সিগারেট খাওয়া এবং না খাওয়া
পুরনো আলাপ। নিচে নেমে ভাত খেয়ে একটি বেনসন নিয়ে উপরে উঠলাম। একজন ধূমপায়ীর জন্য মাত্র একটা সিগারেট একটা যাচ্ছেতাই ব্যাপার- তাও যদি হয় সারারাতের জন্য বরাদ্দ মাত্র একটি শলাকা- তাহলে ব্যাপারটা হাস্যকর পর্যায়ে চলে যায়- এক গেলাস জল দিয়ে ঘরের আগুন নেভানোর চেষ্টা করা যেমন হাস্যকর ঠিক তেমন। একজন ধূমপায়ী-যে মিথ্যে আবেগে রাত জাগে- তার ঘরে অন্তত কয়েক প্যাকেট সিগারেটের মজুদ থাকা দরকার।
ধুমপান ছাড়তে চাই কি চাই না সে ব্যাপারে আমি নিজেই নিশ্চিত নই- আজ পর্যন্ত হতে পারিনি। প্রথমে ভাবলাম ছেড়ে দেব- দিনে দুই একটি এবং রাতে মাত্র একটি শলাকা বরাদ্দ করলাম। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর সিগারেটের বদলে বরাদ্দ একটা কলা। আমি প্রতিরাতে একটি কলা নিয়ে ঘরে ফিরতে লাগলাম। এসবের পেছনে অবশ্য একজন মানুষের অবদান ছিল। মেয়েটির ব্যাপারে আমি প্রায় পাগল ছিলাম। ঠিক করে ফেললাম ছাইপাঁশ ছেড়ে দিয়ে প্রেমের নাও বাইবো।
সে আর হল কই? পাখি আমার ধরা দিলো না। হতাশ হয়েও ভাবলাম- ও আচ্ছা- ঠিক আছে- ছাইপাঁশ খাবো না নিজেকে ভালবেসেই। মাস খানেক কঠোর সাধনা করে তামাকের স্পর্শ ছাড়া কাটালাম। তারপরের গল্প সবাই জানে- অন্তত যারা আমার মত ধূমপান ছাড়ার চেষ্টা করে ব্যর্থতা বরণ করেছে হাসিমুখে। তবে আমি এখন অকারনে ধুম্রশলাকায় অগ্নিসংযোগ করি না। একটি সিগারেটের সব ধরণের মূল্য আমার প্রয়োজনের সাথে খাপ খেলে তবেই- অর্থাৎ আমি সিগারেট কম খাবার চেষ্টা করছি।
অতি দুঃখের বিষয়- ধূমপান কম করার চেষ্টা করা খুব দুঃসহ। কোনও স্বস্তি খুঁজে পাই না। নিজেকে চোর এবং বেঈমান মনে হয়। একই সাথে কান্সারের দুঃস্বপ্ন তাড়া করে। তাড়া করে বাবা-মার মুখ- যাদের কাছে এ ব্যাপারে আমি ক্রমাগত মিথ্যে বলে আসছি। আমার যদি ক্যান্সার হয়ে থাকে তবে আমি কোথায় যাব কি করব জানি না।
এখনো মনে কোনও শান্তি বা অশান্তি মোচড় দিলে একটি সিগারেট খাই। বোকার মত অপর্যাপ্ত সিগারেট নিয়ে ঘরে ফিরলাম। কখন ধরানো ঠিক হবে? এখন? লেখাটা পোস্ট করে? নাকি ঘুমানোর আগে?





আমার মনে হয় কখনোই ধরানো ঠিক হবে না। যাই হোক আপনি যদি বয়ান শোনার জন্য প্রস্তুত থাকেন তবে আমি একখানা বয়ান পেশ করতে পারি
আপনাকে তেমন কিছুই করতে হবে না শুধু আমি এখানে যা লিখব তা যদি একটু মনোযোগ দিয়ে পড়েন এবং সেই মত কাজ করেন তাহলেই আশা করা যায় যে আপনি ১০০% সফল হবেন সিগারেট ছেড়ে দিতে কিন্তু যেহেতু আপনি আমাকে চেনেন না তাই ধরে নিচ্ছি আমার এই লেখাটুকুকে শুধু একটা মন্তব্য মনে করে ভুলে যাবেন অতএব ১০০% থেকে ৫০% সফল হওয়ার সম্ভাবনা বাদ দিয়ে দিলাম। বাকী থাকল ৫০%। এখন যেহেতু আপনি আমাকে দেখতে পাচ্ছেন না অর্থাৎ আমার এক্সপ্রেশন দেখতে পাচ্ছেন না তাই আমাকে বিশ্বাস করাটা কঠিন তাই এই ৫০% থেকে আরও অর্ধেক মানে ২৫% বাদ দিয়ে দিলাম। বাকী থাকল ২৫%। এই ২৫% নির্ভর করবে আপনি কতটা ভালো কল্পনা করতে পারেন তার উপর। ধরে নিলাম আপনার কল্পনা শক্তি ভালো না অতএব এই ২৫% থেকে আরও অর্ধেক অর্থাৎ ১২∙৫% বাদ দিয়ে দিলাম। ∙৫ যেহেতু তেমন ম্যাটার করে না তাই এইটুকুও বাদ দিলাম। থাকল ১২%। এই ১২% নির্ভর করবে আপনি কতটা নিজেকে ভালোবাসেন তার উপর। ধরে নিলাম আপনি নিজেকে ভালোবাসেন না অতএব এই ১২% এর অর্ধেক অর্থাৎ আরও ৬% বাদ দিয়ে দিলাম। এখন থাকল ৬%। এই ৬% নির্ভর করবে পুরো ব্যাপারটা ঠিক ঠিক করার উপর। ধরে নিলাম আপনি তা করবেন না অতএব আরও অর্ধেক অর্থাৎ আরও ৩% বাদ দিয়ে দিলাম। থাকল মাত্র ৩%। এই ৩% নির্ভর করবে আপনার মনের উপর অর্থাৎ সবার ভেতরে একটা আমার আমি থাকে, সেই আমির উপর। যেহেতু আমি আপনাকে চিনি না অর্থাৎ আপনার ভেতরের ঐ আপনিটাকে চিনি না তাই আরও অর্ধেক মানে ১∙৫% বাদ দিয়ে দিলাম। এখন বাকী থাকল আর ১∙৫% যার থেকে আমি আগের মতই ∙৫% কে বাদ দিয়ে দিলাম। এখন বাকী থাকল শুধুমাত্র ১% সফল হওয়ার সম্ভাবনা। এবার নিচে আমি যা লিখব তা যদি আপনি করেন তাহলে এই ১% সফল হওয়া থেকে কেউ আপনাকে ঠেকাতে পারবে না।
তেমন কঠিন কিছুই না। শুধু প্রতিবার ধূমপান করার সময় চোখ বন্ধ করে ধূমপান করবেন এবং প্রতিবার ধোঁয়া ভেতরে নেয়ার সময় এটা ভাববেন যে আপনার ফুসফুসকে একটা বিষাক্ত গোখরা সাপ দংশন করছে আর দুই ফুসফুসের মাঝামাঝি অবস্থানে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা আপনার হৃদপিণ্ডটা (যেখানে থাকে আপনার মন, যেখানে আছে কোন প্রিয় মানুষের ছবি) সেই ছোট্ট মাংসপিণ্ডটা ব্যাথায় ছটফট করছে আর প্রতিবার ছোবলে সে একবার করে বিষের জ্বালায় নীল হয়ে যাচ্ছে।
ভাইয়া আমরা কেউ কাউকে চিনি না তবু শুধু মানুষ হিসেবে আমি মন থেকে চাই আপনি ধূমপান ছেড়ে দেন। যদি উপরে যা আমি লিখলাম তা ঠিকমত মাত্র ৪ দিন প্রতিবার ধূমপান করার সময় ভাবতে পারেন তাহলে ইনশাল্লাহ্ অন্তত ১% সফল হবেন এই ভয়াবহ ব্যাধি থেকে নিজেকে মুক্ত করতে। বাকীটা আপনার ইচ্ছা। শুভকামনা রইল
নোটঃ আপনার কল্পনা করার সুবিধার্থে মন্তব্যে একটা ছবি দিয়ে দিলাম
আমি ভেবেছি সনৎ দা কমেন্ট পড়ে বলবে যাই বিড়িটা খেয়ে আসি
ভাই সিগারেট ধরাইতে পারতেসিনা। সাপের দৃশ্য মাথায় ঢুকে গেছে।
বেস্ট অফ লাক
প্রিয় আপু, আপনি এই বয়ান দিয়ে আমার ভীষণ উপকার করলেন। ধূমপান ছাড়ার এই অসাধারণ পরামর্শ আমার জীবনে এই প্রথম। ব্যাপারটা আমি একটু ভালো করে বলি- যখন ধোঁয়াটা আমি দুই ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে টেনে নেব তখন কল্পনা করা উচিত হবে একটা কাল কেউটে আমার শ্বাসনালী দিয়ে প্রবেশ করছে আর আমাকে এক স্বর্গীয় সুখে আবিষ্ট করে দিতে দিতে ফুসফুসে গিয়ে আরও হাজারটা ডিম থেকে বাচ্চা কেউটে হয়ে রক্তের সুখময় স্রোতে সাতরে বেড়াচ্ছে শরীর জুড়ে আর আমি-- আর কিছু কল্পনায় আসছে না। কি যে হয়। আমি নিজেকে চিনতে পারলাম না। কঠিন কাজ। ঠিক যেমন কঠিন কাজ নিজেকে ভালবাসা। ভালবাসা নিও, ভালো থেকো।
শুরুতে আপনি আর শেষে তুমি দিয়ে করা এমন একটা মন্তব্য আমার জীবনেও এই প্রথম
যেভাবে ভালো লাগে কল্পনা করুন, ধূমপান ছাড়া দিয়ে কথা। সাপের কামড় দেখলেন নাকি বাচ্চা দেখলেন সেটা ব্যাপারস না
নিজেকে ভালোবাসা সেইদিন কঠিন মনে হবে না যেদিন আপনি অন্য কাউকে সত্যিকার অর্থে ভালবাসতে পারবেন তবে ভালোবাসাটা নিঃশর্ত হতে হবে, এমনকি তাকে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাও যেন বিবেককে টলাতে না পারে এমন দৃঢ় ভালোবাসা। শুভ কামনা নিরন্তর।
দারুণ! চমৎকার!
কোনটা দারুন? লেখাটা নাকি ফাহিমা আপুর বিখ্যাত মন্তব্যটা ?
মন্তব্যটা!!!
লেখার কথা তো মন্তব্যে বলেছি। 
ছবি আর লেখার কলেবর দেখে ভড়কে গেছি। একই সাথে মারাত্মক ভালোও লাগছে। এত বড় বয়ান পড়ার জন্য একটু মানসিক প্রস্তুতিও নেওয়া প্রয়োজন আমার।
ভাবতেছি, ব্লগ বড় না কমেন্ট বড় !!!
ধূমপান বা সিগারেটের অভ্যাস ছাড়ার জন্য ইচ্ছাশক্তিই যথেষ্ট। মনে হয়, আপনি ধূমপান ছাড়ার সফল পথে এগোচ্ছেন। ধরে রাখুন এ মনোবল. সাকসেস হবেন। এ অভ্যাস রোগ-বালাইয়ের পাশাপাশি আপনাকে আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে নয় কি?
সফল পথে এগোচ্ছি? পকেটে টাকা নেই তাই কম খাই। সত্যি বলতে আমার কোনও মনোবল নেই।
মাহাত্ম্যের মাপে ত কমেন্টই বড়।
একবার নিশ্চিত হতে পারলেই পুরোপুরি ছেড়ে দিতে পারবেন। শুভ কামনা রইল।
মাঝে মাঝে কোনও ব্যাপারেই নিশ্চিত হতে পারি না। এ বড় বাজে নিঃসঙ্গতা। নিঃসঙ্গতা আমার আছে কিনা তাও নিশ্চিত ভাবে ভেবে বলতে পারি না। মন একটা খানকি। শুভকামনার জন্য ধন্যবাদ।
সিগারেট খাওয়া কমাইতে কমাইতে কখনই একেবারে ছাড়তে পারবেন না, কোন একদিন স্ট্রেস একটু বেশি হলেই আবার বাড়তি নেশা ফিরে আসবে। সত্যিই যদি ছাড়তে চান, ঠিক করতে হইব 'এক্ষন' থিকাই ছাইড়া দিলাম, আর খাইলে মাইনসের জাত না। ব্যাস!
হুম
লেখার ভঙ্গিটা বরাবরের মতোই টেনে নিলো শেষ পর্যন্ত। সিগারেটের জন্যও মায়া তৈরি করে দিয়েছিল প্রায় কিন্তু ফাহিমার কমেন্ট পড়ার পর সেটা বলার আর সাহস পাচ্ছি না।
মন্তব্য করুন