শেষ একুশে ফেব্রুযারি
" অমর একুশে ফেব্রুয়ারি" রাত ১২ টায় বন্ধুর ম্যাসেজ পেয়ে সাথে সাথে কল করলাম।
কল ধরতেই ঐ পাশে চিৎকার চেঁচামেচি ।
"কি রে শহীদ মিনারে ফুল দিয়েছিস?"
" হ্যাঁ, তুই এত রাতে সজাগ কেন? ঘুমা। সকালে উঠতে হবে না?"
"সরি রে, আমি হোস্টেলে। পরশু হিসাব বিঞ্জান পরীক্ষা। বাড়ি যাই নি। কাল মাঠে যাচ্ছি না।"
" ভাষা দিবসে বাংলায় কথা বল, সরি না বলে দুঃখিত বল"
যাক, একটু শান্তি হলো। দুপুর থেকেই টেনশন হচ্ছিল কি করে বন্ধুকে বলব যে এবার ২১ শে ফেব্রুয়ারি তার সাথে থাকতে পারব না। গত ১৯ বছরেও যা হয় নি।
আমার এই বন্ধুটা হচ্ছে আমার প্রাণের বন্ধু। আমার সাথে তার পছন্দ অপছন্দ চিন্তা ভাবনা ৯০% মিলে। আমাকে এতটা আমার আম্মাও বুঝে না। তবে সেদিন সেখানেই কথা শেষ হয় নি। তারপর কি হল বলছি। আরও অনেক কথা শেষে বললাম,
"এখন রাখি রে। অংকটা মিলিয়ে ঘুমিয়ে পরব।"
"তুই আয় না বন্ধু। তোকে ছাড়া,,,,,,,"
"ন্যাকামি করিস না। ভাল লাগে না। রাখছি"
রেখে দিয়েছিলাম। অংক না মিলিয়ে ঘুমিয়ে পরেছিলাম। ফজরের আযানে ঘুম ভাঙ্গল। নামাজ পড়ে, ঘুম আসছিল না আর। ব্যাগটাকে কাঁধে নিয়ে বেরিয়ে পরলাম। রিক্সা নাই, তখন অন্ধকার। কলেজে দেশের গান বাজছে। হেটে স্টেশনে গেলাম। বাস পাব কি না সন্দেহ ছিল। তবে পেলাম। প্রথম বাসটাতে চড়েই বাড়ি পৌঁছে গেলাম। সকাল ৭ টা তখন। আম্মা গেইট খুলে অবাক। "তুই , এত সকালে?" ঘরে ঢুকে ব্যাগ রেখে বললাম, " আমি মাঠে যাচ্ছি"
আম্মা কিছু বলার আগেই খালি পায়ে বেড়িয়ে পরলাম। আম্মা পিছন থেকে ডাকছিল, "কিছু খেয়ে তো যা।"
ছুটতে ছুটতে মাঠে পৌঁছে গেলাম। বন্ধুরা এক সাথে চিৎকার। এবার আড্ডা জমবে। আমার প্রাণের বন্ধুটা শুধু একটা কথাই বলল, "আমি জানতাম তুই আসবি"
আমিও জানতাম আমি যাব। তবে এটা জানতাম না সেটাই আমার বন্ধুর সাথে আমার শেষ ২১ শে ফেব্রুয়ারি। এমন করে হাজার মাইল দূরে চলে আসব বুঝতেও পারি নি। আর চাইলেও রাতের অনুরোধে সকালে পৌছতে পারব না বন্ধুর কাছে। আর আমার বন্ধুও আজ অনুরোধ করতে পারবে না। বলবে না, "আয় না রে বন্ধু"
শায়ানের গানের একটা লাইন মিলে আমার সাথে, " বুঝিনি আমার এই হৃদস্পন্দন আমার অচেনা হবে"





৯০ শতাংশ মেলার ব্যাপারটাকে লিটারালি ভাবলে বেশ ফানি লাগে। মানুষ কিভাবে এই ধরনের বিষয়গুলো পরিমাপ করতে পারে? জাস্ট ইমাজিনেশন, তাই না?
লেখা ভাল্লাগছে। এইরকম আরও চাই
মন্তব্য করুন