সে আমার বন্ধু ছিল
আজ থেকে প্রায় ১০-১১ বছর আগের কথা। জনকণ্ঠ পত্রিকাতে একটা জায়গায় অনেকেই বন্ধু হতে চেয়ে একটা লাইন আর নিজের ফোন নম্বরটা দিত। তখন, একটা ছেলে , নাম তন্ময়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে, সে লিখেছিল যে , "সুন্দর মনের না , সুন্দর চেহারার বন্ধু চাই"। আমার মেজো আপা এটা দেখে রেগে দোকান থেকে ফোন দিলেন বকবেন বলে। ফোন ধরেছিল, আপা একটু বকা দিতেই ছেলেটা বলেছিল দয়া করে যেন তার কথাটা শুনে। কারন সকাল থেকে সে অনেক বকা শুনেছে। পরে ঘটনা যা ছিল তা হল, তাদের বন্ধুদের গ্রুপের একটা মেয়ে তাকে প্রেমের অফার দিলে সবাই মিলে সেই মেয়েকে অপমান করে এবং বন্ধুদের গ্রুপ থেকে তাকে বাদ দিয়ে দেয়। তাই প্রতিশোধ নিতে সে এই কাজটা করেছে। আমার বোন সরি বলে, বাসার ফোন নম্বরটা দিয়ে আসে। বোন হোস্টেলে চলে যাওয়ার সময় আমাকে বলে যায় তন্ময় হয়ত ফোন দিতে পারে।আমি অপেক্ষায় ছিলাম। নতুন মোবাইলের সেই সময়টাতে ফোনে কথা বলতে দারুণ মজা লাগত। দুই দিন পর একটা ম্যাসেজ আসে " আমার নাম তন্ময়, তোমার নাম কি?" আমি স্বাভাবিক ভাবেই বোনের নাম লিখে , লিখি যে আমি তার ছোট বোন, তারপর আমার নাম লিখি। পরের উত্তর আসে তুমি কোন ক্লাসে পড়? আমি তখন অষ্টম শ্রেণীতে পড়ি সেটাই বললাম। সব সত্যি ( যদিও আমি ফোনে সত্যি কথা বলতাম না, তবুও কেন জানি বললাম)
তারপর বোন আসলো প্রায় দুই সপ্তাহ পর । ততদিন আমি তন্ময়ের সাথে ম্যাসেজে কথা বলি। খুব মজার মজার ম্যাসেজ সে পাঠাত। বাংলালিংক এর নতুন সিমে অনেক ফ্রি ম্যাসেজ ছিল। সেগুলোই শেষ করতাম। বোন আসার পর সব বললাম। বোন বলল, বাংলালিংক নম্বর? কিন্তু তন্ময়ের ফোন তো গ্রামীণ। আর আমি তো এর মাঝে দোকান থেকে ওর সাথে কথা বলেছি। বলল না তো । আমি তো ভয় পেয়ে গেলাম, কে তাহলে এতদিন তন্ময় নামে আমার সাথে কথা বলল?
সাথে সাথে কল দিলাম। (এই প্রথম কল) , স্বাভাবিক ভাবেই বলল, "আমি কোচিং এ। পড়া শেষে কল দিব।" আমি অবাক হলাম, বাচ্চা টাইপ কিন্তু খুবই সুন্দর কন্ঠস্বর। প্রায় তিন ঘন্টা পর কল দিল। বলল, কল দিলে কেন? বললাম, কে তুমি? ওপাশে কি হাসি। বলল, তুমি তো আমায় চিন না, আমিও তোমাকে চিনি না। কি মজা তাই না? আর কিছু বলি নি। এক বছর ভালই বন্ধুত্ব ছিল , পরের বছর ওর এস এস সি, তার পরের বছর আমার নিজের । দুই বছর কথা হয় নি তেমন একটা। তারপর হঠাৎ একদিন কল দিলাম। চিনতে পেরেছিল। তবে ওর কণ্ঠস্বর অনেকটাই পাল্টে গিয়েছিল। ওর ঐ বাংলালিংক নম্বরটা আজও মুখস্ত আছে। কেন আছে জানি না। ও ঢাকায় থাকত। অনেক কিছু বলত। অনেক মজার বিষয় জেনেছি ওর কাছ থেকে। আজ অনেক দিন পর তন্ময়ের কথা মনে পরল। সে আমার ফোন নম্বরটা কিভাবে পেয়েছিল সেও ভুলে গিয়েছিল। জানি না ওর আমার কথা মনে আছে কি না। আমিও ভুলে গিয়েছিলাম। আজ হঠাৎ কেন মনে পরল জানি না।
মাঝে মাঝে নিজেকে ভাগ্যবতী মনে হয়, চলার পথে এমন কিছু বন্ধুর দেখা পেয়েছিলাম বলে। বন্ধুরা, তোরা যেখানে আছিস ভাল থাকিস। আমি দুঃখিত যে তোদের ধরে রাখতে পারি নি।





লিখব। দেশের প্রতিটি মুহূর্ত্বের সাথেই আমার বন্ধুরা জড়িয়ে আছে। এখন তাদের স্মৃতি আমাকে জড়িয়ে রাখে।
ভাল আছি।
নস্টালজিক লেখা। ভাল লেগেছে।
শেষ হয়েও হইলো না শেষ... লেখা ঝরঝরে... লিখতে থাকুন
মন্তব্য করুন