দেয়াল ঘেরা পাথর
আমার কান্নার অবশিষ্ট গুলো জল হয়ে আস্তে আস্তে তোমার কংক্রিটের মনের দেয়ালে আঘাত করে। সেই আঘাতে ক্রমেই নরম হয়ে যায় দেয়ালের পলেস্তারাগুলো, ক্রমেই ছুটে যেতে চায় দেয়াল থেকে, ক্রমেই দূরত্ব বাড়তে থাকে মনের সাথে। এই ছুটে যাওয়া, দূরত্ব বাড়তে থাকার নাম-ই হয়তো বিচ্ছেদ...
বিচ্ছেদ সইতে পারেনা কেউ কোনোদিন। তা আমি বুঝি...তাই তো মনের দেয়াল জুড়ে জমে থাকা পলেস্তারাগুলো আজকাল বড্ড শব্দ করে কাঁদে। সেই কান্না আমার চোখ বেয়ে মিশে যায় তোমার বুকের সমতলে।
কখনও কখনও সেই কান্না বয়ে বেড়ায় সময়। কিন্তু সময় সময়ের নিয়ম ভাঙ্গেনা। সময়ের পরিবর্তনে বিমূঢ় হয় স্থবিরতা, আর চঞ্চলতার শেষ ঠাঁই হয় প্রয়াণে, নয়তো মহাকালের অ্যালবামে।
আমি বিশ্বাস করি, তুমি তোমার মনটারে কংক্রিট দিয়ে বানাওনি। বানিয়েছে এই সময়, সমাজ, বাস্তবতা... এই মনটা এক সময় অবুঝ ছিলো, খুউব অবুঝ। সেই অবুঝতাই কাল হয়েছে কালের বিবর্তনে, সমাজ আর বাস্তবতার রুক্ষতায়। একজন মানুষ নামের প্রাণীর কারণে।
তাই তো বুঝ না তুমি আমাকে... আমার গুমট কান্নাকে...আমার ভালবাসা কে।
ভেবোনা তুমি, পলেস্তারাগুলো খসে পরবেই একদিন কারণ আমার ভালোবাসার সামনে এই গুলো টিকতে পারবে না। পলেস্তারাগুলো খসে পড়লেই তুমি মোম দিয়ে মনের দেয়াল বানিও। সেই মোম আস্তে আস্তে তোমার মনের কংক্রিটকে কাবু করে ফেলবে। তারপর... তারপর তোমার মনটাও হয়ে যাবে মোমের মতোই নরম, স্বচ্ছ...
তখন তুমি আমার অশ্রু মুছে দিবে, আমাকে দু হাত পেতে চাইবে, বুক পেতে চাইবে, মনে পেতে চাইবে- ঠিক যেমন এখন আমি তোমাকে চাই... আমায় নিয়ে পাখি হয়ে উড়ে যাবে নতুন পৃথিবীতে...
আমি সৌরমণ্ডল কে বলে দিয়েছি আমাদের জন্য নতুন একটা পৃথিবী গড়তে... যেই পৃথিবীতে বাস্তবতা থাকবেনা, সমাজের কঠোরতা থাকবেনা... থাকবো শুধু তুমি আর আমি... আমরা দুজন মিলে একজনই...
জানোই তো, ভালবাসাবাসিতে ১+১=১, আর ২-১=0 !!!
আবার বেশি দেরি করে ফেলনা যেন মনটা কে মোম বানাতে কারণ রক্ত মাংসের মানুষের সাথে পাথর কিন্তু সংসার করতে পারে না। অবহেলা পাওয়ার কষ্ট কতটুকু আমি জানি... আর তোমাকে তো আমি অবহেলা করতে পারব না... কিন্তু একটা পাথর আর কি বা করতে পারবে।





কি হইছে?
মন্তব্য করুন