ইউজার লগইন

এ বিজয়ের উৎসবকে আমি ঘৃনা করি

বাংলাদেশে খুব ঘটা করে চল্লিশ বছরের বিজয় দিবস উদযাপন করা হচ্ছে। টিভিতে, ফেসবুকে, ব্লগে, পত্রিকায় দেশপ্রেমের ঘনঘটার বাহার, মৌসুমী দেশপ্রেম আর বিজয়ের উল্লাসে মাতাল সুশীল সমাজ। কিন্তু আসলে “বিজয়” মানে কি? এক টুকরো ভূমিকে নিজের অধিকারে রেখে তাতে যা খুশি তাই করা? নাকি সেই ভূমিতে বসবাসকারি মানুষদের জীবনধারনের জন্যে সাধারণ নিম্নতম চাহিদাগুলোকে মিটানোর দায়িত্ব কাধে নেয়া? তাই যদি হয় তাহলে কি আমাদের বিজয় অর্জিত হয়েছে আজো? আর যদি আমরা সেই লক্ষ্যমাত্রায় না পৌঁছে থাকি তাহলে কিসের এই আনন্দ উৎসব? চল্লিশ কেন, চারশ বছরেই কেন উৎসব করতে হবে? যেই বিজয় নেই, তার আবার উৎসব কিসের? অনেক সময় গুরুজনেরা আফশোস করে বলেই ফেলেন, এর থেকে পাকিস্তান আমলই অনেক ভালো ছিল। এতো চোর ডাকাত ছিল না, শান্তিতে রাস্তাঘাটে চলতে পারতাম, ইত্যাদি। এই কি শেষ অব্ধি আমাদের বিজয়ের উপলব্ধি? এই নিরাশা, হতাশা, ক্রনিক মনোবেদনা?

স্বাধীনভাবে রাস্তায় চলার নিরাপত্তা নেই, কর্মস্থল থেকে জীবিত বাড়ি ফেরার নিশ্চয়তা নেই, বাড়ি ফিরলেও সে কখন ফিরবে তার কোন ঠিকানা নেই। অসহ্য যানজট, শেয়ার বাজারের লীলাখেলায়, হতাশায় সাধারণ মানুষের আত্মহত্যা, রাষ্ট্রপক্ষের লোকদের দ্বারা গুপ্তহত্যা। স্বাধীনভাবে নিজের মত প্রকাশ করলে দেশ থেকে নির্বাসিত হওয়া এইই কি আজ বিজয়ের রুপ?

হ্যাঁ আমি সেই মেয়েটির কথা বলছি
আমিই সেই মেয়েটি সেই মেয়ে
যার জন্মের সময় কোন শাঁখ বাজেনি
জন্ম থেকেই যে জ্যোতিষীর ছঁকে বন্দী
যার লগ্ন রাশি রাহু কেতুর
দিশা খোঁজা হয়েছে না, তার নিজের জন্য নয়
তার পিতার জন্যে আর ভাই এর জন্য
কিন্তু যার গর্ভ থেকে আমার জন্ম
সেই মায়ের কথা বলেনি কেউ ।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনাকে বলছি, হ্যাঁ আপনাকে, যখন জলপাই সরকার আপনাকে দেশে ফিরতে দিতে চায়নি, আটকে দিয়েছিলো বিদেশের মাটিতে, আপনি কেন বিশ্ব কাঁপালেন প্রতিবাদ করে? দেশে ফেরা আপনার নাগরিক অধিকার? বিরোধীদলীয়নেত্রী আপনাকেও বলছি, আপনার ছেলে বিদেশে মন খারাপ করে থাকে, দেশের ফেরার জন্যে সে ব্যাকুল, তাই আপনি ঘটা করে তার জন্মদিন পালন করে, ওয়েবকাষ্ট করেন, কেনো? আপনারা বড় মানুষ, আপনারা নিজেদের অধিকার সম্বন্ধে সচতেন, রাজ রাজা তাই? আর আমরা, যাদের দেশ ছাড়া আর কিছুই যে নেই? আমরা কি সব নর্দমার কীট? আমাদেরকে নর্দমার কীট মনে হলেও, দেশের আকাশ ছোঁয়ার জন্যে, আলো হাওয়ার স্পর্শ পাওয়ার জন্যে, আমরা ঠিক এমনই ব্যাকুল থাকি আপনাদের মতো। আমাদেরও ইচ্ছে করে পতাকা হাতে নিয়ে খালি পায়ে ছুঁটে যাই স্মৃতিসৌধে ।

কেনো মেয়েটিকে দেশে ফিরতে দেয়া হবে না? কি করেছে সে? তার যা সত্যি মনে হয়েছে, কোন সুশীলতার আশ্রয় না নিয়ে, অলংকরনবিহীনভাবে সে তার সব সত্যিকে প্রকাশ করেছে। এটা কি অপরাধ? সেতো আপনাদের যা ইচ্ছে করছে আপনারাও তাই করছেন, নয় কি? ঢাকাকে এককথায় জন্মদিনের কেকের মতো দুটুকরো করে দিলেন, জনমত উপেক্ষা করে শামীম ওসমানকে সমর্থন দিলেন, মেয়র লোকমানকে হত্যা করিয়ে দিলেন, কসবার গ্যাস নিয়ে যাচ্ছেন অন্যদিকে, স্থানীয় মতামত উপেক্ষা করে, পার্বত্য চট্রগ্রামের লোকদের সাথে বেঈমানী, টিপাইমুখি বাঁধ নিয়ে অস্পষ্টতা, ট্রানজিট নিয়ে ফাজলামি। এগুলো অপরাধ নয় তবে? সেই মেয়েটি কি এর থেকেও জাতি কিংবা জাতীয় স্বার্থের প্রতি বেশি হুমকি স্বরুপ? জাতির কি এরচেয়েও বেশি ক্ষতি হওয়ার আছে?

তার ব্যাক্তিগত জীবন নিয়ে বাপ-বাপান্ত, নোংরা ঘাটাঘাটির চূড়ান্ত। কেন? সেকি কিছু লুকিয়েছে? না অস্বীকার করেছে? নাকি বে-আইনী কিছু করেছে? যারা আজকে সমাজের অত্যন্ত উঁচু প্রতিষ্ঠিত জায়গায় আছেন, সমাজকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাদের ব্যাক্তিগত জীবনের পঙ্কিলতা নেই? তাদের বেলায় চুপ কেন? একশ মেয়েকে রেপ করা আত্মস্বীকৃত অপরাধী, দুধর্ষ চাঁদাবাজ, সিরিয়াল কিলার, ফতোয়াবাজ সবার জায়গা হয় বাংলার মাটিতে শুধু এই নিরস্ত্র মেয়েটিকে ছাড়া? যারা বোমা মারে তারা থাকতে পারবে, বাংলা ভাই- ইংরেজি ভাই- আরবি ভাই থাকতে পারবে, দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার আসামী প্রাক্তন মন্ত্রী প্রকাশ্যে আইন শৃংখলা রক্ষা বাহিনীকে হুমকি দিচ্ছেন আবার আসছি ক্ষমতায় বলে। কিন্তু থাকতে পারবে না এই মেয়েটি কারণ প্রকাশ্যে কিছু প্রচলিত নিয়ম ভেঙ্গেছে সে, লুকিয়ে ভাংগলে অবশ্য ঠিক ছিল। তাই কি?

আর ধন্য এই বাংগালী জাতি। এই মেয়েটির নাম ভাঙ্গিয়ে অর্থনৈতিক ফায়দা, রাজনৈতিক ফায়দা, সামাজিক ফায়দা থেকে এমন কোন ফায়দা নেই যা এদেশের মানুষেরা দেশ এবং বিদেশ থেকে ব্যাক্তিগতভাবে নেয়নি। কিন্তু কাজের শেষে তাকে কেউ আর মনে রাখেনি। ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে যত দূরে চোখ যায় তত দূরে। স্বাধীনতাবিরোধীদের বাঁচাতে দেশে মিছিল হয়, হরতাল হয় কিন্তু সেই মেয়েটির কথা কেউ বলে না। তাদের চেয়েও কি ক্ষতিকর এই মেয়েটি? পঞ্চাশে পৌঁছে গেছেন তিনি, দেশে আসার আঁকুতি নিয়ে দেন দরবার করতে করতে। কেঁদে মরছে একবার আমাকে আমার বাবার ভিটেয় পা রাখতে দাও

আমি ফিরব, ফিরব ভালবাসতে, হাসতে জীবনের সুতোয় আবার স্বপ্ন গাঁথতে
অপেক্ষা করো মতিঝিল, শান্তিনগর, অপেক্ষা করো ফেব্রুয়ারীর বইমেলা
আমি ফিরব।
মেঘ উড়ে যাচ্ছে পশ্চিম থেকে পুবে, তাকে কফোঁটা জল দিয়ে দিচ্ছি চোখের,
যেন গোলপুকুর পাড়ের বাড়ির টিনের চালে বৃষ্টি হয়ে ঝরে।
শীতের পাখিরা যাচ্ছে পশ্চিম থেকে পুবে, ওরা একটি করে পালক ফেলে আসবে
শাপলা পুকুরে, শীতালক্ষ্যায়, বঙ্গোপসাগরে।
ব্রক্ষপুত্র শোনো, আমি ফিরব।
শোনো শালবন বিহার, মহাস্থানগড়, সীতাকুন্ড পাহাড় ---- আমি ফিরব।
যদি মানুষ হয়ে না পারি, পাখি হয়েও ফিরব একদিন।

এতো নিস্তরংগ মানুষের হাহাকার নিয়ে যদি হয় বিজয়ের উৎসব, তাহলে সে উৎসবকে আমি ঘৃনা করি। নিরস্ত্র, ক্ষমতাহীন মানুষের ওপর ক্ষমতার অপব্যবহারের নাম যদি হয় বিজয় উৎসব তাকে আমি ঘৃনা করি। শীতের মৌসুমে সুশীলদের এই বিজয়ের নাটক নাটক খেলাকে আমি ঘৃনা করি।

তানবীরা
১৪/১২/২০১১

পোস্টটি ৮ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মেহরাব শাহরিয়ার's picture


কার কথা বলছেন ?

তানবীরা's picture


Sad( Sad( Sad(

রাফি's picture


ভালো বলছেন। গোআজম-নিজামীরা স্বাধীনতাবিরোধী হবার পরও দেশে প্রবল প্রতাপে থাকে যাস্ট বিকজ ধর্মের খোলস। আর দাউদ-তসলীমারা কিকড আউট কারন স্বাধীনতাপক্ষের জোরালো কন্ঠ হলেও এরা প্রচলিত ধর্মের বিরুদ্ধে। ধর্মের খোলস যদি রাষ্ট্রের নীতি ঠিক করে তাহলে পাকিস্তানের সাথে পার্থক্য কোথায়!

তানবীরা's picture


ধর্মের খোলস যদি রাষ্ট্রের নীতি ঠিক করে তাহলে পাকিস্তানের সাথে পার্থক্য কোথায়!

একমত

লীনা দিলরুবা's picture


স্যালুট তোমাকে।

'শৃঙ্খল ভেঙেছি আমি, খসিয়েছি পান থেকে সংস্কারের চুন!'
তিনি সংস্কারের চুন সরাতে চেয়েছিলেন... হায় কী নির্মম নির্বাসন নিতে হলো তাঁকে Sad

তসলিমাকে ফিরিয়ে আনা হোক
তসলিমা নাসরিনকে ফিরিয়ে আনা হোক।

তানবীরা's picture


একজন মানুষকে তার নিজের বাড়িতে ফিরতে না দেয়া কতোটা নির্মম হতে পারে তা নিজে প্রবাসী নাহলে অনুধাবন করতাম না কখনো

শত্রুরও যেনো এমন শাস্তি না হয়

সাঈদ's picture


স্যালুট।
এক্কেবারে মনের কথা গুলো বলেছেন।

যুদ্ধের আগের-পরের এইসব শকুনের দল দেশটাকে নিঃশেষ করে দেবার পরও এই দেশে শেষ হয়নাই। প্রকৃতি দু'হাত ভরে এই দেশে সম্পদ দিয়েছে বলেই আমরা ব্লগিং করতে পারছি।

তানবীরা's picture


আপনাকেও স্যালুট বস Puzzled

হাসান রায়হান's picture


প্রকৃতি দু'হাত ভরে এই দেশে সম্পদ দিয়েছে বলেই আমরা ব্লগিং করতে পারছি।

হা হা হা। প্রথম হাসতে চাইছিলাম। পরে বুঝলাম যে কী বলছ বুঝিনাই।

১০

তানবীরা's picture


পরে বুঝলাম যে কী বলছ বুঝিনাই।

আমিও বুঝি নাই। বস বুঝায়া দ্যান

১১

জেবীন's picture


্ভালো লিখছেন তাতা'পু

১২

তানবীরা's picture


Sad

১৩

রায়েহাত শুভ's picture


মনের কথাগুলো আপনার লেখায় দেখতে পেলাম...

১৪

তানবীরা's picture


Sad

১৫

সুমি হোসেন's picture


ভালো লেগেছে।

১৬

তানবীরা's picture


১৭

এ টি এম কাদের's picture


ঘৃণা করি ।

ঘৃ ণা ক রি ।

ঘৃ ণা ক রি ।

১৬'র ভন্ডামিকে ঘৃণা করি ।

১৮

তানবীরা's picture


ভন্ডামিকে ঘৃণা করি ।

১৯

স্বপ্নের ফেরীওয়ালা's picture


ভাবে মনে হয় এই দেশটা কারো বাবার সম্পত্তি Applause

~

২০

তানবীরা's picture


আবার কি? একজনের বাবারতো আর একজনের স্বামীর

২১

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


টিপ সই

২২

তানবীরা's picture


ডিজিটাল টিপসই Big smile

২৩

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


কি আর করা,ডিজিটাল-মাটাল দেশে থাকি বলে কথা!! Wink

২৪

মাইনুল এইচ সিরাজী's picture


জাতির কি এরচেয়েও বেশি ক্ষতি হওয়ার আছে?

বড় প্রশ্ন

২৫

তানবীরা's picture


কিন্তু উত্তরটা ছোট Puzzled

২৬

শর্মি's picture


কিছু প্রচলিত নিয়ম ভেঙ্গেছে সে, লুকিয়ে ভাংগলে অবশ্য ঠিক ছিল। তাই কি?

তাই তো মনে হয়।

এইযে দ্যাখেন না আমাদের মদ খাওয়ার কালচারটা। সবাই আকুপাকু, কিন্তু খাইতে হয় লুকাইয়া বন্ধুর বাড়ীতে গিয়া বারান্দার চিপায় বসে। এলকোহল খাইলেই মাতলামি করে দেশ উচ্ছনে যাইবো, এটা কিছুতেই মেনে নিতে পারিনা। হইলে ফ্রান্স, জার্মানী, রাশিয়া তথা পুরা ইঊরোপ তো শেষ হয়ে যাওয়ার কথা।

২৭

তানবীরা's picture


লুকাইয়া খাইলেতো উচ্ছনে যাইতো, ইউরোপের ওরাতো লুকাই নাই তাই উচ্ছনে যায় নাই Smile

২৮

একজন মায়াবতী's picture


বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে রীতিমতো প্যান্ডেল করে মাইকে জেনিফার লপেজের গান, কলাবেরি কলাবেরি শুনতে শুনতে মনে হইল এই তো বিজয়। বিজয় দিবসে সারাদিনে একটাও দেশের গান না বাজিয়ে যা খুশী তাই করতে পারাই তো বিজয়। Sad

২৯

তানবীরা's picture


এইটা ঠিক, মুখ ব্যাজার কইরা সুশীল গান বাজানোর থেকে, মনে যা আসলে আনন্দ হয় তাই করা ভালু Tongue

৩০

টুটুল's picture


সেইরম Smile

৩১

সামছা আকিদা জাহান's picture


এ এমন এক স্বাধীন দেশ যেখানে মন খুলে কথা বললে মৃত্যুর পরোয়াণা জারী করা হয়।

৩২

তানবীরা's picture


Puzzled

৩৩

শাপলা's picture


হ্যাট অফ হে দেবী।

শুনছি, ব্লগ গুলোকেও নাকি সরকারী আওতায় আনা হবে.....যে কেউ চাইলেই যা খুশী লিখতে পারবে না। তোমার যে কি হবে Tongue Tongue Tongue

৩৪

তানবীরা's picture


হ আস্তে আস্তে বাংলাদেশ পাকিস্তান হওয়ার দিকে আগাচ্ছে Puzzled

আমি প্রথমে বাংলাদেশ পাসপোর্ট ছেড়ে দিব, তারপরও যদি সরকারের আওতায় পড়ি তাহলে লেখাই বাদ দিব Puzzled

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

তানবীরা's picture

নিজের সম্পর্কে

It is not the cloth I’m wearing …………it is the style I’m carrying

http://ratjagapakhi.blogspot.com/