ইউজার লগইন

জীবন-চরিত

ভালোবাসা আমার একেবারে ছেলেখেলার মত। এই আছে তো এই নেই। এইটা আমার দোষ না, ভালোবাসার দোষ, ভালোবাসা কচু পাতার পানি না হয়ে বট গাছ বা তেলাপোকা হলেও পারতো। তখন এক ভালোবাসা টিকে রইত যুগ যুগান্তর। কিন্তু এই অল্পদিনেই কতোবার কত জনাকে ভালোবেসেছি। ওরা বাসে নাই। আমি ফিরে গেছি। এখন বহুদিন পরে চারুকলার সেই মেয়ে আমারে ভালোবাসার চেষ্টা করে। কিন্তু আমি এখন ভালোবাসি সাদিয়াকে।

একটু আগেই ওকে আসি বলে ফেসবুক বন্ধ করে দিলাম। ও বলল, তুমি ভালো ঘুম দাও। আমি বললাম সুন্দর একটা দিন কাটায়ো। ও বলল, আশাকরি। আমি আরো বললাম, সকালে বেশী করে খেয়ো, ও বলল, হু খাবো। আমি বললাম আসি। ও বলল আচ্ছা। কী সুন্দর বার্তা চালাচালি। আমার মনে হলো, আমি একটা উপন্যাস লিখি। সেইখানে আমি আর সাদিয়া অনেকদিন ঘর সংসার করে টরে এই বার্তা চালাচালি করতেছি - এই দৃশ্যটা ভালোই হবে।


সেইদিন রাতে সাদিয়া আমাকে বললো, তুমি ভালো ঘুম দাও। কিন্তু সেই রাতে আমার ঘুম এলোই না। এর আগে আরও একদিন রাতে সাদিয়া জিগেস করছিলো, তুমি খাইছো রাতে? আমি বাক্যটা ম্যালাক্ষণ তাকিয়ে দেখলাম। আমার ক্যামন জানি ভালো লাগলো। সেটা হয়তো তখন বলা হয় নাই। কিন্তু আমি একটা কিছু বলছিলাম, খুব একটা মনের ভাব তাতে প্রকাশিত হয় নাই যদিও। অনেক ভালো লাগলে অনেক সময় ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। ঐ রাতেই আমরা কথা বলা শুরু করেছিলাম। আমি কতোটা ফালতু সেটাও ঐ রাতেই যতটা সম্ভব জানায়ে দিছি। কিন্তু তবুও ও ওইটা জিগ্যেস করলো আর আমার যারপরনাই ভালো লেগে গেলো।


আজ রাতে আমি ওকে বললাম যে তোমাকে সুন্দর দেখাচ্ছে। দুই বার বলার পর ও বললো, ধন্যবাদ। আমি আরও কইলাম, তোমার একটা শাড়ি পরা ছবি আমার খুব ভালো লাগে। সবুজ পাড়ওয়ালা শাড়িটা। তোমার চুলের সবুজের মত।


কিন্তু এইসব কথা বলার কি আছে জানিনা। শেষটায় কি আর হবে? আমার ভালো লাগে না। মেয়েটা এ্যাতো ভালো হলো ক্যানো!


আজকে জুলিয়াদের বাসায় গেছিলাম। জুলিয়ার মা ডোরিসকে মেসেজ দিছিলাম এই লিখে যে, আমার একটা জ্যাকেট কেনা দরকার, লিডেল নামের দোকানে দুইটা জ্যাকেট আছে, কোনটা নিলে ভালো হবে সেইটা আমি বুঝতে পারতেছিনা, তাই তুমি লিডেলে আসলে আমাকে জানায়ো। সে তখন রেপ্লাই দ্যায়, “আমার ছেলে সাইমনের ছোটবেলার একটা জ্যাকেট আমার কাছে আছে, তুমি চাইলে সেইটা ট্রাই করে দেখতে পারো।” তো আমি চলে গেলাম ট্রাই করতে। ওটা ভালোই। নিতে রাজি হলাম। এছাড়া সাইমনের একটা ফুলহাতা গেঞ্জিও আমি নিছি। সেইটা আজ পরে গেছিলাম। ওটা আমার সাইজমত হইছে দেখে ডোরিস খুব উল্লাসিত হলো। জ্যাকেটের কিছু জায়গায় রিপেয়ার করে ধুয়ে মুছে নতুন করে দেবার আশ্বাস দিলো এই হৃদয়বান নারী। কিন্তু ওই জ্যাকেট আমার গায়ে একটু বড় হয়। তবে তুষার যখন পড়বে তখন ভেতরে আরও একটা পুলওভার পরে তারপর ওটা গায় দিলে যুতসই হবে। ডোরিস বললো, তুমি চাইলে লিডেল থেকে ভালো ফিটিং হয় এমন একটা জ্যাকেট কিনতে পারো এবং জানুয়ারির কড়া শীতের জন্য এটা রেখে দিতে পারো। তাছাড়া আগামী উইকেন্ডে আমি ইলমিনাউ নামের শহরে যাব বেড়াতে। সেখানে অনেক শীত। তাই আগামীকাল ডোরিসের সাথে লিডেলে গিয়ে একটা জ্যাকেট কিনতেই হবে।

এই জ্যাকেটের প্রতি আমার খুব উইকনেস ছোটবেলা থেকে। অনেক বাচ্চাই ফ্যাশনেবল জ্যাকেট গায় দিয়ে ডাঁট মারতো রাস্তায়। আর বাবা আমাকে কিনে দিতো খুবই হাস্যকর দেখতে কিছু উলের সোয়েটার। সেই সোয়েটারের ব্যাপারটা এ্যামন ছিলো যে ওটা আমার সাথে সাথেই বড় হতো। ফলে অন্তত পাঁচ ছয় বছর আমার একটা সোয়েটারই পরতে হতো। এসব কারণেই আমি খুবই হাসির পাত্র ছিলাম। বড় হবার পর কেন জানি এইসব জামা কাপড়ের প্রতি উইকনেস চলে গেল। চাইলে প্রতি শীতে আমি একটা জ্যাকেট কিনতে পারতাম। কিন্তু ঢাকা কলেজ বা বঙ্গবাজার এলাকার ঐসব মার্কেটে যাবার পেইনের কথা চিন্তা করে আমি গত ছয় শীত একটা হুডি দিয়েই চালায়ে দিছি। চতুর্থ বা পঞ্চম শীতে সিগারেটের আগুনে ঐ হুডির একটা হাতায় দুইটা ছিদ্র হয়ে যায়। পরের দুই শীত আমারে সবাই জিগ্যেস করছে এই ছিদ্রের বিষয়ে। একেক জনরে একেক উত্তর দিছি।

এখন ইউরোপে এসে সব ইন্টারন্যাশনাল ছাত্ররা ভালো ভালো জ্যাকেট পরে ঘুরতেছে আর আমি একটা মাস কাটায়ে দিলাম সেই ছোট বেলার মত একটা উলের সোয়েটার পরে। জ্যাকেটের প্রতি আমার উইকনেস যে একেবারে উঠে গেছে তা না। কিন্তু আপাতত সাইমনের ছোটবেলার জ্যাকেট বা লিডেলের সস্তা জ্যাকেটই ভালো।


লিডেল এবং জ্যাকেটের বিষয়ে সাদিয়াকে বলার পর ও বললো, আমারও লিডেল নামক যায়গা থেকে জ্যাকেট কিনতে ইচ্ছা করতেছে।


A brief Technical error: couldn't write in Bangla. My life could be a little bit easier if I could use Bangla. I had a lot things in my head to write about. But now, I have lost almost all of them.

"You're a light in the dark, a beacon of hope
And strong as a sea boat, strong as a rope
And the vagabond wind, whispers over the bay
And the songs and the laughter, are carried away
in the sky"

But now its a different song and my mind has changed too. Long story short- I came to Ilmenau for the first little trip in Deutschland. The morning exhausted me, the weather was bad. But I could turn in it into a better time since this cozy little room became very friendly. Surviving zero degree C. outside. The window is open and I turned the heater down. Outside the widow there is a nice neighborhood, I really like it.

But most of the things I want to write down not coming out right. But it will be great night hopefully. Had a lot of talk with my brother. And maybe, much of them were unnecessary. But this is the way I am. Couldn't hold them in.

I'll just listen to 'An evening with Mark Knofler'- He gets up on the stage and sings out, 'We are sailing to Philadelphia...' Good bye world!


শ্যাম কালিয়া সোনা বন্ধুরে, আমি নিরলে তোমারে পাইলাম না। এইসব গান শুনলে আজকাল আমি অসাড় হয়ে যাই। যখন কোনো বাঙালি নারী সেই পুরোনো টান দ্যায় গলায়, তখন আমার মনের যত দুঃখ সব যেন বসন্তের পাতাদের মত জেগে ওঠে। মন আমার বাংলাদেশের কোনো এক জংলা পথে হাঁটা দিতে চায়। কী কী পাইলাম না আমি এই জীবনে সেইসবের লিস্ট লম্বা হতেই থাকে। একটা প্রেম, একটা নিরল প্রেম, একটা ভাবনাহীন জীবন- এইসব সেই লিস্টটাকে ভারী করতেই থাকে। আজ আমি কোথায়, কেন এখানে এসেছি এইসব প্রশ্ন জাগা নিতান্ত অনর্থক কি? কেউ যদি নিশ্চিতভাবে আমাকে জানাতে পারতো তবে কি আমি এখনকার যাবতীয় পরিশ্রমে মন দিতে পারতাম?

অসংখ্য বৃথা ভাবনা, যাদের কোনো সত্যিকার স্থান নেই এই পৃথিবীতে। আমি জানি দেশের সবাই দেশটা ছেড়ে পালাতে চায়। আমিও চাইতাম। কিন্তু ঠিক যে জীবনটা যাপন করে চলে এলে এইসব খারাপ লাগা আসতো না জীবনে, সেই জীবনটাতো আমি কাটাই নাই বাংলাদেশে। আমি সেইসব হারাইছি জীবন থেকে। এই ব্যথা নিয়ে বাকী জীবনটা কীভাবে কাটিয়ে দিবো!

এখন আমার মনকে মিছে বুঝ দেওয়া ছাড়া আর কিছু করার নেই।
বুঝ ১ঃ সেইসব সোনার দিন আসলে বাংলার মাটিতে নেই। হারিয়ে গেছে সে গ্রাম আরও কয়েক'শো বছর আগে। যখন বাঁশী বাজতো আর রাখাল গরু চরাতো। যখন বিজলিবাতি ছিলো না। গরুর গাড়ী হাঁকাতো গাড়ীয়াল। যখন কলেরায় মানুষ মারা যেত। বজ্জাত বৃটিশরা এই দেশটা নষ্ট করার বহু আগেই যদি জন্মাতাম, তবে হয়তো জন্ম স্বার্থক হত। সুতরাং এই নষ্ট সময়ে দেশের জন্য মন খারাপ করে লাভ নেই। বরং পৃথিবীর পথে পথে ধুলো হয়ে মিশে যাব এই কামনাই করি। বাংলা গান না হয় রইলোই সাথে।

বুঝ ২ঃ দেশ ছাড়া ছাড়া আর কিছু আসলে আমার করার ছিলো না। আমি পরিস্থিতির স্বীকার। তখন মনে হইছে যে এই অবস্থায় দূরে কোথাও গিয়ে নতুন করে শুরু করাই সঠিক হবে। এসে দেখলাম যে ভালো লাগে না। সেই নষ্ট জনপদের জন্যই মন কান্দে। কিন্তু আমি জানি দেশে ফিরে গেলে বছর কয়েক পরেই আবার সেই পুরোনো ভালো না লাগা ফিরে আসবে। সুতরাং এইটা একটা দিল্লির লাড্ডু সিচুয়েশন। দেশে থাকলেও ভালো লাগে না। বিদেশে আসলেও না। কোনো কিছুর উপরে আসলে আমার হাত নেই। জীবন মানেই ভোগান্তি আর জ্বালা। তাই আর কোনো কিছু করার চেষ্টা না করে হার মেনে নিলেই মঙ্গল।

বুঝ ৩ঃ বিদেশে অনেক স্বাধীনতা, অনেক কিছু করার সুজোগ, সবার সমান অধিকার। রাস্তাঘাটে মন্ত্রীর ভাগ্নের ফাপড় নাই, ঘুষ দেবার মত বাজে ব্যাপার নেই, হেলথ কেয়ার ভালো, ক্লাসের প্রোফেসররা এখানে সত্যিকারের শিক্ষাগুরু। অনেক দিক থেকেই জীবন আনন্দের। শুধু কিছু কষ্ট করতে হবে। ভালো থাকার অনেক উপায় এখানে।

আপাতত অন্য কোনো বুঝ খুঁজে পাচ্ছি না। যা পাইছি তাই যথেষ্ট। নিরলে তোমারে পাইলাম না তো কী হইছে? পাইলেও কয়দিন পর আর ভালো লাগতো না। জীবনে আসলে সুখ নাই রে পাগল।

সাদিয়ার সাথে কয়েকদিন ধরে যোগাযোগ তেমন হচ্ছে না। ও হয়তো সচেতন হয়ে গ্যাছে। তাই হয়তো লাগাম টেনে ধরে রেখেছে। এই যদি হয়ে থাকে তবে আমারও আপত্তি নেই। ভালো ব্যাপারটা। প্রেমের সমস্যা হলো প্রেমিকারা হারিয়ে যায়, কিন্তু বন্ধুরা টিকে থাকে। তাই সাদিয়ার মত একজন অসাধারণ মানুষকে টিকিয়ে রাখাই বেশী দরকার। আবেগের অতিকায় হস্তী হবার দরকার নাই, সম্পর্কটা তেলাপোকা হয়েই থাক।

মীর's picture


হাহাহা, আমার কাছে ইলমিনাউয়ের পার্টটা ভাল্লাগসে সবচাইতে। ওই পার্টে আমার রুমের কথা লেখা হইসে বলেই অবশ্য। আর লিটল কোজি রুমও তোকে পেয়ে খুশি হইছিল।

পড়াশোনা কর মনোযোগ দিয়ে। ব্যাচেলর কোর্স মাস্টার্সের চেয়ে অনেক লম্বা, আর পর্যাপ্ত পরিমাণ মোটিভেশন না থাকলে শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়াও কঠিন। দীর্ঘ সময় পর্যন্ত মনোযোগ ধরে রাখতে হবে পড়াশোনার প্রতি, ধারণা করছি, অন্তত তিন-চার বছর। পাশাপাশি পড়াশোনা সংক্রান্ত ও অন্যান্য, উত্থান-পতনও সামলাতে হবে শক্ত হাতে। কিছু পেয়ে যেমন খুশিতে আত্মহারা হয়ে দায়িত্ব ভুলে যাওয়া চলবে না, তেমনি হতাশাদেরকেও খুব বেশি পেয়ে বসতে দেয়া যাবে না। সবকিছুর সাথে সাথে চেষ্টা করতে হবে ভাষাটা ভালমতো শেখার এবং যতোটা সম্ভব স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার। এইসব কাজ একা একা করতে পারাটা সহজ না, কিন্তু করলে পরে মূল্যায়ন একদিন জুটবেই। ওটা নিয়ে ভাবিস না। ইভন মূল্যায়ন দিয়ে কি করবি, সেটা নিয়েও পরে ভাবলে চলবে। এখন সামনে সুবিশাল লম্বা রাস্তা। শুভকামনা।

আরাফাত শান্ত's picture


অনেক অনেক শুভকামনা ভিনদেশে!
লেখাটা ভালো ছিল খুব!

সনৎ's picture


আপনাকেও অনেক অনেক ধন্যবাদ আর শুভকামনা! আপনার লেখা কম বেরোয় কেন আজকাল ?

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.