা এসে পরে রক্তারক্তি হল তার ইয়ত্তা নাই।

আবাহনী মোহামেডান খেলা দেখতে হলে সকালে গিয়ে স্টেডিয়ামে লাইন দেতে হত। নাহলে ঢুকা যেতনা আগেই গ্যালারি ভরে যেত। একবার ঢুকতে না পেরে ২৪তলা বিল্ডিংয়ের কোনো এক তলায় গিয়ে খেলা দেখেছিলাম। টিকেট কেটে খেলা দেখা ছাড়াও নানা তরিকায় বিনা টিকিটে খেলা দেখেছি। মতিঝিল টিএন্ডটি কলোনিতে থাকর সময় বিশ তিরিশ জন একসাথে যেতাম। সবাই একসাথে গ্যালারিতে ঢুকার লাইনে দাড়িয়ে পিছন থেকে ধাক্কা দিত। সেই ধাক্কার স্রোতে দৌড়ে গেট দিয়ে ঢুকে যাওয়া। আবার হয়ত একজন টিকিট কেটেছে গেটে টিকিট দেখিয়েই ভিতরে দৌড় ছিড়তে না দিয়ে। আর একবার গ্যালারিতে ঢুকে গেলে আর পায় কে। তারপর উপর থেকে সেই না ছেঁড়া ইনট্যাক্ট টিকেট ফেলে দিত নিচে দাড়িয়ে থাকা আরেকজনের জন্য। ওইটা দিয়ে সে ঢুকত।

খেলা দেখা শেষ করে বের হওয়া আরেক হ্যাপা। ছোটো গেট দিয়ে অন্ধকারে কোনোরকমে বের হওয়ার পর দেখা গেল পানি পড়ছে গায়ে, আবার দৌড়। না গ্যালারির উপর থেকে বদমাইশের দল প্রস্রাব করছে। আর মারামারি ভাঙচুরতো আছেই। এমনকি মাঠের খেলাও ভন্ডুল হয়েছে অনেকবার দর্শকদের মারামারিতে। মোহামেডানের সমর্থক বেশি ছিল পুরান ঢাকার। আর ক্লাবও ছিল স্টেডিয়ামের লাগোয়া। ফলে আবাহনীর সমর্থকরাই ধোলাই খেত বেশি। পরে ফুটবল মিরপুরে গেলে উল্টা মাইর খায় মোহামেডানের সমর্থকরা। অবশ্য মিরপুরে খেলা দেখতে গিয়ে আমি মারামারির মধ্যে পরে পায়ে চাক্কু খেয়ে সেলাই করাতে হেয়েছে মেডিকেলে গিয়ে।

দর্শকদের মত মাঠেও চরম উত্তেজনা। খেলোয়াড়দের মধ্যে মারামারি লাথালাথি প্রায় সব বড় খেলায় ছিল নৈমত্তিক। রেফারিকে মারা, তার ফলশ্রুতিতে কেলা থেকে নিষিদ্ধ হয়েছে। সালাউদ্দিনরা তো একবার জেলও খেটেছে।

একবার আবাহনী রেলিগশন ফাইট দেয়া ওয়ারির সাথে ২ শূন্য গোলে হেরে যায়। আমরা লজ্জায় মাটির সাথে যেন মিশে যেতে চাই। প্রতিপক্ষ শ্লোগান দিত 'ওয়ারি আইল'। আমাদের জবাব দেয়ার কিছু থাকত না। বেশ কয়েক বছর তারা ওয়ারি আইল বলে খেপিয়েছে।

শুধু ফুটবল না এই প্রতিদ্বন্দিতা ক্রিকেট, হকিতেও চলত। হকি হাতে খেলোয়াড় রা কয়েকবারই সমর্থকদের সাথে পিটাপিটি করেছে।

কে কবে চ্যাম্পিয়ান রানারআপ হয়েছে কোন দলে কে খেলেছে এইসব আমাদের ছিল মুখস্ত। বিপক্ষ দলের সমর্থকদের সাথে তর্ক করতে করতে নাওয়া খাওয়া বাদ গেছে কতদিন! ওদের খেপাতে আমরা বলতাম মগামেডান, আর ওরা বলত হাবাহানী।

সেই উত্তেজনার এখন ছিটেফোটাও নাই। কবে এই দুই দলের খেলা হয় তার খবরও তেমন রাখিনা। খেলার রেজাল্ট শোনার পর প্রতিক্রিয়াও তেমন হয় না। কিন্তু একসময় কী উত্তেজানাই না লাগত। সে সময় কত আনন্দ ছিল এসবে। একবার সামুতে সমর্থকরা পোস্ট পাল্টা পোস্ট দিয়ে মজাও করেছি। আগে সমর্থকরা বিপক্ষকে খোঁচা দেয়ার জন্য কিছু ছড়া বলত। সেইরকম একটা ছড়া দিয়ে লেখাটা শেষ করি।

ইলিশ মাছের তিরিশ কাঁটা
বোয়াল মাছের দাড়ি
মোহামেডান ভিক্ষা করে
আবাহনীর বাড়ি। Laughing out loud

পোস্টটি ৬ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মেসবাহ য়াযাদ's picture


আমি আজন্ম আবাহনীর সাপোর্টার। কতবার যে স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখেছি !
আহ, সেই সব দিনের কথা মনে করাইয়া দিলেন বস !
থ্যাংকু আপনেরে।

হাসান রায়হান's picture


চলেন একদিন দলবেঁধে যাই আবার খেলা দেখতে।

মেসবাহ য়াযাদ's picture


ওকে বস। খবর নিয়েন, কবে আবাহনী মোহামডানের খেলা। যামুনে

রাসেল আশরাফ's picture


ইলিশ মাছের তিরিশ কাঁটা
বোয়াল মাছের দাড়ি
মোহামেডান ভিক্ষা করে
আবাহনীর বাড়ি।

বস এমন দিনে লেখাটা দিলেন।কালকেই আবাহনী ফরাশগঞ্জের কাছে হেরে স্বাধীনতা কাপ থেকে বিদায় নিছে।

বাসাতে আব্বা-আর ছোট ভাই মোহামেডান আর আমি -আম্মা আবাহনী।এই ফুটবল খেলা নিইয়ে বাসাতে কত কি যে হতো।

হাসান রায়হান's picture


এখন এইসব খেলার খবর রাখিই না ক্রিকেট ছাড়া।

আমার বন্ধুর বোন ছিল আবাহনী তার জামাই মোহামেডান। আবাহনী হারলে সেইদিন রান্না বান্না বন্ধ!

সাঈদ's picture


আহা বস কি মনে করায়ে দিলেন !!!

মীরপুর বলেই মনে হয় আবাহনীর সাপোর্টার আমিও। আশে পাশে সব আবাহনীর সাপোর্টার দিয়ে ভরা, তাই আবাহনী।

ঢাকা স্টেডিয়ামে গিয়ে ফুটবল দেখা হয় নাই, ছোট ছিলাম আর মারামারির ভয়ে আমার আবাহনী সমর্থক চাচা-মামা কেউ যাইতো না স্টেডীয়ামে।

মীরপুর স্টেডিয়ামে খেলা আসলে ২/৩ টা খেলা দেখেছি কিন্তু সাপোর্টার খুন হবার পর আর যাইনাই।

পতাকার চল আবাহনী - মোহামেডান থেকেই আসছে দেশে।

আর তখন এলাকার মধ্যে আমাদের বাসায় ছিল একমাত্র টিভি, তাও আবার রঙীন।

বাসার বসার ঘরে ছিল টিভি। দুপুর হতেই বসার ঘর-খাবার ঘর মোটামুটি গ্যালারী হয়ে যেত। সোফা-ডিভানে সিনিয়ররা , আর নিচে কার্পেটে পুচকী দর্শক আর খাবার ঘরের পর্দা একটু ফাঁক করে মহিলারা বসে খেলা দেখতো।

এই নিয়ে একটা পোষ্ট দিয়েছিলাম আমার ব্লগে। Sad

আবাহনী জিতলে রাত্রে খাওয়া দাওয়াও হইতো বাসায়।

হাসান রায়হান's picture


হ্যা একটা উৎসব লাগত।

যতদূর মনে পরে পড়ছিলাম তোমার পোস্ট।

আরিশ ময়ূখ রিশাদ's picture


আরে কী পোস্ট দিলেন! কত কিছু মনে পইড়া গেল। আবাহনীর কড়া সাপোর্টার ছিলাম একসময়। এখন?????????????

হাসান রায়হান's picture


সেইম হিয়ার!

১০

জ্যোতি's picture


চলেন একদিন দলবেঁধে যাই আবার খেলা দেখতে।

১১

হাসান রায়হান's picture


মিরপুরে চলো। ক্রিকেট খেলা দেখি। এত সুন্দর ছবির মত মাঠ স্টেডিয়াম একদিনো গেলামনা Sad

১২

জ্যোতি's picture


ঠিকাছে দেখুম। ক্রিকেট খেলা শেষ হইতে তো মেলা টাইম লাগে। ঘুম পেয়ে যায়।
ফুটবল হলে ভালো। Big smile

১৩

হাসান রায়হান's picture


আরে খেলা দেখুম কী? আড্ডা দিয়াম। Smile

১৪

জ্যোতি's picture


Big smile হ। চলেন। কবে যাইবেন ঠিক কইরেন।

১৫

নাজ's picture


ওয়ার্ল্ডকাপ ওপেনিং সেরিমনি দেখতে যাইতে চাই আবার Sad

১৬

সুবর্ণা's picture


আমিও আবাহনীর সাপোর্টার। ঝগড়ায় জিতার জন্য খেলা সম্পর্কে কতো কিছূ মুখস্ত রাখতে হতো তখন।

১৭

হাসান রায়হান's picture


ম্যাডাম কে দেখে অনেক আনন্দ লাগল। Laughing out loud

১৮

সুবর্ণা's picture


লজ্জার ইমোটা খুঁজে পাচ্ছি না।

১৯

সাঈদ's picture


ম্যাডাম কে দেখে অনেক আনন্দ লাগল। Big smile

২০

জ্যোতি's picture


অনেকদিন পর দেখলাম ম্যাডামকে। আসেন না কেন? নয়া পোষ্ট দেন।

২১

সুবর্ণা's picture


সে এক বিরাট ইতিহাস। কোন এক অজ্ঞাত কারনে আমার কম্পুটার থেকে বন্ধুর পাতা খোলা যাচ্ছিল না। আজকে রায়হান ভাইয়ের সাহায্যে অনেক সাধ্য সাধনার পর লগ ইন করতে পারলাম।

২২

সুবর্ণা's picture


Tongue

২৩

স্বপ্নের ফেরীওয়ালা's picture


আহা..আবাহনী

~

২৪

হাসান রায়হান's picture


এইখানে সব্বাই দেখি আবাহনী।

হৈ হৈ রৈ রৈ
মহামেডান গেল কৈ।

২৫

সুবর্ণা's picture


রায়হান ভাই, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার অনেক সময় নস্ট করে শেষ পযর্ন্ত লগ ইন করতে পারলাম।

২৬

জ্যোতি's picture


এইবার তাইলে পার্টি দেন। কাল তো আপনি চলে গেলেন বলে শাহনাজ আপু আমাদের বেশী খেতে দিতে চাইলো না। Sad

২৭

সুবর্ণা's picture


আপনারা পার্টি দেন। শাহনাজরেও দাওয়াত দেই, সে যেন খাবার সহ হাজির হয়।

২৮

জ্যোতি's picture


ঠিকাছে। উনি নিজেই বলেছেন উনি ভালো রান্না করেন। মুখের কথার কি বিশ্বাস! আমরা খেয়েই দেখতে চাই।

২৯

সুবর্ণা's picture


হ্যা, আসলেই মুখের কথার কি বিশ্বাস। মজার মজার রান্না করে নিজে খেলেই তো আর হবে না। আমি আপনার দলে। (যোই দলে থাকলে লাভ আমি সেই দলে। Big smile )

৩০

লীনা দিলরুবা's picture


আবাহনী-আবাহনী Smile

গ্যালারীতে বসে কখনো ফুটবল খেলা দেখা হয়নি। তবে আবাহনীর খেলা টিভিতে খুব কমই মিস করেছি, খেলায় আবাহনী জিতলে আমার ভাইরা মিছিল করতে বেরিয়ে যেত। কি সব
দিন Sad

৩১

আরিফ জেবতিক's picture


একবার জিন্দাবাজারে দুই মিছিলে মুখোমুখি। এক মিছিলের সামনে আবাহনীর আমরা, হাতে বড় বড় লাঠিসোটা। অন্য মিছিলের সামনে আমার ইমিডিয়েট বড় ভাই এবং তাদের মোহামেডানের দল, তাদের হাতেও লাঠিসোটা।
বড় ভাইয়ের বন্ধু বলল, ঐ নিজেদের ভাইদের সাথে তো মারামারি করা যায় না।
আমার বড় ভাই বলল, "থো ফালাইয়া। যে ভাই আবাহনী করে, সে আবার ভাই হয় কেমনে?' বলেই হকিস্টিক নিয়ে দৌঁড়ে এল আমাদের মিছিলের দিকে।
সময়টা ১৯৮৭।
আহা, রঙিলা সেসব দিন।

৩২

লীনা দিলরুবা's picture


আমার বড় ভাই বলল, "থো ফালাইয়া। যে ভাই আবাহনী করে, সে আবার ভাই হয় কেমনে?' বলেই হকিস্টিক নিয়ে দৌঁড়ে এল আমাদের মিছিলের দিকে।

Big smile

৩৩

শওকত মাসুম's picture


আমি ছিলাম মোহামেডানের বড়া সাপোর্টার। আবাহনী-মোহামেডান হলে খেলা দেখা নিষেধ ছিল। তাই মোহামেডানের সাথে অন্য দলের খেলা দেখতে যেতাম। ভাবা যায়, মোহামেডানের প্রতিটি খেলার পেপার কাটিং আমার কাছে ছিল। কী দিন ছিল। আহা.....

৩৪

ভাস্কর's picture


কাইলকা আবাহনী ফরাসগঞ্জের লগে হারছে Sad

৩৫

শওকত মাসুম's picture


তার মানে আবাহনী এখনো ফুটবল খেলে? জেনে ভাল লাগলো। Tongue

৩৬

রাসেল আশরাফ's picture


মাসুম ভাই এডি কি কন? Angry Angry Angry

৩৭

শওকত মাসুম's picture


কেন? ভুল বলছি? ও! এখন আর খেলে না?

৩৮

লীনা দিলরুবা's picture


এই পোস্টে আবাহনী বনাম মোহামেডান এখন পর্যন্ত ৯৯:১ Big smile
মাসুম ভাই একলা বেচারা এক দিক ধরে রাখছে, মাথাটা ঠিক নাই তাই বলে ফেলছে Tongue

৩৯

রাসেল আশরাফ's picture


বুঝি নাই লীনাদি।

বুল হয়ে গেছে। Tongue Tongue

৪০

শওকত মাসুম's picture


আহা, পেচাও কেন? সরাসরি বলো। তারমানে আবাহনী এখনো ফুটবল খেলে, এই তো? সরাসরি বললেই হয়। খালি পেচায়, আজব।

৪১

আরিফ জেবতিক's picture


ঠিকই ধরেছেন। এখন আর খেলে না, বাচ্চাকাচ্চাদের উৎসাহ দেয়ার জন্য মাঝে মাঝে মাঠে নামে। এই যে ফরাশগঞ্জের সঙ্গে খেলে তাঁদেরকে জিতিয়ে দিল, কারণ তা না হলে ফরাশগঞ্জের নাকি ফান্ড পেতে সমস্যা।

৪২

রাসেল আশরাফ's picture


Rolling On The Floor Rolling On The Floor

৪৩

শওকত মাসুম's picture


তারমানে আবাহনী এখনো খেলে আর হারে? আগের মতোই? ঠিকাছে এই বার।

৪৪

ভাস্কর's picture


আবাহনী গেলো দুইবারের বাংলাদেশ লীগ চ্যাম্পিয়ন আর এইবার এক পয়েন্ট কমে দুই নাম্বার পজিশনে আছে...যেইখানে মোহামেডান এখন পঞ্চম স্থানে। আর কয়দিন পর আপনে হয়তো ঘনঘন শুনবেন ফালু এখনো ফুটবল খেলে?

৪৫

শওকত মাসুম's picture


ফালু তো খেলে, কেন শোনেন নাই? Smile

৪৬

ভাস্কর's picture


মোহামেডান খেলা ভুলতেছে দেইখাই তো তাগো নেতা ফালু খেলা শুরু করছে... Tongue

৪৭

শওকত মাসুম's picture


ফালু তো মাঠে খেলে না Tongue

৪৮

মীর's picture


আমি আবাহনী-মোহামেডান সাপোর্ট করার সুযোগ পাই নাই। Crying
মনের দুঃখে তাই চেলসি সাপোর্ট করি।

৪৯

শওকত মাসুম's picture


কোন চেলসি?
chelsea clinton 3.jpg

আমার পছন্দ না Sad

৫০

মীর's picture


আমারো না। বরং এই চেলসি সাপোর্টাররে পছন্দ করা যায়। Big smile
Charlize Theron.jpg

৫১

গৌতম's picture


ছোটবেলায় প্রতিবেশীর বাড়িতে বেড়াতে গেলাম। বিকেলে। গিয়ে দেখি কি সুন্দর নতুন টেলিভিশন! টেলিভিশনে আবার খেলা দেখায়! আবাহনী বনাম মোহামেডান।

মজা করে খেলা দেখলাম। মোহামেডান এক গোল দিয়ে বসেছে। আবাহনী দিতেই পারছে না। এক পর্যায়ে বিরতির ঠিক আগে আগে রাশিয়ান খেলোয়াড় কুজনেৎসভ গোল দিয়ে সমতা আনলো।

বিরতির ঠিক পরপরই কাউকে উঠিয়ে নামানো হলো মামুন জোয়ারদারকে। নেমেই মামুন জোয়ারদার গোল দিয়ে বসলো। আমাদের শিশুমহলে ব্যাপক উত্তেজনা। খেলা শেষ হওয়ার মিনিট দশেক আগে আরেকটি গোল দিল মামুন জোয়ারদার। আবাহনী ৩: মোহামেডান ২। তখন থেকেই আবাহনী।

*
কী সব দিন গেছে তখন!

*
যেদিন আবাহনী হারতো, সেদিন ব্যাপক মন খারাপ থাকতো। অতি কষ্টে রাতের খাবার খেতে বসতাম।

৫২

জেবীন's picture


আমি মোহামেডান!!  ভাইরা সাপোর্টার ছিলো, সেই সূত্রেই  Cool

ভাইয়াদের মাঝে দেখতাম মোহামেডান-আবাহনী নিয়া মারামারি। যেদিন খেলা হতো দল বেধেঁ চলে যেত মতিঝিলের দিকে। আম্মা থাকতেন অস্থির হয়ে মারামারির ভয়ে। একবার বড়ো কোন ম্যাচ ছিলো, আমরাও ওইদিন গেলাম খালার বাসায় পল্টনে। আমাদের ৭/৮জনরে রেখে মা-খালারা কই জানি গেছিলো, আর ভাইয়ারা গেলো স্টেডিয়ামে। সেদিন আম্মারা বাসায় ফিরে দেখে ভাইরা আসছে মাথা ফাটাইয়া, আর ঘরে থাকা আপু দুইজনের বালিশ মারামারিতে বালিশ ছিড়েঁ ঘরে ছড়াইয়া আছে!

আমাদের এক লতায়পাতায় আত্নীয় পলিআপু সাব্বির'রে বিয়ে করছিলো সেই সময়ে, কতজনের হা-হুতাস দেখছিলাম সেই টাইমে, আহা কেম্নে পটাইলো সাব্বিরর ...  হ্যানত্যান...  পরে একদিন সাব্বিররে খালার বাসায় দেখে আমি মর্মাহত! মানে ভাইজান যেম্নে হিলওলা উচাঁ জুতা পইরা ঘুরতাছিলো, তাও দেখি এদ্দুইরা!!... তবে তার খেলা জোস পছন্দের ছিলো!!...

৫৩

বিষাক্ত মানুষ's picture


আবাহনী-মোহামেডান যখন গরম অবস্থা তখন আমি বেশ ছোট ছিলাম, ক্লাস থ্রী-ফোরে পড়ি। কিন্তু খেলার পর সবসময় বড় ভাইদের সাথে লাফাইতাম। তখন আবাহনি-মোহামেডান কোনটাই আমার কাছে তেমন গুরুত্বপুর্ণ ছিলো না, গুরুত্বপুর্ণ ছিলো লাফানো।

সেই সময় কেমনে কেমনে আমার হাতে আবাহনির একটা মাঝারি সাইজের পতাকা আসে, তখন পতাকা দুইটা আলাদা কৈরা চিনতাম। আবাহনির পতাকা প্রথমে হাতে আসার কারনে আমি আবাহনির সাপোর্টার হই।

কিন্তু সমস্যা দেখা দিলো কিছুদিন পর, আমার বড় ফুপুর ছেলে তখন এলাকার ডাকসাইটে ফুটবল খেলোয়াড় এবং সেই সাথে তুখোড় মেধাবী ছাত্র, সে একদিন খেয়াল করলো আমি আবাহনির পতাকা একটা বাঁশের সাথে বাঁধার চেষ্টা করতাছি, সে আমারে ডাক দিয়া কয়
- তুই কি আবাহনির সাপোর্টার ?
- হ
- আবাহনি মানে বুঝোস ?
- না , মানে কি ?
- আবাহনির মানে জানি না , কিন্তু মোহামেডানের মানে জানি । আয় তোরে দেখাই।

সে আমার তার রুমে নিয়া ডিকশনারী বাইর কইরা দেখাইলো মোহামেডান মানে কি। মোহামেডানের অর্থ দেইখা আমার তখন ছোখ ছানাবড়া, পেট মোটা বইটায় লেখা ,

Mohammedan - মোহাম্মদীয় ধর্মাবলম্বীলোক বা মুসলমান। (কারো সন্দেহ হৈলে গুগলরে জিগান)

সেই ফুপাতো ভাই আমারে তখনি তওবা করাইয়া মোহামেডানের সাপোর্টার বানাইছিলো, আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ হৈছিলাম আমারে অমুসলিম হওয়ার হাত থিকা বাঁচানোর জন্য।

(আমার সেই ফুপাতো ভাই এখন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কোন এক মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম-সচিব।)

৫৪

রায়েহাত শুভ's picture


শুরু থিকাই আবাহনীর সাপোর্টার Laughing out loud

তয় স্টেডিয়ামে খেলা দেখা হয়নাই কোনোদিনই। আমগো খুলনায় আবাহনী আর মোহামেডানের বি-শা-আ-আ-ল পতাকা লৈয়া মিছিল হৈতো আর অবধারিত ভাবে এই মহল্লা আর ঐ মহল্লায় মারামারি হইতো আবাহনী মোহামেডানের খেলার দিন।

৫৫

রাসেল আশরাফ's picture


আবাহনীর স্ট্রাইকার রুমী আর মোনেম মুন্না ছিলো আমার ফেভারিট খেলোয়াড়।রুমী এখন কি করে? জানেন কিছু? বাড়ি তো আপনাদের খুলনাতেই।

৫৬

রাফি's picture


১। ইলিশ মাছের ত্রিশ কাটা
আবাহনীর মুখে ঝাটা
বোয়াল মাছের লম্বা দাড়ি
আবাহনীর মাথায় বাড়ি।

২। মোহামেডান সেরা
আবালগনি ভেড়া
মোহামেডান ঝড়
আবালগনির ভাংগে ঘর
মোহামেডান দেয় কিক
আবালগনি হারায় দিক
মোহামেডান মানেই সম্মান-ঐতিহ্য
আবালগনি ভুইফোড়, পরিত্যাজ্য।
মোহামেডান মানে না হার
আবালগনিকে দে মার।
মোহামেডান দেয় ঝাকি
আবালগনি হিজড়া নাকি?

৩।আমি চিনি গো চিনি তোমারে
ওগো আবাহনি
তোমরা হারো মোহামেডানের কাছে
ওগো আবাহনী

৪। বন্যেরা বনে সুন্দর
শিশরা মাতৃক্রোড়ে
মোহামেডান মাঠে ময়দানে
গন্জিকার কল্কে আবাহনীর হাতজুড়ে

৫।মোহামেডান মোহামেডান
বাংলার প্রান
আবাহনী
শঠতা আর গ্লানী

৬। আবাহনী আবাহনী
হারু পার্টির কয়লা খনি
আবাহনী আবহনী
পরাজয়ের ক্রন্দনধ্বনি
Big smile

৫৭

রাফি's picture


টুটুল ভাই কুই? আসেন দেখি আবালগনিগোরে ফাটায়া দেই....... গুল্লি

৫৮

টুটুল's picture


আবাহনী সম্পর্কে কিছু কইতে রুচীতে বাধে Wink
আবাহনীও একটা দল আর তেলাপোকাও একটা প্রানী Wink

৫৯

জ্যোতি's picture


গুল্লি হুক্কা গুল্লি

৬০

হাসান রায়হান's picture


মহামেডানের একটা বান্ধা প্লেয়ার ছিল নাম আবুল। সেইটার মত মহামেডানের দুই একটা সাপোর্টার পাওয়া গেল। Glasses

৬১

মেসবাহ য়াযাদ's picture


চরমভাবে মন্তব্যে লাইক দিলাম

৬২

নাজ's picture


Rolling On The Floor

৬৩

রাফি's picture


৮৭ সালের অপরাজিত হ্যাট্রিক শিরোপা পাওয়া মোহামেডানের কাছে পিঠে কেউ নাই। হুদাই চিল্লায়া লাভ নাই রায়হান সাহেব! আপনাদের ধারে কাটে না বৈলা লোকজন খবর দিয়া নিয়া আইসা দলভারী করতেছেন এইটা দিনের আলোর মত পরিস্কার। জনগণ এইসব চালাকি-ভন্ডামী বুঝে রায়হান সাহেব।

সত্য কথা হৈলো, হাবাদের দল হাবাহানী............

৮৭ সালের একটা মজার ধারা বিবরণী দেই:

"বল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে মোহামেডানের বোরহানজাদে, তাকে বাধা দিতে এগিয়ে আসছে আবাহনীর হারামজাদে.........." খিক খিক খিকজ.............।

৬৪

রাসেল আশরাফ's picture


মোহামেডানের দুই-তিনটা এতিম রে দেখতে ভালোই লাগতেছে। ভাই আরো কিছু আছে নাকি স্টকে ছাড়েন শুনি। পার্টি পার্টি

৬৫

মেসবাহ য়াযাদ's picture


আর তা না পাইলে ঠাটারী বাজারের থন কিছু কসাই লৈয়া আসেন...
এক সময়তো মোহামেডানের সাপোর্টারের বিশাল অংশ আছিল ঠাটারী বাজারের কসাইরা।
মোহামেডান জিতলে গোশতের দাম কমাইয়া দিত।
হারলে বাড়াইতো...

৬৬

রাফি's picture


হ! আর হাবাহনীর সাপুটার ছিলো কারা এইটা হাসান ভাই পুষ্টেই কৈছে।

পান্ডা...চাপাবাজ....... Crazy

৬৭

নরাধম's picture


আইয়েন, বুকে লাগেন! আমিও আবাহনী, হেহে!

৬৮

তানবীরা's picture


সালাহউদ্দিন একবার লাইফবয়ের এ্যাড করেছিল না?

৬৯

কামরুল হাসান রাজন's picture


হুমম। জিন্গেলটা ছিল - স্বাস্থ্যকে রক্ষা করে লাইফবয়/ লাইফবয় যেখানে স্বাস্থ্য সেখানে/ লাইইফবয় লাইইফবয় Tongue

৭০

কামরুল হাসান রাজন's picture


আমার ছোট মামা ছিলেন মোহামেডানের সাপোর্টার। মনে আছে যেইদিন মোহামেডান জিতত সেইদিন বাসায় বিরিয়ানী নিয়ে আসতেন। আমিও ছোটবেলা থেকেই মোহামেডানের সাপোর্টার।

৭১

রাফি's picture


মোহামেডানের সাপুটারদের সেইরাম দিল........ Smile

৭২

বাফড়া's picture


পিচ্চিকালে মোহামেডানের সাপুটার ছিলাম Smile.. ইন্টারের শেষ দিকে (সম্ভবত) মোহামেডান আবাহনীরে মনে হইলো মাফিয়া চক্রের মত যারা বাংলাদেশের স্পোর্টস রে নিজের সম্পদ মনে করে.. ক্রিকেট বোর্ডের সাথে সেইবার কি জানি ঘাপলা লাগছিল মোহামেডানের। হেইদিন থিকা এই সব ফালতু টিম সাপুট করা বাদ দিসি Smile

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

হাসান রায়হান's picture

নিজের সম্পর্কে

অথচ নির্দিষ্ট কোনো দুঃখ নেই
উল্লেখযোগ্য কোনো স্মৃতি নেই
শুধু মনে পড়ে
চিলেকোঠায় একটি পায়রা রোজ দুপুরে
উড়ে এসে বসতো হাতে মাথায়
চুলে গুজে দিতো ঠোঁট
বুক-পকেটে আমার তার একটি পালক
- সুনীল সাইফুল্লাহs