অলিখিত আমার তুমি
তুমি আমার জীবনের অলিখিত অধ্যায় কিন্তু তোমাকে নিয়ে আমি বেশি লিখি। অলিখিত অধ্যায় বলেই যন্ত্রণার কারণ হয়ে ওঠে মাঝে মাঝে। অবশ্য এটাও ঠিক যে জ্বালা-যন্ত্রণা-দুঃখের মাঝেও একটা সুক্ষ আনন্দ বোধ থাকে। আর তাছাড়া দুঃখ কে যেচে আপন করে নেয়া মানুষের স্বভাবচারিতার বড় দিক।
মনের কোনে অতি গোপনে অভিমানী একটা মন লুকিয়ে থাকে। সেই মনটা খেয়াল চায়, সঙ্গী চায়, গুরুত্ব পেতে চায়।সেই মনটা চায় তাকে একান্ত করে কেউ ভালবাসুক।
সেই মনটা চায় তার কাছের মানুষগুলো সবার আগে তার দিকটা দেখুক,তারপর অন্যকিছু।
বিবেক কিন্তু বাঁধ সাধে কারন একটু স্বার্থপরতা তো হয়েই যায় আর যখনই মনের কথা বাদ দিয়ে বিবেকের সাথে মত মিলাই তখন ই হয় সবচাইতে বড় স্বার্থপরতা।তবে সেটা নিজের সাথে।কিন্তু এ স্বার্থ-পরতায় নিজের ছাড়া আর কারো কোন ক্ষতিই হয় না।
আমি সবার কথা ভাবি কিন্তু কারো একটু সময় হয় না আমার কথা গুলা শুনার, আমি সবার সব কথা শুনি কিন্তু কারো একটু সময় হয় না আমার হাসির মাঝে লুকানো কান্নাগুলকে বুঝার। বড্ড একা লাগে এই বিশাল ধরণীর বুকে।
আমি ভাবি সব মানুষ্ই কিন্তূ একা।
প্রতিটি হৃদয় এর বন্ধ একটা জানালার ঠিকানা অন্য কারোই জানা হয়না শুধুমাত্র নিজে ছাড়া। কিন্তু এসবের মাঝেও কিছু মানুষ বড্ড বেশি একা। যার মাঝে তুমি আমাকে এক জন বানিয়েছ।
ভোরের সূর্য থেকে রাতের তাঁরা কোন কিছুই তাদের একাকিত্ব দূর করতে পারে না।
ঠিক যেভাবে তোমার ভালবাসা না দিয়ে অবহেলা করা আর আমার ভালবাসা কে করুনা করা...তাইত ছেড়ে ও যেতে পার না কাছেও ডাকতে পারো না।
এটা করুনা ছাড়া আর কি???
যখন নিজের ভেতরকার জগৎ টাই ধ্বংস হয়ে যায় তখন আর কোন কিছুর প্রতিই মোহ জাগতে চায় না। মোহ থাকেও না। আজ আমার তোমার প্রতি কোন মোহ নেই, নেই কোন ভালবাসা, নেই কোন অভিযোগ, নেই কোন ঘৃণা। যা আছে তাকে কি বলে আমি জানি না।
আর এই জিনিসটা মোকাবিলা করতেই চাই একটুখানি নির্লিপ্ততা।
স্বভাবের মধ্যে একটুখানি নির্লিপ্ততা নিয়ে আসলে তখন আর কোন কিছুই গায়ে লাগে না।
না লাগানোই ভালো।
মানুষ ও সমীহ করে চলে। বন্ধু আর পরিচিতজন বেড়ে গেলেই বিপদ।
তোমাকে কিছু বলতে পারি না, তুমি কিছু বললে সহ্য হয় না এর মানে হলো, নিজেকে লাগাম ছাড়া মায়ার মধ্যে আচ্ছন্নের মত টেনে নিতে দেয়া। সেই মায়ার পেছনে লুকিয়ে থাকা ভীষণ কালো শূন্যতার কথা তুমি জানতেও পারবে না।
অলিখিত অধ্যায় দিয়ে শুরু করেছিলাম..থাক, কিছু জিনিস অলিখিতই থাক।
প্রয়োজন কি,শব্দের মোহবন্ধনে সে গুলো কে বাধবার?
নির্লিপ্ততা শব্দটা আজকাল সবসময় উচ্চারণ করি। এতে মানসিক প্রশান্তি টা বাড়ে।
আর একটা কথা মনে হয় প্রায়ই -
৲'how much u can ignore, that much u r smart৴
তাই বলে জীবনে যাকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে আমার দিন-রাত্রি এক হয়ে যায়, যার ফোন দেওয়ার নিয়মের একটু ব্যতিক্রম...আমাকে উৎকন্ঠায় ফেলে দেয়, যার প্রতি আমার চিন্তা-ভাবনা-কল্পনা এবং সমস্ত সত্তা সৎ, যার কাছে বারবার ছোট হয়েও তাকে ছেড়ে যেতে পারি না, সেই মানুষ টি যদি..
এতো কিছুর বিনিময়ে যদি তার কাছ থেকে রং-চঙ্গা আকর্ষণীয় পর্দায় মোড়ানো বিশাল শূন্যতা উপহার পাই, খারাপ লাগায় পাশে না পাই, তাকে বোঝাতে না পারি অনুভূতি গুলো, তাহলে না বলা রাখি সে কথা গুলো।
চুপ থাকি, সে যখন কথা বলে নীরবতা পালন করি।
বারবার বোঝাতে যাবো কেন?
আমার কি মনে হয় যেখানে আমার ভালোবাসাই যথেষ্ঠ ছিল না সেখানে আমার কথা আর কি করবে?
আমার নীরবতা এবং পরিবর্তন ই তাকে বুঝিয়ে দেবে যে কত টা ভাংচুর হয়ে যাচ্ছে আমার ভেতর।
আর যদি সে বুঝতেই না পারে বা না চায়, তবে তো কোন কথাই নাই।
আমার জন্য আরো ভালো হলো।
কষ্ট টা আর বেশী দিন বইতে হলো না।
আর একটি অলিখিত অধ্যায় জমা হলো আমার জীবনে।
সেটা নিয়ে চুপচাপ হেঁটে চলব জীবনের পথে।
একটা সময় নিজেরি মনে হবে, আমার সবচেয়ে বড় অবলম্বন আমি নিজেই।
তবে সে যেন ভালো থাকে...যেখানেই থাকে।





এবি'তে স্বাগতম

ভাল লেগেছে লেখা।
উক্ত কারনে লেখাটি ব্লগের প্রথম পাতা থেকে সরিয়ে আপনার নিজের পাতায় রাখা হইলো! নীতিমালা মেনে লেখার অনুরোধ রইলো।
মন্তব্য করুন