প্রিয় বন্ধুকে লেখা চিঠি
প্রিয় বন্ধু
কথাগুলো তোমাকে বলতেই হত, তারপরও অনেকক্ষণ বইয়ের কালো লাইনগুলোর নীচে কলম চালিয়েছি। আমি কিছুতেই মনোযোগ ধরে রাখতে পারছিলাম না। জীবনের সব মারাত্মক ভুলগুলো বারবার মনে উঁকি দিয়ে যাচ্ছিলো আর আমি ওদের কাছে ধরা দিচ্ছিলাম। অভাবগুলোও বেয়াড়াপনা শুরু করতে লাগলো। প্রিয় দল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলছে, একটু আগেই ওরা জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে মাঠে নেমেছে। রুমের জানালা দিয়ে ফুটবলের আবেগ আর উচ্ছ্বাসময় শব্দগুলো কানে আসছে। কিন্তু আমি বইয়ের কালো লাইনগুলোর নীচে কলম চালিয়ে চলেছি। পরশু ফাইনাল পরীক্ষা।
অনার্স জীবনের প্রতিটি পরীক্ষার সময়েই এরকম হয়েছে। প্রচণ্ড বিষাদগ্রস্ত হয়েছি যখন পরশু পরীক্ষা। শেষ বছরটায় আমি এই বিষয়ে তোমাকে চিঠি লিখতে বসেছি- কেননা, কথাগুলো বলা না হওয়া পর্যন্ত আমি পড়ায় মন দিতে পারছি না।
আমি খুব একাকী মানুষ। এমনকি এই কথাটাও বলার মত কাউকে খুঁজে পাই নি। তাই তোমাকেই আজ বলে দিচ্ছি। পাশের রুমের পাহাড়ি ছেলেরা আজকাল সন্ধে হলেই রান্নাবান্না শুরু করে। আমি আড্ডা মারতে বাইরে যাই না। ওদের রান্নার ঘ্রাণ নাকে এসে লাগে আর আমাকে প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত করে দেয়। তবু আমি রুমে বসে থাকি। জীবনের ভুলগুলো নিয়ে আক্ষেপ করি। তবে আমাকে এসব আক্ষেপ-টাক্ষেপ নিয়ে পড়ে থাকলে হবে না। আমি চিন্তা ভাবনা করছি। যাতে ওরকম ভুল আর না হয়।
আমার পড়াশোনার বিষয় নির্ধারণ করতে হয়ত ভুল হয়ে গেছে। অথবা এমনটাও হতে পারে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বিষয়টার কোন কিছুই আমাকে বোঝাতে পারে নি বলেই এরকম মনে হচ্ছে। তবে এই পর্ব শেষ হলে আমি গোঁড়া থেকে হিসেব করবো। তারপর সিদ্ধান্ত নেব। হয়ত আর পড়াশুনা করবোই না- কাজে নেমে পড়বো। অথবা সেই বিষয়ের পণ্ডিত হবো- যে বিষয়ে পড়াশুনা করব বলে সিদ্ধান্ত নেব। অন্তত এরকম পড়াশুনা আমি আর করতে পারবো না। এবং এরকম পড়াশুনা করতে আমি আর কাউকে উৎসাহও দেব না।
এরকম বিষন্ন সময় আমার দারুণ অসহ্য লাগে। একদিন অবশ্য এই দৈন্য ঘুচে যাবে- অন্তত তাই বিশ্বাস করি। আমার প্রিয় কবি বব ডিলানও লিখেছিল- একদিন এ সব কিছুই বদলে যাবে, যেদিন আমি আমার মাস্টারপিসে হাত দেব।
যাইহোক- পাশে রাখা বইটার আরও অনেকগুলো অধ্যায় পড়তে হবে পরীক্ষায় পাশ করতে হলে। এমনিতে সারাদিন টইটই করে ঘুরি- কিন্তু ইদানীং বের হবার কোন অজুহাতই নেই আমার। পড়াশুনাও খুব একটা এগোয়নি। একটু হাঁটতে বেরিয়েছিলাম শুধু। সন্ধ্যার একা রাস্তায় ইচ্ছে করছিলো তোমার পাশে চুপচাপ বসতে- তোমার হাত’দুটি ধরে কিছু শক্তি সঞ্চয় করতে। তুমি যদি থাকতে তবে হয়ত তাই করতাম। ছিলে না বলেই এই পত্র লেখা। শুভকামনা।
সনৎ





লেখা অসম্পুর্ন না হলে ভালো লাগে।
এই দুনিয়ায় হায় হুতাশের কানাকড়িও দাম নাই।
লেখাটা কি সম্পূর্ণ হয়েছে ভাইজান? হা হুতাশ আমি করছি না। অতীত নিয়ে আক্ষেপ-টাক্ষেপ করি না।
বন্ধুকে এত মিস না করে তার সাথে সবসময় কানেক্টেড থাকার ব্যাবস্থা করেন।
বন্ধু আমাকে ছেঁড়ে দূরে চলে যাচ্ছে, সেই মহাসাগর পাড়ি দিয়ে। কানেক্টেড থাকার উপায় কি করে হবে বুঝতে পারছি না। এই ব্লগে একটা আকাউন্ট খুলতে বলেছিলাম তাকে, কিন্তু ১৫ দিন হয়ে গেছে, কোনও সাড়া শব্দ নেই। ইমেইলও যাচ্ছে না ব্লগে। ব্লগ প্রশাসকের সাথে কি কারও যোগাযোগ আছে আপু?
জীবন মানেই ফেলে আসা সময়ের জন্যে খারাপ লাগা। কামাল ভাই বলেন, মানুষ বাচে তার অতীত সময়ের মাঝে
আমি বর্তমানে মনোযোগী হবার চেষ্টা করছি। এবং একেবারে ব্যর্থ হচ্ছি না। আপনি ক্যামন আছেন আপু? অনেকদিন ব্লগ পড়া হচ্ছে না, তাই আপনার লেখাও পড়া হচ্ছে না।
মন্তব্য করুন