রবীন্দ্রনাথ যদি এ যুগে জন্মাতেন...!
ক্স ফেসবুকে তাঁর এক বা একাধিক এ্যাকাউন্ট থাকতো! অল্পদিনেই ফেসবুক চ্যাট, স্ট্যাটাস দেয়া, বিভিন্নজনের ছবিতে লাইক দেয়া এবং অসংখ্য গ্র“পের সদস্য হতেন। তাঁর প্রকাশিত লেখার কাটিং বিভিন্ন বন্ধুকে ট্যাগ করতেন। এই করতে করতে সময় কেটে যেতো। আসল কাজ লেখালেখি তেমন একটা হতো না! বড়জোর নির্মলেন্দু গুণের মুঠোফোনের কাব্য’র আদলে ফেসবুক কাব্য লেখার চেষ্টা করতেন!
ক্স তাঁর ভক্ত ও অনুরাগীরা সরকারের কাছে দাবি জানাতো, রবীন্দ্রনাথের নামে একটি সড়কের নামকরণ করার জন্য। কিন্তু সরকার কিছুতেই এ দাবি মেনে নিতো না। ফলে ভক্তরা কঠোর আন্দোলনে গিয়ে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হতো। ফলাফল : ভক্তদের একাংশ হতাহত হয়ে হাসপাতালে ঠাঁই নিতো। পরদিন দৈনিকের পাতায় শিরোনাম হতো, পুলিশের হাতে মার খেলো রবি ঠাকুরের ভক্তরা!
ক্স মোবাইলফোন কোম্পানি একটেল নাম পাল্টে রবি করেছে। রবি ঠাকুর মোবাইলফোন রবির পরিচালক বরাবর চিঠি লিখতেন, আপনারা তো আমার নাম লইয়া ছিনিমিনি খেলা আরম্ভ করিয়াছেন। তবে কি আমার জন্য একটেল নামটিই বরাদ্দ হইবে?! লোকজন আমাকে কবি একটেল বলিয়া ডাকিলে কি আপনারা খুশি হইবেন!
ক্স তাঁর নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির স্বচ্ছতা নিয়ে সরকারি দল কুতর্কে মেতে উঠতো। কুতর্ক সৃষ্টির আগে সরকারের উপর মহল থেকে চাপ আসতো, সরকারের যুগান্তকারী উন্নয়ন নিয়ে পত্রিকায় কিছু লেখার জন্য। কিন্তু রবি ঠাকুর যখন বলতেন, উন্নয়ন? উন্নয়ন কই, আমি কিছুই দেখিতে পাইতেছি না! তখনই সরকার প্তি হয়ে তাঁর নোবেল পুরস্কারে কালিমা লেপন করার জন্য উঠেপড়ে লাগতো!
ক্স সোনার তরী কিংবা নৌকাডুবির মতো লেখা পড়ে বিএনপির প থেকে অভিযোগ উঠতো, রবীন্দ্রনাথ নির্ঘাৎ আওয়ামী লীগ করেন। নইলে তিনি বিএনপিকে নিয়ে নিয়ে কিছুই লেখেন না কেন? কেন তার সমগ্র রচনায় নদী, নৌকা এতো বড় স্থান দখল করে থাকবে!
ক্স কবিতা লিখলে মোটামুটি ১৪ লাইনে আর গল্প দুই হাজার থেকে বাইশ শ শব্দে লিখতে বাধ্য করতেন সাহিত্য সম্পাদকরা। শব্দসংখ্যা বেড়ে গেলে সেই লেখা কেটেছেটে বনসাই স্টাইলে ছোট করতেন অথবা অনন্তকালের জন্য ঝুলিয়ে রাখতেন। সম্পাদক দয়ালু হলে কিঞ্চিৎ বড় গল্পটাই ঈদসংখ্যায় উপন্যাস হিসেবে চালিয়ে দিতেন!
ক্স যে কোনো সাাৎকারে এসময়ের ‘প্রতিভাবান তরুণ কবি’দের নাম উল্লেখ না করলে তারা খেদোক্তি ঝেড়ে বলতো, ‘শালা, কিচ্ছু জানে না!’
ক্স ফ্যাপ লিখে দেয়ার জন্য তার বাসায় নব্য লেখকরা ভিড় জমাতো। তরুণীরা চেষ্টা করতো, রূপের মায়াজালে গুরুর মন ভজাতে!
ক্স প্রতি বছর ঈদ ও পূজা সংখ্যায় কমসে কম তাঁর ১০টি উপন্যাস ও ৩০টি কবিতা ছাপা হতো! বেশি লিখতে গিয়ে যে পুনরাবৃত্তি করে ফেলতেন তা নিজেও টের পেতেন না!
ক্স কাগজ-কলমের দিন শেষ। এখন কম্পিউটারের যুগ। লিখতেনও কম্পিউটারেই। কিন্তু কম্পিউটার ভাইরাস এ্যাটাকজনিত কারণে যখন বিগড়ে যেতো, তখন বলতেন, দাও ফিরে সেই অরণ্য, লহ এই সভ্যতা!
ক্স গল্প-কবিতায় সাময়িক ইস্তফা দিয়ে টেলিভিশন চ্যানেলের জন্য ধারাবাহিক নাটক, এক ঘণ্টার নাটক ও টেলিফিল্মের চিত্রনাট্য নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়তেন। কখনো কখনো চরিত্র ভালোভাবে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য নিজেই শ্যুটিং স্পটে হাজির হতেন!
ক্স বিভিন্ন সংগঠন তাকে পদক দেয়ার জন্য প্রায়ই উঠেপড়ে লাগতো। তিনিও এসব পদক সংগ্রহ করে ভাঁড়ার ঘরে রেখে দিতেন। পরে সাাৎকারে এবং বইয়ের ফ্যাপে যখন পুরস্কারপ্রাপ্তির তালিকায় নামগুলো থাকতো না, পদকদাতারা মনে মনে গোস্বা হতেন!
ক্স তাঁর নামে আগে নানা বিশেষণ যুক্ত হতো, শক্তিশালী কবি, জীবনঘনিষ্ঠ ঔপন্যাসিক, মনস্বী প্রাবন্ধিক, চিন্তাশীল গবেষক...!
ক্স সকাল বিকাল টেলিভিশন ভবনে ছুটতে হতো স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করার জন্য। কবিতা আবৃত্তি করতেন ঠিকই, কিন্তু টেলিভিশন কর্তৃপ চেক দিতে গড়িমসি করতো!
ক্স তাঁর গান এবং কবিতার মিউজিক ভিডিও হতো। কখনোসখনো তিনি নিজেই মডেল হতেন!
ক্স বাংলা একাডেমীর একুশে বইমেলায় নিয়মিত আসতেন। বইতে অটোগ্রাফ দিয়ে বই বিক্রিতে বড়সড় প্রভাব রাখতেন!
ক্স সতীর্থ লেখকরা ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে তাঁর নামে কুৎসা রটাতো, ছ্যা ছ্যা, তিনি নাকি কবিগুরু! আরে তার তো বাক্যই হয় না। ব্যাকরণেরও তোয়াক্কা করেন না! তাঁর মতো লেখকের জানা উচিত, ব্যাকরণ না জেনে লেখা ঠিক না!
ক্স ছাত্রদল-ছাত্রলীগ-ছাত্রশিবিরের লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি তাঁকে পীড়িত করতো। ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি পত্রিকার সম্পাদকীয় পাতায় জ্বালাময়ী কলাম লিখতেন। তা পড়ে ছাত্রনেতারা কবিগুরুকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করতো!
ক্স পত্রিকাগুলো ঈদসংখ্যায় লেখা দেয়ার জন্য তাঁর বাসায় ভিড় জমতো। নিজের অপরাগতা প্রকাশ করলে পত্রিকাগুলো লেখা আদায়ের জন্য অত্যুৎসাহী প্রদায়ক বাহিনীকে ব্যবহার করতো! ক্ষেত্র বিশেষে সুন্দরী নারীকেও...!





দারুণ!
চারিদিকে গুরু-গম্ভিরতা ভিড়ে আপনার লেখাটি পড়ে মজা পেলাম।হা হা হা...হি হি হি...
পর পর তিনটি পোস্ট হয়ে গেছে আপনার! যেকোন একটি আপাতত সরিয়ে নিতে পারেন!
:bigamile:
:bigamile:
ধন্যবাদ। @ লীনা আপা, শাকিল ভাই
ধন্যবাদ। @ রন
দারুণ!
মজা পাইলাম
ধন্যবাদ। @ তানবীরা, সামিয়া
মন্তব্য করুন