শোয়া যায় না
''তা মশাই, কি হচ্ছে এসব?
কি যে হচ্ছে তা ওরাই ভাল জানে। আমি আম গাছ। আমগুলো বতী হচ্ছে আমার- এর বেশি কিছু জানি নে।''
আমরা ছয়জন আমগাছের সাথে কথা বলছিলাম। শাহবাগের এটিএম বুথটার সামনে দাড়িয়ে। সবাই হা করে তাকিয়ে আছে হলদে রঙ ধরা আমগুলোর দিকে। আমরা টানা কয়েক ঘণ্টা ধরে কয়েকটা জায়গায় দাড়িয়ে বসে রাত পৌনে বারোটার দিকে শাহবাগের গাছের আমের নিচে দাড়িয়ে আছি।
সবাই মোটামুটি বিরক্ত। আড্ডা মারা ছাড়া আর কোনো কাজ ভাল লাগে না। নানান আলাপ। রাস্তার ট্রাকের হাইড্রলিক হর্ন, কৌটোর দুধের চা, আতেল বড়ভাই- সবাই মোটামুটি একটা না একটা কিছুর ওপর বিরক্তি নিয়ে আছি। একগাদা যন্ত্রণা ছাড়া আজকাল আর কিছু খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এমন সময়ে কি জানি মনে হলো-আমি বললাম- সবারই দেখতেসি সেক্সে প্রব্লেম। এক ভিক্টিম নগদে আমার সাথে একমত হয়ে গেল। আমরা দুইজন দলবদ্ধ চা চক্রের আড্ডায় একগাল গোপন হাসি হেসে নিলাম এবং ঠিক করলাম সেক্সের প্রব্লেমটা নিয়ে প্রবন্ধ ধরণের একটা কিছু লিখে ফেলতে হবে।
যাইহোক- বিষয়টা তরল সংযুক্ত। সেই সাথে অতিশয় সরল এবং সোজা। সেটি হচ্ছে- আমাদের সেক্স ক্লিয়ার হচ্ছে না। তাই জায়গার তরল বেজায়গায় ঢালছে সবাই। আমাদের ভিতরে যারা এখন গাছের আম দেখতে পাচ্ছি, তাদের কারুরই প্রেমিকা নেই। কারো কারো প্রেমিকা আছে। কিন্তু তাদের মিলন সচারচর হয় না। না হবার পিছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারলেও একটা কারণ থেকেই যায়- যেটা হচ্ছে নিরাপদ ঘরের অভাব। আমরা সবাই সেটা পরিস্কারভাবে জানি। সুতরাং স্ব স্ব প্রেমিকা বা প্রেমিক থাকলেও যুগলের মিলনের সমস্যা থেকেই যাচ্ছে।
সুতরাং আমাদের কাজের কাজ হচ্ছে না। এবং এই ঘোর মিলনব্যাকুলতা সময়ে অসময়ে আমাদের মেজাজটা খিটখিটে করে দিচ্ছে। আমরা একের পর এক সিগারেট টানছি- একেবারে শুধু শুধুই।
বিষয়টা খুব সিরিয়াস। আমাদের যদি দারুন আরামদায়ক একটা ঘুমানোর জায়গা থাকত, আর সে জায়গায় যদি কাঙ্ক্ষিত সঙ্গীর সাথে রাতটা কাটত- তবে হয়ত আমরা পৌনে বারোটা পর্যন্ত বড় রাস্তায় দাঁড়ায়ে বাল ছিঁড়তাম না।
অবদমনকে কবিতায় রুপান্তর করতে সবাই পারেন না। তাই দেশে রেপ হয়, শ্লীলতাহানি হয়। বিরাট সমস্যা। কোনও সমাধান নাই। আরও রেপ হবে।





অনেকদিন পর আসলেন, কেমন আছেন?
ভালো। আপনি ভাল আছেন তো ?
kangkhito banan dekhe aaram pelam.
কাঙ্ক্ষিত? বানান ভুল হয়েছে নাকি?
শুদ্ধ হয়েছে। এই বানানটা আমি কম্পিউটারে কম্পোজ করতে গিয়ে শিখেছি।
মন্তব্য করুন