ওড টু মাই ফ্যামিলি-৪
নিজের বাড়ির লোকগুলোই কি শুধু আপন? ভাবছি গত ২-৩ দিন ধরে।
এক বোদ্ধা বন্ধুকে জিগেশ করলাম। বন্ধুর নাম ক্যাল, ফিল্ম থিওরির ভয়ানক মেধাবী ছাত্র, কালচারাল স্টাডিজ এর মস্তান লোক। প্রথমে আমার প্রশ্নের উত্তর কিছুতে দিবেনা। বলে ২ টা টাকিলা শট না মারলে নাকি এইসব মারফতি প্রশ্নের উত্তর দেয়া মানা। আমি ৩ টা টাকিলা শট প্রমিজ করে জিগেশ করলাম কেন এটা হয়। অনেকক্ষন চুপ করে থেকে বললো, "শর্মি, তোমার পরিবারের ধারনা আর আমার পরিবারের ধারনা আলাদা। আমার বাবা-মা প্রায় ১২ বছর কথা বলেন নাই। শুধু সন্তানদের কথা ভেবে একসাথে ছিলেন। দুইজন মানুষের একসাথে থাকার জন্য এর থেকে খারাপ কারন আর কিছু হতে পারেনা। আমার বয়স যেদিক ১৮ হল, সেদিন তাদের ছাড়াছাড়ি হয়। এখন বাবা থাকেন ম্যানহাটনে তার গার্লফ্রেন্ডের সাথে। মা থাকেন নিউ জার্সিতে একটা পাহাড়ের মাথায় তাঁর প্রিয় কুকুরের সাথে। বছরে একবার দেখা হয়। বাবার সাথে শিল্প-সাহিত্য নিয়ে আলাপ করি, মা খালি এটা ওটা কিনে দিয়ে খুশি করতে চায়। আপন মনে হয় কি না ঠিক বুঝতে পারিনা। টাকা চাইলে দেন, ম্যানহাটনে ফিরে গেলে হয়তো বাড়িতে কিছু দিন থাকতেও দিবেন। আমিই চাইনা, দূরে থাকাই ভালো। আমার শুধু তাদের আপন মনে হয় যারা আমার জাজ করেনা, যারা আমাকে আমি যা সেইভাবেই গ্রহন করে। তুমি তাদের একজন। তাই তুমি আপাতত আমার পরিবার। এরকম যেখানে যখন যাই, পরিবার খুঁজে নিতে হয়। শুক্রবার স্টোনওয়ালে (আমাদের পাড়ার বার) থাকব, ৩ টা শট, মনে থাকে যেন।" আমি গোমড়া মুখে "হ্যা হ্যা বুঝছি বুঝছি" বলে চায়ের কাপ নিয়ে রওনা দিলাম লাইব্রেরীর দিকে।
গত সেমেস্টারে যখন অসুস্থ ছিলাম, ক্যাল আর ওর গার্লফ্রেন্ড মেরী দিনের পর দিন আমাকে রান্না করে দিয়েছে, ঘর গুছিয়ে দিত। এমনকি যখন পেইন-কিলারের ধাক্কায় আমি প্রায় অজ্ঞান, যতবার চোখ খুলেছি, দেখতাম ক্যাল একটা ইয়া মোটা বই হাতে বসে আছে সামনের মেঝেতে। হেসে জিগেশ করতো "হোয়াট'স আপ কিড?" আমি মিনমিন করে উত্তর দিতাম, "আই এম ফ্যাবুলাস, ম্যান।" বলে আবার ঘুম। প্রায় এক মাস অসুস্থ ছিলাম আমি। সেবায় ভাটা পড়েনি একদিনের জন্যও। মেরীর সেবা তো এই শহরে বিখ্যাত। যখন যার যা দরকার, মেরী হাজির। আন্তর্জাতিক ছাত্রদের কারো গাড়ি দরকার, কেউ লাইব্রেরী ব্যাবহার করতে পারছেনা, কারো টাকার অভাব; মাতা মেরীর নামে নাম বলেই বোধহয় আমাদের মেরী তার ভালবাসা নিয়ে সদাপ্রস্তুত। এরা দুইজন যদি আমার পরিবার না হয়, তবে কে?
ঢাকায় থাকতে যে কোন প্রয়োজনে ভরসা মৌসুম। গত বছর ওর সাথে দেখা করতে লন্ডন গিয়েছিলাম। কার্যসুত্রে আমার বোনও সেখানে ছিলেন। ওর জোরাজুরিতেই প্রথমে উঠেছিলাম আমার ছোটবোনের এক স্কুল-বন্ধুর বাসায়। পূর্ব লন্ডনে বিশাল বাড়ি তাদের। বাবা বিএনপির এম.পি. ছিলেন। দুই-তিন দিন পার হতেই তারা অধৈর্য হয়ে উঠেন। তিনদিন পর দেখলাম আমাদের জন্য রান্না করা বন্ধ করে দিয়েছেন, এমনকি বাথরুমে সাবান শ্যাম্পুও নাই। প্রায় মধ্যরাত্রে বাইরে থেকে ফিরে এই কাহিনী দেখে আমি আবার বের হলাম খাবার আর টয়লেট্রিজ কিনতে। বোনের বন্ধু বললেন আমরা যেন আগে আগে ঘরে ফিরি, কারন রাতে দরজা খুলতে অসুবিধা হয়। পরের দিন সকালে সবার জন্য বেশী করে নাস্তার সরঞ্জাম কিনলাম। সকালে উঠে আমার বোনকে নিয়ে টেট-মর্ডান নামক আর্ট গ্যালারিতে যাব। যাওয়ার আগে বেশ কিছুক্ষন দেখলাম সে তার বন্ধুর সাথে আলাপ করছে। বের হবার পরে আমাকে বলে, এইখানে আর থাকবো না। আমাকে বলে ম্যাট্রেসটা নাকি আর দিতে পারবেনা, ওর মামা নাকি চাচা কে জানি আসবে। চলো, হোটেল নিই। আমি বললাম তাজিনের বাসা আছে, মৌসুম ওখানে থাকবে, সমস্যা হবেনা, চল ঐখানে যাই। সে বলে না, আর কাউকে যন্ত্রনা দিতে চাইনা। হোটেল খুজতে হবে।
মৌসুমকে ফোন দিলাম। ও বলে হোটেল খুজবি ক্যান? হোটেল তো আছেই-- হোটেল-দ্যা-তাজিন-- এজওয়ারে এ চলে আয় ট্রেন ধরে, আমি থাকবো স্টেশনে । মিউজিয়াম থেকে ফিরলাম বোনের বান্ধবীর জন্য এটা ওটা কিনে। ৩ দিন রেখেছেন, কৃতজ্ঞতা বলে একটা ব্যাপার তো আছে। এসে দেখি যথারীতি কোন ডিনার নাই, আমরা অবশ্য এটা এন্টিসিপেট করেছিলাম। বাইরে থেকে খেয়ে এসেছি। যাইহোক, বাক্সপেটরা নিয়ে বিদায় জানালাম। উনারা জানালেন, গাড়ি বের করবেন না, রাত হয়ে গেছে। সেদিন কেন জানি ট্যাক্সিও পাওয়া গেলোনা। আমি আর আমার বোন প্রায় এক হাঁটু বরফ আর লন্ডনের বিখ্যাত টিপটিপ বৃষ্টির মধ্যে স্যুটকেস টানতে টানতে প্রায় আধাঘন্টা হেঁটে পৌছালাম প্লাসটো স্টেশনে। সেখান থেকে ডিস্ট্রিক্ট লাইন ধরে রওনা দিলাম। গন্তব্য এজওয়ার।
পৌছে দেখি বন্ধু আমার দাঁড়িয়ে আছে স্টেশনে। আমি উত্তেজিত। ওর গলা জড়ায়ে ধরে বললাম, দোস্ত, কতদিন পরে দেখলাম। স্বভাবসুলভ ভাবে কোন আবেগ না দেখায়ে মৌসুম জিগেশ করলো, সোজা বাসায় যাবি, নাকি স্টারবাকসে একটা কফি খাবি। আমি বললাম ২ টা স্যুটকেস নিয়া স্টারবাকস যাইতে চাইনা। বলে, তো চল বাসায় যাই। তাজিনের বাসা ছোট। ড্রইংরুমে আমাদের থাকার ব্যাবস্থা। মৌসুম আমাদের জন্য একটা এয়ারম্যাট্রেস কিনে রেখেছে। খাবার রাখা আছে। ফ্রিজে আমার জন্য ওয়াইন, আমার বোনের জন্য অরেঞ্জ জুস। ওদের দুইজনের সাধ্যের মধ্যে যতটুকু কুলায়, তার চাইতে অনেক বেশী খাতিরের সাজ-সরঞ্জাম করা। তাজিন একটা এক্সট্রা চাবি বানায়ে রাখসে। যাতে রাত-বিরাতে ঘরে ঢুকতে অসুবিধা না হয়। বাসায় কম্বলের অভাব, ওদের কম্বলটা আমাদের জন্যই বরাদ্দ হইলো। শুরু হলো আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ পারিবারিক ভ্যাকেশন।
(চলবে....)





হু
ক্যালরে তো আমারে পারিবারিক বন্ধু টাইপ মনে হইলো
খুব ভাল বন্ধু আমার।
ফেসবুকে ছবি আছে, দেইখেন।
মৌসুম দ্যা গ্রেট। আমারে দুইদিন দুইটা সিগারেট দিছে
পোস্ট অনেক ভালো লাগছে তাই বানাম্ভুল ধর্লাম্না।
ধন্যবাদ!
বানান ভুল ধরেন, প্লিজ। লেখা ভালো লাগলে বেশী ধরবেন!
বিএনপির এমপির মেয়েতো একখান চিজ!! কল্পনা করেই খারাপ লাগ্লো, দুইজন বোন বৃষ্টির রাতে বরফ ঠেলে স্যুটকেস হাতে হেটে যাচ্ছে ।
ভালো মানুষদের কথা পড়ে ভালো লাগলো ।
থ্যাঙ্কস লিজা। সে আসলেই চিজ একখান। সেদিন স্যুটকেস ঠেলতে খারাপ লাগসিলো সত্যি, তবে এখন মনে পড়লে হাসি পায়। মৌসুম আর আমি কালকেও এটা নিয়ে হাসাহাসি করসি। লেখা পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
সিরিজটা শেষ কইরেন না। ভালোই চলতেছে।।
=========================================
এমপির বেটির একটা ছবি দেন।

দেশীভাই, ছবি নাই। থাকলেও দিতাম না মনেহয়।
লেখার শিরোনামে লেখলেন- শেষ পর্ব,
লেখার শেষে লেখলেন- চলবে...
ঘটনা কী ?
চলুক
ভাবসিলাম শেষ করে দিবো।
স্মৃতিগুলোর মত লেখাটাও ইল্যাস্টিক হয়ে যাচ্ছে।
চলুক। ভালো লাগছে খুব পড়তে। আপনার বন্ধু ভাগ্য খুব ভালো।
আমার বন্ধু ভাগ্য আসলেই ভালো। হিংসা করার মত। ধন্যবাদ জয়িতা।
আমিও লন্ডন যাইতে চাই
( তবে থাকতে না, ঘুরতে আর খেলা দেখতে 
যাইতে চাইলে যাবেন, আটকাইসে কেডা?
তবে ভুইলাও এমপি কন্যার বাসায় উইঠেন না।
কত ছোটলোক যে আছে পৃথিবীতে , তবে ভালো মানুষের জন সেটা ভুলে যাই আমরা সব সময়ই।
এতো তাড়াতাড়ি শেষ পর্বে চলে গেলেন
আপনাকে তো দেখি না একদম!
শেষ নাও করতে পারি। দেখি কি করা যায়।
মৌসুম দ্যা গ্রেট। আমাকে একদিন বিয়ার খাওয়াইসে।
লেখাটা আদুরে, টাচি এবং কিউট হয়েছে। তবে সিরিজ বন্ধ ক্রা যাবে না।
বাহ, কষ্ট করে লিখলাম আমি, আর গেরেট হইলো মৌসুম? সেলুকাস!
আর কদ্দিন সিরিজ চালাবো?
মিছা কথা কয় কেন লুকটা
খুপ খারাপ!
আরে! মিছা কথা কখন কৈলাম?
সুন্দর ভাবনারা, সুন্দর লেখা, আপনার বন্ধুরা আর আপনি সুখে আছেন।
সুখে আছি! হুম, কি জানি। সুখের সংজ্ঞা ব্যক্তিভেদে আলাদা।
আপনি কেমন আছেন?
তা ঠিক সুখ আপেক্ষিক বটে। বলেছিলাম আপনার বন্ধুদের সাথে বন্ধুতা বিনিময়ের ঘটনাটা দেখে, আমার বন্ধুরা কোথায় কোথায় বসে আছে, জানেন এক শহরে থাকি কিন্তু দেখা হয় না।
আমি কেমন আছি? আছি। ভালো-মন্দ নিয়ে আরকি।
কেবল বন্ধুত্বকেই মনে হয় একান্ত পারিবারিক।
"তুমি আমার পাশে বন্ধু হে, একটু বসিয়া থাকো!"
আমার পরিবার বন্ধুদের নিয়েই তো!
আসলেই, মানুষ সব পারে। আর তা যদি হয় ছোটলোকি, তাহলে তো তাকে জগতের আর কেউ হারাতে পারে না।
আমার বাড়িতে কোন মেহমান না খেয়ে, বিছানা ছাড়া ঘুমাবে? ভাবতেই অবাক লাগে
হুম।
লন্ডনে প্রায় একই ধরণের অভিজ্ঞতা আমারও হয়েছিল। তাহলে লন্ডনের দোষ।
মাসুম ভাই যখন বলসেন, তাইলে দোষ মনেহয় লন্ডনেরই হবে।
লন্ডনের এহেন জঘন্য অতিথিয়েতার প্রতি নিন্দা জ্ঞাপন হইলো।
যারা লন্ডনে এমন করেছে দেখবেন দেশেও একই কাজ করবে।
শেয়ারিং কেয়ারিং এ জিনিসগুলো সবাই সমভাবে শিখে না। একজন খারাপ করেছে কিন্তু তার বিপরীতে অন্যদের আন্তরিকতা! এভাবেই মনে হয পৃথিবী আবর্তিত হয় এবং ধ্বংস হয় না।
লিখা ভালো পেলাম
ধন্যবাদ, মেঘ!
ব্যাপারটা আসলেই খুবই উদ্ভট লাগসিলো আমার। অনেক চিন্তা করসি মহিলার মনস্তঃত্ব নিয়ে পরে। আপনার সাথে একমত।
মৌসুম তো আসলেই গ্রেট দেখি! পরেরটা নামান তাড়াতাড়ি আপু।
আপনি আবার কইত্থেকে উদয় হইলেন?
এইটা আবার ক্যামন প্রশ্ন!
আপনার নাম কি বলেন, তাইলে উত্তর দিমু।
একটা গান দ্যান, ভাই। ঝগ্রা করুম্না আর। প্রমিজ।
এই ন্যান গান
সে আপনারে ডাকে কপিক্যাট।
কে কারে কপিক্যাট ডাকে? খুইলা কন।
কপিক্যাট! কে?
সকলের অবগতির জন্য জানানো যাইতেছে যে, এটা সিরিজের শেষ পর্ব না।
আরো কিছুদিন আব-জাব পড়তে হবে আপনাদের।
চলুক
ছলবে।
অবিশ্বাস্য। আমি হইলে ফ্রীজ থেকে মাংস নামিয়ে রান্না শুরু করে দিতাম। রান্নাঘরে জোরে জোরে ঠুসঠুস আওয়াজ করতাম, ফাজিলের দলরে ছেড়ে দিলা ক্যান?
ঐদিন রাতে ডিনার বন্ধুর বাড়িতে করসি, একদিক দিয়ে ভালই হইসে।
আপনার বাসায় আসবো দেখি। ঠিকানাটা দ্যান।
ডিনার যাক গোল্লায়, ঐগুলারে একটা শিক্ষা দেয়া দরকার ছিল তোমার।
তোমার ওপর আমি আস্থা হারা হইলাম।
আমার বাসার ঠিকানা তুমি মৌসুম, এবি কিংবা এফবিতে পাবে :bigsmile:। কবে আসবে? আশা করছি খুব শীঘ্রই দেখা হবে। আমি না রাঁধলে কোন কারণে তুমি ফ্রীজ থেকে বের করে রেঁধে নিও
প্রায়ই আপ্নের এই পোস্টটায় আসি একটা কিছু লিখতে। কিন্তু লিখি না।
আছেন কেমন?
লিখেন না কেন? লিখেন প্লিজ!
কেমন আছি জানিনা। মন ভালো না।
বাড়ি বদলাতে হচ্ছে। মেজাজও খারাপ তাই।
আপনার খবর কি? নতুন গান-টান কি শুনলেন।
দারুণ তো!
লং টাইম নো সী ম্যান। নিজ হাতে হ্যাপা সামলাচ্ছেন নাকি? যৌবনে কায়িক শ্রম ভালো কিন্তু।
এই পিচ্চি গানটা শুনছিলাম,
কোনটা দারুন? বাড়ি বদলানো? একদমই না।
কায়িক শ্রম অসহ্য, বসে বসে খাইতে চাই!
গানটা ভালো। পিচ্চি গান।
গানটা দারুণ। এবারেরটাও।
আপনে কি সবকিছু দাঁড়িয়ে খান?
একটু ড্রাম পিটাপিটি করতে চাই। তাই এটা শুনছি
আপু, ঘটনা কী? একবার মনে হয় গল্প লিখছেন, আবার অটোবায়োগ্রাফি! দাঁড়ান, ফেইসবুকে ধরছি।
আলটিমেটলি, জীবনের সব ঘটনাই গল্প হয়ে যায়।
মন্তব্য করুন