ওড টু মাই ফ্যামিলি- ৩
আমার ছোট বোনটি বড্ড ভালো মানুষ। সকালে উঠে মর্নিং ওয়াক করেন, বাবা-মাকে সঙ্গ দেন, বাড়ির অন্যদের দেখাশুনা করেন, কাজের ফাঁকে ধ্রুপদী ভারতীয় নাচের তালিম নেন, আর সঙ্গে ঢাকায় একটা বিদেশী দূতাবাসে বিরাট অঙ্কের চাকরি করেন। সিরিয়াস মানুষ বলেই মনেহয় কমেডি ঘটনাগুলো ওর কপালেই ঘটে। কাল সকালে ফোন করেছে আমাকে, উদ্বিগ্ন গলায় বললো, জানিস কাল কি হইসে? আমি নিশ্চিত তেমন সিরিয়াস কিছুনা। বললাম কি হইসে? আধাঘন্টাব্যাপী ঘূর্নিঝড় উঠলো ঢাকা-আমেরিকা ফোন লাইনে। আমার মনে পড়ে গেলো অন্য একগল্প।
তাও বছর তিনেক আগেকার ঘটনা এটা। একদিন সে বাড়ি ফিরলো হন্তদন্ত হয়ে, চেহারা থেকে বিরক্তি ঠিকরে ঠিকরে বের হচ্ছে। আমি বিছানার একদিকে ব্যাঁকা হয়ে বসে আছি। ও বললো, জানিস আজকে কি হইসে? আমি ব্যাঁকা অবস্থায় জিগেশ করলাম, কি হইসে? সে বললো, এই আজ আমি যে সিএঞ্জি নিসিলাম ওটার ড্রাইভারটা একটা বাটপাড়। আমি বললাম, তাই নাকি? বোন বললো "একদম, ১০০ ভাগ বাটপাড়।" আমি হাই তুলে বললাম "ক্যান কি করসে?" এরপরে যা শুনলাম তাতে উঠে বসতে হলো।
বোন নাখালপাড়ার লুকাসের মোড় থেকে কলাবাগান যাবার জন্য সিএনজির জন্য অনেকক্ষন অপেক্ষা করে একটা পেলো যে কিনা মিটারে যাইতে চায়, বলসে টাকা নাকি কোন ব্যাপার না। বোন খুশি। উঠার পরে সিএনজি মোটামুটি ঝড়ের গতিতে চলা শুরু করলো। বোন একটু ভীত। বললো, "ভাই একটু আস্তে চালান।" অনুরোধ শুনে ড্রাইভার সাহেব চোখের উপরে থেকে চুল সরিয়ে নায়কোচিত ভঙ্গিতে হেসে বললো, "সমস্যা নাই আপা, ভয় পাবেন না"।
সিএনজি প্রথম থামলো বিজয় সরনির মোড়ের সিগনালে। ভাইসাহেব এবার তার প্রথম ডায়লগটি ছাড়লেন-
-আপা আপনি কি মডেলিং করেন?
- জ্বি না।
-আপনার চেহারা কিন্তু একদম মডেলের মত।
- ( আতংকিত নিস্তদ্ধতা)।
- (এবার দ্বিতীয় ডায়লগ) আমি কিন্তু আপা আসলে সিএনজি চালাই না, আজকে শখ করে চালাচ্ছি।
এবার বোনের আক্কেলগুড়ুম। সে বললো "আপনি এর আগে কখনো চালান নাই?"
- জ্বি না আপা, আজ হটাত শখ হইলো, তাই চালাচ্ছি, আমি আসলে মোটরসাইকেল চালাই। এইজন্য আস্তে চালাতে পারিনা।
বোন মোটামুটি জমে বরফ, আর এদিকে সিগনাল খুলতে আবার পঙ্খিরাজের গতিতে চলা শুরু হলো সিএনজি--- গাড়ী, বাস, ট্রাক কাটায়ে সে এক সাঙ্ঘাতিক গতিতে প্রায় উড়তে শুরু হল। এর মধ্যে মধ্যে টুকটাক গল্প--
-আমি আসলে সিনেমায় কাজ করি।
-ও আচ্ছা।
- হ্যা আপা, আমি ফাইটিং মাস্টারের কাজ পাইসি মনতাজুর রহমান আকবরের নেক্সট
ছবিতে।
- ভালো তো। (পাংশুমুখে)
-আপনি আলেকজান্ডার বো'কে চিনেন?
- না, ইনি কে?
-আরে! চিনেন না! উনি ফাইটার হিরো, আমি উনার দলে কাজ করি। আপনাকে ছবি দেখাবো। দেখলেই চিনে যাবেন।
- ইয়ে মানে, থাক, মনে হয় বুঝতে পারছি।
এই পর্যায়ে সিএনজিচালক গাড়ি থামালো রাস্তার পাশে, বোন ভাবলো এইবার নেমে যাবে। কিন্তু ভাইসাহেব পকেট থেকে সানগ্লাস বের করে বোনের বজ্রাহত চেহারার দিকে তাকিয়ে বললেন, "ভয় পাবেন না আপা, ঢাকা শহরে গাড়ি জোরে চালানোই ভালো। আস্তে গেলে সারাদিন লাগবে, আপনি কি সারাদিন সিএনজিতে বসে থাকতে চান?" বোন তড়িৎগতিতে বলে উঠলো, না না। ভাইসাহেব শুনলেন কি না তা ঠিক বোঝা গেলো না, চশমা চোখে দিয়ে সে আবার দিলো এক টান।
এরপরের সিগনালে থামাতেই ভাইসাহেব পাশ থেকে বের করলেন এক ছবির এলবাম।
- এই নেন বসে ছবি দেখেন, তাহলে "বোরিং" হবেন না।
- ইয়ে মানে।
সিগনাল ছেড়ে দিলো, ভাইসাহেব পিছনে তাকিয়েই গাড়ি চালানো শুরু করলেন।
- না দেখলে আমি মনে খুব দুঃখ পাবো।
- আসলে, আমি...
-প্লিজ।
- আচ্ছা দেন। (বোন বুঝে নিলেন এক্সিডেন্টের চাইতে ছবি দেখা উত্তম)
আবার শুরু হলো গল্প--
- আপনার কিন্তু মডেলিং করা উচিত। একটা ফোন নাম্বার দিবো, মোবাইল করবেন, আপনার ফেসকাটিং খুব ভালো, দৌড়ায়ে দৌড়ায়ে বিজ্ঞাপনে নিবে আপনাকে।
- আচ্ছা।
- আপনি খালি একটা মোবাইল করবেন।
- (চুপ)
এইসব কথা বলতে বলতে কলাবাগান এসে গেল। বোন মিটার দেখে ৫৬ টাকা, সে ৬০ টাকা বের করে এলবাম ফেরত দিতে গেলে ভাইসাহেব এবার প্রোএকটিভ হয়ে নিজেই এলবাম খুলে বললো, "এইযে এই ছবিটা দেখসেন? এটা নায়িকা দিতি, "রঙ্গিলা মন" ছবির শ্যুটিংয়ে, আর এটা হলো আমার ওস্তাদ আলেকজান্ডার বো "কাজের মানুষ" ছবির মহুরতে, আর এই টা হল..... "
বোন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ছবি দেখলো কিছুক্ষন, তারপর টাকা বাড়িয়ে দিয়ে বললোঃ
-খুব সুন্দর। আচ্ছা তাহলে যাই।
- আপনি টাকা দিচ্ছেন কেন? টাকা তো চাইনাই।
- মানে কি? টাকা তো দিতে হবে নাকি?
- আপনাকে আমার পছন্দ হইসে, তাই নিসি। টাকা কোন প্রব্লেম না।
- এটা কেমন কথা।
- টাকা লাগবেনা। (মুচকি হাসি দিয়ে) তবে আপনার মোবাইল নাম্বারটা দিতে পারেন।আর আপনি যেকোন সময় আমাকে মোবাইল দিবেন, এই নেন কার্ড। আপনাকে আমি অবশ্যই বিজ্ঞাপনে সুযোগ করে দিবো।
বোনের অবস্থা এবার ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি। সে কার্ড নিয়ে টাকা পিছনের সিটে রেখে এক দৌড় দিলো। ভাইসাহেব পিছন থেকে উচ্চস্বরে বললেন, "মোবাইল করেন কিন্তু"।
আমি গম্ভীর গলায় জিজ্ঞেশ করলাম, তা ছবি কেমন দেখলি? বোন বলে, "আরে বলিস না, নানারকম কুংফু-ক্যারাটের পোজে- একটাতে বাম হাতে কারো গর্দানে তো আরেকটাতে ডান পা লাথির ভঙ্গিতে ২০টা হাড়ির উপরে, আর বিভিন্ন নায়ক নায়িকার সাথে নানারকম পোজ মেরে অন্যগুলো।" আ্মি হাসতে হাসতে পড়ে যাবার আগে জিজ্ঞেশ করলাম, "তা তুই মডেল হচ্ছিস কবে?" সে গম্ভীর হয়ে গেলো। "তোমার এত খুশির কি হলো? আমাকে যদি কিডন্যাপ করে নিয়ে যেত?" আমি বললাম, "কিডন্যাপ করবে ক্যান? তোকে তো সাহায্য করতে চান উনি। মোবাইল করিস।"
নাখালপাড়ার ঘরে হাউকাউয়ের ঘুর্নিঝড় উঠলো। আমি এক ফাঁকে কার্ডটা দেখে নিলাম।
মিস্টার সামচুল হক (সজীব)
অভিনেতা/ ফাইট মাস্টার
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন
কারওয়ান বাজার, ঢাকা।
মোবাইলঃ ০১২৩-৭৬৩-৫৭২৯





এটা একটু এডিট করতে হইসে।
চরিত্রের প্রাইভেসি রক্ষা করা লেখকের দ্বায়িত্ব।
বিচিত্র এ দুনিয়া ! তার চেয়ে বিচিত্র বাংলাদেশ ! আর এ দেশের মানুষের বৈচিত্রের কোন তুলনাই হয়না । আর শর্মির বর্ণনা অতুলনীয় ! সত্যি সেলুকাস - - - -
আপনার মন্তব্য সবসময়ই আমার নড়বড়ে লেখকস্বত্তাকে সাহস দেয়, হুদা ভাই। অনেক ধন্যবাদ।
নামটাও কি এডিট করছেন নাকি? আসল নাম দিলে হয়তো চিনতাম...
চরিত্রের প্রাইভেসি রক্ষার্থে করতে হইসে কিছুটা।
কি গো বহিন।পুরান প্যাঁচাল প্যাড়া দেখি ফুটে গ্যালা।লেটেষ্টঠা কই??
আমি ফুন দিয়্যাছিলাম তো বুলছে কাংখিত লাম্বারে শংযোগ দ্যায়া য্যাছে না।
লেখা পড়ে অনেকক্ষন হাসলাম।

নতুনই তো কল্যাম, ভাই। কি বুলছেন বুঝতে পারছিন্যা।
আমি যা বুলতে চ্যায়াছিলাম তুমি সেঠা প্যাসতে পারো নি।
এঠাতো সেই বশর তিনেক আগের গল্পো।
আসবে আসবে! লতুন গল্পও আসবে একদিন।
ব্যাপক অভিজ্ঞতা দেখি
ফাইট মাস্টার বলে কথা!
টুটুল ভাই ট্রাই মেরে দেখতে পারেন এই ফর্মুলা।
ট্রাই তো করতেই পারে টুটুল ভাই। তবে এলবামটা কিন্তু মাস্ট। ঐটা থাকলে আর কুন টেনশন নাই।
বাসার ঠিকানা দেন... এখনি এক্টা সিঞ্জি লইয়া হাজির হই
্টুটূল তোমার জন্য একটা মেসেজ আছে, আমার ব্লগে গিয়া পড়ে নিও
আমিও পড়ে আসলাম।
লাইক করছ বেহেনা ??
হ্যা
সব মোটর সাইকেল ওয়ালারা এক, আস্তে চালাইতে পারে না
এই লুক তো পছন্দ হওয়ার মতো। লাইক করলাম। মডেল আপায় ভাল আছেন তো?
পছন্দ মানে পছন্দ! একেবারে ছায়া(প)ছন্দ!! আর আপা ভালই আছেন।
মিস্টার সামচুল হক (সজীব)
অভিনেতা/ ফাইট মাস্টার
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন
কারওয়ান বাজার, ঢাকা।
মোবাইলঃ ০১২৩-৭৬৩-৫৭২৯
হমমমমম আমাদেরও কাজে লাগতে পারে। লেখা হেভভি হইছে
হ্যাঁ একবার মোবাইল কইরে দেইখেন।
ব্যাপক মজা পাইলাম। ব্যাপক। ভাইসাহেব তো জটিল লোক দেখা যায়।
তা আর বলতে!
ধুর! বড় একা একা লাগে, কারে যে মোবাইল দিমু
তোমার দুলাভাইর নাম্বার দিমু?
ডাক্তার সাবের?

দেন দেন। আমার যে কেন আজ-কাল বড় একা একা লাগে, তারে জিগাই। যদি কুনু অসুধ দিতে পারে
আপনাকে কি আবার জ্বীন-টিন ধরসে নাকি? লক্ষন তো সেরকমই বলতেসে।
জ্বীনে তো ধরে নাই। টিন-এ ধরতে পারে
দোস্ত কাল সকালের ঘটনা পড়তে বইলাম, পইড়া ফেললাম তিন বছর আগের ঘটনা। ও কি তিন বছরের আগের কাহিনী-ই বয়ান করছে টেলিফোনে ঝড় তুইলা? আর ঐটারে আমি জীবনেও ফোনে পাইনা। মাইর দিতে হবে পাইলে।
কাল সকালে আরেক কাহিনীতে ঝড় ঊঠসিলো।
ঠিক বলসিস তো, প্রথম প্যারাগ্রাফ পড়ে তাই ই মনে হচ্ছিলো।
হালকা এডিট করে দিসি, এবার দেখ ঠিক আছে নাকি।
হুমম ঠিক আছে
। অনলাইন নাই?
ভালো লিখসেন। পড়ে হাহাপগে।
এইটা কেমন মন্তব্য হইলো!
বুঝলোনা রে।
আর ঠিকই আছে। আপনে কি করসিলেন?
বুঝছি।
বুঝছেন হাতির ডিম।
পরের পর্ব যেন এত দেরী না হয়।
আপনি এরুম থ্রেটা-থ্রেটি করেন ক্যান সবসময়।
মডুচাচার কাসে বিছার ছাইলাম।
চাচা বলে ডাকছেন! কোনো মডু কি আর আপ্নের ডাকে সাড়া দিবো?

জটিল কাহিনি! পড়ে আক্কেল গুড়ুম হয়ে গেল। আপনার লেখার ফ্লো সাংঘাতিক।
ধন্যবাদ। গল্প সেরকম জটিল। বোনের এরকম গল্প আরো আছে।
লিখে ফেলুন ঝটপট নিমেষে
ইয়ে মানে ...আচ্ছা দেখি।
ফাইট মাষ্টারে সিএনজির সাথে ফাইট না করে ছিঃএনজিরে চালায় !! আফসুস
বড়ই আপসুস!
ইয়ে, শর্মি মোবাইল নাম্বার আর নামটা আমারে একটু মেইল করোতো প্লীইইইজ। আমার খুব আবার মডেলিং এর শখ। রেডকাউ বাটারওয়েল এর

জট্টিল কাহিনি!
সেইরকম!
হুমমমমম। অন্য কাহিনী গুলাও দেন এখানে
দেখি, সময় পাইলে দিয়ে দিবো।
সামচুল!!!
আপনার বোনের ভাগ্য দেখা যায় সেইরকম
আবা জিগস!
আপু, দুই বক্তার কথোপোকথনে আপনি অনেক স্ট্রং। হিউমার এবং পাঞ্চগুলো দারুণ ছিল। ৪র্থ পর্ব পড়তে যাই...!
মন্তব্য করুন