ইউজার লগইন

''ডোন্ট লুক ব্যাক ইন অ্যাংগার''

সেদিন বিকেলের দিকে খুব ব্যস্তমত কলাভবনের গেইট দিয়ে ঢুকেই কোনো অন্য কোন না তাকিয়ে সোজা ডিপার্টমেন্টের করিডোর ধরে হাঁটা দিলাম। বাইরে তাকিয়ে দেখি বৈজয়ন্তী। একটা লালচে শাড়ি পড়েছে। হাঁটতে হাঁটতে প্রফেসরের সাথে আলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। এসবের সামলাতে সামলাতেই ওর ব্যস্ত ঠোঁট আর চোখদুটো আমার দিকে ফিরে খুব সুন্দর একটা হাসি উপহার দিলো।

মেয়েটার প্রেমে পড়া আমাকে বিকল করে রেখেছিলো অনেকটা সময় ধরে। কিন্তু সেইসব স্বপ্নের প্রেম মেয়েটার কাছ থেকে পাওয়া হয়নি সেসব দিনে। ওর কাছে আমার চানাচুরওয়ালা মনের সেসব চাওয়া এখন শুধু মাটি চাপাই পড়েই থেমে থাকেনি। সেই মাটিতে ঘাস, তুলসি গাছ সবই ফলেছে।

আমি একটা হাসি ওর দিকে চেলে দিয়ে চারকোণা এ ফোর সাইজের কাগজের মত এইসব ভাবনাদের ভাঁজ করে পকেটে পুরে রাখতে রাখতে প্রফেসরের রুমে ঢুকে পড়লাম। ঘন্টা খানেক দেরী করে এসেছি আজও। আমার এই বিখ্যাত ক্লাসিক ঘরানার দেরীর সাথে ক্লাসের সবাই পরিচিত। ছন্দা দিদিদের তল্লাটে পাতাকপির ঘ্যাঁট দিয়ে এক থাল ভাত খাবার সময়ই ফোনে আপডেট পাচ্ছিলাম, প্রফেসরকে কে যেন বলছিলো, স্যার ওর আজও এক ঘন্টা দেরী হবে। কিন্তু এসে দেখি কাজ তেমন কিছুই নেই, প্রফেসরও হাওয়া। রুমের ভেতর প্রফেসরের কম্পিটারের মনিটরের দিকে ঝুঁকে আছে একগাদা উৎসুক ছেলেপেলের মাথা। ওদের একজন বললো, প্রফেসর অন্য কাজে গেছে, আজ আর ফিরবে না।

ব্যস! আর কী লাগে! মেজাজের ব্যারোমিটারের ফুরফুরে নবটা আরো একটু ডানে ঘুরিয়ে দিয়ে করিডোর ধরে ফিরতি হাঁটা। গেইট দিয়ে বেরোবার সময় কানে লাউডস্পীকারের বাজনা এসে ধরা দিলো। আমিও হাল্কা উৎসুক হয়ে ছোট্ট একটা রুমের খোলা দরজার ফ্রেমে ঠেস দিয়ে দাঁড়ালাম। বাচ্চাদের একটা প্রোগ্রাম হচ্ছে। আয়োজকরাও বাচ্চাদের মত বাঘ ভালুকের কস্টিউম পরে একই সাথে নাচছে। এর মধ্যে নীল হলুদ শাড়ি পরা ছিপছিপে একটা মেয়ে এসে নাচতে শুরু করলো। চেহারাটা একটা রঙিন মুখোশ দিয়ে আবৃত। নাচের তালে পাক খেতে খেতে আমার সামনে এসে থামল। কারও সাথে কথা বলার চেষ্টা করছিলো। কিন্তু আমি ওর ঠিক পেছনে দাঁড়িয়ে। কী মনে করে এক পা এগিয়ে গিয়ে পেছন থেকে ওর ডান হাতের আঙ্গুলগুলোর ফাঁকে ফাঁকে আমার বেঢপ আঙ্গুলগুলো সেট করার কাজটা সেরে ফেলে কানের কাছে মুখ বাড়িয়ে দিয়ে বলে দিলাম, আই উড নট হ্যাভ আ ক্লু, ইফ নট ফর য়্যু। তারপর ও আমার দিকে ফিরলো। মুখে সুন্দর একটা হাসি। ততক্ষণে আমার বাম হাতটাও ওর কোমর থেকে নেমে গিয়ে অন্য হাতের আঙ্গুলের ফাঁকা গুলো দখল করে নিয়েছে। এরপর আমরা যখন হাত ধরে কলাভবনের সিঁড়ি দিয়ে বাইরের সবুজের দিকে আগাচ্ছি তখন ওর এক বন্ধু মন্তব্য ছুঁড়ে দিতে দেরী করলো না, 'এখন থেকে তাহলে এইসব প্রাক্টিস করে করে বিকেলগুলো ভালোই কাটবে তোমাদের!' আমরাও মেয়েটার দিকে যুগল হাসি ছুঁড়ে দিয়ে এগোতে থাকলাম। পাশেই একটা ছোট জল ভরা গর্তে বেড়ে উঠেছে একটা কচুর ঝোপ। ও বললো, তুমি আমাকে কী রকম ভালোবাসো? আমি কী বলবো ভেবে না পেয়ে ঐ কচু পাতায়ই আশ্রয় নিলাম। বললাম, এই কচুর ঝোপের অদ্ভুত উজ্জ্বল সবুজ পাতাদের নিবিড় সমাহারের মত। ও কী বুঝলো কিজানি! মনে হয় খুব একটা পাত্তা পেলো না আমার এই সাহিত্তিক চমৎকারীতা। আমিও তেমন ব্যস্ততা দেখালাম না। ও কি একটা গাছের নাম জিগেস করলো। কাছে গিয়ে দেখি সেটা একটা মৃত মহীরুহ। চিনতে পারলাম না। নিচের ঘাসে তাকিয়ে দেখি কয়েকটা তুলসি গাছ। আমি একটা তুলসী পাতা ছিড়ে জিন্সে মুছে ওর দিকে বাড়িয়ে দিলাম। এখন ওর লালচে সুন্দর ঠোঁট দুটোর মাঝে একটা সবুজ তুলসী পাতা।

পোস্টটি ১ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

আরাফাত শান্ত's picture


বাহ!

সনৎ's picture


ধন্যবাদ! এমন বাহবা পেয়ে সেই ভাল্লাগ্লো ভাইয়া! Party

মীর's picture


লেখার কিছু কিছু জায়গা বেশ ভাল হয়েছে। যেমন,

ছন্দা দিদিদের তল্লাটে পাতাকপির ঘ্যাঁট দিয়ে এক থাল ভাত খাবার সময়ই..

কিন্তু শেষের দিকে গিয়ে মনে হলো বিমূর্তায়নের চেষ্টা করেছিস, যেটা খুব বেশি ফলপ্রসূ হয় নি।

যাহোক, লিখতে থাক হাত-পা খুলে। ইংরেজিটাও ছাড়িস না। কারণ, ওইটারও উপযোগিতা আছে। যদিও আমি মাতৃভাষা ছাড়া আর কোনো ভাষায় সাহিত্যচর্চার পক্ষপাতী না। কিন্তু বিদেশে পড়াশোনার সময় এটা টুকটাক করা উচিত বলে মনে করি, অনুশীলনের জন্য হলেও।

সনৎ's picture


সেইটা আমিও বুঝছি। নিজের লেখা ইংরেজি পড়তে গেলেই ভালোমত বুঝা যায় ব্যাপারটা। কিন্তু হ্যাঁ, অনুশীলনের জন্য অবশ্য দরকার আছে। সেইজন্য যদি কখনো ইংরেজিতে লিখতে ইচ্ছে করে তো লিখি।

আর এই লেখার পেছনে আসলে আমার কোনো হাত ছিল না। সকালে কফিসহকারে ব্রেকফাস্ট করে আবার ঘুম দিছিলাম। সেই সুজলা সুফলা ঘুমের ফসলস্বরুপ এই বিমুর্ত (আবস্ট্রার্ক্ট, তাইতো?) স্বপ্নকে দেখেছিলাম। তুলসীপাতার ঐ যায়গাটায় ঘুম ভেঙ্গে যাবার কারণে খুবই বিরক্ত হইছিলাম, হয়তো আরো ভালো কিছু ঘটতো তারপর।

যাইহোক, ধন্যবাদ!

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.