ইউজার লগইন

সাবধানতাঃ সন্তানের জন্যে

আকিদার "অঞ্জলি পেতেছি, জল দাও" লেখাটা রোজ প্রায় একবার খুলি। কিছুদূর পড়ি কিন্তু পুরোটা পড়তে পারি না, মনটা অন্যকোথাও ঘুরতে থাকে। অনেককিছু অনেকভাবে মনে পড়ে একসাথে। নিজের কথা, মায়ের কথা, বন্ধুর কথা। প্রায় প্রতিদিন ভেবে চলেছি কিছু একটা লিখি, কিন্তু আমি এতো আবেগপ্রবণ যে কি লিখবো সেটাই গোছাতে পারছি না। লিখতে চাই অনেক কিছুই কিন্তু কোথা থেকে যে শুরু করি। আবেগটাকে সরিয়ে কিছু বাস্তব সমস্যার ওপর আলোকপাত করার চেষ্টা করবো আজকে। নিজের সম্বন্ধে সর্তক থাকা কিংবা সচেতন হওয়া একটা খুব জরুরী বিষয় জীবনে। অনেক খেয়ে খেয়ে হার্ট নষ্ট করে কিংবা ডায়বেটিস বানিয়ে তারপর সর্তক হলে, নিয়ম মেনে চললে কি হবে? আগেই সর্তক হই। তাহলে হয়তো ক্ষতি কম বা ক্ষতি নাও হতে পারে। সর্তকতা অনেক বিপদ এড়াতে সাহায্য করে। সেই দৃষ্টিকোন থেকে এ লেখাটির প্রয়াস। বাবা মা হিসেবে নিজের সন্তানকে রক্ষা করা আমাদের কর্তব্য। আসুন সন্তানের সাথে বন্ধুত্ব করি। তার সমস্যা তার জীবনটা বোঝার চেষ্টা করি। তার সুবিধা অসুবিধার মূল্য দেই।

সে কাকে বন্ধু হিসেবে চায়, কাকে চায় না সেখানে নিজের মতামত না দিয়ে তার কাছ থেকেই কারণটা বুঝতে চেষ্টা করি। কেনো সে কোন নির্দিষ্ট বন্ধুর সাথে খেলতে চায় না? সেকি খেলতে গিয়ে আমার সন্তানকে শারীরিকভাবে (Bully) আঘাত করে কিংবা এমনকিছু করে যাতে আমার বাচ্চাটি তাতে অস্বস্ত্বি বোধ করে? হয়তো একই বয়সি বাচ্চা কিন্তু অন্য বাচ্চার বিশেষ স্থানে হাত দেয় যেটা অন্যের অস্বস্ত্বির কারণ হয়? সে হয়তো ক্লাশের কিংবা স্কুলের সেরা কিন্তু আমার সন্তানকে কি সবার সামনে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করে? কোন নির্দিষ্ট শিক্ষক কিংবা শিক্ষিকার সাথে কি আমার সন্তান অস্বস্ত্বিতে থাকে? তাকে ভয় পায়, পেলে কেন? আগের দিনে শিক্ষককে ভয় পাওয়া একটা স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল কিন্তু আজ নয়। আজ শিক্ষকের সাথেও বন্ধুত্ব নাহোক একটা কমফোর্ট লেভেল থাকাটা শিক্ষার জন্য একান্ত জরুরী বলে মনে করা হয়। ভালো শিক্ষকটি আসলে মানুষ হিসেবেও ভালো কীনা, সন্তান তার কাছে নিরাপদ কীনা সেটাও দেখার বিষয়। সন্তানটি কিসের মধ্যে দিয়ে সারাটিদিন যায় সেটা জানাও আমাদের কর্তব্য। তার মানসিক গতি প্রকৃতি কোন ধারায় বইছে বাবা মা যদি সেটি না জানবেন, তার মূল্য না দিবেনতো কে দিবে আর? গতি প্রকৃতি সঠিক পথে পরিচালনা করার জন্যেই সন্তানের স্কুলের সাথে যোগাযোগ রাখা, সন্তানের বন্ধুদের সাথে মেশা, সন্তানের সাথে সময় কাটানো একান্ত জরুরি। সন্তানের বন্ধুদের বাবামায়ের সাথেও সামাজিক মেলামেশা সন্তানকে সঠিক পথে রাখতে সহায়তা করে। এক বন্ধু যদি সমস্যায় পরে, অন্য বন্ধু সাহায্য করতে যাবে সেটাই স্বাভাবিক। তাই বন্ধুটি কি করছে, তার পরিবারের ভিতরটা কতোটা সুস্থির সেটাও সন্তান মানুষ করতে অপরিসীম ভূমিকা রাখে।

আমাদের দেশে এখন কো–এডে পড়াশুনা করা, ছেলেমেয়েরা একসাথে চাকরি করা স্বাভাবিক ব্যাপার। এর বাইরেও আড্ডা, ব্লগ, ফেসবুকিং কাধে কাধ মিলিয়ে করছে সবাই। মেয়েরা জীন্স–টিশার্ট পরে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে, যেমন ছেলেরাও কানে দুল, হাতে ব্রেসলেট পরছে। এগুলোকে আজকাল আর কেউই অন্যায়ের দৃষ্টিতে দেখছে না। সময়ের সাথে সাথে আমাদের মানসিকতায় সামান্য পরিবর্তন এসেছে। ছেলেমেয়েদের দ্রুত কাছে আসার সুযোগ অনেক ভালোর সূচনার সাথে কিছু ঝামেলাও বয়ে আনছে বইকি। তাই প্রয়োজন সচেতনতার। আত্মসচেতনতা একটা ভীষন জরুরি ব্যাপার। আগে মায়েরা তার নিজের কন্যার পিরিয়ড হলে সেটা নিয়ে মেয়ের সাথে খোলামেলা আলোচনা করতে লজ্জা পেতেন কিন্তু আজকের দিনে তা বদলেছে। আধুনিক মায়েরা মেয়েদের এই সময়ের করনীয়, সাবধানতা অনেকভাবে গুছিয়ে বুঝিয়ে দেন। পিরিয়ড নিয়ে আজো দেশে অনেক লুকোচুরি করা হয়। লুকিয়ে রাখতে হবে যেন বাড়ির পুরুষরা কেউ না জানে, কারণ এটা খুবই একটা লজ্জার ব্যাপার। আসলে কি এটা একটা লজ্জার ব্যাপার? এটা একটা মেয়ের জীবনে চরম স্বাভাবিক প্রকৃতি প্রদত্ত ব্যাপার। বরং না হওয়াটাই অস্বাবাভিক। তাহলে কেনো এতো ঢাক ঢাক গুড় গুড়? এই ঢাক ঢাক গুড় গুড়ের ফলশ্রুতিতেই একটা মেয়ে তার চরম বিপদের মুহূর্তে মায়ের কাছে দৌড়ে যেতে পারে না। সেজন্যেই মা-বাবা আর সন্তানের আরো অনেক কিছু নিয়ে আজ খোলামেলা আলোচনা সময়ের দাবী, একান্ত প্রয়োজন।

পরিমলের ঘটনাটা বিচার করলে একটা প্রশ্ন আমার প্রথম মনে আসে, সেটা হলো, মেয়েটা ঘটনাটা প্রথমবার চেপে যায় পুরোপরি!!! কি করে সম্ভব এটা? এতোবড় দুর্ঘটনা, তাও এ বয়সে!!! পনর বছরের মেয়ে একদম শিশুতো আর না যে কি হয়েছে সে বুঝতে পারছে না। দ্বিতীয়তঃ সে প্রথম এটা তার মায়ের সাথে আলাপ না করে, করেছে বন্ধুদের সাথে!!! সেকি তার মায়ের ওপর আস্থা রাখতে পারেনি? তার কি তাহলে মনে হয়েছে তার কষ্ট বন্ধুরা বুঝবে, মা বুঝবে না? কতোবড় শাস্তি একটা মেয়ের জন্যে এটা? তাই পশ্চিমের মতো আমাদের দেশেও আজকাল মায়েদের তার সন্তানের সাথে “সেক্স” নিয়ে “প্রাইভেসী” নিয়ে কথা বলা অনেক জরুরী। বাবারও এ ব্যাপারে অনেক উদার ভূমিকা থাকা প্রয়োজন কিন্তু আমাদের সমাজব্যবস্থা আর সংস্কৃতিতে, মেয়েদের সাথে মায়েদেরই এই আলাপগুলো কিছুটা হয়ে থাকে, বাবারা সাধারণত অনেক দূর থেকে এড়িয়ে যান বিষয়গুলো। অনেক ছোট বয়স থেকেই ছেলেমেয়েকে গোসলে নিয়ে যখন সারা গায়েতে সাবান মাখা হয় তখন খেলার ছলেই ছেলেমেয়েকে বলে দেয়া যায়, কি কি তার শরীরের “প্রাইভেট পার্ট”, এবং সেখানে কারো “ছোয়া” নিষেধ। কেউ ছুয়ে দিলে, ব্যাথা দিলে সবার আগে সে যেন তার মায়ের কাছেই দৌড়ে আসে। ছুয়ে দিলে কি কি হতে পারে তাও সিন্ডারেলার গল্পের মতো শুনিয়ে শুনিয়ে তার মাথায় গেঁথে দিতে হবে। তাকে বোঝাতে হবে এবং এওয়ার করতে হবে এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। এশিক্ষা এড়িয়ে গেলে মা বাবা এবং সন্তান সবাইকেই দুঃখ পেতে হবে। সন্তানকে জানাতে এবং বুঝাতে হবে সেক্সুয়াল সমস্যা বা ঘটনা কোন লজ্জার বা লুকানোর বিষয় নয়। লুকোচুরি বাদ দিয়ে জীবনের স্বাভাবিক ঘটনাকে স্বাভাবিকভাবে নিতে হবে।

পশ্চিমা সংস্কৃতিতে সেক্স থেকে কি ধরনের ঘটনা কিংবা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে তার কিছুটা শিক্ষা দেয়া হয় বারোর দিকে। এরা অনেক ঠেকে এটা শিখেছে। বিপদ এড়ানো না গেলেও কমানো জরুরী। শুধু যে দুর্ঘটনারোধের জন্য এ শিক্ষা তা নয়। ঘটনারোধের জন্যেও এ শিক্ষা অতীব জরুরী। বার বয়সের একটা মেয়ে জীবন সম্পর্কে অজ্ঞ। কিন্তু প্রকৃতির কাছে মেয়েরা অসহায়। প্রকৃতি মেয়েদেরকে দুর্বল করে দিয়েছে এই জায়গায়। সেই বারো বছরের শিশু মেয়েটিকে রক্ষা করার জন্যে এনিয়ে মায়েদের মেয়েদের সাথে আলোচনা করা আবশ্যক। আনসেফ সেক্সের কি পরিনতি হতে পারে, এইডস এর ঝুকি, সন্তানসম্ভবনা কোনটাই একটি বার বছরের মেয়ের আশা, প্রাপ্য কিংবা কাম্য হতে পারে না। তার হাত ধরতে তখন বাবা মাকেই আগাতে হবে, ক্ষণিকের আনন্দ বা উত্তেজনা যাতে তার বুকের ধনকে কোন সমস্যায় ফেলে না দেয় সেজন্যইতো মা’কে বেশি চাই সন্তানের। এই আলোচনার অভাবে আমাদের দেশে অনভিপ্রেত গর্ভপাতের অসংখ্য ঘটনা ঘটে। শিশু বয়সের মেয়েগুলোকে জীবনের চরম এক ধাক্কা জীবন সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব এনে দেয়। এ সমস্ত আলোচনা শিক্ষা কি সম্পূর্ন বিপদমুক্ত সমাজ গড়ে দিবে? না, কখনোই না। কিন্তু অবশ্যই সচেতনতা তৈরী করবে যা বিপদ কমাতে সাহায্য করবে, দুর্ঘটনা এড়ানোর হার অনেক বাড়াবে।

আর এসমস্ত শিক্ষার ভার কি শুধু মেয়ের মা’কেই বহন করতে হবে? না, ছেলের মায়েরও অনেক কিছু করনীয় আছে। তার জাদুমানিক কি পড়ছে, কি কার্টুন দেখছে, কি গেম খেলছে কম্পিউটারে তা লক্ষ্য রাখা একান্ত জরুরী। অনেক সময় দেখা যায় আট নয় বছরের ছেলেরাও সেক্সুয়াল ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠছে, চুমু খাওয়ার অনুশীলন করছে পাশের শিশু মেয়েটির সাথে। মা-বাবার প্রাইভেট লাইফের প্রাইভেসি সন্তানের সামনে বজায় রাখা একান্ত উচিত। ছেলের মধ্যে এধরনের প্রবণতা দেখা গেলে তানিয়ে তার সাথে আলোচনা করা, প্রয়োজনে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যাওয়া দরকার। এধরনের ঘটনা এড়িয়ে যাওয়া কিংবা লুকিয়ে রাখা শুধু সন্তানের ভবিষ্যতকেই অন্ধকার করবে। সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্যে পড়াশোনার পাশাপাশি এ ব্যাপারগুলোও বাবা মায়ের মনোযোগ আকর্ষনের দাবী রাখে প্রবলভাবে। নইলে পরে তার সন্তানকে নানা ধরনের কুপথে চালনা করবে। মেয়েদেরকে যৌন হয়রানি করা বা নেশায় ডুবে থাকার কারণ হিসেবে অনেক সময় মনোবিজ্ঞানীরা ছেলেদের অল্প বয়সের যৌন হতাশাকে উল্লেখ করেছেন।

অতীতে যা হারিয়েছি তা আমরা ফিরাতে পারবো না। কিন্তু যা রক্ষা করতে পারি তার জন্যে চলুন নিজে সচেতন হই, পাশের জনকে সচেতন করার চেষ্টা করি। অনাকাঙ্খিত ও অনভিপ্রেত ঘটনার সংখ্যা কমিয়ে আনি। লুকোচুরি কোন সমাধান নয়। স্বাভাবিক চিন্তাই পারে সুস্থ সমাজের জন্ম দিতে।

তানবীরা
২০.০৭.২০১১

পোস্টটি ১৮ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

শর্মি's picture


খুব ভালো একটা পোস্ট, আপু। খুবই প্রয়োজনীয়। আমি একটু এড করতে চাই যে ছেলে শিশুরাও কিন্তু সেক্সুয়াল প্রিডেটরদের খপ্পর থেকে রেহাই পায় না। তারাও মেয়েশিশুদের মতই বিকৃত মানসিকতার মানুষদের হাতে অহরহ নির্যাতনের শিকার হয়। এক্ষেত্রে ছেলে বা মেয়ে সবার প্রতিই বাবা-মা'র সমান নজর রাখা দরকার। শিশু যেন বলতে পারে কোন স্পর্শ ভালো আর কোনটা অনভিপ্রেত এই পরিবেশ আমাদের নিশ্চিত করা দরকার। যে শিশু ছোটবেলায় বুঝতে শেখে প্রতিবাদের গুরুত্ব, সে ভবিষ্যতেও কোনরকম নির্যাতন মুখ বুজে মেনে নিবেনা। যদ্দুর মনে পড়ে, ভগবদ্গীতাতে পড়েছিলাম সন্তান ১৬ বছরে পা দিলে তার বন্ধু হয়ে যাও। আমাদের বাবা-মা'রা শুধু বাবা-মাই ছিলেন, বন্ধু হতে পারেননি কখনো। শিশুর জন্য এই বন্ধুত্বটাই সবচে' প্রয়োজন।

তানবীরা's picture


আমার মনে হলো আমি "শিশু" বলতে ছেলেমেয়ে উভয়কেই বুঝিয়েছি আর সেভাবেই লিখেছি। হয়তো হতে পারে মেয়েদের ওপর বিপদ বেশি হয় সে চিন্তা থেকে আমার অজান্তেই মেয়েদের ওপর বেশি এমফেসিস পড়ে গেছে।

ছেলেমেয়ে আর বাবামায়ের মধ্যে বন্ধুত্বের কোন বিকল্প নেই। আমাদের মা বাবা যে ভুল করেছে আমরা নিশ্চয়ই তা করতে পারি না, তাই না?

ভালো থেকো শর্মি। আর এতো ভালো লেখো তুমি কিন্তু এতো দিন পর পর কেনো? পাঠককে বঞ্চিত করা ঠিক না বেবি Big smile

হাসান রায়হান's picture


দরকারী পোস্ট।

তানবীরা's picture


হুমম

টুটুল's picture


সচেতনতা মূলক পোস্ট... এটা সকলের পড়া উচিত

তানবীরা's picture


আমারো সেই ভাবনা থেকেই লেখা

রশীদা আফরোজ's picture


একমত।

তানবীরা's picture


আরে রশীদা, কেমন আছিস? কোন খবর নেই যে Big smile

ভাস্কর's picture


সেবা প্রকাশনীর একটা বইয়ের কথা মনে পড়তেছে, যৌন বিষয়ে সাধারণ জ্ঞান, এই বইটারে ছোটবেলায় ধরতে ভয় লাগতো। আর কৈশোরে ঐটা সবার গোপন উত্তেজনার উৎস। এই হইলো এই দেশের অবস্থা। যদিও আমার বোনদের জন্য কটন কিম্বা স্যানিটারি ন্যাপকিন কেনার দায়িত্ব আমারই ছিলো। আমি অনেক বড় হইয়া পিরিয়ডের গোপনীয়তা বুঝছি...

প্রয়োজনীয় পোস্ট...

১০

তানবীরা's picture


আশাকরি লোকে পড়বে, ভাববে

১১

আরিশ ময়ূখ রিশাদ's picture


হুম,ঠিক কথা।

আকিদা আপুর পোস্ট টা আমার ব্লগের জীবনে পড়া সেরা পোস্ট।

আমার এক ফ্রেন্ড কিছুদিন আগে মা হয়েছে। তাকে লেখাটার লিঙ্ক মেইল করে দিলাম। ইন রিপ্লাই সে বলল,আমার রিলেটিভদের তুই খারাপ ভাব্লি কেন? যাই হোক,মানুষের মাইন্ড সেট আপ কেমন জানি হয়ে গেছে

১২

সামছা আকিদা জাহান's picture


আরিশ ময়ূখ রিশা-- আপনার বন্ধুকে জানান কেউ খারাপ নয় তবে কোন মুহূর্তে কি ঘটে যায় কেন ঘটে যায় তার কোন উত্তর পাওয়া যায় না। একটা ঘটনা ঘটে গেলে তার আর সমাধান হয় না। তাই সাবধান থাকলে সমস্যা নেই।

ভাই আপনার বন্ধ মুখে যত কথাই বলুক অবশ্যই সে সাবধান হবে। তার অবচেতন মন তাকে সজাগ রাখবে। এটাই দরকার।

১৩

তানবীরা's picture


ইন রিপ্লাই সে বলল,আমার রিলেটিভদের তুই খারাপ ভাব্লি কেন?

হাহাহাহা, সুখি সুখি কথা শুনতেও ভালো লাগে। এবার এটার লিঙ্ক দেন, আমাকে জানান কি বললো Big smile

১৪

একলব্যের পুনর্জন্ম's picture


খুব দরকারি লেখা। শাসন থেকে নেমে বাবা-মা অন্তত ন্যূনতম সহানুভূতির জায়গা থেকে শিশুদের বিচার করুক। সন্তানের উপর বিশ্বাস আনুক । সন্দেহের চোখে মেয়েদের দেখে বাবা- মা'রা অনেক বেশি করে বিপদ ডেকে আনেন।

শর্মি আপুর মন্তব্যের সাথে যোগ করতে চাই যে কেবল ছেলে শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার জন্য ই না, যে যেন কোনোভাবেই শিকারী ও না হয়ে ওঠে কোনোদিন এর জন্য ও প্রয়োজন সঠিক কাউন্সেলিং এর । আমার এক্সপেরিয়েন্স এই দেখেছি কিভাবে পরিবারের সবাই মিলে একটি শিশুকে ভুল শিক্ষা দিয়ে নারী-লোভী, কামুক এ পরিণত করে !

ব্লগ থেকে আমরা আর কিছু না পারি, ব্লগে যেন আমাদের হাত থেকে কোনো ভুল ইনফরমেশন ছেলে-মেয়েদের মনে না যায়, এটুকু চেষ্টা করাই যায়। কৌতুকের নামে দুনিয়ার সব নারীকে অপমান করে বিভিন্ন ব্লগে সিনিয়র অনেক ব্লগার এর পোস্ট এ ব্যাপার গুলোকে ত্বরান্বিত করে বলেই মনে করি।

===============

তানবীরা আপুকে অনেক থ্যাংকস এরকম একটা বিষয়ে লেখার জন্য ।

১৫

তানবীরা's picture


তোমাকেও ধন্যবাদ এরকম একটা গুরুত্বপূর্ন মতামত জানানোর জন্যে

১৬

শর্মি's picture


শিকারী হবার সম্ভাবনা তানবীরা আপুর পোস্টে উল্লেখ করা আছে। এইজন্য তাদের ভিক্টিম হবার সুযোগও যে আছে, সেটা তুলে ধরতে চাইসিলাম।
আরেকবার বলি, লেখাটা অত্যন্ত দরকারী।

১৭

ফিরোজ শাহরিয়ার's picture


পুরোপুরি একমত এবং সবার পড়া উচিত। আর এসকল বিষয়গুলোকে নিয়ে আমাদের দেশের মিডিয়াগুলোতেও বেশী বেশী প্রচারনা চালানো দরকার।

১৮

তানবীরা's picture


ধন্যবাদ

১৯

সামছা আকিদা জাহান's picture


খুবই দরকারি এবং গুরুত্বপূর্ন পোস্ট।
আর একটি সন্তানও যেন শিকার বা শিকারী না হয়। শিকারও আমাদের সন্তান শিকারীও আমাদের সন্তান। উভয়কেই রক্ষা করতে হবে আমাদের।তাই চাই আলোচনা,আলোচনা হলেই সচেতনতা বাড়বে। তবেই তো সমাজটা সুন্দর হবে।

আমাদের অতীত আমাদের ভবিষ্যত গঠনে সহায়ক। সন্তানের প্রিয় বন্ধু হতে হবে। সন্তানকে বুঝাতে হবে বাবা মা ই তার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু এবং তারাই নিরাপত্তা দিতে পারে। বাবা মা এর সঙ্গ সন্তানের কাছে যেন কখনই একঘেয়েমী না হয়ে যায়।

ভাল লাগলো তানবীরা তোমার পোস্টটি।

২০

তানবীরা's picture


আলোচনা,আলোচনা হলেই সচেতনতা বাড়বে। তবেই তো সমাজটা সুন্দর হবে।

একদম ঠিক। কেমন আছো?

২১

প্রিয়'s picture


খুব বেশি দরকারী একটা পোস্ট। প্রত্যেকটা বাবা- মার এই পোস্টটা পড়া উচিত। ধন্যবাদ আপু এতো প্রয়োজনীয় একটা ইস্যু এতো সুন্দর করে তুলে ধরার জন্য।

২২

তানবীরা's picture


তোমাকেও ধন্যবাদ পাশে থাকার জন্যে Big smile

২৩

একজন মায়াবতী's picture


সারাদিনের ব্যস্ততার পরে অনেক সময়ই মা-বাবা সন্তানদের কথা শোনার মত ধৈর্য রাখতে পারেন না। এটাও ঠিক না। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জিজ্ঞাসা করা উচিত স্কুলে কিভাবে গেলো, সারাদিন কি হলো ইত্যাদি।

২৪

তানবীরা's picture


Big smile Big smile Big smile ঠিক তাই

২৫

বিষাক্ত মানুষ's picture


খুবই জরুরী লেখা ।

ধন্যবাদ ।

২৬

তানবীরা's picture


পড়ার জন্য আপনাকেও ধন্যবাদ Laughing out loud

২৭

মাহবুব সুমন's picture


শুধু সাবধান হলেই হবে না শুক্ত হতে হবে। মনে রাখতে হবে যে নিকাত্মীয় ( ? ! ) নিজ সন্তানের ক্ষতি করবার সময় আত্মীয়তার কথা ভাবে নী সে অন্য সব ক্ষতি করবার সময়ও কোনো ভালো কিছু ভাব্বে না। কোনো ক্ষমা করা বা সহ্য করা যাবে না।

২৮

তানবীরা's picture


সেটাই সুমন ভাই। এগুলো ক্ষমা করার ব্যাপার না

২৯

মিতুল's picture


ভাবনাগুলো জটিল হয়ে যাচ্ছে।সময়টাও।কিছু লোকের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নির্দোষ স্নেহ।

মানুষ ঘুরে ফিরেই পুরনো ফ্যাশনের দিকে ফিরে যায়। মানুষ কি আদিমতায় ফিরে যাবে এক সময় ?

একটা বিতর্ক হতেই পারে, আমি যা লিখছি, তা কি বলছি? যা বলছি তা কি করছি?
”ভিতর বাহির এক” এরকম মানুষ খুবই দূর্লভ। আমি বাজি ধরছি, নেই কোথাও এরকম মানুষ।কাজেই পরিবর্তন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট হবে হয়তোবা যা নিশ্চিত আপেক্ষিক।আমার ছেলে যদি ধর্ষক হয়, যতক্ষণ পর্যন্ত না আমি তাকে ত্যাগ বা প্রয়োজনে মেরে ফেলতে পারবো ততক্ষণ পর্যন্ত পরিবর্তন আশা করাটা সম্পূর্ন ভান।সাবধান হতে হবে এরকম ভানকারীদের থেকে।বেশীরভাগ ক্ষেত্রে এটাই জরুরী।

৩০

তানবীরা's picture


কে ভান করছে আর কে করছে না কি করে বলবো বলুন? তার থেকে নিজেই সাবধান থাকা ভালো না?

৩১

শামীম রুনা's picture


খুবই প্রয়োজনীয় একটি লেখা।
আমাদের সমাজে ছোটরা এই সব সমস্যার সম্মুখীন হয় মূলত বড়রা তাদের আগে থেকে এই সব সমস্যা সম্পর্কে কোনো রকম সতর্ক করে না বলে। আমাদের ‍"বড়রা" কেনো যেন ছোটদের সাথে শারীরিক বৃদ্ধি,শরীরের প্রাইভেসি,পরিবর্তন কিংবা সেক্সুয়াল ব্যাপারে কথা বলাটাকে ভয়ানক রকম অনৈতিক আর অন্যায় বলে মনে করে। অথচ বড়রা যদি একটু সচেতন হয়ে,নিজের মুখের জড়তা কাটিয়ে ছোটদের এই সব ব্যাপারে বুঝিয়ে বলতে পারে তাহলে ছোটদের শৈশব-কৈশোর হয়ে উঠতে পারে আরো রঙিন এবং তারা একটি সুন্দর মানসিকতা নিয়ে বেড়ে উঠতে পারে।

৩২

তানবীরা's picture


অথচ বড়রা যদি একটু সচেতন হয়ে,নিজের মুখের জড়তা কাটিয়ে ছোটদের এই সব ব্যাপারে বুঝিয়ে বলতে পারে তাহলে ছোটদের শৈশব-কৈশোর হয়ে উঠতে পারে আরো রঙিন এবং তারা একটি সুন্দর মানসিকতা নিয়ে বেড়ে উঠতে পারে।

ঠিক তাই। ধন্যবাদ তোমাকে।

৩৩

গৌতম's picture


দরকারি লেখা। গুরুত্বপূর্ণ লেখা।

৩৪

তানবীরা's picture


ধন্যবাদ গৌতম

৩৫

অতিথি's picture


খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি লেখা। বাবা-মার সাথে সন্তানের বন্ধুত্বই কাম্য, দূরত্ব নয়।

৩৬

তানবীরা's picture


বাবা-মার সাথে সন্তানের বন্ধুত্বই কাম্য, দূরত্ব নয়।

তাই

৩৭

ওমর হাসান আল জাহিদ's picture


বাবা-মার সাথে সন্তানের বন্ধুত্বই কাম্য, দূরত্ব নয়। ধন্যবাদ গুরুত্বপূর্ণ এ দিকটিতে আলোকপাত করার জন্য।

৩৮

তানবীরা's picture


আপনাকেও ধন্যবাদ পড়ার জন্যে

৩৯

শওকত মাসুম's picture


আমার মেয়ে আছে। প্রয়োজনীয় একটি লেখা এটি আমার কাছে।

৪০

তানবীরা's picture


আপনারতো ছেলেও আছে। তার যত্ন নেয়াও সমান গুরুত্বপূর্ন

৪১

লীনা দিলরুবা's picture


সন্তানদের সাথে একটা সহজ সম্পর্ক খুব জরুরী।
গুরুত্ত্বপূর্ণ একটা বিষয়ের অবতারণা করলে। ধন্যবাদ তোমাকে।

৪২

সুমি হোসেন's picture


এই গুরুত্ত্বপূর্ণ লেখাটির জন্য োনেক ধন্যবাদ। ভালো লাগল।

৪৩

জ্যোতি's picture


গুরুত্বপূর্ণ পোষ্টের জন্য ধন্যবাদ তাতাপু।

৪৪

আরাফাত শান্ত's picture


ভালো থাকুক সব্বাই!

৪৫

লিজা's picture


বাচ্চাদের সাথে বড়দের এই আচরনটাকে ভীষণ ভয় পাই আমি Puzzled । কখন যে কোন আড়াল থেকে কি ঘটে যায় কেউ বলতে পারে না Sad( । শুধু যে বড় ছেলেরা ছোট বাচ্চা মেয়েদের সাথে এইগুলা করে তা না । অন্তত দুইজন ছেলেকে আমি চিনি, যাদের জীবনে খুব ছোটবেলায় ঘটে গেছে এইরকম ভয়ঙ্কর ঘটনা, তাও বড় মেয়েদের দ্বারা । কি ভয়ঙ্কর ব্যাপার !! প্রচন্ড সচেতন হতে হবে মা, বাবাকে । বিশ্বাস করতে হবে, খুব কাছের লোকেদের মাধ্যমেও আসতে পারে বড় ধাক্কা । এইরকম লেখা পত্রিকায় বা টিভিতে নিয়মিত দেখানো উচিত । যাতে সব ধরণের মানুষের নজরে আসে ব্যাপারটা ।

৪৬

মেসবাহ য়াযাদ's picture


থ্যাংকু বিস্তারিতভাবে লেখা পোস্টটির জন্য।

৪৭

mahmud204c's picture


lekha ti somoyer dabi. Sad

৪৮

তানবীরা's picture


লীনা, সুমি, জয়িতা, শান্ত, লিজা, মেসবাহ ভাই পড়েছেন আর যারা ফেসবুকে এই লেখাটির জন্যে আমাকে ম্যাসেজ/ লেখাটি শেয়ার দিয়েছেন, তাদের সবার প্রতি রইলো আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

যদি কিছুমাত্র সচেতনতাও তৈরি হয় সমাজে তাহলেই আমরা সার্থক।

৪৯

জেবীন's picture


অনেক দরকারী একটা লেখা!
আসলেই মা-বাবারা নিজেদের ব্যস্তাতায় বাচ্চাদের সাথে বসে এইশব বুঝানো কিবা তার সাথে কি হচ্ছে না হচ্ছে এইগুলা জানার অবসরই যেন পান না! লিজা যেমন বললো তেমন ঘটনাও শুনেছি। তাই নজর রাখতে আর বাচ্চাদের একটু একটু করে বুঝাতে হবে মা-বাবাকেই.।।

৫০

নাজনীন খলিল's picture


খুবই গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট।

ধন্যবাদ তানবীরা।

৫১

অতিথি's picture


thanks

৫২

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


এই লেখাটা যতবার চোখে পড়েছে,
মনে হয়েছে
এটা কোন জাতীয় খবরের কাগজের প্রথম পাতায় আসা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে সচেতনামূলক কোন
সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পারলে খুব ভাল হত।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

তানবীরা's picture

নিজের সম্পর্কে

It is not the cloth I’m wearing …………it is the style I’m carrying

http://ratjagapakhi.blogspot.com/