ইউজার লগইন

ভাবনার রেশ ধরে যেতে যেতে

আজ রাত্তিরেও খাওয়া দাওয়া সেরে যেই না সুনীল'দার মিষ্টির দোকানের পাশটাতে দাঁড়িয়েছি অমনি সেই পাগলা হাওয়া বইতে শুরু করেছে। ভরপেট খেয়েদেয়ে একটা মিষ্টি গালে দিয়ে এরকম ঝিরি ঝিরি বাতাসে দাড়িয়ে; ঠিক কি কারণে জানি না- একটা ধোঁয়ার কাঠিতে আয়েশ করে আগুন জালিয়েই মনে হল- বিড়িটিড়ি এবার ছেঁড়ে দিলেই হয়- কেন যে আজ অব্দি অনর্থক বিষ খেয়ে যাচ্ছি - এ বস্তুটির কাছ থেকে নিস্তার পেলেই বাঁচা যায়- চাইলেই ছেঁড়ে দেওয়া যায় ইত্যাদি ইত্যাদি। পাশের পাড়ার দাদাও ফুস করে ধোঁয়া ছেঁড়ে সায় দিলেন- হ্যাঁ হ্যাঁ ঠিক কথা।

কাল ঠিক এই সময়ে দারুণ ঝড়ো হাওয়া আর ঝির ঝির বর্ষা। কি করবো ভেবে না পেয়ে আমি লিওনার্ড কোহেনের ফেমাস ব্লু রেইনকোট গানটা বেশ কয়েকবার শুনে ভালো করে তার রসে নিমগ্ন হয়ে দারুণ আরামের ঘুমের আয়েশে দেহমন ছেঁড়ে দিয়েছিলাম। আজকে সে রকম মনে হল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্রি বেতার ইন্টারনেটে খানিক অনর্থক গুঁতোগুঁতি করে ভাবলাম- বেশ কিছুদিন লেখিটেখি না, আজ একটু বসা যাক। অনেকগুলো কাজও করি করি করে করা হচ্ছে না। সেসব অলস ভাবনাদের হৃদয় খোঁড়াখুঁড়ির জন্য পর্যাপ্ত নিকোটিনের মজুদও আছে। এইসব ভাবতে ভাবতে রুমে এসে বিছানার উপর আসন করে বসেই আরেকটা ধোঁয়ার কাঠিতে ফস করে আগুন জ্বালালাম।

এরকমই কোন এক রাতে আমার রুমমেট হটাৎ সব ব্যর্থতার কারণ খুঁজে পেল- 'কাকা আর যাই কইস না ক্যান জীবনে যদি কিছু করতি হলি সকালে ঘুমিত্তে ওঠা লাগবে।' আহারে কি একটা কথা। সারা জীবন কইয়েই গ্যালাম আর শুনেই গ্যালাম। কোন দিন করা হল না- আমার রুমমেটও আমার সাথে একমত না হয়ে পারে না। তারপরই বেরসিকের মত জিগ্যেস করে বসলো আমি এখনো বাড়ি থেকে টাকা পাই কি না। ব্যাটার আক্কেল বলে কিছু হল না এতদিনে। দুই টাকা দামের বিড়ি খাই- ব্যাটা তারপরও অবান্তর প্রশ্ন করে।

অবশ্য কি করা যায়, কি করা উচিত, কি করা দরকার- এসমস্ত নিয়ে আমি কম ভাবিনি। ভাবতে ভাবতে ভাবনায় মেতে অকারণ হর্ষ-বিষাদে দুলেছি বহুকাল। কেউ কেউ অবশ্য এসব নিয়ে আরও বিস্তর ভেবেটেবে এটা ওটা করে এদেশ বিদেশ ঘুরে টুরে শেষে বলছে- লাইফ ইজ আনপ্রেডিকটেবোল। সুতরাং প্লান করে লাভ নেই। তাই আমি জীবনের আউটলাইন আঁকি মাঝে মাঝে; আবার সেই ড্রয়িংয়ের দুই এক পাশ ইরেজারের ঘষায় মুছে দেই, আবার লেবেল করি।

এইতো, ভাবতে ভাবতে সেদিন ভাবলাম- এতকিছু জেনেশুনে কিংবা করেটরে আর কি বা হবে। আসলে সহজাত প্রবৃত্তি অনুসরণ করাই কর্তব্য। অর্থাৎ- জীবনে যখন যে কাজে মন লাগে সে কাজেই দিন পার করা আবশ্যক। যদি আলস্যে মন লাগে- তবে তাই সই।

বেশ কয়েকজনরে চিনি- যারা খালি নিজের মনের ইচ্ছা আর প্রবৃত্তিরেই জোগান দিয়ে যাচ্ছেন। তারা যথার্থ জীবনযাপন করছেন বলেই আমার মনে হয়। যে মুহূর্তে যার যা দরকার, নিঃসন্দেহে সে তো তার পিছনেই ছুটবে। আর সময়ের কাজ সময়ে করার মাধ্যমেই সর্বোচ্চ ফলাফল পাওয়া যায়। ভালোলাগার কাজে বিভোর হতে হতে পরিবার এমনকি সমাজবিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও নিজেরে স্বার্থপর ঠাওরানোর কিছু নেই। উপরন্তু অবিরাম সমাজের দোষ-গুণ নিয়ে ভেবেটেবে কোন উপায় না দেখে শেষটায় ভাবনার গভীরে ডুবে মরাও তো বৃথা। যেহেতু সাম্যাবস্থা এমনি হয় না, সময়ে হয়; জগতের উন্নয়ন-ঘাটটি পূরণ এসমস্ত তাই সময় হলে পরে আপনি হবে। দুস্তর জগতের বিস্তর সমস্যা-সম্ভাবনা ও সেসবের আলবালছাল প্যাঁচালে জড়িয়ে কে কি পেয়েছে কবে সেসব জানা কথা। চক্ষের সামনে যা যায়, যা আসে তাই তো দেখার, বোঝার, ধরে রাখার। অবশেষে নিজের কর্ম বা যাপন দ্বারা দশজনের একজনেরও ভালো কিছু হলে সেটুকুই জীবনকে দেওয়া জীবনের পুরস্কার। এর চাইতে বেশি আর হিসেব কি? শেষ মেষ পেটপুরে খাওয়া, একটু প্রমোদ-আহ্লাদ, একটু আক্ষেপ-অনুশোচনার হিসেব- এসব করেই সকল প্রাণীর ভব লীলা সাঙ্গ হবে।

এরকম নানান নিরীক্ষায় দেখা গেল- জীবনমাফিক চাহিদা পূরণ বা প্রবৃত্তি অনুসরণই জীবনে একমাত্র সঠিক কাজ (বাকিসব হয়তো ভুল, হয়তো বা কিছু কিছু ঠিক)। জীবনের মহামূল্যবান সময় একাজে ব্যবহার করা ছাড়া আর ভালো কাজ কি আছে এই জগতে। এই কথাটা অবশ্য আমার রুমমেটকে আর বলা দরকার হল না। সময়গুলো প্রডাক্টিভ কাজে ব্যবহার করার চেতনা ওর মাথায় আবার ভর করেছে; এমনও বসন্ত রাতে কাঁথা মুড়ি দিয়ে ও এখন মুঠোফোনের ছোট পর্দায় কোন এক মেয়েবন্ধুর সাথে টেক্সট চ্যাট করছে। হয়তোবা এরকমই কোন এক রাতে রুমমেট হটাৎ আনন্দের ডানায় চেপে উড়ে উড়ে রুমে ফিরে মুখে চওড়া হাসি ঝুলিয়ে বলবে- কাকা, হইয়ে গেইসে!

পোস্টটি ১০ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

আরাফাত শান্ত's picture


এতকিছু জেনেশুনে কিংবা করে টরে আর কি বা হবে। আসলে সহজাত প্রবৃত্তি অনুসরণ করাই কর্তব্য।

সেইম ফিলিং!

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


টিপ সই

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

নিয়োনেট's picture

নিজের সম্পর্কে

অতীতের ভিত্তিতে নিজেকে ডিফাইন করা অর্থহীন। আর আগামীও অদেখা। বর্তমানে আমি কী সেটা যদি এখন বলি, সেই তথ্য খানিক সময় পরে ইনভ্যালিড হয়ে যাবে, যেহেতু মানুষ প্রতি সেকেন্ডে বদলায়। ফলে, নিজের সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু বলাটা কঠিন কাজ।